জাতীয়

নির্বাচনী পোলিং এজেন্টসংক্রান্ত পরিপত্র জারি

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগ, তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য এবং নির্বাচনী আইন বিধিমালা অনুসরণ ও পরিপালন বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

 

আজ বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

 

পরিপত্রে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণকে বৈঠকে যোগদানের জন্য আহ্বান জানাতে হবে এবং বৈঠকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টগণকে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর আলোকে তাদের করণীয় দায়িত্ব-কর্তব্য ও নির্বাচনী আইন বিধিমালা অনুসরণ ও পরিপালন, নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎস ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী যথাসময়ে দাখিল নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ, ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদির ব্যবহার রোধকল্পে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে আলোকপাত করবেন।

 

নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২১ এর দফা (১) অনুসারে একজন প্রার্থী জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার কোনো ভোটারকে তার নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন।

 

তবে তাকে নিয়োগ সংক্রান্ত লিখিত নোটিশ রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে। নোটিশে নির্বাচনী এজেন্টের নাম, পিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ঠিকানা উল্লেখ থাকতে হবে।

 

নির্বাচনী এজেন্টের নিয়োগপত্র প্রার্থী যেকোনো সময়ে লিখিতভাবে বাতিল অথবা প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে অন্য একজনকে নিয়োগ করতে পারবেন। যদি কোনো নির্বাচনী এজেন্টের মৃত্যু হয় তা হলেও তদস্থলে প্রার্থী অন্য একজনকে নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন।

 

তবে উক্ত ব্যক্তিকেও জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হতে হবে। যে ক্ষেত্রে প্রার্থী কোনো নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করবেন না, সে ক্ষেত্রে তিনি নিজেই তার নির্বাচনী এজেন্ট বলে গণ্য হবেন।

পোলিং এজেন্ট নিয়োগ

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ২২ এর দফা (১) বিধান অনুসারে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা তার নির্বাচনী এজেন্ট ভোটগ্রহণের পূর্বে প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন। উল্লিখিত এজেন্ট নিয়োগ সংক্রান্ত লিখিত নোটিশ তাকে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে।

 

প্রিজাইডিং অফিসার কোনো পোলিং এজেন্টকে গ্রহণ করবেন না যদি না তিনি তাকে নিযুক্তকারী ব্যক্তি তার নাম ও যে প্রার্থীর জন্য তিনি পোলিং এজেন্ট নিযুক্ত হন তার নাম সংবলিত নিয়োগপত্র দেখান। একটি ভোটকক্ষের জন্য একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন।

 

পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ১২ক এর উপবিধি (১০) এর দফা (চ) এর বিধান অনুসারে পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আসনভিত্তিক একজন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ প্রদান করতে পারবেন। এ ছাড়া পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করা না হলে ভোট গণনার সময় প্রার্থী নিজে বা নির্বাচনী এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন।

 

নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২৮, ২৯, ৩১, ৩৩ ও ৩৬ অনুযায়ী নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টগণের দায়িত্ব ও ভূমিকা গুরত্বপূর্ণ।

 

 

উক্ত অনুচ্ছেদসমূহে উল্লিখিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট এবং পোলিং এজেন্টগণের ভোটগ্রহণের শুরু থেকে ভোটকেন্দ্রে অবস্থান, ভোটকক্ষে ব্যালট বাক্সের ব্যবহার পদ্ধতি, ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃত ভোটারদের শনাক্তকরণ, কোন কোন ভোটারের ভোটদানে আপত্তি উত্থাপন, ভোট গণনাসহ নির্বাচনী ফলাফলের বিবরণী ও অন্যান্য প্যাকেট প্রস্তুত, বিবরণী ও প্যাকেটে স্বাক্ষর দান, বিধি মোতাবেক কেন্দ্র থেকে ভোট গণনার বিবরণীর সত্যায়িত অনুলিপি গ্রহণ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

(ক) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৩৬ এর দফা (১১) এর বিধান মতে প্রিজাইডিং অফিসার ভোট গণনার সময় উপস্থিত নির্বাচনী এজেন্ট/পোলিং এজেন্টকে ভোট গণনার বিবরণী ও ব্যালট পেপারের হিসাব বিবরণীর (অংকে ও কথায় লিপিবদ্ধ করতে হবে) একটি প্রত্যায়িত অনুলিপি প্রদান করবেন এবং নির্বাচনী এজেন্ট/পোলিং এজেন্ট এই অনুলিপি প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ গ্রহণ করবেন। যদি নির্বাচনী এজেন্ট/পোলিং এজেন্ট প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ প্রদান করতে অস্বীকার করেন, তবে তা লিপিবদ্ধ করবেন। অনুচ্ছেদ ৩৬ এর দফা (১৩) এর বিধান মতে প্রিজাইডিং অফিসার প্রস্তুতকৃত প্রত্যেক বিবরণী ও প্যাকেটের উপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী/নির্বাচনী এজেন্ট/পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেবেন। যদি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী/নির্বাচনী এজেন্ট/পোলিং এজেন্টগণ স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।

 

উল্লেখ্য, ভোটগ্রহণের সময় প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, প্রতিটি ভোটকক্ষে একজন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারলেও ভোট গণনার সময় কাজের সুবিধার্থে তার পক্ষে একজন পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন।

 

(খ) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৩৭ এর অধীন বর্ণিত রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ফলাফল একত্রীকরণের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্টগণ উপস্থিত থাকতে পারবেন। ফলাফল একত্রীকরণকালে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচনী এজেন্ট এবং পোলিং এজেন্টদের জন্য নির্দেশাবলী প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচনী এজেন্ট এবং পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণকে অবহিত করতে হবে।

 

নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টের অনুপস্থিতি: নির্বাচন সংক্রান্ত কোন কোন কাজ রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা তার নির্বাচনী এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। বিশেষ করে ভোট গণনা এবং নির্বাচনী ফলাফল একত্রীকরণের সময় প্রার্থী অথবা তাদের এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিংবা নির্বাচনী এজেন্ট কিংবা পোলিং এজেন্ট ভোট গণনার সময় অথবা ফলাফল একত্রীকরণের সময় উপস্থিত না থাকেন অথবা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উক্ত প্রক্রিয়ায় কোনো এজেন্ট নিয়োজিত না করেন, তবে উক্তরূপ অনুপস্থিতির বিষয়টি লিখিতভাবে রেকর্ড করার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

উল্লেখ্য, পোলিং এজেন্টের অনুপস্থিতির কারণে ভোট গ্রহণ শুরু বা গণনা করা বিলম্ব করা যাবে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২৩ এর বিধান অনুসারে, যদি কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্ট রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার কোনো কাজ সম্পাদনের সময়, ধার্যকৃত সময় এবং স্থানে উপস্থিত থাকতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের অনুপস্থিতি উক্ত কর্মকর্তার বৈধভাবে সম্পাদিত সব কাজ আইনসিদ্ধ বলে গণ্য হবে। সুতরাং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিংবা পোলিং এজেন্টকে প্রার্থীর স্বার্থেই বিধিসম্মতভাবে উপস্থিত থেকে উল্লিখিত নির্বাচনি কার্যাদি পর্যবেক্ষণ করতে হবে মর্মে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
‘সিন্ডিকেট ভেঙে’ কম খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সরকার ‘আন্তরিক’: মাহ্‌দী আমিন

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানিতে সরকার আন্তরিক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।   রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সিন্ডিকেট ভাঙার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহ্‌দী আমিন বলেন, “আমরাই প্রথম স্পষ্টভাবে সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বলেছি। আমরা চাই স্বল্প খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আমাদের মানুষ বিদেশে যেতে পারেন। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।”   তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আন্তরিক, তেমনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে। ওই বছর দেশটির সরকার ঘোষণা দেয়, পূর্বে অনুমোদন পাওয়া কর্মীদের ৩১ মে’র মধ্যে প্রবেশ করতে হবে, এরপর নতুন করে আর কাউকে কর্মী ভিসায় নেওয়া হবে না। এরপর থেকে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানো কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।   বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও শ্রমবাজারটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই বাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ জোরদার করা হয়। এ লক্ষ্যে গত বুধবার মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। সফরকালে তারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান আনোয়ার ইব্রাহিম।   প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার সম্মতি পাওয়া গেছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে ‘ক্রেডিবল রিপ্রেজেনটেটিভ’-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাহ্‌দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া সব ‘সেন্ডিং কান্ট্রি’র ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করে।   তিনি বলেন, “আমাদের দৃষ্টিতে ‘ক্রেডিবল’ বলতে তাদেরকেই বোঝানো হবে, যারা দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং যাদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে—অভিবাসন ব্যয় কমানো, বেশি সংখ্যক মানুষকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া এবং সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া। তবে ঠিক কবে নাগাদ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0

১৪ মে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত দুই এমপির শপথ গ্রহণ

তথ্য অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী

লিগ্যাল এইডের টোল ফ্রি নম্বরে ২ লাখের বেশি ব্যক্তিকে আইনি সেবা প্রদান

 জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) অধীনে সরকারি আইনি সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারে (টোল ফ্রি নম্বর) ২ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ জনকে আইনি পরামর্শ সেবা দেওয়া হয়েছে। লিগ্যাল এইড-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইড-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়। শুরুতে জেলা পর্যায়ে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য এ আইনি সেবা প্রদান শুরু হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট, টোল ফ্রি-‘১৬৪৩০'’ কল সেন্টার চালু, ঢাকা ও চট্রগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল ও এবং দেশের কারাগারগুলোতে এ সেবা চালু করা হয়। সম্প্রতি এ সেবার টোল ফ্রি নম্বর পরিবর্তন করে আরও সহজ করা হয়েছে। টোল ফ্রি নতুন নম্বরহ হল: '১৬৬৯৯'। ২০১৩ সাল থেকে লিগ্যাল এইড-এ শ্রমিক আইন সহায়তা সেলের কার্যক্রম শুরু হয়। আর ২০১৬ থেকে জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টার টোল ফ্রি নাম্বার চালু হয়। তারপর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ২ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ জন আইনি পরামর্শ সেবা পেয়েছেন। হট লাইনের মাধ্যমে তথ্য সেবা প্রদানে জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টার স্থাপনের পূর্ব পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩২৮ জনকে আইনি পরামর্শ সেবা দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের’ অধীনে সরকারি খরচে এ সেবা দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0

প্রথম পর্যায়ে ১১ উপজেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে: কৃষি মন্ত্রী

বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ দেশব্যাপী নববর্ষ উদযাপনে সরকারের নানা কর্মসূচি গ্রহণ

পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে পটুয়াখালীর পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের

ফাইল ছবি
হত্যা চেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর

 জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।  চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর লালবাগ থানা এলাকায় আশরাফুল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতের তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করেন।  উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন দুপুরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য, তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অপর দিকে তার আইনজীবী তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে, তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, চব্বিশের আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভিতরে মিছিল করছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। ঘটনার দিন আসামিদের ছোড়া গুলিতে আশরাফুলের বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় ভুক্তভোগী আশরাফুল বাদী হয়ে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর এজহার নামীয় তিন নাম্বার আসামি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে বক্তব্য দেন । ছবি : পিএমও

দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

বৈসাবি উৎসবে সম্প্রীতি ও ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি

ইসিতে দ্বিতীয় দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র নিলেন ৭৩ জন

0 Comments