জাতীয়

নবম জাতীয় পে-কমিশন আজ বৈঠকে, সরকারি বেতন-ভাতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৫, ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরাতন ভবনের সভাকক্ষে বৈঠক করছে নবম জাতীয় পে-কমিশন।


সূত্র জানায়, বৈঠকে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি গ্রেড সংখ্যা, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা, অবসরকালীন সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে। কমিশনের সদস্যরা একমত হলে এসব বিষয়ে আজই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
পে-কমিশনের প্রতিবেদনে বাজারে চলমান মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ও শিক্ষা ব্যয়কে প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের মূল রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

আগের বৈঠকে নবম পে-স্কেলে বেতনের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ বিষয়ে তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা হয়েছে এবং পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়। কমিশনের দায়িত্ব সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
এবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সাইমুম পারভেজ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) স্ট্র্যাটেজি কমিটিতে সাইমুম পারভেজকে মনোনীত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কমিটিতে পলিসি (নীতি), প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   গত শনিবার জিআইইউর উপপরিচালক মো. নাভিদ রেজওয়ানুল কবীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   এর আগে গত ২২ এপ্রিল সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান সাইমুম পারভেজ। নতুন এই মনোনয়নের মাধ্যমে তিনি অতিরিক্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভাবনী কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রতিষ্ঠা করা হয়।   জিআইইউকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং নীতিগত পরামর্শ ও কৌশলগত সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) সভাপতিত্বে একটি স্ট্র্যাটেজি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটিতেই এবার পলিসি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত হলেন সাইমুম পারভেজ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের নির্দেশে তিন কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি

নজরুল জাতীয় জাগরণের তূর্যবাদক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের রূপকার : রাষ্ট্রপতি

মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কার্যবণ্টন ইসি’র

ছবি : সংগৃহীত
অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।  আজ রোববার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন।  বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের জন্য আরও একটি যুগান্তকারী আইনি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘১৮৬৭ সালের মান্ধাতা আমলের জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’  মন্ত্রী বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে পেশ করা হবে। মাদক আইনের সংস্কার এবং মামলার জট নিরসন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মামলার আধিক্য বিবেচনা করে বিশেষ ‘মাদক ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হবে।  পাসপোর্টে পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন নতুন পাসপোর্টগুলোতে পূর্বের ন্যায় ‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ শব্দগুচ্ছ পুনঃস্থাপন করা হবে। এটি দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রাণের দাবি ও বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৪, ২০২৬
ছবি : পিআইডি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি প্রতিনিধিদলের প্রধানের সাক্ষাৎ

ফাইল ছবি

মেট্রোরেলে প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যাত্রীদের ২৫ শতাংশ ছাড়, উদ্বোধন কাল

ছবি : সংগৃহীত

চীনে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে পাইলট প্রকল্প চালু করছে জাপানি ইভি ব্র্যান্ড ‘গ্লাফিট’

