টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে সাজেক ভ্যালির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
২ ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই হ্রদের ১৬ জলকপাট২ ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই হ্রদের ১৬ জলকপাট
শনিবার (২৯ আগস্ট) বাঘাইহাট এলাকার সড়কের দুপাশে আটকে পড়ে শত শত পর্যটকবাহী গাড়ি।
তবে বিকালে পানি কিছুটা কমে আসায় সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ছুটিতে মেঘের রাজ্য সাজেকে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।
শনিবার সকাল ও বিকালের এসকর্টে পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার কথা থাকলেও বাঘাইহাট এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে বিকালে পানি কমে গেলে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটকে পড়া পর্যটকরা নিরাপদে গন্তব্যে রওনা হন। একই সময়ে নতুন কিছু পর্যটকবাহী গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করে।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সাজেকের প্রায় ৮০ শতাংশ রুম আগে থেকেই বুকিং ছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল ও বিকাল মিলে অন্তত ১ হাজার ৫০০ পর্যটক সাজেক থেকে নিরাপদে বেরিয়ে গেছেন এবং নতুন করে প্রায় ৮৫০ জন পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম হয়ে এখনো সন্ধান মেলেনি এমন ২৫০ জনের ঘটনা একসঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এর মধ্যে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ বিভিন্ন সময়ে গুমের ঘটনা রয়েছে। এসব ঘটনায় একই ধরনের প্যাটার্ন পাওয়ায় এগুলোকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত’ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ করতে পাঁচজন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে ২৫০ ব্যক্তির গুমের ঘটনা একক বিচারে আনার চেষ্টা চলছে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম-নির্যাতন ও গুমের ফলে হত্যার ঘটনায় চলমান তিন মামলার বিচারও শেষের পথে। এসব মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গুম করে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা, নির্যাতন এবং তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ করে দেওয়ার নানা রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসছে। অন্যদিকে গুমের শিকার পরিবারগুলো থেকে এই ধরনের মামলার বিচার ও তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশেষ বিশেষ কিছু অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়েছে। এখন তারা রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে মুক্তি চায়। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আজ ৩০ আগস্ট পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। জাতিসংঘ ২০১০ সালে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১১ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের আগস্টের আগপর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গুমের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনে তিন শতাধিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে যাচাইবাছাই করে ২৫০টি ঘটনা একসঙ্গে করে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আনা হচ্ছে। এই ২৫০ জন জীবিত না মৃত, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দায়ের হওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে ১৫০ জন গুমের ঘটনায় ‘মায়ের ডাক’ এবং ৬০ জন গুমের ঘটনায় ‘আমরা গুম পরিবার’ অভিযোগ দাখিল করেছে। বিএনপির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিসংগঠন থেকে সব মিলিয়ে তিন শতাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ২৫০ ব্যক্তির ঘটনা একক বিচারে আনার চেষ্টা করা হলেও প্রত্যেকের ঘটনায় আলাদা কাউন্ট ও অভিযোগ থাকবে। যার বিরুদ্ধে যে ধরনের প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেই অনুযায়ী আসামিদের পরিচয় ও অভিযোগ নির্ধারণ করা হবে। তদন্তে এরই মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে কোথা থেকে, কবে এবং কীভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল, তার তথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার গণশুনানি করা হয়েছে। অনেকের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের মতে, আলাদা আলাদাভাবে বিচার করার পরিবর্তে একটি বিচারের মধ্যে আনতে পারলে সময় বাঁচবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এসব ঘটনা যে একই ধরনের প্যাটার্নে এবং ব্যাপকভাবে সংঘটিত হয়েছে, সেটিও আদালতের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে। গুমের শিকার পরিবারগুলো থেকে ধীরগতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গণ অভ্যুত্থানের মামলাগুলোর সব তথ্যপ্রমাণ যেমন চোখের সামনে রয়েছে, গুমের ঘটনার অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো। এ ধরনের মামলার এখন পর্যন্ত অনেক গুমের শিকার ব্যক্তি ফিরেও আসেননি। তিনি বলেন, যেহেতু বিভিন্ন বাহিনী এই গুমের ঘটনা ঘটাত, তারা পরিকল্পিতভাবে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে ফেলত। তাই একটু সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পরিবারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বসছি আমরা। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের আবারও শুনানি নেওয়া হবে। এরপর প্রতি সপ্তাহে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ২৫০ জনের বিষয়ে একটি সমন্বিত রিপোর্ট দাখিলের চেষ্টা চলছে।’ তদন্ত চলছে সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের মামলাও : গুমের পর যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁদের ঘটনাও আলাদাভাবে তদন্ত করছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের অভিযোগের তদন্তও এগিয়েছে। এ ঘটনায় ভারতের আদালতের নথি সংগ্রহ করেছে তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউশনের দাবি, ভারতীয় আদালতের নথিতে ভুক্তভোগী, তাঁর পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং তাঁকে উদ্ধারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রয়েছে। এসব নথি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে এই মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, এ তদন্তও প্রায় শেষ পর্যায়ে। মূল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন। তদন্তের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলছে। শেষের পথে তিন মামলার বিচার : গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে তিনটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ২০০-এর বেশি গুম-খুনের অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) ও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা পৃথক দুই মামলা সেনা কর্মকর্তাদের বিচারও চলছে ট্রাইব্যুনালে। এসব মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে গুমের বিভিন্ন ঘটনা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য উঠে আসছে। এই তিন মামলাসংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর শাঈখ মাহাদী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জিয়াউল আহসানের মামলায় ২০ জনের বেশি ব্যক্তিকে সাক্ষী করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা শেষ হয়েছে। এই মামলায় ভুক্তভোগীর সংখ্যা ২০০-এর বেশি। তিনি বলেন জেআইসিতে ২৩ জনকে গুম-নির্যাতনের মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই মামলায় ৪০ জনের বেশি সাক্ষী রয়েছেন। পাশাপাশি ১৪ জনকে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা টিএফআই সেলের মামলায় ৩০ জনের বেশি সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনটি মামলায়ই আগামীকাল সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। সাক্ষ্যে বন্দিশালার ভয়াবহতা : চলমান গুমের তিনটি মামলাতেই সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে আসছে ভয়াবহ সব তথ্য। জেআইসিতে গুম করে রাখার মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন নূরে আলম। তাঁর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে বন্দিশালার অমানবিক পরিবেশের বর্ণনা। নূরে আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে যে সেলে রাখা হয়েছিল, সেটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে পড়লে তাঁর পা শৌচাগার পর্যন্ত চলে যেত। সেলের মধ্যেই ছিল শৌচাগার ও পানির ব্যবস্থা। বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনাও উঠে এসেছে ট্রাইব্যুনালের সাক্ষ্যে। সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস তাঁর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে গুমের আগে ও পরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দেন। ইমরুল কায়েস সে সময় জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কাজ করতেন। তাঁর জবানবন্দি অনুযায়ী, ইলিয়াস আলীকে গুমের আগে মহাখালী এলাকায় একটি মাইক্রোবাসে অপেক্ষা করার বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। পরে গণমাধ্যমে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন বলে সাক্ষ্যে জানান তিনি। তদন্ত ও বিচার যেন রাজনৈতিক বিবেচনায় না হয় : অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশেষ কয়েকটি মামলায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। গত মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এমন দাবি করেন। তিনি বলেন, গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রত্যাশা ছিল তাঁদের দেওয়া গুমের অভিযোগ তদন্ত ও বিচার ট্রাইব্যুনালে গতি পাবে। মায়ের ডাক থেকে প্রায় ১৫০টির মতো গুমের অভিযোগ তারা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দিয়েছেন। এক যুগের বেশি সময়ের তথ্য-উপাত্ত তাঁরা দিয়েছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের এক বছর তিন মাস তাঁরা কোনো তদন্ত দেখেননি। গুম কমিশনে দেড় হাজার অভিযোগ : ২০২৪ সালের গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি গঠনের পর তাদের কাছে ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১১৩টি অ-যোগ্য মামলা বাদ দেওয়ার পর ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ প্রকৃত গুমের ঘটনা হিসেবে যাচাই হয়। এই কমিশনের হিসাবে, ১ হাজার ২৮২ জন বিভিন্ন মেয়াদে অবৈধ আটকাবস্থার পর ফিরে এসেছেন। ২৫১ জন কখনো ফিরে আসেননি। ৩৬ জনের লাশ পরে উদ্ধার হয়েছে (নদীতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়)। এই ২৫১ জনের তাঁদের অনেকেরই ১০, ১২ কিংবা ১৪ বছর ধরে কোনো খোঁজ নেই। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১ হাজার ৫৬৯ জন গুমের শিকার হয়েছেন, যাঁদের প্রত্যেককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এই ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো ২৫১ জন ফিরে আসেননি এবং তাঁদের পরিণতি সম্পর্কেও জানা যায়নি। তবে সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এখনো সুযোগ আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করার। তারা চাইলে ওই সব গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিণতি কী হয়েছিল, তা বের করতে পারবে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে সাজেক ভ্যালির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২ ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই হ্রদের ১৬ জলকপাট২ ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই হ্রদের ১৬ জলকপাট শনিবার (২৯ আগস্ট) বাঘাইহাট এলাকার সড়কের দুপাশে আটকে পড়ে শত শত পর্যটকবাহী গাড়ি। তবে বিকালে পানি কিছুটা কমে আসায় সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ছুটিতে মেঘের রাজ্য সাজেকে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। শনিবার সকাল ও বিকালের এসকর্টে পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার কথা থাকলেও বাঘাইহাট এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে বিকালে পানি কমে গেলে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটকে পড়া পর্যটকরা নিরাপদে গন্তব্যে রওনা হন। একই সময়ে নতুন কিছু পর্যটকবাহী গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করে। সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সাজেকের প্রায় ৮০ শতাংশ রুম আগে থেকেই বুকিং ছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল ও বিকাল মিলে অন্তত ১ হাজার ৫০০ পর্যটক সাজেক থেকে নিরাপদে বেরিয়ে গেছেন এবং নতুন করে প্রায় ৮৫০ জন পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।
প্রায় পৌনে ৯ কোটি টাকায় একটি সড়ক সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু এক মাস পার হতে না হতেই সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশ ধসে গেছে। বরগুনার আমতলী উপজেলার এ কে সরকারি হাইস্কুল থেকে তালুকদারহাটগামী সড়কের কালীবাড়ী এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক মাস ধরে সড়কটি এই অবস্থায় থাকলেও সংস্কারের নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে দুই ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সড়কটি ব্যবহার করছেন। আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আমতলী থেকে তালুকদারহাট ভায়া কালীবাড়ী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের সংস্কারকাজ করা হয়। কাজটির সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কার্যাদেশ পেয়েছিল রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’। তবে তাদের কাছ থেকে কাজটি কিনে নেন আমতলীর চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাদল। গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হয়। কিন্তু আগস্টের প্রথম সপ্তাহে কালীবাড়ী এলাকায় সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশ আকস্মিকভাবে ৭ থেকে ৮ ফুট গভীরে ধসে পাশের কালীবাড়ী খালে পড়ে যায়। এ সময় সড়কের পাশে থাকা ১০-১৫টি বড় রেইনট্রি ও মেহগনি গাছও খালে উপড়ে পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, ধসে যাওয়া অংশে স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও লাল কাপড় দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছেন। ভাঙা ও সরু অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মালবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও শত শত অটোরিকশা চলাচল করছে। কালীবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মামুন রাঢ়ী বলেন, খালের স্রোতে নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সড়কটি ধসে পড়েছে। ধসের পর সড়কের যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তা-ও যেকোনো সময় খালে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তালুকদারহাট বাজারের ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, ‘সড়কটি ধসে পড়ার এক মাস পরও মেরামত করা হয়নি। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বাকিটুকুও ধসে গিয়ে হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।’ নিয়মিত ওই সড়কে যাতায়াতকারী অটোরিকশাচালক আসাদুল হাওলাদার জানান, দেবে যাওয়া ওই সরু অংশ দিয়ে রীতিমতো প্রাণ হাতে নিয়ে তাঁদের গাড়ি চালাতে হচ্ছে। দ্রুত এটি মেরামত করা জরুরি। এ বিষয়ে সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করা ঠিকাদার আখতারুজ্জামান বাদল বলেন, ‘সড়কের ধসে পড়া অংশটি দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হবে।’ আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘খবর পেয়েই ধসে যাওয়া স্থানটি পরিদর্শন করেছি। সড়কটি খালের একেবারে পাশ দিয়ে হওয়ায় স্রোতের কারণে মাটির নিচের অংশ সরে গিয়ে ধস নেমেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’