তফসিল ঘোষণার পরদিন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক হামলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উদ্বেগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এর পেছনে শক্তিশালী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য নির্বাচন বানচাল করা। তিনি এ হামলাকে অত্যন্ত সিম্বলিক উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চেয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সব প্রস্তুতি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের চক্রান্ত মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে এবং প্রশিক্ষিত শুটার ব্যবহার করে মাঠে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে বিভেদ বা দ্বন্দ্ব যেন ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবা বা আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। নির্বাচনকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক হলেও তা যেন একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে—এ বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা চব্বিশের অভ্যুত্থান নস্যাৎ এবং নির্বাচন বানচালের যেকোনো চক্রান্ত রুখতে নিজেদের মতবিরোধ ভুলে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপির পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। যেকোনো অবস্থায় পরস্পরের দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও জাতির স্বার্থে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে রক্ষার জন্য সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
জামায়াতের নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিরোধীরা সুযোগ পাচ্ছে। অতীতের মতো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলার প্রবণতা জাতিকে বিভক্ত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য থেকে সবাইকে সরে আসতে হবে এবং সব রাজনৈতিক দলের নিজেদের অঙ্গীকার ঠিক রাখতে হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অভ্যুত্থানকে খাটো করার চেষ্টা করছে। সুসংগঠিতভাবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা মিডিয়া ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর যারা ক্ষমতায় আসবে তারাও এর ভুক্তভোগী হবে, কারণ কেউ একা সরকার চালাতে পারবে না। জুলাই অভ্যুত্থানকে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপনের যে ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে, তা বিপজ্জনক। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নানা চেষ্টা চলছে এবং এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীর আড়ালে যারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে, তাদের থামাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাইকে সবাই মিলে ধারণ ও রক্ষা করতে হবে। জুলাই নিয়ে কে কী বলবে—এই টানাপোড়েনে পড়ে গেলে শেষ পর্যন্ত জুলাইয়ের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের অনৈক্যকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছে—এ বিষয়টি মাথায় রেখে এগোতে হবে।
এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নিজেদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই কার্যকর হবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু দল এমন অবস্থান নিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দিচ্ছে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৈঠকের আগে শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের শিক্ষা, সততা, দক্ষতা ও সচেতনতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। এসব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের বহুমাত্রিক অপরাধ দমনে সক্ষম হতে হবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ৪১তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০২৫ ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রশিক্ষণার্থী এসআইদের প্যারেড ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। আইজিপি বলেন, “আপনারা শুধু একটি চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন না, বরং একটি মহান সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করছেন।” পুলিশ পেশার মূলমন্ত্র হলো সেবাই ধর্ম—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের বিপদে সহায়তা করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার মূল্যবোধ ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান শক্তি। তাই সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থী এসআইদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দুই বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে ২০৯ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় প্রবেশনারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য বিদায় জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি আজিজুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা প্রতিহতের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ পড়ে নিহত সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী শাহ আলমের মরদেহ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেশে আসছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাস জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক শাহ আলম গত ১ এপ্রিল আমিরাতের ফুজাইরাস্থ দিব্বা এলাকায় স্থানীয় সময় আনুমানিক সকাল ৬টায় ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা প্রতিহতের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ পড়ে নিহত হন। বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি পরিবার মৃত শাহ আলমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং মহান আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে শাহ আলমের মৃতদেহ ৯ এপ্রিল দেশে পৌঁছাবে।
নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের পরিবেশগত অবকাঠামো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নেওয়া ‘ইন্টিগ্রেটেড সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড ড্রেনেজ ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে এ আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে চসিক কার্যালয়ের বৈঠকটিতে নেদারল্যান্ডসের বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান সুইপস্মার্ট ও সিডিআর ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ড্রেনেজ পরিষ্কারকরণ প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও টেকসই সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রকল্পের টেকসই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর মডেল নিয়ে আলোচনা করা হয়। নেদারল্যান্ডসের পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের বিশ্বমানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চসিক আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি নিশ্চিতকরণের বিষয়ে চসিকের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়। বৈঠকে চসিকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ অন্যরা। বৈঠকে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রতিনিধি দলের আরো উপস্থিত ছিলেন প্রথম সচিব দূতাবাসের প্রথম সচিব ইঙ্গে ক্লাসেন, বিশেষজ্ঞ নিল্টজে কিলেন, সিনিয়র পলিসি অফিসার শিবলী সাদিক। বিশেষজ্ঞ দলটি ‘ইন্টিগ্রেটেড সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড ড্রেনেজ ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করেন। সফরের অংশ হিসেবে ডাচ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলটি হালিশহর ল্যান্ডফিল এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন।