খেলাধুলা

নাঈম হাসানকে ‘পুলিশি হেনস্তা’: প্রতিবাদে সরব মুশফিক-লিটন-তাসকিন

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে রাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। এবার এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন নাঈমের সতীর্থ মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও তাসকিন আহমেদরাও।

শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন নাঈম। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে মারধর করে থানায় নিয়ে যান। এরপর নগরীর খুলশী থানায়ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ নাঈমের।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুশফিক লিখেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’

বাংলাদেশ দলের পেসার তাসকিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সাথে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’

বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস সতীর্থকে সাহস জুগিয়ে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন চমৎকার মানুষ। নাঈম হাসানের সাথে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাকে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখাটা হৃদয়বিদারক। একজন সহকর্মী এবং সতীর্থ হিসেবে এই ঘটনায় আমি সত্যিই মর্মাহত।’

লিটন আরও লিখেছেন, ‘এই দেশের কোনো নাগরিকেরই এমন আচরণ প্রাপ্য নয়, বিশেষ করে একজন জাতীয় ক্রিকেটার যিনি গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই ঘটনায় সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্তের আশা করছি এবং যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়।’

খুলশী পুলিশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ব্রাজিলকে ফেবারিট মানলেও জয়ের আত্মবিশ্বাস নরওয়ে কোচের

নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ মহরণে আগামী ৬ জুলাই ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। কাগজের কলমে কিংবা শক্তিমত্তায় সেলেসাওরাই যে যোজন যোজন এগিয়ে, তা মানতে দ্বিধা নেই নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেনের।   তবে বিশ্বফুটবলের এই পরাশক্তিকে সমীহ করলেও ভয়ের কোনো ভূত মাথায় চড়াতে নারাজ তিনি।   নরওয়ে কোচ সোলবাকেন বিশ্বাস করেন, ফুটবল সব সময় চিরন্তন হিসাব মেনে চলে না। আর নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে পারলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রূপকথা লিখতেই পারে তার দল।   ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রতিপক্ষকে ফেবারিটের তকমা দিয়েও নরওয়ে কোচ এক বুক আত্মবিশ্বাসের কথাই শোনালেন, ‘ব্রাজিল এখনো ফেবারিট। তবে তারা হয়তো আগের মতো সেই একচ্ছত্র ফেবারিট আর নয়। সম্ভাবনাকে শতকরা হিসাবে মাপা কঠিন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ব্রাজিলকে হারাতে পারি। তবে সেটা করতে হলে মাঠে আমাদের শতভাগ উজাড় করে খেলতে হবে। ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ আমাদের অবশ্যই আছে।’   গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে দারুণ ছন্দে থাকা নরওয়ে এবারই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে। আর সেই পরীক্ষায় কার্লো আনচেলত্তির আক্রমণভাগের ‘ত্রাস’ সামলানোকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন সোলবাকেন।   জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয়ার্ধের রণকৌশল মাথায় রেখে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইনের তিন খেলোয়াড় যে ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশন তৈরি করবে, আমরা সেটি কতটা সামলাতে পারি, তা দেখতে হবে। তারা চারজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়েও খেলতে পারে, যেমন জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছিল। তাদের সেই গতির সঙ্গে আমরা কতটা তাল মিলিয়ে চলতে পারি, সেটাই দেখার বিষয়।’   নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। চার ম্যাচে এই ইউরোপিয়ান দলকে একবারও হারাতে পারেনি তারা: দুটি হার ও দুটি ড্র। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছিল। বেবেতো ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোল করেন। তোরে আন্দ্রে ফ্লো ও কেতিল রেকদাল নরওয়েজিয়ানদের হয়ে গোল পান।   নরওয়ে বিশ্বকাপে জেতার পাশাপাশি ব্রাজিলকে আরেকবার হারিয়েছে প্রীতি ম্যাচে। অন্য দুটি ড্রও প্রীতি ম্যাচে হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে ১-১ গোলে ড্র করেছিল দুই দল। নরওয়ের আরেকটি জয় ১৯৯৭ সালের ৩০ মে ৪-২ গোলে। শেষবার তারা মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৬ সালের আগস্টে। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।   যদি নরওয়ে শেষ হাসি হাসে, তবে কি সেটা এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন হবে? কোনো রাখঢাক না রেখেই নরওয়েজিয়ান বস উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমারও মনে হয়, সেটি হলে বড় একটি চমকই হবে।’   মাঠের লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—আর্লিং হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের দ্বৈরথের ওপর। তবে ব্যক্তিগত লড়াইকে ছাপিয়ে দলগত রসায়নকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সোলবাকেন।   তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণজুটি অন্যতম শক্তিশালী। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিয়োস দুজনই বিশ্বমানের ডিফেন্ডার। তবে এটি শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচ। নিঃসন্দেহে মাঠে কিছু ব্যক্তিগত দ্বৈরথ জমবে, কিন্তু দিনশেষে এটি ব্রাজিল বনাম নরওয়ের লড়াই।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রাজিলকে বড় সুখবর দিলেন আনচেলত্তি

