আন্তর্জাতিক

ইরানে রাজনৈতিক সংকট: সরকার টিকে থাকবে তো?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এখন ইতিহাসের এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া জনবিক্ষোভ এরই মধ্যে রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক আন্দোলনে। এতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২ হাজার মানুষ—সরকারিভাবে এই প্রথম এত বড় সংখ্যক নিহতের কথা স্বীকার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে অন্তত ১০ হাজার ৭২১ জন। চারদিকে প্রশ্ন জেগেছে—এই সরকার কি টিকতে পারবে? এদিকে বিদ্রোহ দমনের জন্য সরকার একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যা আজ বুধবার কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

এ পরিস্থিতে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘সাহায্য আসছে’।

গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ কথা বলেন ট্রাম্প। এমন সময় তিনি এমন আহ্বান জানালেন, যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে যাওয়ার খবর আসছে। গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই তেহরানকে নানা হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের দেশপ্রেমিকরা, আপনারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নেন। হত্যাকারী ও নিপীড়নকারীদের নাম মনে রাখুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড না থামা পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য আসছে।’

এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে ইরানের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য স্থানীয় সময় মঙ্গলবার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।

ইরানে এ আন্দোলনের পেছনে ছিল অর্থনৈতিক দুরবস্থা। ইরানি রিয়ালের দাম পড়ে গেছে, খাবারদাবারসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। শুরুটা হয় তেহরানের দোকানিদের ধর্মঘট দিয়ে। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে।

সরকার বলছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে। সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজারানি বলেছেন, সরকার আন্দোলনকারীদের সন্তান মনে করে এবং তাদের কথা শুনতে চায়। তবে সরকার একই সঙ্গে এই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ কর্তৃক দখলের চেষ্টা বলেও বর্ণনা করছে।

এদিকে, সহিংসতা বেড়েই চলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোতে আহতদের জায়গা নেই, মরদেহ রাখা হচ্ছে অস্থায়ী মর্গে। ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তেহরানের রাস্তায় এখন খালি ব্যাগে মোড়া মরদেহের সারি আর নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকধারীরা।

অন্যদিকে, পশ্চিমাবিশ্ব থেকে চাপও বাড়ছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ বলেন, ‘এই সরকার টিকে আছে শুধু সহিংসতার মাধ্যমে। আমরা তাদের শেষ দিন ও সপ্তাহ দেখছি।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি কোনো সরকার টিকে থাকতে শুধু সহিংসতার ওপর নির্ভর করে, তাহলে সেটি কার্যত তার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর মধ্যে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’র কয়েকজন সদস্যকে আটক করার দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জার্মানি দ্বিচারিতা করছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, যারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তাদের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসাবে তার দেশ। প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও বলেছেন তিনি।

এদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সে দেশের জনগণ। এক্সে (সাবেক টুইটার) মালালা লিখেছেন, ‘ইরানের এই বিক্ষোভকে শিক্ষা ও জনজীবনের সব ক্ষেত্রে মেয়েদের ও নারীদের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘকাল ধরে চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না। সব জায়গার মেয়েদের মতোই ইরানি মেয়েরাও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে চান।’

ইরানের শাসকগোষ্ঠী এমন সংকটে অতীতেও পড়েছে, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। বিক্ষোভ শুধু রাজধানী তেহরানে সীমাবদ্ধ নয়—ছোট শহর, প্রাদেশিক নগর, এমনকি ইরানের দরিদ্র অঞ্চলগুলোতেও মানুষ রাস্তায় নেমেছে। ইসলামী বিপ্লবের পর এই প্রথম এত বিস্তৃত আন্দোলন দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এইচআরএএনএ জানাচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সরকারি তথ্যে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ জনগণ—উভয়পক্ষ থেকেই হতাহত হয়েছে। তবে কারা, কীভাবে নিহত হয়েছেন, তা এখনো অস্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার কঠোরভাবে দমন করলেও আসল সংকটটা অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভালি নাসর বলেন, ‘এই সরকার অতীতে দমন করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। এবারও তাই করছে। কিন্তু এবার সংকট আরও গভীর। কারণ মানুষের জীবনমান এতটাই খারাপ যে, তা শুধু দমন করে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি জানিয়েছেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার যোগাযোগ চলছে। হোয়াইট হাউসও বলছে, কূটনীতি এখনো ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ।

তবে আলোচনার সম্ভাবনার পাশাপাশি সামরিক হস্তক্ষেপের ছায়াও ঘন হয়ে উঠছে। বাইরের হস্তক্ষেপ ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে সরকারের ভিত আরও নড়বড়ে হবে। আবার অনেকে বলছেন, এতে শাসকগোষ্ঠী আরও একজোট হয়ে পড়বে।

ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন—‘বিক্ষোভ দমনকারীরা’ কবে মনে করবে তারা এই ব্যবস্থায় আর লাভবান হচ্ছে না? কারণ, একমাত্র সেই সিদ্ধান্তই শাসন ব্যবস্থার পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ইরান সরকারের কেন্দ্রবিন্দু এখনো শক্ত। ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। তাকে ঘিরে রয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীসহ অনুগত অংশগুলো। তাই আপাতত সরকারের ভিত ভাঙার কোনো পরিষ্কার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।

