দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল জনপদ, বিশেষ করে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি ও হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে (আইজিপি-এইচএফ) বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ দূষণ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ব্রেথ অব চেঞ্জ: সলিউশনস ফর ক্লিনার এয়ার ইন দ্য ইন্দো-গাঙ্গেটিক প্লেইন্স অ্যান্ড হিমালয়ান ফুথিলস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ বর্তমানে অসহনীয় মাত্রার দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। এছাড়া দূষণজনিত কারণে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, তা এ অঞ্চলের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে বায়ুদূষণের প্রধান পাঁচটি উৎস রয়েছে। এগুলো হলো- রান্নায় লাকড়ি বা কয়লার ব্যবহার, ফিল্টারহীন শিল্পকারখানা, পুরনো ইঞ্জিনের যানবাহন, ফসলের খড় পোড়ানো এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
এই সংকট নিরসনে বিশ্বব্যাংক দূষণমুক্ত বায়ুর সমাধানগুলোকে তিনটি পরিপূরক ক্ষেত্রে ভাগ করেছে:
প্রথমত: রান্না, শিল্প, পরিবহন, কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যেখানে দূষণ তৈরি হয়, ঠিক সেই উৎসস্থলেই নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত: বায়ুমানের উন্নতির এই রূপান্তরকালীন সময়ে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
তৃতীয়ত: দীর্ঘমেয়াদে এই অগ্রগতি টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজারভিত্তিক প্রণোদনা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, সমাধান আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে। অল্প কিছু সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিলেই এই দূষণ নাটকীয়ভাবে কমানো সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে- বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না, কলকারখানায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং বর্জ্যের সঠিক পুনর্ব্যবহার।
এই সংকট মোকাবিলায় প্রতিবেদনটিতে ‘ফোর আই’ বা চারটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- তথ্য (ইনফরমেশন), বিনিয়োগ ও আচরণ পরিবর্তনের প্রণোদনা (ইনসেনটিভ), জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউশন) এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো (ইনফ্রাস্ট্রাকচার)।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশ অর্থনীতিবিদ মার্টিন হেগার বলেন, নীতিনির্ধারকদের জন্য এই প্রতিবেদনে একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার উদ্যোক্তা, কৃষক ও সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের পেছনে শক্তিশালী অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে। তাই সরকারগুলোর উচিত তাদের পূর্ণ সহায়তা দেওয়া।
বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ অনুশীলন ব্যবস্থাপক অ্যান জ্যানেট গ্লাউবার জানান, দূষণমুক্ত বাতাস পেতে হলে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতাও প্রয়োজন। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো এবং সবার জন্য নির্মল বাতাস নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি শিগগিরই ইসরাইল সফর করতে পারেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সফরটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে তার প্রথম তেল আবিব সফর। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি ইসরাইলে পৌঁছাতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো সোমালিল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ইসরাইল স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দুই পক্ষের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সম্ভাব্য এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমালিল্যান্ডের কূটনীতিক ইসমাইল শিরওয়াক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তেল আবিবে প্রদর্শিত সোমালিল্যান্ড ও ইসরাইলের পতাকার ছবি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য সফরের ইঙ্গিত দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশমুখে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কৌশলগত অবস্থানের কারণে অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেই ইসরাইল সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লোহিত সাগর অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং হুথি গোষ্ঠীর কার্যক্রমও ইসরাইলের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হুথিরা এর আগে ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সম্ভাব্য সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কিংবা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বিশ্বের সেরা হোটেলগুলো এখন আর কেবল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিচার করা হয় না; আজকের ভ্রমণপিপাসুরা খোঁজেন ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির ছোঁয়া। এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা গেছে মর্যাদাপূর্ণ প্রি ভের্সাই পুরস্কারের ২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর হোটেলের তালিকায়। আর সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের দ্য ওবেরয় রাজগড় প্যালেস। খাজুরাহোর কাছে মানিয়াগড় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই প্রাসাদটি নিচে সবুজ বাগান, প্রাচীন বনভূমি এবং বৃষ্টিতে পুষ্ট একটি হ্রদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। পান্না ন্যাশনাল পার্ক থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত এই পুনরুদ্ধার করা রাজকীয় বাসস্থানটি কেন ভারতের অন্যতম আলোচিত বিলাসবহুল গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, তা এর অবস্থান দেখলেই বোঝা যায়। তবে পাঁচ তারকা এই রিসোর্ট হয়ে ওঠার বহু আগে, রাজগড় মূলত যুদ্ধ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাজ্য রক্ষার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা থেকে জন্ম নেওয়া একটি দুর্ভেদ্য দুর্গ ছিল। রাজগড় প্যালেসের গল্প শুরু হয়েছিল তিন শতাব্দীরও বেশি আগে, সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে। সেই সময়ে মধ্য ভারত এক বিশাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। মুঘল সাম্রাজ্য যখন পুরো উপমহাদেশ জুড়ে নিজেদের বিস্তার ঘটাচ্ছিল, তখন আঞ্চলিক রাজপুত রাজ্যগুলো তাদের স্বায়ত্তশাসন, সংস্কৃতি ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করছিল। বুন্দেলখন্ডের বুন্দেলা রাজবংশের মহারাজা হিন্দুপাত সিং একাধারে সামরিক প্রতিরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব ঘোষণার উদ্দেশ্যে এক দুর্ভেদ্য ঘাঁটি তৈরির জন্য এই পাথুরে মানিয়াগড় পাহাড়কে বেছে নেন। উঁচু এই ভূখণ্ড চারপাশের ওপর নজর রাখার দারুণ সামরিক সুবিধা দিত। বেলেপাথরে তৈরি এই কাঠামোটি মূলত কোনও প্রাসাদ ছিল না, ছিল একটি দুর্গ। এর মাধ্যমে শাসকেরা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর নজর রাখতেন। আজকেও পাহাড়ের ওপর প্রাসাদের এই অবস্থান তার যুদ্ধকালীন অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়। কিংবদন্তি বুন্দেলা শাসক মহারাজা ছত্রশালের অধীনে যখন পান্না একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়, তখন শুরু হয় রাজগড়ের দ্বিতীয় অধ্যায়। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দুর্গটি ধীরে ধীরে একটি প্রাসাদে রূপান্তরিত হতে থাকে। এর মূল প্রতিরক্ষামূলক চরিত্র ঠিক রেখেই এতে রাজকীয় বাসস্থানের মহিমান্বিত রূপ যোগ করা হয়। সামরিক জায়গাগুলোর স্থান নেয় সুন্দর সব উঠান, যুক্ত হয় আলংকারিক উপাদান। ফলে এটি সম্পূর্ণ দুর্গ বা সম্পূর্ণ প্রাসাদ কোনোটিই না হয়ে নিজস্ব এক অনন্য বৈশিষ্ট্যে রূপ নেয়। আজকের অতিথিরাও এখানে হাঁটার সময় এর দ্বৈত রূপ স্পষ্ট অনুভব করতে পারেন। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর অন্যান্য ঐতিহাসিক রাজকীয় সম্পত্তির মতো রাজগড় প্যালেসের ভাগ্যও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। প্রাসাদটি ধীরে ধীরে অবহেলার শিকার হয়। কয়েক দশক ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে এবং প্রকৃতি একসময় এর চারপাশ গ্রাস করে নেয়। যদিও এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ একে সুরক্ষাও দিয়েছিল, তবুও এর সংরক্ষণ এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরপরই আসে সেই ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট। ১৯৯৬ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার এই ঐতিহাসিক সম্পত্তির দায়িত্ব দেয় পৃথ্বী রাজ সিং ওবেরয় এবং দ্য ওবেরয় গ্রুপ-এর হাতে। এরপর যা ঘটেছিল তা কোনও সাধারণ হোটেল রূপান্তর ছিল না; বরং এটি ছিল প্রায় তিন দশক জুড়ে চলা এক উচ্চাভিলাষী ঐতিহ্য পুনর্গঠন। প্রকল্পটির বর্ণনা দিতে গিয়ে দ্য ওবেরয় গ্রুপের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান অর্জুন ওবেরয় বলেন, এটি ছিল ইতিহাসকে পুনরায় জীবিত করার এক দীর্ঘ যাত্রা। পুনর্গঠন টিম অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রাসাদের মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য, শতবর্ষী পুরোনো গাছপালা, লুকানো পথ, প্রাচীন উপাসনালয় এবং হ্রদটিকে রক্ষা করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সময়কে মুছে দেওয়া নয়, বরং দর্শনার্থীদের সামনে ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলা। এই প্রাসাদের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো এর স্থাপত্য, যা ইতিহাসের একাধিক যুগকে ধারণ করে আছে। ঐতিহ্যবাহী বুন্দেলখন্ডের বেলেপাথরের উঠান, হাতে আঁকা দেয়ালচিত্র, খোদাই করা স্তম্ভ এবং খিলানযুক্ত ছাদ শত শত বছর আগের আঞ্চলিক কারুশিল্পের পরিচয় দেয়। চুন-প্লাস্টারের ভেতরের অংশে ওপরের জানালা দিয়ে যখন প্রাকৃতিক আলো এসে পড়ে, তখন চারপাশের পরিবেশ যেমন রাজকীয়, ঠিক তেমনি অন্তরঙ্গ মনে হয়। প্রাসাদে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া ফ্রেঞ্চ উইন্ডো এবং ঔপনিবেশিক শৈলীর বিন্যাস ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নকশার পাশাপাশি এক মিশ্র স্থাপত্যশৈলী তৈরি করেছে। প্রায় ৭৬ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই এস্টেটটি প্রাচীন শাল ও পলাশ বনে ঘেরা এবং এর নিচে রয়েছে নিজস্ব একটি হ্রদ। প্রাসাদ মাঠের ঠিক ওপাশেই রয়েছে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঘ্র সংরক্ষণাগার পান্না ন্যাশনাল পার্ক। আর ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকাভুক্ত খাজুরাহোর মন্দিরগুলো এখান থেকে সামান্য ড্রাইভের দূরত্বে অবস্থিত। রাজকীয় ঐতিহ্য, বন্যপ্রাণী এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এমন সংমিশ্রণ বিলাসবহুল ভ্রমণের মানদণ্ডেও বেশ বিরল। অতিথিরা এখানে সকালে মধ্যযুগীয় মন্দির ঘুরে, বিকালে বনের মধ্যে বাঘের সন্ধান করে সন্ধ্যায় এক সাবেক রাজকীয় প্রাসাদে নৈশভোজের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব আনুষ্ঠানিকভাবে দ্য ওবেরয় রাজগড় প্যালেস-এর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দ্য ওবেরয় রাজগড় প্যালেস মধ্যপ্রদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করার পাশাপাশি বিশ্বমানের আতিথেয়তা প্রদান করছে। এটি রাজ্যের পর্যটন খাতে একটি অসাধারণ সংযোজন। হোটেল হিসেবে চালু হওয়ার পর থেকেই দ্রুত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে প্রাসাদটি। এটি লাক্সারি ট্রাভেল ইন্টেলিজেন্স-এর বিশ্বের সেরা নতুন বিলাসবহুল হোটেলগুলোর তালিকায় স্থান পাওয়ার পর, এবার প্রি ভের্সাই কর্তৃক বিশ্বের অন্যতম সুন্দর হোটেলের স্বীকৃতি লাভ করলো। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার তহবিল ছাড় করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্মত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে। তবে এই তথ্য প্রকাশের পরই আমিরাত সরকার তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনার অংশ হিসেবে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, মোট ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং এর একটি অংশ ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ইরানি তহবিল ছাড়, স্থানান্তর বা এমন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার ঘটনা ঘটেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উত্তেজনা প্রশমন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সম্পর্কিত হতে পারে। কিছু সূত্রের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা বন্ধ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবেও আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, কোনো বৈঠক বা চুক্তিতে অংশ নেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে অর্থ দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য যেকোনো অর্থনৈতিক সুবিধা ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, খবরটি সত্য হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে আমিরাতের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির কারণে বিষয়টি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।