অন্যান্য

ওজন করে কুরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
কুরবানির পশু ওজনে মাপা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
কুরবানির পশু ওজনে মাপা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

কুরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মূল ভিত্তি তাকওয়া, আন্তরিকতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা। প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশু কেনাবেচায় নানা নতুন পদ্ধতি যুক্ত হচ্ছে। আধুনিক সময়ে অনেক খামারি ও বিক্রেতা জীবন্ত পশুর ওজন মেপে প্রতি কেজি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করছেন, যা ক্রেতাদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দেয়— ওজন করে কুরবানির পশু কেনা কি শরিয়তসম্মত? এতে কি কুরবানির উদ্দেশ্য বা ইবাদতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়? ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা।

ওজন করে পশু কেনা কি বৈধ?

শরিয়তের দৃষ্টিতে ওজন মেপে পশুর দাম নির্ধারণ করা মূলত বৈধ ও জায়েজ। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, এটি কেনাবেচার একটি সহজ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ন্যায্য মূল্যে একমত হতে পারেন এবং অতিরিক্ত দাম বা প্রতারণার আশঙ্কাও কমে যায়। ইসলাম যেহেতু কারও ওপর অন্যায়ভাবে ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করে না, তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিতকারী এ ধরনের পদ্ধতি শরিয়তসম্মত বলে বিবেচিত।

কুরবানিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— নিয়ত

ওজন মেপে পশু কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়ত বা উদ্দেশ্য। কারণ কুরবানির প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আন্তরিক চেষ্টার ওপর।

➤ ভালো নিয়ত হলে রয়েছে সওয়াব

যদি কেউ বেশি গোশত পাওয়ার আশায় বড় পশু কেনেন এই উদ্দেশ্যে যে দরিদ্র, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বেশি পরিমাণে গোশত বিতরণ করবেন, তাহলে এটি উত্তম নিয়ত হিসেবে গণ্য হবে। এমন নিয়তের মধ্যে ইবাদতের সৌন্দর্য ও মানবিকতা প্রকাশ পায় এবং এতে সওয়াবও রয়েছে।

➤ ভুল নিয়ত নষ্ট করতে পারে কুরবানির শিক্ষা

অন্যদিকে যদি কেবল লাভ-ক্ষতির হিসাব, কত কেজি গোশত পাওয়া যাবে কিংবা লোকদেখানোর মানসিকতা প্রাধান্য পায়, তাহলে কুরবানির মূল শিক্ষা ও আত্মিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কুরবানি শুধু মাংস অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রতীক।

ডিজিটাল স্কেলে পশু কেনায় ধর্মীয় বাধা নেই

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল স্কেলে ওজন মেপে স্বচ্ছতার সঙ্গে পশু কেনাবেচা করা হচ্ছে। এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ওজন করার এই প্রক্রিয়া যেন শুধুমাত্র লাভ-লোকসানের অঙ্কে সীমাবদ্ধ না হয়ে যায়। কুরবানির ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো— সঠিক নিয়ত, শরিয়তসম্মত পশু নির্বাচন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

ওজন করে কুরবানির পশু কেনা আধুনিক ও স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি, যা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। তবে কুরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য নির্ভর করে মানুষের অন্তরের তাকওয়া ও নিয়তের ওপর। তাই পশুর ওজন বা দামের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ইবাদতের উদ্দেশ্য, মানবিকতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে।

তথ্যসূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪৯৭; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৯৯; ফাতাওয়া কাসিমিয়া, খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৩৫৩)

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে নিন্দা জানাল জামায়াত

ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ফখরুলের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন, উসকানিমূলক ও অসত্য বলে বর্ণনা করেন। বুধবার (২০ মে) দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে গৎবাঁধা মিথ্যাচার ও বিষোদ্গার করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সুশৃঙ্খল ও গণমুখী ইসলামী দলের বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনকভাবে কুৎসা রটানোর পথ বেছে নিয়েছেন।’ গোলাম পরওয়ার বলেন, “মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেছেন ‘আমরা নাকি ধর্মের নামে রাজনীতি করি বা মিথ্যা বলি।’ অথচ দেশবাসী ভালো করেই জানে, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও প্রকাশ্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। আমরা ধর্ম নিয়ে কখনো কোনো ধরনের হীন ব্যবসা বা চাতুরীর আশ্রয় নেই না। বরং ধর্ম নিয়ে প্রকৃত ব্যবসা ও ভণ্ডামি করে বিএনপি নিজেই। সারা বছর তাদের বড় বড় নেতাদের নামাজের কোনো খবর থাকে না, অথচ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই তাদের গায়ে পাজামা-পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি পরে, হাতে তসবিহ দেখা যায় এবং আতর মেখে মসজিদে ঢুকতে দেখা যায়। জনগণের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার এই সস্তা ও ভণ্ডামিপূর্ণ রাজনীতি বিএনপির জন্যই বেশি প্রযোজ্য, জামায়াতের নয়। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল অমূলক দাবি করেছেন ‘এ দেশের মানুষ জামায়াতকে কোনো দিন ক্ষমতায় বসাবে না।’ তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জামায়াতে ইসলামী এ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া একটি দল। অতীতে একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে দেশপ্রেমিক জনতা জামায়াতকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে এবং আমাদের মন্ত্রীরা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার নজির স্থাপন করেছেন। জনগণের এই রায়কে যারা অস্বীকার করে, তারা আসলে গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না। তিনি আরো বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের সভায় দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার হীন উদ্দেশ্যে যে সস্তা নাটক তিনি মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা করেছেন, তা তার মতো একজন সিনিয়র রাজনীতিকের কাছে কখনো কাম্য নয়। অপপ্রচার চালিয়ে মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা যায় না।’ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতকে জড়িয়ে তিনি যে পুরনো ও অসত্য বয়ান দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। জামায়াতে ইসলামী সব সময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও পালন করবে ইনশাআল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মিথ্যা এবং কুৎসার ওপর ভিত্তি করে কখনো টেকসই রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতি করতে হবে সত্য, সততা এবং জনকল্যাণমূলক আদর্শের ওপর ভিত্তি করে, যা জামায়াতে ইসলামী জন্মলগ্ন থেকেই করে আসছে। তাই নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে জামায়াতের বিরুদ্ধে অসত্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করার এবং এ ধরনের অসত্য মন্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য আমি মির্জা ফখরুলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ফাইল ছবি

সজীব ওয়াজেদ জয়ের অজানা তথ্য ফাঁস!

