বিশ্ব

ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনার অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১২, ২০২৬

গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সোমালিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে। তিনি এ পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিকি বলেন, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর বিষয়ে ইসরায়েলের একটি সুস্পষ্ট ও সংগঠিত পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি।
তিনি আরও জানান, সোমালিয়ার কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করে আসছেন যে ইসরায়েল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তরের চেষ্টা করতে পারে। যদিও ইসরায়েল ও স্বশাসিত অঞ্চল সোমালিল্যান্ড—উভয় পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সোমালিল্যান্ড স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এখনো জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়নি। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েল প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে সোমালিয়ার পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তরের বিষয়টি ইসরায়েলের কোনো চুক্তির অংশ নয়। তবে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তিতে কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এর আগে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ আল-জাজিরাকে জানান, সোমালিল্যান্ড ইসরায়েলের তিনটি শর্তে সম্মত হয়েছে—
১) ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন,
২) এডেন উপসাগরের উপকূলে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন,
৩) আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
এদিকে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে সোমালিল্যান্ডের কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।

ফিকি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশকে বিভক্ত করার নীতি অনুসরণ করে আসছে এবং সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়াও সেই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

রয়টার্স ছবি
তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে পাকিস্তান

পাকিস্তানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটিতে বিদ্যুতের সামগ্রিক ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।     একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ডিজেলের সংকটও দেখা দিয়েছে দেশটিতে।     দেশটির সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের বরাতে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) বলছে, কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ থাকা এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।     প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো (ডিসকো) লোডশেডিং বাড়িয়েছে। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকার গ্রাহকদের দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে।     কিছু এলাকায় হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখার সময় বেড়েছে।   পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে রাজধানী লাহোরে। শহরটিতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছালেও সরবরাহ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।     এদিকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে লাহোরে ডিজেলের সংকটও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। এতে শহরটির সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।     এদিকে ফিডারের সামগ্রিক কারিগরি ও বাণিজ্যিক (এটিসি) ক্ষতির ভিত্তিতে লোডশেডিং করায় কে-ইলেকট্রিকের (কেই) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ন্যাশনাল ইলেকট্রিক পাওয়ার রেগুলেটরি অথরিটি (নেপরা)। সংস্থাটি এ ধরনের লোডশেডিংকে অবৈধ ঘোষণা করে এটিসি ক্ষতির ভিত্তিতে অনির্ধারিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধকারী গ্রাহকদের ফিডারে ক্ষতির হার বেশি থাকার কারণে বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলেও জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।       নেপরা আরও বলেছে, বিদ্যুৎ চুরি বা অন্য গ্রাহকদের অনিয়মের জন্য নিয়মিত বিল পরিশোধকারীদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। বিদ্যুৎ চুরিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পুরো ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক

রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের একাংশ। মঙ্গলবার ফ্রান্সে। ছবি: এএফপি

শিক্ষক সংকট-জরাজীর্ণ স্কুল, ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ট্যাংকারে আগুন

সংস্কার উদ্যোগে চাপের মুখে স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

