বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে রাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। এবার এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন নাঈমের সতীর্থ মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও তাসকিন আহমেদরাও।
শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন নাঈম। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে মারধর করে থানায় নিয়ে যান। এরপর নগরীর খুলশী থানায়ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ নাঈমের।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুশফিক লিখেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’
বাংলাদেশ দলের পেসার তাসকিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সাথে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস সতীর্থকে সাহস জুগিয়ে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন চমৎকার মানুষ। নাঈম হাসানের সাথে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাকে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখাটা হৃদয়বিদারক। একজন সহকর্মী এবং সতীর্থ হিসেবে এই ঘটনায় আমি সত্যিই মর্মাহত।’
লিটন আরও লিখেছেন, ‘এই দেশের কোনো নাগরিকেরই এমন আচরণ প্রাপ্য নয়, বিশেষ করে একজন জাতীয় ক্রিকেটার যিনি গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই ঘটনায় সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্তের আশা করছি এবং যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়।’
খুলশী পুলিশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এবার সেই পরিবর্তনের প্রভাব অধিনায়ক বাবর আজমের ওপরও পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ। টেস্ট সিরিজে হারের পর সাত ক্রিকেটারসহ কোচিং স্টাফের কয়েকজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলও পদ হারিয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচকের দায়িত্ব ছেড়েছেন মিসবাহ উল হক। প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদও পিসিবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় চাপে পড়তে পারেন বলে আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বাবরের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি পিসিবির দল পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার প্রশ্ন, দলের সিদ্ধান্ত যদি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণেই নেওয়া হয়, তাহলে কোচদের সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? আর অধিনায়ক বাবর যদি বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ না করে থাকেন, তাহলে তাকেই আগে দায়িত্ব থেকে সরানো উচিত ছিল কি না—সেটিও জানতে চান তিনি। রশিদের প্রশ্ন, বাবর আজমই কি পিসিবির পরবর্তী টার্গেট? এর আগেও পিসিবির সাম্প্রতিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় বাবরের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন রশিদ। তার মতে, দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের সরিয়ে দেওয়ার পর অধিনায়ক হিসেবে বাবরের উচিত ছিল তাদের পাশে দাঁড়ানো। রশিদের দাবি, একজন অধিনায়কের দায়িত্ব শুধু মাঠে নেতৃত্ব দেওয়া নয়; দলের কঠিন সময়ে সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের পাশে দাঁড়ানোও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার মতে, বাবর বর্তমানে এমন এক অবস্থানে রয়েছেন যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত—যাকে তিনি ‘পুতুল অধিনায়ক’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। পিসিবির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে রশিদ আরও বলেন, একসঙ্গে এতজন ক্রিকেটার, কোচ ও মেন্টরকে সরিয়ে দেওয়ার পরও বাবর প্রকাশ্যে তাদের সমর্থনে অবস্থান নেননি। তার মতে, একজন সত্যিকারের নেতা হলে এমন পরিস্থিতিতে দলের হয়ে কথা বলা উচিত ছিল। রশিদের মন্তব্যে তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাবরের নেতৃত্ব। পাকিস্তান ক্রিকেটে চলমান রদবদলের পর অধিনায়ক হিসেবে তার ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
মৌসুমের শুরুটা দারুণ করলেও চতুর্থ ম্যাচেই হারের মুখ দেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিয়াল বেটিস ১-০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। ট্রয় প্যারোটের গোলে জয় নিশ্চিত করে বেটিস। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। পুরো ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। এমবাপে-ভিনিসিয়ুসদের একাধিক প্রচেষ্টা পোস্টে লেগেও ফিরে আসে। ম্যাচের ৮১ মিনিটে এগিয়ে যায় বেটিস। কর্নার থেকে আসা বল থিবো কোর্তোয়া প্রথমে প্রতিহত করলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান প্যারোট। গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। ৮৪ মিনিটে এমবাপের চিপ শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর কার্লোস এসপি অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে গোল করলেও ভিএআরের পর সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। যোগ করা সময়ে ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ডি-বক্সে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু এমবাপের স্পট কিক দুর্বল হওয়ায় বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভালেস সেটি ঠেকিয়ে দেন। ফলে সমতা ফেরানো হয়নি রিয়ালের। