রাজশাহীর পবার মাশকাদানা দিঘীর কাটাখালি এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি (খতিয়ান ২২৭২, দাগ নং ৩০৭) জবরদখলের চেষ্টা চালিয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে তারা মূল ফটকের তালা ভেঙে নিজেরা তালা ঝুলিয়ে দেয়।
জমির মালিক শাহ মো. আর-রাহবারুল ইসলাম। তিনি পেশায় মেজর পদবির সামরিক কর্মকর্তা। চাকরির কারণে তিনি অধিকাংশ সময় নিজ এলাকা থেকে বাইরে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা জমি দখল ও মালিককে হেনস্থা করার চেষ্টা করে।
জমির মালিকের ধারণা, দুষ্ট প্রতিবেশী ও দুর্বৃত্তরা ফেনসিডিল, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকসেবীদের সুবিধার্থে ওই জমি দখল করছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় চাঁদাবাজদের চাঁদা দিতে অস্বীকার এবং অন্যায় দাবি-দাওয়া প্রত্যাখ্যান করার কারণে তারা জমির রক্ষকদের হত্যা, গুমের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন করেছে।
এদিকে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১ এপ্রিল থেকে সরকার নির্ধারিত ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া কোনো গ্রাহক জ্বালানি তেল ক্রয় করতে পারবেন না। তবে কৃষকদের জন্য এক্ষেত্রে বিশেষ শিথিলতা রাখা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জ্বালানি তেলের মজুত, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহারসংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সহকারী কমিশনার আলাউদ্দিন আল আজাদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক উজ জামান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার এবং জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, আগামী ১ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কাউকে তেল সরবরাহ করা হবে না। এ লক্ষ্যে আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ দুই দিন ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হবে। কার্ড সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং এক কপি ছবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। কার্ডটি বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। সভায় আরও জানানো হয়, জেলায় মোট ২২টি তেল পাম্প রয়েছে এবং আগামী সোমবার থেকে সব পাম্পে একযোগে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তেল বিতরণ কার্যক্রম চালু থাকবে। এদিকে কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা রেখে বলা হয়েছে, তারা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পাম্প থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া জরুরি সেবায় নিয়োজিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের জন্য চুয়াডাঙ্গার দুটি নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। প্রতিটি উপজেলায় জরুরি সেবার জন্য একটি করে পাম্প নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। সভায় জানানো হয়, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তেল পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। এদিকে, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের দায় নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান জানান, ৩০ মার্চ থেকে জেলায় রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নিরব (২৬) নামে এক স’মিল শ্রমিককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত নিরব উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিরব বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক নিয়ে একই গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রুবেল মাঝির (২৮) ভাতিজার সঙ্গে নিরবের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে রোববার সকাল ১০টার দিকে নিরব তার সহযোগীদের নিয়ে রুবেল মাঝির ওপর হামলা চালায়। এতে রুবেলের ৩-৪ জন অনুসারী আহত হয়। এর কিছুক্ষণ পর দুপুর ১২টার দিকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে নিরব প্রতিপক্ষ রুবেল মাঝির বাড়ির সামনে চলে যান। তখন রুবেলের লোকজন নিরবকে ধরে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বগুড়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হতে যাচ্ছে আধুনিক আবাসিক ভবন। সরকারি এই প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা থাকলেও হরিজন সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বহুতল ভবনে বাস করতে চান না। এসব দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে প্রায় দুই বছর আগের প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে চলতি মাসের শেষের দিকে। বগুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বগুড়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য দুটি বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অনুমোদন অনুযায়ী, চকসূত্রাপুরে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য ৭২টি ফ্ল্যাট এবং কাটনারপাড়ায় ৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। সদর উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে চকসূত্রাপুর এলাকায় হরিজন কলোনিতে ১৮ কোটি ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৩ টাকায় সাত তলাবিশিষ্ট ভবন তৈরির বরাদ্দ হয়। ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই এই কাজের জন্য ইলেকট্রো গ্লোব নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রথম দফায় কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট। সেই মেয়াদে কাজ শুরু করতে না পারায় নতুন করে চুক্তি হয়। পরবর্তী মেয়াদ করা হয় ২০২৭ সালের ২৪ আগস্ট। কাজ শেষে ভবনটি বগুড়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করবে এলজিইডি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, দুই কলোনিতে ভবনের কাজের কথা থাকলেও কাটনারপাড়ায় এখনও কাজ শুরু হয়নি। এ ছাড়া কাটনারপাড়ায় চাহিদা ছিল ৪৮টি ফ্ল্যাটের, কিন্তু স্থান সংকটে ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা যাবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকারের প্রকৌশল বিভাগ। এ বিষয়ে খোঁজ নিলে ওই কলোনির বাসিন্দা সবুজ হরিজন বলেন, আমাদের এখানে ৬৫ ঘর হরিজন আছে। ৪৮টি ফ্ল্যাট হলেও তো অনেকে বাদ পড়ছে। এমন হলে আমাদের ভবন দিয়ে লাভ নেই। বরং এখন যেমন আছি, এভাবেই ভালো আছি। কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে কলোনির ভেতরে স্থান নির্বাচনে সমস্যায় পড়ে এলজিইডি। কলোনির পূর্ব পাশে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন বহুতল ভবন নিতে অস্বীকার করেন। এ ছাড়া তারা নিজেদের আবাস ছাড়তে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে কলোনির পশ্চিম পাশের প্রবেশপথের দিকে স্থান নির্ধারণ করা হয়। এখানে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও এখনও অধিকাংশ পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বহুতলা ভবনে থাকতে চান না। সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিজন কলোনির প্রবেশমুখের ঘরবাড়ি সরিয়ে পাশের একটি জমিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে টিন দিয়ে তাদের অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর ফাঁকা ওই স্থানে ভবনের ভেতরের জন্য মাটি খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। তবে ঈদের ছুটির কারণে কাজ আপাতত বন্ধ। এখানকার বাসিন্দারা জানান, বহুতল ভবন নিয়ে তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। কারণ, হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন সবাই মদপানে অভ্যস্ত। বয়স্ক নারী-পুরুষ মদ্যপ অবস্থায় উঁচু স্থানে, সিঁড়ি বেয়ে চলাচলে নিরাপদ মনে করেন না। এ ছাড়া তারা স্বাভাবিক জীবনযাপনে বহুতল ভবনে স্বস্তিবোধ করেন না। অনেকে জানান, অস্থায়ী টিনের ঘরে বসবাস করতে তাদের অসুবিধা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ছে। আবার রোদে গরম লাগছে। কত দিনে ভবন নির্মাণ হবে তা নিয়ে সংশয় আছে তাদের। সনি হরিজন নামে এক যুবক বলেন, ‘বিল্ডিং হলে তো সুবিধা আছে। কিন্তু আমরা তো যেতে চাই না। কারণ আমরা যেভাবে চলি, আমাদের খাওয়া-দাওয়া আপনারা জানেন। এতে সাততলা বিল্ডিংয়ে থাকা ঝুঁকির। আবার আমাদের সবার তো গ্যাসের চুলায় রান্না করার টাকা নেই। খড়ি, পাতা দিয়ে রান্না করি। বিল্ডিংয়ে থাকলে কি মাটির চুলায় রান্না করতে পারব।’ তপু হরিজন বলেন, ‘ভবন প্রথমে কলোনির পূর্ব পাশে হওয়ার কথা ছিল। ওই পাশটায় ডোম গোত্রের লোকজন বাস করে। ওরা কিন্তু ওপর থেকে পড়ে যেতে পারে, এই ভয়ের কারণে করতে দেয়নি। ওদের কথা ছিল, বর্তমান বাড়ি দোতলা করে দিলে তারা থাকবে। কিন্তু সাততলা-দশতলায় তারা যাবে না। এখন আমাদের এখানে ভবন নির্মাণে রাজি হয়েছি আমরা, কিন্তু একই ভয় তো আমাদেরও আছে।’ ডোমদের অংশে গিয়ে গোবিন্দ বাঁশফোড়ের সঙ্গে কথা হয়। বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ওরা যখন জায়গা দেখতে এসেছিল, আমরা বলেছিলাম এখানে যে দোতলা ঘর আছে, একটা মন্দির আছে, এগুলো ভাঙা যাবে না। কিন্তু ওরা শুনেনি। পরে ওরা সামনে বিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন।’ চকসূত্রাপুর কলোনির প্রবীন বাসিন্দা বিমল কুমার হাঁড়ি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বিল্ডিং বানানোর কথা হচ্ছে। এখন কবে হবে, সেই বিল্ডিং টিকবে নাকি ধসে পড়বে, সেটা আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারে না। আবার বিল্ডিং হলেও সেখানে আমরা থাকব কীভাবে? ছাদ থেকে কেউ যদি পড়ে যায়? এগুলো কি সরকার দেখবে?’ চকসূত্রাপুরের কলোনিতে হরিজন সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০০ ঘর আছে বলে জানান বাংলাদেশ হরিজন ঐক্যপরিষদের সহসভাপতি টুটুল হরিজন। তিনি বলেন, প্রথমে জায়গা নির্ধারণ করতে গিয়ে সমস্যা হয়েছিল। ডোমরা তাদের জায়গা দেয়নি। এসব কারণে এই ভবন নির্মাণে দেরিও হলো। আগে যে সমস্যা ছিল, এখন আর সেটি নেই। ভবন হলে সবার জন্য ভালোই হবে। এটা হওয়ার পর এখানে আরেকটি দশ তলা ভবন হবে। ইলেকট্রো গ্লোব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, চকসূত্রাপুর কলোনিতে প্রায় ৯ হাজার স্কয়ার ফুট আয়তনের ওপর ৭তলা ভবন হবে। নিচতলা থাকবে কমিউনিটি সেন্টার। দোতলা থেকে প্রতি ফ্লোরে ১২টি করে ছয় তলায় মোট ৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে। কাজ শুরুতে আমাদের যা দেরি হয়েছে, এখন আর কোনো সমস্যা নেই। কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলব। প্রকল্পটির শুরু থেকে নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে জানান বগুড়া সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ইচ্ছা থাকলে সুন্দরভাবে ভবন নির্মাণ করে বাস করতে পারে না। এলজিইডি একটি উদ্যোগ নিয়েছে সারা দেশে। বগুড়া সদরে দুটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে। চকসূত্রাপুরে পশ্চিম পাশে নির্মাণ করতে গিয়ে সমস্যা হয়েছিল। পরে পুনরায় সয়েল টেস্ট, ডিজাইন করতে হয়। এখন পুরোদমে কাজ চলবে। কাটনারপাড়ায় জায়গা সংকট আছে। সেখানে ৪৮টি হবে না। তবে আমরা ৩৬টি ফ্ল্যাট করতে পারব।