রাজশাহীর পবার মাশকাদানা দিঘীর কাটাখালি এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি (খতিয়ান ২২৭২, দাগ নং ৩০৭) জবরদখলের চেষ্টা চালিয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে তারা মূল ফটকের তালা ভেঙে নিজেরা তালা ঝুলিয়ে দেয়।
জমির মালিক শাহ মো. আর-রাহবারুল ইসলাম। তিনি পেশায় মেজর পদবির সামরিক কর্মকর্তা। চাকরির কারণে তিনি অধিকাংশ সময় নিজ এলাকা থেকে বাইরে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা জমি দখল ও মালিককে হেনস্থা করার চেষ্টা করে।
জমির মালিকের ধারণা, দুষ্ট প্রতিবেশী ও দুর্বৃত্তরা ফেনসিডিল, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকসেবীদের সুবিধার্থে ওই জমি দখল করছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় চাঁদাবাজদের চাঁদা দিতে অস্বীকার এবং অন্যায় দাবি-দাওয়া প্রত্যাখ্যান করার কারণে তারা জমির রক্ষকদের হত্যা, গুমের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন করেছে।
এদিকে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সাগরের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। আগের দরপত্রে বাইরের কোম্পানিগুলোর সাড়া না মেলায় এবার আগ্রহীদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে এগোনোর কথা বলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। পেট্রোবাংলা বলেছে, এর অংশ হিসেবে তারা নতুন ‘মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্র্যাক্ট’ (এমপিএসসি) প্রস্তুত করেছে। রোববার সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬, বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগের দরপত্রে যারা ডকুমেন্ট কিনেছিল, কিন্তু বিড জমা দেয়নি, তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। “তাদের কাছে আমরা কারণ জানতে চেয়েছিলাম। মূলত তাদের পরামর্শ এবং আমাদের কনসালট্যান্টদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই মডেল পিএসসি ২০২৬ প্রস্তুত করা হয়েছে।” নতুন মডেল পিএসসিতে আন্তর্জাতিক কোম্পানির আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। শোয়েব বলেন, “তাদের কিছু বিষয় এখানে এসেছে। আমরা দেখেছি, আন্তর্জাতিকভাবে এসব বিষয় থাকে। এজন্য মনে করছি, এবার ভালো সাড়া পাব।” পেট্রোবাংলার দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সমুদ্রের ১১টি অগভীর ব্লক এবং ১৫টি গভীর ব্লক তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। অগভীর ব্লকগুলো হলো ‘এসএস ০১’ থেকে ‘এসএস ১১’ পর্যন্ত। গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলো হলো ‘ডিএস ০৮’ থেকে ‘ডিএস ২২’। কোম্পানিগুলো এককভাবে অথবা যৌথভাবে এক বা একাধিক ব্লকের জন্য দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। একটি টেন্ডার শিডিউল কিনেই একাধিক ব্লকে অংশ নেওয়া যাবে। তবে প্রতিটি অগভীর ও গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য আলাদা আবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি থাকা দুটি গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য একটি চুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। কী বদলাল নতুন পিএসসিতে পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব বলেছেন, ‘সিগনেচার বোনাস’ না থাকা, রয়্যালটি না থাকা, শতভাগ কস্ট রিকভারি এবং করপোরেট আয়কর পেট্রোবাংলার বহনের মতো সুবিধা আগের পিএসসিতে ছিল। তিনি বলেন, “এগুলো আগেও ছিল। আমরা মূলত এবার পাইপলাইন ট্যারিফটা যোগ করেছি। আর আগে দশ বছর পর ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দেওয়ার বিষয় ছিল, সেটা এখন ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তার মানে ৮০ শতাংশ এলাকায় তারা আরও সিসমিক বা এক্সপ্লোরেশনের জন্য সময় পাবে।” নতুন মডেল পিএসসিতে ঠিকাদার কোম্পানিগুলো অর্জিত মুনাফা পুরোপুরি নিজ দেশে ফেরত নিতে পারবে। কোনো সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটি দিতে হবে না। অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও উৎপাদন