মাত্র ১৪ মাসের মধ্যেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে যাত্রা শেষ হলো রুবেন আমোরিমের। লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পর্তুগিজ কোচের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। অন্তর্বর্তীকালীনভাবে বার্নলির বিপক্ষে আসন্ন প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে দল পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছেন ড্যারেন ফ্লেচার।
ক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে থাকা দলকে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য অবস্থানে শেষ করার সুযোগ দিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।” একই সঙ্গে আমোরিম ও তার কোচিং স্টাফের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড।
পেছনের গল্প: বোর্ডের সঙ্গে দূরত্ব
বরখাস্ত হওয়ার আগের কয়েক দিনেই ইঙ্গিত মিলেছিল টানাপোড়েনের। জানুয়ারির দলবদল বাজার ঘিরে ক্লাব কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সমর্থন পাবেন না—এমন মন্তব্য করেছিলেন আমোরিম। লিডস ম্যাচের পর আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, কোচ নয়, ‘ম্যানেজার’ হিসেবে কাজ করতে চান এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ক্লাব ছাড়তে প্রস্তুত।
এই মন্তব্যগুলোই পরিস্থিতিকে চরমে নিয়ে যায়। ক্লাব সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসিকে জানায়, চলতি মৌসুমে কৌশলগত অগ্রগতি ও পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতির স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় বোর্ডের আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
পরিসংখ্যান ও ব্যর্থতা
২০২৪ সালের নভেম্বরে স্পোর্টিং লিসবন থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ইউরো রিলিজ ক্লজ দিয়ে আমোরিমকে নিয়োগ দিয়েছিল ইউনাইটেড। কিন্তু ৬৩ ম্যাচে মাত্র ২৫টি জয়—এই পরিসংখ্যান তার বিপক্ষে যায়। প্রিমিয়ার লিগে তার অধীনে ইউনাইটেডের জয়হার ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ, গোল হজমের হার ও ক্লিনশিট—দুটোই ছিল ক্লাব ইতিহাসে অন্যতম বাজে।
গত মৌসুমে ইউনাইটেড লিগ শেষ করে ১৫ নম্বরে—১৯৭৪ সালের পর যা ছিল তাদের সর্বনিম্ন অবস্থান। ইউরোপা লিগের ফাইনালে উঠলেও টটেনহ্যামের কাছে হার মানতে হয়। এ ছাড়া লিগ টু ক্লাব গ্রিমসবির বিপক্ষে লিগ কাপ থেকে বিদায়ও ছিল বড় ধাক্কা।
কৌশল নিয়ে অসন্তোষ
আমোরিমের ৩-৪-৩ ফরমেশন আঁকড়ে ধরাও বোর্ডের অসন্তোষ বাড়ায়। একাধিকবার বলা হলেও তিনি সেটি থেকে সরে আসেননি। খেলোয়াড় বাছাই ও একাডেমি ফুটবলারদের প্রতি আগ্রহের অভাবও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তাঁর অবস্থানে।
ড্যারেন ফ্লেচারের দায়িত্ব
৪১ বছর বয়সী ড্যারেন ফ্লেচার আপাতত দায়িত্ব নিচ্ছেন। সাবেক এই স্কটল্যান্ড আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইউনাইটেডের হয়ে পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। যদিও সিনিয়র পর্যায়ে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই, তবু অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবেই তাঁকে বেছে নিয়েছে ক্লাব।
উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হলেও রুবেন আমোরিমের অধ্যায় শেষ হলো হতাশা আর দ্বন্দ্বে ভরা এক বাস্তবতায়। প্রশ্ন এখন একটাই—বারবার কোচ বদলের চক্র থেকে কবে বেরোবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড?