ছবি - সংগৃহীত

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

ছবি - সংগৃহীত

ঝড়ের কারণে মায়ামিতে আর্জেন্টিনার অনুশীলন স্থগিত

ছবি - সংগৃহীত
কানাডাকে বিদায় করে কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কো

প্রথমার্ধের বর্ণহীন পারফরম্যান্সের মাঝে ছন্দে থাকা ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারিকে হারাল মরক্কো। তবে, বিরতির পর ঠিকই ঘুরে দাঁড়াল তারা। দলের প্রয়োজনে গোলের জোগান দিলেন আজেদিন উনায়ি। তার কাঁধে চেপে, সহ-আয়োজক কানাডার অভিযান থামিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল আফ্রিকার দলটি।   উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে শনিবার হিউস্টনে শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে মরক্বো। দ্বিতীয়ার্ধে উনায়ির জোড়া গোলের পর, শেষ সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান সুফিয়ান রাহিমি।   পারফরম্যান্সের আলোকে এদিন মরক্কোকে একদমই সেরা ছন্দে দেখা যায়নি। প্রথম অর্ধে তো পরিষ্কারভাবেই সেরা দল ছিল কানাডা। তবে, ভোগান্তির সময়টা কাটিয়ে দিয়ে, ঠিকই কার্যকর হয়ে উঠল গতবারের সেমি-ফাইনালিস্টরা। দেখিয়ে দিল, জয়ের ধারা ধরে রাখতে মোটেও সব ম্যাচে আধিপত্য করার প্রয়োজন আছে।   বল দখলে পিছিয়ে থাকা কানাডা গোলের জন্য ১০টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। আর মরক্কো পাঁচ শটের চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে, এর তিনটিই সফল।   প্রথম ১০ মিনিটেই বেশ কয়েকবার মরক্কোর রক্ষণ ভেঙে ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে কানাডা। একাদশ মিনিটে নিশ্চিত সুযোগও পায় তারা। ডি-বক্সে বল পেয়ে, প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে দারুণভাবে জায়গা বানিয়ে শট নেন টেনি ওলুওয়াশি, ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক।   প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগের বাকি সময়েও টানা আক্রমণে চাপ ধরে রাখে কানাডা, যদিও গোলরক্ষকের আর পরীক্ষা নিতে পারেনি তারা।   পারফরম্যান্সে হতাশাজনক শুরুর মাঝে বড় এক ধাক্কাও খায় মরক্কো। ২২তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে একটি করে গোল করা ফরোয়ার্ড সাইবারি।   ওই বিরতির পর কানাডার আক্রমণের ধার কমলেও, সেই সুযোগ নিতে পারেনি মরক্কো। বল দখলে অনেক এগিয়ে থাকলেও, প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি তারা। এই সময়ে তাদের খেলায় বোঝাপড়ার ঘাটতি ছিল প্রবল।   দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই দারুণ এক গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মরক্কো। ডান দিকে ফ্রি কিক পেয়ে, আশরাফ হাকিমি ডি-বক্সের মুখে বল বাড়ান উনায়িকে, আর প্রথম ছোঁয়ায় নিচু জোরাল শটে পোস্ট ঘেঁষে গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপে প্রথম জালের দেখা পেলেন ওনায়ি।   ৭৯তম মিনিটে আচমকা অনেক দূর থেকে শট নেন টেজন বুখানন। বল লক্ষ্যে ছিল, সতর্ক ছিলেন ইয়াসিন বোনুও। ঝাঁপিয়ে সেটা রুখে দেন তিনি।   এর তিন মিনিট পরেই আরেকটি দারুণ গোলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন উনায়ি। ডি-বক্সে ব্রাহিম দিয়াসের ছোট পাস পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।   জাতীয় দলের হয়ে ৫৪ ম্যাচে তার গোল হলো ১১টি।   দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে না দাঁড়ালে, ৮৫তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো; সাইবারির বদলি নামা সুফিয়ান রাহিমির হেড প্রতিহত হয় ক্রসবারে।   অবশ্য আট মিনিট যোগ করা সময়ে ঠিকই জালের দেখা পান রাহিমি। এই গোলেও জড়িয়ে দিয়াসের নাম। গতিময় এক পাল্টা আক্রমণে রেয়াল মাদ্রিদ তারকা ডি-বক্সে দারুণ এক পাস বাড়ান রাহিমিকে, আর কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।   আসরে দলের পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতেই রাহিমি খেলেছেন বদলি হিসেবে। তবে সঠিক সময়েই দলের জয়ে অবদান রেখে যাচ্ছেন তিনি, দুর্দান্তভাবে; কেবল ১২২ মিনিট খেলে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করলেন এই স্ট্রাইকার।   জাতীয় দলের হয়ে ৪২ ম্যাচে রাহিমির গোল হলো ১৪টি।   সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কো খেলবে ফ্রান্স অথবা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬
অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে নেইমার-ভিনিসিয়াস। ছবি: সংগৃহীত