পর্যায়ে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিতে শুল্ক অব্যাহতির সুবিধা রাখা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের করপোরেট আয়করও পেট্রোবাংলা বহন করবে। অগভীর ও গভীর সমুদ্র— উভয় ক্ষেত্রেই শতভাগ কস্ট রিকভারি বা ব্যয় পুনরুদ্ধারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বছরে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় তুলে নেওয়া যাবে। গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক ব্রেন্ট ক্রুডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গড় ব্রেন্ট মূল্যের ভিত্তিতে ফ্লোর ও সিলিং নির্ধারণ করা হবে। পাইপলাইন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আলাদা পাইপলাইন ট্যারিফের বিধান রাখা হয়েছে, যা ক্রেতা পরিশোধ করবে। পেট্রোলিয়াম মুনাফা ভাগাভাগি হবে ‘আর-ফ্যাক্টর’ ভিত্তিতে। দরদাতারা নিজেদের প্রস্তাবে এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা তুলে ধরতে পারবে। তেলের দাম নির্ধারণ হবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাজারের প্রচলিত ন্যায্য মূল্যের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত বড় আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরও বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আমরা এই জায়গাটায় এখনও একেবারেই ব্লাইন্ড, বিশেষ করে ডিপ সিতে। অগভীর অংশে একসময় কাজ ছিল, কিন্তু এখন সেখানেও আমাদের কোনো কাজ নেই।” জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রে অনুসন্ধান ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে টানতে আর্থিক শর্তে ছাড় দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস মিললে তা আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। দরপত্রে অংশ নিতে হলে কোম্পানিকে অন্তত একটি অফশোর ব্লকের অপারেটর হতে হবে। অগভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দৈনিক অন্তত ৫ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ৭৫ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দৈনিক অন্তত ১০ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নিজ দেশের বাইরে অন্তত একটি দেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও বাধ্যতামূলক। অপারেটরশিপ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা অথবা সরকারি সংস্থার সনদ বা প্রমাণপত্র দিতে হবে। বাধ্যতামূলক কাজের অংশ সীমিত রাখা হয়েছে ‘টু-ডি সিসমিক জরিপে। তবে দরদাতাদের বাধ্যতামূলক কাজের বাইরে অতিরিক্ত কাজের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। কোনো কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিদ্যমান ‘টু-ডি মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক ডেটা কিনলে বাধ্যতামূলক কাজের পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমানো যাবে। প্রথম অনুসন্ধান কূপ শুকিয়ে গেলে অথবা বাণিজ্যিকভাবে অকার্যকর হলে দ্বিতীয় বা পরবর্তী কূপের ক্ষেত্রে ঠিকাদারের মুনাফার ভাগ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পেট্রোবাংলা গ্যাস কিনতে না পারলে ঠিকাদার কোম্পানি দেশের ভেতরে তৃতীয় পক্ষের কাছে নিজেদের অংশের গ্যাস বিক্রি করতে পারবে। তবে পেট্রোবাংলার অধিকার থাকবে সবার আগে। একই শর্তে ঠিকাদার অংশের গ্যাস রপ্তানির সুযোগও রাখা হয়েছে। অগভীর সমুদ্র ব্লকে বাপেক্সের জন্য ১০ শতাংশ ক্যারিড ইন্টারেস্ট রাখা হয়েছে। চুক্তি সইয়ের পর ন্যূনতম অনুসন্ধান কর্মসূচি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে নির্ধারিত ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। তবে সরকার কোনো সফল দরদাতার হাতে ব্লকের সংখ্যা সীমিত রাখার অধিকার সংরক্ষণ করেছে। নতুন দরপত্র ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি যোগাযোগ করেছে কি না জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব বলেন, “এখনও সময় হয়নি। তবে গতবার যে কোম্পানিগুলো দরপত্র কিনেছিল, তারা আমাদের ডেটাগুলো নিয়েছে। তারা হয়ত অপেক্ষা করছে। আগের দরপত্রে সাতটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব জমা পড়েনি বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। দরপত্র জমা নভেম্বর পর্যন্ত পেট্রোবাংলা বলেছে, ১ জুন থেকে ‘বেসিক ইনফরমেশন’ প্যাকেজ পাওয়া যাবে। এর মূল্য ১০০ ডলার অথবা সমপরিমাণ টাকা। বিডিং ডকুমেন্টসহ প্রমোশনাল প্যাকেজের দাম ৭ হাজার ডলার অথবা সমপরিমাণ টাকা। এই প্যাকেজ কেনা দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক। আরও বিস্তারিত সিসমিক, গ্র্যাভিটি, ম্যাগনেটিক ও ভূতাত্ত্বিক তথ্যের জন্য আলাদা প্যাকেজ থাকবে। দরপত্র জমার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর দুপুর ১টা। একই দিন দুপুর ২টায় পেট্রোবাংলা কার্যালয়ে দরপত্র খোলা হবে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সমুদ্রে বড় আকারে বাণিজ্যিক তেল গ্যাস আবিষ্কার হয়নি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের বড় সুযোগ তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক কোম্পানির আগ্রহ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে নতুন পিএসসি করা হলেও সে সময় দরপত্র ডাকা হয়নি। পরে পিএসসি ২০২৩ এর আলোকে ২০২৪ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই সময় টিজিএস ও শ্ল্যামবার্জারের বঙ্গোপসাগরে টু ডি জরিপের তথ্যও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। তবু শেষ পর্যন্ত কোনো কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়নি। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলে আসছেন, গ্যাসের দাম, পাইপলাইন ব্যয়, কস্ট রিকভারি, লাভ ভাগাভাগি ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা বিদেশি কোম্পানির অনীহার বড় কারণ ছিল। এর আগে গভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে কাজ শুরু করেছিল কনোকোফিলিপস। দ্বিমাত্রিক জরিপের পর গ্যাসের দাম নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তারা কাজ ছেড়ে যায়। স্যান্টোস ও পস্কো দাইয়ুও চুক্তির পর শেষ পর্যন্ত কাজ এগিয়ে নেয়নি। অগভীর সমুদ্রের এসএস ০৪ ও এসএস ০৯ ব্লকে ভারতের ওএনজিসি অনুসন্ধান চালালেও পরে তারা ছেড়ে দেয়।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পছন্দের সাইকেল কিনে না দেওয়ায় মায়ের ওপর অভিমান করে ইয়াছিন আরাফাত (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের মান্দারিয়া গ্রামের উত্তর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত ইয়াছিন ওই গ্রামের মৃত আবুল হাশেম ও নাছিমা বেগমের ছেলে। সে স্থানীয় কাছারিপাড়া আলিম মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইয়াছিন আরাফাত বেশ কিছুদিন ধরে মায়ের কাছে একটি নতুন সাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার মা এখনই সাইকেল কিনে দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ ও অভিমানী হয়ে শুক্রবার বিকেলে নিজ ঘরে সবার অলক্ষ্যে গলায় ফাঁস দেয় ইয়াছিন। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআই লিটন চাকমা জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসময় তার ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেসময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে যান। তখন পেছন দিক কিছু যুবক ডিম নিক্ষেপ করে ও হামলা চালায়। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় যুবক আহত হয়। এ ঘটনার পর এনসিপির নেতারা বিক্ষোভ করেন। তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। হামলার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, ‘ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা শুরু করে।’ তিনি লেখেন, ‘প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়। এ সময় হামলাকারীরা মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।’ ঘটনার পর থানায় অবস্থান করছেন জানিয়ে তিনি এনসিপির এ নেতা লেখেন, ‘মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি আবার থানার সামনে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’