ইরান এখন ইতিহাসের এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া জনবিক্ষোভ এরই মধ্যে রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক আন্দোলনে। এতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২ হাজার মানুষ—সরকারিভাবে এই প্রথম এত বড় সংখ্যক নিহতের কথা স্বীকার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে অন্তত ১০ হাজার ৭২১ জন। চারদিকে প্রশ্ন জেগেছে—এই সরকার কি টিকতে পারবে? এদিকে বিদ্রোহ দমনের জন্য সরকার একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যা আজ বুধবার কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘সাহায্য আসছে’।
গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ কথা বলেন ট্রাম্প। এমন সময় তিনি এমন আহ্বান জানালেন, যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে যাওয়ার খবর আসছে। গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই তেহরানকে নানা হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের দেশপ্রেমিকরা, আপনারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নেন। হত্যাকারী ও নিপীড়নকারীদের নাম মনে রাখুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড না থামা পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য আসছে।’
এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে ইরানের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য স্থানীয় সময় মঙ্গলবার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।
ইরানে এ আন্দোলনের পেছনে ছিল অর্থনৈতিক দুরবস্থা। ইরানি রিয়ালের দাম পড়ে গেছে, খাবারদাবারসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। শুরুটা হয় তেহরানের দোকানিদের ধর্মঘট দিয়ে। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে।
সরকার বলছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে। সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজারানি বলেছেন, সরকার আন্দোলনকারীদের সন্তান মনে করে এবং তাদের কথা শুনতে চায়। তবে সরকার একই সঙ্গে এই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ কর্তৃক দখলের চেষ্টা বলেও বর্ণনা করছে।
এদিকে, সহিংসতা বেড়েই চলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোতে আহতদের জায়গা নেই, মরদেহ রাখা হচ্ছে অস্থায়ী মর্গে। ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তেহরানের রাস্তায় এখন খালি ব্যাগে মোড়া মরদেহের সারি আর নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকধারীরা।
অন্যদিকে, পশ্চিমাবিশ্ব থেকে চাপও বাড়ছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ বলেন, ‘এই সরকার টিকে আছে শুধু সহিংসতার মাধ্যমে। আমরা তাদের শেষ দিন ও সপ্তাহ দেখছি।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি কোনো সরকার টিকে থাকতে শুধু সহিংসতার ওপর নির্ভর করে, তাহলে সেটি কার্যত তার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এর মধ্যে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’র কয়েকজন সদস্যকে আটক করার দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জার্মানি দ্বিচারিতা করছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, যারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তাদের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসাবে তার দেশ। প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও বলেছেন তিনি।
এদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সে দেশের জনগণ। এক্সে (সাবেক টুইটার) মালালা লিখেছেন, ‘ইরানের এই বিক্ষোভকে শিক্ষা ও জনজীবনের সব ক্ষেত্রে মেয়েদের ও নারীদের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘকাল ধরে চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না। সব জায়গার মেয়েদের মতোই ইরানি মেয়েরাও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে চান।’
ইরানের শাসকগোষ্ঠী এমন সংকটে অতীতেও পড়েছে, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। বিক্ষোভ শুধু রাজধানী তেহরানে সীমাবদ্ধ নয়—ছোট শহর, প্রাদেশিক নগর, এমনকি ইরানের দরিদ্র অঞ্চলগুলোতেও মানুষ রাস্তায় নেমেছে। ইসলামী বিপ্লবের পর এই প্রথম এত বিস্তৃত আন্দোলন দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এইচআরএএনএ জানাচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সরকারি তথ্যে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ জনগণ—উভয়পক্ষ থেকেই হতাহত হয়েছে। তবে কারা, কীভাবে নিহত হয়েছেন, তা এখনো অস্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার কঠোরভাবে দমন করলেও আসল সংকটটা অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভালি নাসর বলেন, ‘এই সরকার অতীতে দমন করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। এবারও তাই করছে। কিন্তু এবার সংকট আরও গভীর। কারণ মানুষের জীবনমান এতটাই খারাপ যে, তা শুধু দমন করে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি জানিয়েছেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার যোগাযোগ চলছে। হোয়াইট হাউসও বলছে, কূটনীতি এখনো ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ।
তবে আলোচনার সম্ভাবনার পাশাপাশি সামরিক হস্তক্ষেপের ছায়াও ঘন হয়ে উঠছে। বাইরের হস্তক্ষেপ ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে সরকারের ভিত আরও নড়বড়ে হবে। আবার অনেকে বলছেন, এতে শাসকগোষ্ঠী আরও একজোট হয়ে পড়বে।
ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন—‘বিক্ষোভ দমনকারীরা’ কবে মনে করবে তারা এই ব্যবস্থায় আর লাভবান হচ্ছে না? কারণ, একমাত্র সেই সিদ্ধান্তই শাসন ব্যবস্থার পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইরান সরকারের কেন্দ্রবিন্দু এখনো শক্ত। ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। তাকে ঘিরে রয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীসহ অনুগত অংশগুলো। তাই আপাতত সরকারের ভিত ভাঙার কোনো পরিষ্কার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।
তবে এটাও সত্য, রাস্তায় নেমে আসা সাধারণ মানুষ আর চুপ করে বসে নেই। তারা পরিবর্তন চায়—কেউ ধীরে, কেউ দ্রুত। এখন দেখার বিষয়, ইরান সরকার মানুষের কণ্ঠ শোনে, নাকি আরও কঠোর হয়। আর এই উত্তাল সময়েই নির্ধারিত হবে ইরান সরকারের ভবিষ্যৎ।
আন্দোলনের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা আজ বুধবার কার্যকর করার কথা। এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হেংগাও।