পুরো ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত নেইমার, জানালেন আনচেলত্তি

ছবি - সংগৃহীত

উনাহির গোলে এগিয়ে গেল মরক্কো

ছবি - সংগৃহীত

বিদায়ী দলগুলোর নতুন র‌্যাংকিং প্রকাশ

ছবি - সংগৃহীত
আমাকে বিচার করার যোগ্যতা কারও নেই: কার্লো আনচেলত্তি

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমাকে বিচার করার যোগ্যতা কারও নেই।’ তার এমন মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।   আগামীকাল রাত ২টায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই ম্যাচের আগে দলটির কোন আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমি ফুটবল বুঝি কি না, সেটা জানি না। তবে ফুটবল বুঝি কি না, সেই বিচার করার যোগ্যতাও কারো নেই। কোচ হিসেবে এক হাজার চার শর বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছি। ফুটবল পুরোপুরি বোঝার জন্য হয়তো এটা যথেষ্ট নয়। তবে অভিজ্ঞতা যে খুব বেশি কম, তা-ও নয় ‘   তিনি আরও বলেন, ‘আমার চেয়ে একজন মানুষেরই বেশি ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে; তিনি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তিনি দুই হাজারের বেশি ম্যাচে কৌশল সাজিয়েছেন। সবার পরামর্শ আমি অবশ্যই মাথা পেতে নিই। তবে আমাকে উপদেশ দেওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি যদি কেউ থাকেন, তিনি শুধুই অ্যালেক্স ফার্গুসন।’   আরলিং হালান্ডের মতো ফুটবলার থাকায় নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটা যে সহজ হবে না, সেটাই স্মরণ করিয়ে দিলেন আনচেলত্তি, ‘বিশ্বকাপের বাকি পথটুকু কঠিন হবে। নকআউট পর্বে কৌশল বা টেকনিকের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে মানসিক দৃঢ়তা। নরওয়ে দারুণ একটি দল। ওদের হালান্ডের মতো ফুটবলার আছে। সে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আমাদের জন্য কাজটা সহজ হবে না। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দেব।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

মাঠে লাথি মেরে খেলা শেষে জার্সি চাইলেন লিওনেল মেসি

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে মিসরের ঐতিহাসিক জয়, উৎসর্গ করা হলো ফিলিস্তিনিদের

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সূচি: কে কার মুখোমুখি, কার খেলা কখন

0 Comments