জাপানি ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) কোম্পানি ‘গ্লাফিট’ বাংলাদেশে ৮০০ ইলেকট্রিক বাইক নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো- বাংলাদেশকে তাদের উদ্ভাবনী ইভি ব্যবসায়িক মডেলের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছে হোন্ডা’র অন্যতম প্রধান যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মুসাশি’। প্রকল্পটির প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য মুসাশির প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকা সফর করছেন। এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে- চার্জিং এবং ব্যাটারি সোয়াপিং (পরিবর্তন) অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়গুলো। কার্যক্রম শুরুর অংশ হিসেবে, গত ১৫ জানুয়ারি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে গ্লাফিট বাংলাদেশ লিমিটেড। এ চুক্তির আওতায়, ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় চার্জিং এবং ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রাণ-আরএফএল-এর খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র ‘বেস্ট বাই’-এর নেটওয়ার্কের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে গ্লাফিট। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাণ-আরএফএল-এর বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারজাতকরণ নেটওয়ার্কের সাথে গ্লাফিট-এর উন্নত জাপানি ইভি প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সিস্টেমের চমৎকার সমন্বয় ঘটবে। গ্লাফিট-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তেইজো নারুমি বাসস-কে বলেন, এই প্রকল্পে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি এবং একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে বাইকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কোম্পানিটি মূলত ডেলিভারি এবং লজিস্টিকস (পণ্য পরিবহন) খাতকে লক্ষ্য করে কাজ করছে, যাতে ব্যবসায়িক পরিচালনা খরচ কমানো এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, পরিবহন চাহিদা বাড়ছে এবং বিশেষ করে ঢাকায় বায়ুদূষণ মোকাবিলার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশের ইভি খাতে প্রবৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। নারুমি আরো বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনসংখ্যা প্রোফাইল একটি বড় সুবিধা। দেশের গড় বয়স প্রায় ২৭ বছর, যা জাপানের বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার তুলনায় একটি গতিশীল কর্মশক্তি ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজার তৈরি করছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ ইভি ইকোসিস্টেম-সংযুক্ত ডেলিভারি ও লজিস্টিকস সেবার মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। তবে নারুমি ইভি খাতের জন্য স্পষ্ট সরকারি নীতি ও বিধিমালার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের দ্রুত ও নিয়ন্ত্রণহীন সম্প্রসারণ আনুষ্ঠানিক নির্মাতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গ্লাফিট-এর প্রধান কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যাটারি ও চার্জিং সিস্টেমের জন্য বিশেষভাবে নিরাপত্তা মান ও নির্দেশিকা প্রণয়নের আহ্বান জানান, যাতে উন্নত ইভি উৎপাদন ও বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত হয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোম্পানিটি বাংলাদেশে উৎপাদন সুবিধা স্থাপনের কথা বিবেচনা করতে পারে। কারণ, জাপানের বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা দেশীয় শিল্প উৎপাদনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। মুসাশির ওপেন ইনোভেশন ডিরেক্টর আকিরা মাতাগা বলেন, টেকসই নগর পরিবহন প্রসার এবং বাংলাদেশের উদীয়মান ইভি ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মুসাশি গ্লাফিট-কে বাংলাদেশে ব্যবসা চালুর জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। গ্লাফিট বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং গ্লাফিট জাপান হেডকোয়ার্টারের গ্লোবাল বিজনেস হেড হাসান কামরুল জানান, ঢাকাজুড়ে চার্জিং এবং ব্যাটারি সোয়াপিং (ব্যাটারি পরিবর্তন) অবকাঠামো উন্নয়নে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছে গ্লাফিট। চুক্তি অনুযায়ী, প্রাণ-আরএফএল পরিচালিত ‘বেস্ট বাই’ আউটলেটগুলোতে ইভি (বৈদ্যুতিক যান) চার্জিং এবং ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে কোম্পানিটি ডেলিভারি এবং লজিস্টিকস (পণ্য পরিবহন) খাতের ওপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার লক্ষ্য শহরে পণ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আরো দক্ষ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা। কামরুল বলেন, এই চার্জিং ও ব্যাটারি সোয়াপিং নেটওয়ার্কে আইওটি (আইওটি) প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কাছাকাছি থাকা চার্জিং স্টেশন খুঁজে পাবেন, ব্যাটারির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, সোয়াপিং পয়েন্ট বুকিং বা ব্যবহার করতে পারবেন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইভি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। তিনি জানান, শক্তিশালী বাজারের সম্ভাবনা, জনসংখ্যাগত সুবিধা এবং পরিবেশগত জরুরি প্রয়োজনের কারণে এই ব্যবসায়িক মডেলের জন্য প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় জনসংখ্যা ঘনত্বের কারণে দক্ষ দুই চাকার যানবাহনের বিশাল চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি, শহরের মারাত্মক বায়ু দূষণ পরিস্থিতি আরো পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়ার গুরুত্বকে নির্দেশ করে। হাসান কামরুল এই প্রকল্পের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান ডেলিভারি ও লজিস্টিকস খাতের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মক্ষম জনসংখ্যা এই ধরনের উদ্ভাবনী পরিবহন সেবার প্রসারের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তিনি বৈদ্যুতিক যান (ইভি) শিল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন, বিশেষ করে ব্যাটারির নিরাপত্তা এবং উৎপাদন মানদণ্ডর বিষয়ে। তার মতে, একটি সুনির্দিষ্ট ও কাঠামোগত নীতিমালা নিশ্চিত করা গেলে তা বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে এবং এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করবে। ব্যবসায়িক মূলনীতির কথা উল্লেখ করে কামরুল বলেন, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি নাগরিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে, যাত্রীদের পরিবহন খরচ কমাতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে কাজ করবে। ২০১৭ সালে জাপানের ওয়াকায়ামায় প্রতিষ্ঠিত গ্লাফিট ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক পরিবহন যেমন- ফোল্ডিং ইলেকট্রিক মোপেড এবং সেলফ-স্ট্যাবিলাইজিং যানবাহন তৈরিতে বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান। প্যানাসনিক এবং ইয়ামাহা মোটরের মতো বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় কোম্পানিটি তাদের এই টেকসই পরিবহন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদন করেছেন উপদেষ্টা আসিফ: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে বাসমালিক-যাত্রীদের জন্য ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা

0 Comments