মির্জা আব্বাস। ফাইল ছবি

আগের চেয়ে সুস্থ মির্জা আব্বাস, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া

কুরবানির পশু ওজনে মাপা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ওজন করে কুরবানির পশু কেনা কি জায়েজ?

ছবি: সংগৃহীত
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন গোলাম পরওয়ার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক মির্জা আব্বাসকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল  গোলাম পরওয়ার। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।   জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মির্জা আব্বাস। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।   এই অবস্থার মধ্যেই গোলাম পরওয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং মির্জা আব্বাসের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন। সাক্ষাতের সময় তিনি মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।   হাসপাতালে অবস্থানকালে তিনি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অসুস্থতা ও মানবিক সংকটের সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনৈতিক শিষ্টাচার। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহমর্মিতা ও মানবিকতার জায়গা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এমন উদ্যোগ রাজনৈতিক বিভেদ কমিয়ে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত অসুস্থতা বা মানবিক সংকটে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর নজির নতুন নয়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেয়।   এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘সবাই বলতেছে, আপনি রাগ করলেন, ভাই?’ সাক্ষাৎকারে ভাইরাল ঈমান আলী

ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, দাবি মাহফুজ আলমের

ছবি : সংগৃহীত

‘অনুপস্থিতি মানে নীরবতা নয়’, ফেরার বার্তা শেখ হাসিনার

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে নতুন হোমকেয়ার ব্র্যান্ড ব্লিট্‌জের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

‘ডাবল শক্তিতে টোটাল অ্যাটাক’ ট্যাগলাইন নিয়ে নতুন হোম অ্যান্ড হাইজিন কেয়ার ব্র্যান্ড ব্লিট্‌জ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল। জাঁকজমকপূর্ণ এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বাজারে এই ব্র্যান্ডটি নিয়ে এসেছে ম্যাপল অ্যান্ড মাহরুস এসেনশিয়ালস লিমিটেড। সম্প্রতি চট্টগ্রামের লালখান বাজারে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে ক্রেতাদের বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক ও ক্লিনিং সল্যুশনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়; যা প্রতিদিন বাসাবড়ি পরিষ্কার ও ঝকঝকে রাখাকে আরও সহজ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী করবে।   আয়োজনে ম্যাপল অ্যান্ড মাহরুস এসেনশিয়ালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মারওয়াহ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকজান উল করিম চৌধুরী, অপারেশন ম্যানেজার মো. মোরশেদ আলম, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার সেলিম আলম সহ গণ্যমান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, বাংলাদেশে ব্লিট্‌জের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে উদযাপন করতে এই খাতের ব্যবসায়িক শেয়ারহোল্ডার, পরিবেশক, অংশীদার ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।   ইভেন্টে বাসাবাড়ির পরিচ্ছন্নতায় প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রেঞ্জের পণ্য প্রদর্শন করে ব্লিট্‌জ। এর মধ্যে রয়েছে ১ কেজি, ৫০০ গ্রাম, ২০০ গ্রাম ও ৪০ গ্রাম প্যাকেটের ডিটারজেন্ট পাউডার, ১২৫ গ্রাম ও ৭৫ গ্রামের ডিশওয়াশিং বার এবং ৫০০ মিলিলিটার ও ২৫০ মিলিলিটারের ডিশওয়াশিং বোতল। পরিবারগুলোর জন্য প্রতিদিন জেদি দাগময়লা দূর করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে, সজীবতা ধরে রাখতে ও জীবনকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক করতে এ পণ্যগুলো নিয়ে আসা হয়েছে।   এ বিষয়ে ব্লিট্‌জের চেয়ারম্যান মারওয়াহ চৌধুরী বলেন, ‘ব্লিট্‌জের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিনের জীবনে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে চাই, যেখানে ক্লিনিং সল্যুশন সবার জন্য মানসম্পন্ন ও সাশ্রয়ী হবে এবং একইসঙ্গে, স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করবে। বর্তমানে ক্রেতারা তাদের পরিবার ও বাসাবাড়ির জন্য ভরসা করতে পারবেন এমন পণ্য চান। উদ্ভাবন ও ক্রেতাদের ভাবনাকে মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বিশ্বস্ত নাম হয়ে উঠতে চাই।’   আয়োজনে ব্র্যান্ডটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পণ্য প্রদর্শন, ব্র্যান্ড প্রেজেন্টেশন ও নেটওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্লিট্‌জ বাংলাদেশে বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে চায়। একইসঙ্গে ব্র্যান্ডটি ক্রেতাদের প্রতিদিনের জীবনকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সাশ্রয়ী করতে চায়।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রেস্তোরাঁ–হোটেলে প্রতিবন্ধীদের জন্য র‍্যাম্প ও টয়লেট না থাকলে লাইসেন্স বাতিল হবে

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ভাঙন নিয়ে যা বললেন চরমোনাই পীর

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা, সিইসির কপালে চিন্তার ভাঁজ

0 Comments