তবে এটাও সত্য, রাস্তায় নেমে আসা সাধারণ মানুষ আর চুপ করে বসে নেই। তারা পরিবর্তন চায়—কেউ ধীরে, কেউ দ্রুত। এখন দেখার বিষয়, ইরান সরকার মানুষের কণ্ঠ শোনে, নাকি আরও কঠোর হয়। আর এই উত্তাল সময়েই নির্ধারিত হবে ইরান সরকারের ভবিষ্যৎ।

আন্দোলনের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা আজ বুধবার কার্যকর করার কথা। এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হেংগাও।

 

রাষ্ট্রীয় ভাষ্য অনুযায়ী, যারা ভাঙচুর বা সহিংসতায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ‘স্রষ্টার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ তথা মোহারাবা অভিযোগ আনা হতে পারে—যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, সরকার এই অভিযোগ ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ভয় দেখাতে এবং দমন করতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মাধ্যমে ইরান সরকার আরও কঠোর দমননীতির পথে হাঁটছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইরাকে অগ্নিকাণ্ডে ১০ হাজারের বেশি ভবন বন্ধ

ইরাকে ২০২৫ সালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ কমেছে, দেশটির সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী। কঠোর আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়ানোকে এই সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি নিরাপত্তার মান না মানায় গত বছর ১০ হাজারের বেশি ভবন বন্ধ করা হয়েছিল। এতে ঝুঁকি কমেছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি মানুষকে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করতে প্রচার চালানো হয়েছে এবং বাড়িতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সব প্রদেশে নতুন সিভিল ডিফেন্স কেন্দ্র চালু হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পৌঁছাতে এখন মাত্র ৪–৭ মিনিট সময় লাগে। আধুনিক যানবাহনের সংযোজনের কারণে উদ্ধার তৎপরতাও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ড পুরোপুরি কমেনি। গত কয়েক বছরে হাজার হাজার অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যু ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। কুর্দিস্তান অঞ্চল বাদ দিয়ে গত তিন বছরে ৫৫ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর আইন ও শাস্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পর্তুগালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক নেতা সেগুরোর ভূমিধস বিজয়

ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন সি চিন পিং: ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

জাপানের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এলডিপি

ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে নতুন পাঁচ শর্ত দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে আলোচনার আগে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রেক্ষাপটে ইরানকে আলোচনায় বসাতে সফল হলেও দেশটির সামনে পাঁচটি বড় শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে পাঁচটি প্রধান দাবি তুলেছে। এগুলো হলো ইরানের সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া, দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নষ্ট করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে থাকা মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করা। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি ইরানের জন্য মানা কঠিন হবে। কারণ এসব ক্ষেপণাস্ত্রকে দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে দেখা হয়। এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান যদি এসব শর্ত না মানে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি নতুন সংঘাতের দিকে যেতে পারে। তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট আই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

গ্রীষ্মের আগেই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায় যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ও সিরিয়ার মধ্যে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

ছবি: সংগৃহীত
আজ থাইল্যান্ডে সংসদ নির্বাচন, একই সঙ্গে গণভোট

থাইল্যান্ডে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে সংসদ নির্বাচন। একইসঙ্গে সংবিধান নিয়ে গণভোটও হবে। ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।  থাইল্যান্ডে মূলত নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আগে ভোট হচ্ছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০২৩ সালে। ওই সময় যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের আগামী চার বছর সংসদের নিম্নকক্ষে থাকার কথা ছিল। কিন্তু চার বছর আগেই হচ্ছে নতুন নির্বাচন। কেন হচ্ছে আগাম নির্বাচন? মে ২০২৫: প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে থাইল্যান্ডের ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই সময় কম্বোডিয়ার হামলায় সীমান্তে এক থাই সেনা নিহত হন। জুন ২০২৫: এ ঘটনার পর কম্বোডিয়ার সঙ্গে আলোচনার কথা বলে দেশটির সরকার প্রধান হুন সেনকে ফোন করেন তৎকালীন থাই প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা। ওই ফোন কলে হুন সেনকে ‘আংকেল’ হিসেবে ডাকেন তিনি। এবং নিজ দেশের সেনাদেরই সমালোচনা করেন। তাদের মধ্যে হওয়া ওই ফোনকলটি লিক হয়ে যায়। যা প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। ওই ফোনকলের জেরে প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রার ফিউ থাই পার্টির সবচেয়ে বড় জোট ভুমজাইথাই পার্টি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এতে তার সরকার নড়েবড়ে হয়ে যায়, সরকার সামান্য ব্যবধানে টিকে ছিল। আগস্ট ২০২৫: এমন উত্তেজনার মধ্যে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত রায় দেয় প্রধানমন্ত্রী নৈতিকতা ভঙ্গন করেছেন। ফলে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব আর থাকবে না। সেপ্টেম্বর ২০২৫: এরপর সংসদের দ্বিতীয় বৃহৎ দল ভূমজাইথাই পার্টির অনুতিন চার্নভিরাকুল ‘পোগ্রেসিভ পিপলস পার্টির’ সঙ্গে নতুন জোট গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে অনুতিনকে শর্ত দেওয়া হয় সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন দিতে হবে। ডিসেম্বর ২০২৫: শর্ত অনুযায়ী অনুতিন সংসদ ভেঙে দেন। এতে নতুন সাধারণ নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নতুন করে ১৫ প্রতিষ্ঠান ও দুই ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে কি হারাতে পারবে ইরান?

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ–পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যা বলল ভারত

0 Comments