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল রিয়াল। ১১ মিনিটে আর্দা গুলার ও ডিন হুইজসেনের প্রচেষ্টা বেটিস গোলরক্ষক আটকে দেন। তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুসের শট পোস্টে লাগে। ৪৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের কাছ থেকে পাওয়া সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে জুড বেলিংহ্যামের হেড গোলরক্ষক রুখে দেওয়ার পর হুইজসেনের হেড ক্রসবারে লাগে। এই ম্যাচে এমবাপে একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। আগের দুই ম্যাচে চার গোল করা ফরাসি ফরোয়ার্ড বেটিসের বিপক্ষে হতাশ করেন। তার একটি প্রচেষ্টাসহ রিয়ালের মোট তিনটি শট পোস্টে লাগে। চার ম্যাচ শেষে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে বেটিস তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এক ম্যাচ কম খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা।
ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তানের স্কোয়াড ও টিম ম্যানেজমেন্টে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে চলছে তোলপাড়। সিরিজের মাঝপথে লাল বলের দলের দায়িত্ব পাওয়া সাদা বলের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন বলছেন, এমন ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত’ তার খেলোয়াড়রা। ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই বাজেভাবে হেরেছে পাকিস্তান। তৃতীয় টেস্টের আগে দল থেকে সাত জন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় নেওয়া হয়েছে সাত জনকে। এছাড়া প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হেসন সম্প্রতি এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য জাপানে ছিলেন। গত বুধবার ব্রিটনের রাজা চার্লসের সঙ্গে পাকিস্তান দলের সাক্ষাতের জন্যই শুধু তার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল। নিউ জিল্যান্ডের সাবেক এই কোচকে এখন আগামী বুধবার এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টের জন্য অস্থায়ীভাবে টেস্ট দলের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি তুলে ধরে হেসন বলেন, সবকিছু পেছনে রেখে আপাতত শুধু সামনের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে চান তারা। “গত কয়েকটা দিন হোটেলে থাকাটা বেশ কঠিন ছিল। কারণ কিছু খেলোয়াড় আসছিল, কিছু খেলোয়াড় চলে যাচ্ছিল এবং তারপর সবাই আসছিল। এই ধরনের কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ছেলেরা সম্ভবত আমার চেয়ে বেশি অভ্যস্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা হতাশ হয়েছে, ভীষণভাবে হতাশ হয়েছে। “আমাদেরকে ব্যাপারটা আপাতত থামিয়ে দিয়ে ভাবতে হয়েছে, ‘ঠিক আছে, এখন কী করা যায়?’ গত কয়েক দিনে তারা খুব ভালোভাবেই সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।” দলে পরিবর্তনের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন হেসন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই দল থেকে বাদ দেওয়া হয় অভিজ্ঞ তিন ব্যাটসম্যান ইমাম-উল-হাক, সালমান আলি আগা ও মোহাম্মাদ রিজওয়ানকে। হেসন জানান, এরপর তিনি বোলিং বিভাগ পর্যালোচনা করেন এবং এজবাস্টনের কন্ডিশনের জন্য যা প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে, তার ভিত্তিতে পরিবর্তন আনেন। প্রথম দুই টেস্টে খেলা স্পিনার আলি উসমান ও পেসার খুররাম শাহজাদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমের জামাল ও আওয়াইস জাফার কোনো ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়েছেন। দলে নেওয়া হয়েছে স্পিনিং অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস, বাঁহাতি পেসার মোহাম্মাদ ইমরান জুনিয়র, কিপার-ব্যাটসম্যান সাদ বেগ, অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ ইমরান, রাজাউল্লাহ, ব্যাটসম্যান সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফাজালকে। এর মধ্যে কেবল সাইম ও ফাজালের টেস্ট খেলা অভিজ্ঞতা আছে। হেসন মানছেন, সিরিজের মাঝপথে দলে ঢালাওভাবে পরিবর্তন আনা আদর্শ নয়। একই সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। “আমি যখন দায়িত্ব নিই, ততক্ষণে তিন খেলোয়াড় রিজওয়ান, ইমাম ও সালমান আলি আগা দল ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে তৃতীয় টেস্টের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করা হয়েছে। “সিরিজের মাঝপথে এমন কিছু কেউই চায় না, এটা পরিষ্কার। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, শুধু এই টেস্টের জন্যই নয়, একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করাই মূল বিষয়, যাতে আমাদের বোলিং আক্রমণে কিছুটা বৈচিত্র্য থাকে। পাকিস্তান তাদের গতি, অভিনব বোলিং অ্যাকশন, রহস্যময় স্পিনের জন্য পরিচিত- এর কোনোটিই আমরা সেভাবে দেখাতে পারিনি।”