স্লোভেনিয়ায় জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশা দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মাথায় একাধিক গণভোটের মাধ্যমে তার সংস্কার উদ্যোগের প্রতি জনসমর্থনের পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বিরোধীরা এসব সংস্কারকে ‘কর্তৃত্ববাদী ’ আখ্যা দিয়েছে।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব মার্চের সংসদ নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে জয় পেলেও সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ক্ষমতায় আসেন রাজনৈতিক অঙ্গনের অভিজ্ঞ ইয়ানেজ ইয়ানশা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন অনুরাগী।   লুবলিয়ানা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   ‘কম খরচের রাষ্ট্র, তবে উন্নত মানের সেবা’—এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইয়ানশা সরকারি খাতে চাকরি কমানো এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর অর্থায়ন কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা রয়েছে।   ইয়ানশা এরই মধ্যে তিনবার স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সর্বশেষ মেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ হয়েছে। ওই সময়ে তার সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভও হয়েছিল।   সমালোচকেরা ইয়ানশার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ এবং আইনের শাসন দুর্বল করার অভিযোগ এনেছেন।   রোববারের গণভোটের মধ্যে একটি হবে সংসদীয় তদন্ত কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোট। ভোটাররা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করলে তদন্ত কমিশনের তলব করা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে সাক্ষ্য দিতে হবে। কমিশনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই তলবের বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারবেন না।   বিরোধীরা বলছে, সাক্ষ্য দিতে তলব করা ব্যক্তিদের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশে বাধ্য করা হতে পারে। তারা এই আইনকে ‘রাজনৈতিক পুলিশ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   সরকার আরও তিনটি অ-বাধ্যতামূলক গণভোটের আয়োজন করেছে। এসব বিষয় সরকারের সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   এর একটি হলো সরকারি টেলিভিশনের অর্থায়নে মাসিক বাধ্যতামূলক চাঁদা তুলে দেওয়া। এতে সরকারি টেলিভিশনের অর্থায়নের দায়িত্ব সরকারের ওপর পড়বে।   অন্য দুটি গণভোটের বিষয় হলো, স্লোভেনিয়ার নাগরিক নন এমন বাসিন্দাদের স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ করা এবং দীর্ঘদিন ধরে বেকারদের সরকারি স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকার সঙ্গে তাদের জন্য সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি শর্তযুক্ত করা।   বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম পিওপি টিভি সম্প্রতি প্রকাশিত এক জনমত জরিপে জানিয়েছে, অধিকাংশ নাগরিক সরকারের উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করেন। জরিপে ৩৭ শতাংশ সংসদীয় তদন্ত কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপক্ষে মত দিয়েছেন ২৯ শতাংশ।   গোলব সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশটির ২০ লাখ মানুষের জন্য এটি ‘স্লোভেনিয়ার গণতন্ত্র কতটা দৃঢ়, তার প্রকৃত পরীক্ষা।’   গোলব এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার দিকে যাওয়া এসব প্রবণতা জনসমক্ষে যাচাই করতে আমরা সবকিছু করব। এটি সহজ হবে না।’ এ সময় তিনি ভোটারদের ‘উদাসীনতার’ কথাও উল্লেখ করেন।   গণভোটের ফল বৈধ হতে হলে জয়ী প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে হবে মোট যোগ্য ভোটারের অন্তত ২০ শতাংশকে। বিশ্লেষকেরা কম ভোটার উপস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছেন। এতে গণভোটের ফলের বৈধতা নিয়ে সমস্যা হতে পারে। রাজনৈতিক ভাষ্যকার আলিয়াজ বিটেনস পেংগভ বলেছেন, ইয়ানশার সংস্কারগুলো ‘অত্যন্ত রক্ষণশীল ভাবাদর্শ প্রদর্শনের রাজনীতি।’ তার মতে, এসব নীতিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির পাশাপাশি ব্রিটেনের নাইজেল ফারাজ ও ফ্রান্সের মারিন ল্য পেনের প্রচারিত ধারণার সঙ্গে মিল রয়েছে।   বিটেনস পেংগভ এএফপিকে বলেন, ‘এটি কল্পনাশক্তিহীন উগ্র ডানপন্থী রাজনীতি।’   ইয়ানশা সরকারি খাতে চাকরি কমানোরও অঙ্গীকার করেছেন। বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর না করে সরকারি খাতের কয়েক হাজার কর্মীকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তর করাই তার লক্ষ্য।   দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকার উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কর ও সামাজিক নিরাপত্তা চাঁদা কমিয়ে আইন পাস করে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার কিছু অংশে বেসরকারি উদ্যোগের সুযোগ বাড়ানো হয় এবং পেনশন না হারিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের আবার কাজে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়।   সরকারি খাতের শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ৪০ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে সরকারের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারভেনশন ল ফর স্লোভেনিয়াস ডেভেলপমেন্ট’ বা স্লোভেনিয়ার উন্নয়নের জন্য হস্তক্ষেপ আইন নিয়ে নভেম্বর মাসে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের পথ তৈরি হয়েছে।   বিটেনস পেংগভ বলেন, সপ্তাহের শেষে গণভোটগুলো ‘প্রাথমিক লড়াই’। বড় লড়াই হবে ওই হস্তক্ষেপ আইন নিয়ে।   নভেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। এটিও সরকারের জন্য আরেকটি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৬, ২০২৬

গাজার শিশুরাও আমাদের ‘শত্রু’: ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ

মায়ের পেটে থাকা শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকদের অসাধারণ সাফল্য

ইরান যুদ্ধে ব্যয়ের পক্ষে যে যুক্তি দিলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে গোপন টোল আদায়ের সংশয়ে চড়া তেলের দাম

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন আগের চেয়েও বেশি তেল রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু এত তেল বাজারে আসার পরও তেলের দাম কেন কমছে না? এর পেছনে কি কোনো গোপন চুক্তির হাত আছে?       সম্প্রতি জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো হয়তো ইরানকে মোটা অঙ্কের টোল বা ফি দিয়ে নিরাপদে তেল পারাপার করাচ্ছে। হতে পারে তেলের দামের একটি বড় অংশ তেহরানকে দেওয়া হচ্ছে। যদিও এর কোনো পাকা প্রমাণ নেই, তবে এর আগে মার্চ মাসে একটি শিপিং জার্নাল জানিয়েছিল যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হরমুজে একটি টোল ব্যবস্থা চালু করেছে।      এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানকে কোনোমতেই এই টোল তুলতে দেওয়া হবে না।       বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পাহারা এবং জাহাজ বদলানোর কৌশল কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। ইরাকও দীর্ঘদিন পর এই পথ দিয়ে বড় ট্যাংকারে তেল পাঠানো শুরু করেছে।      তবে ইরান দাবি করছে, তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে খুব সামান্য তেলই পার হচ্ছে। সম্প্রতি প্রণালিতে চলাচলকারী একটি তেল ট্যাংকারকে ইরানের পক্ষ থেকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় আতঙ্ক এখনও কাটেনি।     বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো টোল আদায় না করলেও গোপনে এটি এক ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা হতে পারে। তবে তেলের চড়া দামের জন্য কেবল যুদ্ধ বা এই গোপন ফি দায়ী নয়। মূল সমস্যা হলো পর্যাপ্ত জাহাজের অভাব এবং বাড়তি ভাড়ার খরচ, যা পুরো বিশ্বকে বিপাকে ফেলছে।   সূত্র: আল-জাজিরা।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জাপান-ভারত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে নতুন সমঝোতা

সংগৃহীত ছবি

রেললাইনের বাইরেও আইএমইসিতে বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা প্রকাশ

0 Comments