লালমনিরহাট, ৪ জুন: দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ঐতিহ্যবাহী মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বন্দরের সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
স্থলবন্দর চেয়ারম্যান বলেন, “মোগলহাট স্থলবন্দর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। একসময় এই বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। বর্তমানে এটি অচল থাকলেও সরকার এর সম্ভাবনাকে নতুন করে কাজে লাগাতে আগ্রহী।”
তিনি আরও বলেন, “বন্দরটি পুনরায় চালু করা গেলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এজন্য আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করছি এবং সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখছি।”
মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, মোগলহাট বন্দরের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে তিনি বন্দরের বিভিন্ন অবকাঠামো, পুরোনো স্থাপনা, সংযোগ সড়ক এবং সম্ভাব্য কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগিতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু হলে সীমান্ত অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, একসময় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবন্দর হিসেবে পরিচিত মোগলহাট স্থলবন্দর দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমহীন অবস্থায় রয়েছে। সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যবাহী এ বন্দর আবারও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের একটি সড়কে ঢালাইয়ের মাত্র তিন দিনেই হাতের চাপে উঠে যাচ্ছে পিচ। কোথাও কোথাও সামান্য টান দিতেই খসে পড়ছে কার্পেটিংয়ের আস্তরণ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মঙ্গলবার বিকালে সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নিয়ম না মেনে কাজ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এলজিইডির খুলনা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, কয়রা উপজেলায় বর্তমানে কোনও উপজেলা প্রকৌশলী নেই। পাশের পাইকগাছা উপজেলার প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। তিন দিন আগে পিচের বিভিন্ন অংশ ওঠে যেতে শুরু করলে বাকি অংশে পিচ ঢালাইয়ের সময় এলাকাবাসী বাধা দেন। সেইসঙ্গে সড়কের পুরনো কালভার্ট অপসারণ না করেই তার ওপর দিয়ে পিচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় লোকজন সড়কের দুটি স্থানের কিছু অংশের পিচ তুলে ফেলেন। মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে সেই খোয়া অপসারণ করা হয়। “এরপর দীর্ঘদিন ফেলে রাখা কাজ আবার শুরু হলেও ঢালাইয়ে খুব পাতলা করে পিচ দেওয়া হয়। পিচের নিচের অংশ পরিষ্কার না করেই ধুলাবালি ও মাটির ওপর ঢালাই করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী বাধা দেন”, বলেন তিনি। কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় থেকে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একই প্যাকেজে মাদারবাড়িয়া উত্তর সীমানা থেকে রোনবাগ সড়কের এক কিলোমিটার উন্নয়ন, একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ ও বেদকাশী এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের মার্চে ‘মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কাজটি পায়। কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজের দায়িত্বে থাকা মো. হাসানের দাবি, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। কাজে বড় ধরনের কোনও ত্রুটি নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলাজুড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে চলমান একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। কোথাও সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও ইটের খোয়া কিংবা বালু ফেলে উধাও ঠিকাদার। কয়রার বাসিন্দা সংবাদকর্মী ইউনুস আলী বলেন, উপজেলাজুড়ে এলজিইডির একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকলেও সংস্থাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেই। তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ পড়ে থাকায় বর্ষায় কাদা-পানি আর শুকনা মৌসুমে ধুলাবালু-দুই মৌসুমেই চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহান শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষ ও যানবাহন চালকরা। কয়রা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় থেকে জানা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে ৪ নম্বর কয়রা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ হয় এক কোটি ২৩ লাখ টাকা। কাজ পায় ‘মেসার্স রাকা এন্টারপ্রাইজ’। কয়েক মাস সড়ক খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলার পর চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছর পেরিয়ে গেছে, এখনো সড়কটি পড়ে আছে বেহাল অবস্থায়। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালী থেকে হড্ডা গ্রামের প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের অবস্থাও করুণ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ছয় কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কাজ পায় ‘মোহাম্মদ ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স’। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ির পর বালু ফেলে কাজ বন্ধ আছে। আমাদী ইউনিয়নে পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে হুদুবুনিয়া চান্নিরচক সড়কের দুই কিলোমিটার অংশ কার্পেটিং করার জন্য বরাদ্দ হয় এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কাজের দরপত্র পায় রাকা সিয়াম (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের জুনে তারা কাজ শুরু করেন। কয়েক মাস রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর কাজ ফেলে চলে যান প্রতিষ্ঠানটির লোকজন। ২০২২ সালের ২৬ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় চার বছর হতে চললেও কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেই। গিলাবাড়ি-গড়ইখালী জিসি সড়ক, বামিয়া আর অ্যান্ড এইচ-বাঁশখাতি-মালিখালী-বগা বাজার-নারানপুর সড়ক, হরিনগর-নকশা সড়ক ও বায়াল হারনিয়া মাদ্রাসা থেকে শ্রীফলতলা সড়কের কাজও বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন দুই দফায় প্রায় দশ বছর একই স্থানে দায়িত্ব পালন করায় একটি নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন উপজেলা প্রকৌশলী না থাকার সুযোগে তিনি একক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন। এলজিইডির খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, কয়রাতে দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ বন্ধ থাকা তিনটি প্রকল্প এর মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। কাজ বন্ধ থাকা কিছু প্রকল্পে আবার টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। সেইসঙ্গে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেনের নামে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগে আলোচিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে, গত ১৮ জুন বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজার একটি বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য ও বক্তব্য নিতে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ। সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাদের দেখেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন। তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, ধমক দিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং পরে নিজেও কার্যালয় ত্যাগ করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নেয় বিভাগীয় প্রশাসন। পরে রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধায় গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্তে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে তদন্তের পরদিন হাসানপাড়া মৌজার বিতর্কিত সাড়ে ৬ শতক জমিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ওই জমির বিপরীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ছাড় করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, জমিটি প্রকৃতপক্ষে অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নথিপত্রে আরও দেখা যায়, ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জমিতে সরকারি স্বার্থ না থাকার কথা বলা হলেও ২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরস্পরবিরোধী এ দুই প্রতিবেদনের কারণ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে ভূমি প্রশাসন, খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে।
টেকনাফের দমদমিয়ায় সেতু থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস নিচে পড়ে গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নারী ও শিশুসহ আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। উদ্ধারকাজ শেষে আহতদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী পয়রা সার্ভিসের একটি বাস দমদমিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন সেতুর কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর নারী ও শিশুসহ কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়েন এবং অনেকে আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। কোস্টগার্ড সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে বাসের ভেতরে আটকে থাকা সব যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের মেডিকেল টিম আহতদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয়। বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দুর্ঘটনাসহ যেকোনো মানবিক সংকটে মানুষের পাশে থেকে দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা দিতে কোস্ট গার্ড সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।