ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের মিশন শুরু হয়ে গেছে ব্রাজিলের। শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। তারপরও হেক্সা মিশনে আশাবাদী সেলেসাও ভক্তরা। এর পেছনে বড় কারণ অতীত উদাহরণ।
চার কোচ, ৩৭ ম্যাচ, ১৭ জয়, ১০ ড্র এবং ১০ হার; কোনো শিরোপা নেই, জয়ের হার মাত্র ৫৪.৫ শতাংশ। এমন পরিসংখ্যান নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে পা রেখেছে ব্রাজিল। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটিই ছিল বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রস্তুতি পর্ব।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবোর মতে, ব্রাজিলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি ধারণা জনপ্রিয় হয়েছে, খারাপ প্রস্তুতি নাকি কখনও কখনও ভালো লক্ষণও হতে পারে। কারণ ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে, ব্রাজিলের সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপ জয়ের আগেও দলটি খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না।
১৯৯৪ ও ২০০২: সংকটের মধ্যেই শিরোপা
১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের সময়টা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে দলটির কোচ ছিলেন দুজন- পাউলো রবার্তো ফালকাও এবং কার্লোস আলবার্তো পারেইরা। এই সময়ে কোনো শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। এমনকি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল টিকিট নিশ্চিত করতে।
২০০২ সালের চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। যদিও ১৯৯৯ সালে কোপা আমেরিকা জিতেছিল ব্রাজিল, তারপরও কোচ ভ্যান্ডারলেই লুক্সেমবার্গো ও এমারসন লেয়াওকে বরখাস্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মাত্র এক বছর আগে দায়িত্ব নেন লুইজ ফেলিপে স্কলারি, যিনি দলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ এনে দেন।
তবে সংকটের মধ্যে বিশ্বকাপ জয় করাই যে নিয়ম, তা নয়। ইতিহাসে ব্রাজিল অনেক সময় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও ফেবারিটের তকমা নিয়েও বিশ্বকাপ জিতেছে।
বিশ্বকাপ জয়ের আগে বিভিন্ন চক্রে ব্রাজিলের সাফল্যের হার ছিল:
১৯৬২ বিশ্বকাপ চক্র – ৮০.৩%
১৯৭০ বিশ্বকাপ চক্র – ৭৪.৫%
১৯৫৮ বিশ্বকাপ চক্র – ৬৯.৯%
২০০২ বিশ্বকাপ চক্র – ৬৬.৬%
১৯৯৪ বিশ্বকাপ চক্র – ৬০.৯%
২০২৬ বিশ্বকাপ চক্র – ৫৪.৫%
পরিসংখ্যানই বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের প্রস্তুতি ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল।
‘ফেবারিট না হওয়া’ তত্ত্ব কি সত্য?
ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করেন, এই ধারণা মূলত কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয়। গ্লোবো গ্রুপের বিশ্লেষক রদ্রিগো কৌতিনহোর মতে, বিশ্বকাপ একটি স্বল্পমেয়াদি টুর্নামেন্ট যেখানে অসংখ্য অনিশ্চিত বিষয় কাজ করে।
তার ভাষায়, ‘অনেক সময় ফেবারিট দলগুলোর ভেতরে কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়। কখনো কোনো অপ্রত্যাশিত হার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। বিশ্বকাপে মানসিক চাপ অত্যন্ত বেশি থাকে। যে দল এই চাপ ভালোভাবে সামলাতে পারে, তারাই এগিয়ে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফেবারিট না হলে খেলোয়াড়রা হয়তো আরও বেশি মনোযোগী হয়। আবার ফেবারিট হলে আত্মতুষ্টি চলে আসতে পারে। প্রস্তুতিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, ফিটনেস কমে যেতে পারে এবং দলীয় সংহতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।’
ভালো প্রস্তুতি, কিন্তু শিরোপা নেই
ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পাঁচটি বিশ্বকাপ চক্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, দলটি বেশিরভাগ সময়ই ভালো অবস্থায় বিশ্বকাপে গেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে তাদের সাফল্যের হার ছিল ৬৬.৭ শতাংশ। ২০২২ বিশ্বকাপের আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩.৯ শতাংশে। তবুও বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব হয়নি।
বিশেষ করে ২০০৬ সালের দলটিকে অনেকেই ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্কোয়াড বলে মনে করেন। রোনালদিনিও, কাকা, রোনালদো, আদ্রিয়ানোসহ বিশ্বসেরাদের নিয়ে গঠিত সেই দলও কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোতে পারেনি। সেই দলের সদস্য জে রবার্তো পরে স্বীকার করেছিলেন, দলের বড় সমস্যা ছিল প্রস্তুতির ঘাটতি।
সাম্প্রতিক উদাহরণ ভিন্ন কথা বলে
ফেবারিট দল যে বিশ্বকাপ জিততে পারে না, সাম্প্রতিক ইতিহাস তা সমর্থন করে না। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের আগে তাদের সাফল্যের হার ছিল ৭২.৭ শতাংশ। একই সময়ে তারা কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমাও জিতেছিল। ২০১৮ সালে ফ্রান্সও ছিল অন্যতম ফেবারিট। বিশ্বকাপের আগের চার বছরে তাদের জয়ের হার ছিল ৬৮ শতাংশ এবং প্রতিভাবান এক প্রজন্মের ফুটবলার নিয়ে তারা রাশিয়ায় শিরোপা জয় করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০১৪ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিল জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল। ৭-১ গোলে সেই হারের পর জার্মানিকে আর একবারই পেয়েছিল সেলেসাওরা। বার্লিনে প্রীতি ম্যাচটি গ্যাব্রিয়েল জেসুসের একমাত্র গোলে জিতেছিল। ওইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর জার্মানি পরের দুটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ায় ব্রাজিলের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগটুকুও আসেনি। তবে এবারের বিশ্বকাপে সেই সম্ভাবনা আছে। এমনকি শেষ ৩২-এ দেখা হয়ে যেতে পারে দুই দলের। এই টুর্নামেন্টে জার্মানি রয়েছে গ্রুপ ই-তে এবং ব্রাজিল রয়েছে