জাতীয়

নির্বাচন সামনে রেখে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে বিশেষভাবে সক্রিয় থাকবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন এবারের নির্বাচনকে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে।


এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগে থেকেই সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে এবং এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। গতকাল বিকেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।


নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন।


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজারের বেশি, কোস্টগার্ডের সাড়ে ৩ হাজারের বেশি, পুলিশের প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার এবং আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। র‍্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।


ভোটকেন্দ্র বা এর আশপাশে কোনো অভিযোগ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বার্তা পৌঁছাবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রে থাকবে সেনাবাহিনী
এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এবার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে সেনাসদস্যরা প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্টে অবস্থান করে টহল ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে স্ট্যাটিক ও মোবাইল টহল মোতায়েন থাকবে। উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।


রংপুরে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।


ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজারের বেশি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৩৫৯টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৭ হাজার ৬৫৬টি। মহানগরের বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬–১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭–১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। মহানগর এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ১৬ থেকে ১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে।


এই সদস্যরা ভোটের দুই দিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
ঈদের ছুটিতে বিএমইউ'র বহির্বিভাগে ৭ শতাধিক রোগীকে সেবা প্রদান

পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) বহির্বিভাগ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগ-১ ও বহির্বিভাগ-২ এ গত ২৭ মে এবং ৩০ মে মোট ৭১৯ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ-১ এ ৩৪৮ জন এবং বহির্বিভাগ-২ এ ১৭৩ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এদিন দুই বহির্বিভাগে মোট ৫২১ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।   এর আগে গত ২৭ মে বুধবারও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং দুই দিনের মোট রোগী সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১৯ জনে।   চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিএমইউ’র উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। গত বুধবারের মতো শনিবারও তিনি বহির্বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।   পরিদর্শনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুল হক সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদুল আজহার ছুটিকালীন বহির্বিভাগের পাশাপাশি হাসপাতালের ইনডোর ও জরুরি বিভাগ প্রতিদিনই খোলা রয়েছে এবং রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।   এদিকে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আগামী ১ জুন সোমবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে। একই দিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ছুটির দিনেও রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জাতির ক্রান্তিকালে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন জিয়াউর রহমান : রিজভী

ছবি : সংগৃহীত

জনগণকে সঙ্গে নিয়েই শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হবে : অর্থমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন : ডেপুটি স্পিকার

ছবি : সংগৃহীত
অসহায় মানুষের পাশে থাকুন : নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসহায় মানুষের পাশে থাকতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, ‘আজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী। আপনারা যারা দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে আছেন তারা জানেন, প্রতিবছরই এই দিনটিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন স্থানে যেসব মানুষ অসহায় অবস্থায় এবং অসুবিধায় আছেন যতটুকু সম্ভব তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করেছি।   দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, শুধু দলের পক্ষ থেকে নয়; সম্ভব হলে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা। ’   আজ (শনিবার) বিকেলে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণের পর দলের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।   তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, সবাই শপথ গ্রহণ করি যে, যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ অনুযায়ী অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। আজকের দিনে এটিই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটিই হোক আমাদের অর্জন।’   এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ; সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী; যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল; মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু; মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক; ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম; ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম  মিল্টন; স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান; ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে খিলগাঁওয়ের জোড় পুকুর মাঠে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণের অনেকগুলো স্থান গাড়ি  নিয়ে ঘুরে দেখেছি। শুধু কোরবানির বর্জ্য নয়; অন্যান্য আবর্জনা কতটুকু পরিষ্কার করা হচ্ছে তারও তদারকি করতে হবে। আমরা যারা এই শহরে বসবাস করি এবং বাংলাদেশের নাগরিক তাদেরকে বলতে চাই, এই দেশ যেমন আমাদের, এই শহরটাও তেমনি আমাদেরই। এই কথাটি সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব, অবশ্যই তারা পালন করবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। যতটুকু সম্ভব শহরটাকে কম নোংরা করার চেষ্টা করা উচিত। তাহলেই এই মহানগর আরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।’   প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শহর পরিষ্কার থাকলে সকলের হাঁটাচলার যেমন সুবিধা, তেমনি পরিবেশটাও বাসযোগ্য ও সুন্দর থাকবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্যও যথাযথভাবে পরিষ্কার রাখার কাজটা সহজ হবে।     তিনি বলেন, ’প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাহাদত বরণের পর ৪৫ বছর ধরে এই দিনে আমাদের নেতৃবৃন্দ চেষ্টা করেন নিজ নিজ এলাকায় দুঃস্থ মানুষদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানোর। ’   বাবাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান সবাইকে বলেছেন দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তিনি শিখিয়েছেন কাজ করার মাধ্যমে দেশ গঠনের প্রক্রিয়া। তাঁর গড়া রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হিসেবে সবাই নিজেদের অবস্থান থেকে এবং সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।’   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বচ্ছল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে আমরা দ্রুতই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব। ’   তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এই দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যই রাজনীতি শুরু করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস তারাই। কাজেই জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকলে সরকার দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

ছবি: সংগৃহীত

সদরঘাটে যাত্রীদের অচেতন করে সর্বস্ব লুটের চেষ্টা, সন্দেহভাজন আটক

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ভেঙে ফেলা হলো টোল ঘর

ছবি: সংগৃহীত
কোরবানির চামড়ার বাজারে বড় ধস: দুই হাজার টাকার চামড়া বিক্রি ৫০০ টাকায়

ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও রাজধানীর পোস্তা কাঁচা চামড়ার আড়তে চামড়া কেনাবেচা ও লবণ দিয়ে সংরক্ষণের কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা চামড়ার বড় সরবরাহ থাকলেও বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ব্যাপক হতাশা দেখা দিয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।   সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় বাস্তব বাজারে চামড়ার মূল্য অনেক কমে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বড় আকারের গরুর চামড়ার সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রায় ২ হাজার টাকা হলেও বাস্তবে অনেক চামড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও কম দামেও চামড়া ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন সংগ্রাহকরা।   পোস্তা আড়তে দেখা গেছে, ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে চামড়া এনে স্তূপ করা হচ্ছে এবং শ্রমিকরা দ্রুত লবণ মেখে সংরক্ষণ করছেন। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হলেও ক্রেতার অভাবে দাম পড়ে গেছে।   মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, তারা মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি দর বিবেচনায় নিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু আড়তে এসে অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি করতে হওয়ায় তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পরিবহন, শ্রম ও সংরক্ষণ খরচ যোগ করলে অনেক ক্ষেত্রে লোকসান আরও বেড়েছে।   আড়তদারদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের কাছে বড় অঙ্কের বকেয়া রয়েছে এবং নগদ অর্থের সংকটের কারণে তারা পর্যাপ্ত দামে চামড়া কিনতে পারছেন না। ফলে বাজারে তারল্য সংকট তৈরি হয়ে দাম আরও কমে যাচ্ছে।   খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর সরকার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন না থাকায় প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হন সংগ্রাহক ও ছোট ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোও এই ক্ষতির অংশীদার হচ্ছে।   এবার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুট দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে সেই মূল্য কার্যত কার্যকর হয়নি। গত বছরের তুলনায়ও এবার চামড়া প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্যানারি খাতে বকেয়া পরিশোধ, নগদ অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত না হলে চামড়ার বাজারে এ ধরনের অস্থিরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আক্তারুজ্জামান মে ৩০, ২০২৬
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

হজ শেষে দেশে ফিরলেন প্রথম দফার যাত্রীরা, ঢাকায় অবতরণ প্রথম ফিরতি ফ্লাইট

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই তরুণের

0 Comments