রাষ্ট্রীয় ভাষ্য অনুযায়ী, যারা ভাঙচুর বা সহিংসতায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ‘স্রষ্টার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ তথা মোহারাবা অভিযোগ আনা হতে পারে—যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, সরকার এই অভিযোগ ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ভয় দেখাতে এবং দমন করতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মাধ্যমে ইরান সরকার আরও কঠোর দমননীতির পথে হাঁটছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার একটি ভয়াবহ পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি নামের এক ৩২ বছর বয়সী ইরাকি নাগরিক এই হত্যা ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত আইআরজিসি প্রধান কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর ‘প্রতিশোধ’ হিসেবেই ৪৪ বছর বয়সী ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষেছিল আল-সাদি। সোলাইমানিকে নিজের গুরু এবং পিতৃসম মনে করতেন এই ইরাকি যুবক। তৎকালীন সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সোলাইমানির মৃত্যুকে বড় সাফল্য হিসেবে উদযাপন করেছিলেন। আর সেই ক্ষোভ থেকেই ‘ট্রাম্প যেভাবে আমাদের ঘর পুড়িয়েছে, সেভাবে আমরা ট্রাম্পের ঘর পুড়িয়ে দেব’— এমন প্রতিজ্ঞা নিয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের জীবননাশের পরিকল্পনা শুরু করেন আল-সাদি। ইরাক ও ইরানের উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী চক্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই ব্যক্তিত্ব ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ান ক্রিক আইল্যান্ডের ২৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ির একটি নীলনকশা বা ম্যাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করেছিলেন। আরবি ভাষায় লেখা সেই পোস্টে আল-সাদি মার্কিন প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, এই ছবিটির দিকে তাকান এবং জেনে রাখুন যেকোনো রাজপ্রাসাদ বা সিক্রেট সার্ভিস আপনাদের রক্ষা করতে পারবে না। আমরা এখন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের পর্যায়ে আছি। আমাদের প্রতিশোধ নেওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। গত ১৫ মে তুরস্ক থেকে আল-সাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, আল-সাদির প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল ইহুদি নাগরিক ও স্থাপনাগুলো। ইভাঙ্কা ট্রাম্প ২০০৯ সালে জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বিয়ের আগে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন, যা তাকে আল-সাদির অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এ ছাড়া আল-সাদি টরন্টোতে মার্কিন দূতাবাসে গুলিবর্ষণ, আমস্টারডামে ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলনে বোমা হামলা এবং লন্ডনে দুই ইহুদি নাগরিককে ছুরিকাঘাতের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে আল-সাদিকে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারে কঠোর নিরাপত্তায় নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। এই একই কারাগারে আমেরিকার আলোচিত ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের সিইও ব্রায়ান থম্পসন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লুইগি মাঙ্গিওনে এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোও বন্দি রয়েছেন। এই হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তারের বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউ ইয়র্ক পোস্টের পক্ষ থেকে আল-সাদির আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দ্য টেলিগ্রাফ এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান গণছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে হাজার হাজার ভারতীয় কর্মীর ওপর। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীরা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়, খরচ কমানো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর কার্যক্রম বাড়ানোর অংশ হিসেবে একের পর এক কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। সম্প্রতি ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করেছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারীরা চাকরি হারালে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হয়। অন্যথায় তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। কারণ এই ভিসা সাধারণত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপের মাধ্যমে কার্যকর থাকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন চাকরি পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। প্রযুক্তি খাতে নিয়োগ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু প্রবাসী ভারতীয় পরিবার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু মেটাই প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। একইসঙ্গে অ্যামাজন ও লিঙ্কডইনসহ আরও কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনছে। অনেক ভারতীয় কর্মী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সেখানে পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছেন এবং বাড়িঘর কিনেছেন। কিন্তু চাকরি হারানোর পর এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। সূত্র: এনডিটিভি
রাশিয়া আবারও স্পষ্ট করেছে যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের বৈধ অধিকার এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র তেহরানের হাতেই রয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বৃহস্পতিবার এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা ও উন্নয়নের অধিকারকে মস্কো সমর্থন করে। জাখারোভা বলেন, “সমৃদ্ধকরণসহ পারমাণবিক কর্মসূচি কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ইরানই নিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং বিদ্যমান পারমাণবিক উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইরানের জনগণের।” রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় যদি কোনো সমঝোতা হয়, তবে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের মধ্যেই রাশিয়ার এ বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।