গ্রুপ সি-তে। নকআউট পর্বের সূচি অনুযায়ী এই দুই পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে। সবচেয়ে সহজ সমীকরণ, নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডে মানে শেষ ৩২-এ জার্মানি বনাম ব্রাজিল ম্যাচটি হতে পারে, যদি জার্মানি তাদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ব্রাজিল তাদের গ্রুপে ৩য় স্থান অর্জন করে নকআউটে ওঠে। কারণ, রাউন্ড অব ৩২-এর নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ ই-এর চ্যাম্পিয়ন দল মুখোমুখি হবে গ্রুপ এ/বি/সি/ডি/এফ-এর অন্যতম সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের। শেষ ষোলোতেও তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি দুটি দলই যার যার গ্রুপ থেকে সরাসরি প্রথম বা দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে কোয়ালিফাই করে, তবে ব্র্যাকেটের পজিশন অনুযায়ী তাদের দেখা হতে পারে। ব্রাজিল যদি গ্রুপ সি-এর রানার্স-আপ হয়, তবে তারা রাউন্ড অব ৩২-এ খেলবে গ্রুপ এফ-এর চ্যাম্পিয়নের সাথে। অন্যদিকে জার্মানি গ্রুপ ই-এর রানার্স-আপ হলে খেলবে গ্রুপ আই-এর রানার্স-আপের সাথে। এই দুই পথের বিজয়ী দলগুলো কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে মুখোমুখি হতে পারে। ব্রাজিল ও জার্মানি নিজ নিজ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যার যার ম্যাচ জিততে থাকলে টুর্নামেন্টের একদম শেষদিকের ধাপে যেমন সেমিফাইনাল বা ফাইনাল গিয়ে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, সবচেয়ে দ্রুত জার্মানি-ব্রাজিল মহারণ দেখার সুযোগ রয়েছে রাউন্ড অব ৩২-এই, যার জন্য জার্মানিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং ব্রাজিলকে সেরা চারটির একটি হয়ে ৩য় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করতে হবে।
বছরের শেষ দিকে ৩৮তম জন্মদিন পালন করবেন ভিরাট কোহলি। কিন্তু ২২ গজে তিনি যেন এখনও তরুণ। বয়সের ছাপ তার মাঠের পারফরম্যান্সে একটুও পড়ছে না। সবশেষ আইপিএলেও আলো ছড়ানো ভারতীয় গ্রেটকে অন্তত আরও চার বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলতে দেখতে চান ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রধান নির্বাহী রাজেশ মেনন। আইপিএলের শুরু থেকে বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলছেন কোহলি। দলটিকে দীর্ঘ দিন নেতৃত্বও দেন তিনি। ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান করে ২০২৫ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপা জেতে দলটি। আর চলতি বছর সেটি ধরেও রাখার কীর্তি গড়ে তারা। দুটি আসরেই ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখেন কোহলি। গত চারটি আইপিএল আসরে রানের স্রোত বইয়ে দেন কোহলি। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি মৌসুমেই ছয়শর বেশি রান করেন তিনি। গত দুই আসরে তার রান ছিল ৬৫৭ ও ৬৭৫। সবশেষটিতে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জেতেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। বেঙ্গালুরুর মালিকানা বদলের ঘোষণা এসেছে গত মাসেই। তবে এতে কোহলির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সম্পর্কের কোনো বদল আসবে বলে মনে করেন না রাজেশ। সিএনবিসি টিভি১৮ এর সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বলেন, আরও চার বছর খেলার মতো প্রাণশক্তি আছে কোহলির। আরসিবি ও ভিরাট একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। শুরু থেকেই তিনি এই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পাট চুকিয়ে ফেলার পরও তিনি আরসিবির অংশ থাকবেন না—এমনটা আমরা ভাবতেই পারি না। বিষয়টি আমাদের ভেবে দেখতে হবে। তবে এটুকু বলতে পারি, আগামী তিন থেকে চার বছর তিনি নিশ্চিতভাবেই খেলা চালিয়ে যাবেন… অন্তত চার বছর তো বটেই। তিনি পুরোপুরি ফিট এবং তার ক্ষুধা শেষ হওয়ার নয়। এবারের আইপিএল মৌসুমেও তার অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি, রান আর আগ্রাসী মনোভাব দেখা গেছে… সবকিছুই একদম ঠিকঠাক ছিল। তাই আগামী তিন-চার বছর খেলা চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হবে না। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইপিএলের মেগা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। চলমান মেগা নিলাম চক্রের আর মাত্র এক বছর বাকি। ২০২৮ সালের আসরের আগে আবার দলগুলোর স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন আসবে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আসরে অংশ নিতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছে দেশটির জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নতুন এক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অবস্থানসংক্রান্ত বিধিনিষেধকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের দুই দিন আগে আয়োজক দেশে পৌঁছে অনুশীলন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চেয়েছিল ইরান। ম্যাচ শেষে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে পরে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইরানের এই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। এর ফলে ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে দলটি এবং খেলা শেষ হওয়ার পরপরই তাদের শহর ত্যাগ করতে হবে। তেহরানের কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা এসব শর্ত দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, এই বিধিনিষেধের কারণে দলের কোচিং স্টাফ ও কারিগরি দলের পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও কৌশল বাস্তবায়নে গুরুতর বিঘ্ন ঘটছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন এখন ফিফার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা আশা করছেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হবে।