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শুরুর ধাক্কা সামলে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হকের ব্যাটে ভর করে মধ্যাহ্ন বিরতিতে দুই উইকেটে শতরান পার করেছে টাইগাররা। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০১ রান। তৃতীয় উইকেটে শান্ত ও মুমিনুল মিলে গড়েছেন অপরাজিত ৭০ রানের জুটি। ৯৫ বলের এই জুটিতে দুজনই সাবলীল ব্যাটিং করেছেন। শান্ত ৫০ বলে ৩৯ এবং মুমিনুল ৫৭ বলে ৩১ রান নিয়ে বিরতিতে যান। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। ১৮ বলে তিনি করেন ৮ রান। জয়ের উইকেটের মধ্য দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের প্রথম পেসার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন শাহিন আফ্রিদি। সবমিলিয়ে এই কীর্তি গড়া তিনি ১৯তম বোলার। এরপর হাসান আলি আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ফেরান আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামকে। স্লিপে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩০ বলে ১৩ রান করেন সাদমান। তখন মাত্র ৩১ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকেই দলকে টেনে তোলেন শান্ত ও মুমিনুল। পাকিস্তান প্রথম সেশনে পাঁচজন বোলার ব্যবহার করলেও এই জুটি ভাঙতে পারেনি। এমনকি পার্ট-টাইম স্পিনার সালমান আগা ও বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলিকেও আক্রমণে আনা হয়। তবে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে উইকেট আগলে রেখে ধীরে ধীরে রান বাড়িয়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার।
বয়সের তুলনায় অনেক পরিণত, মাঝমাঠে সুর বেঁধে দেওয়া, শারীরিক শক্তি ও গতির সঙ্গে অসাধারণ কৌশল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার সামর্থ্য- এই বিষয়গুলো খুব ভালোভাবেই যায় জুড বেলিংহ্যামের নামের সঙ্গে। সময়ের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন এই তারকা ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদ ও জাতীয় দল ইংল্যান্ডের জন্য খুবই অপরিহার্য। হয়ে উঠেছেন বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের সময় ২৩ বছর পূর্ণ হবে বেলিংহ্যামের। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অর্ধশত ম্যাচ খেলার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। সব কিছু ঠিক থাকলে ইংল্যান্ডের জার্সিতে তার ম্যাচ খেলার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে বিশ্বকাপের মঞ্চেই। ফুটবলের আঙিনায় বেলিংহ্যামের অর্জন পেশাদার ফুটবলে বেলিংহ্যামের অভিষেক হয় ১৬ বছর ৩৮ দিন বয়সে, বার্মিংহাম সিটির হয়ে। তার আগে থেকেই অবশ্য তাকে নিয়ে আলোচনা ছিল অনেক। দারুণ প্রতিভা, অসাধারণ দক্ষতা মিলিয়ে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত একজন হিসেবে নজর কাড়েন তিনি। সেই প্রতিভা এখন আরও প্রস্ফুটিত হয়েছে। বার্মিংহামের হয়ে অভিষেকের পর সাত বছরে ফুটবল বিশ্বের বড় নামগুলির একটিতে পরিণত হয়েছেন বেলিংহ্যাম। বার্মিংহামের একাডেমিতে বেড়ে ওঠার পর, মূল দলে এক মৌসুম কাটিয়ে নিজ দেশ ছেড়ে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেন বেলিংহ্যাম। অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন জার্মান দলটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আলোড়ন ফেলে দেন বুন্ডেসলিগায়। স্রেফ ১৯ বছর বয়সেই ডর্টমুন্ডের নেতৃত্ব পেয়ে জন্ম দেন নতুন ইতিহাসের। সব মিলিয়ে ক্লাবটির হয়ে ১৩২ ম্যাচে ২৪ গোল করেন তিনি। আরও অবদান রাখেন ২৫টিতে। ২০২৩ সালের জুনে ছয় বছরের চুক্তিতে তিনি যোগ দেন রেয়াল মাদ্রিদে। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়েও দ্রুত মানিয়ে নেন নিজেকে। দলটির জার্সিতে লা লিগায় প্রথমবার খেলতে নেমে করেন নান্দনিক এক গোল। দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করেন দুটি। দুই ম্যাচেই পান সেরার স্বীকৃতি। বেলিংহ্যামের অনেক গুণের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, যখন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই নিজের সেরাটা তিনি দেন। ক্লাব ও দেশের হয়ে বড় বড় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত তিনি তৈরি করেছেন। স্পেনের দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী রেয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ক্লাসিকোতে যোগ করা সময়ে তার জয়সূচক গোল আছে দুটি। ইংল্যান্ডের হয়েও বড় মঞ্চে গোল করেছেন তিনি। রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে এখন পর্যন্ত একটি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতেছেন বেলিংহ্যাম। ইংল্যান্ডের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবার রানার্সআপ পদক পেয়েছেন তিনি। কোচ, সতীর্থ ও পূর্বসূরির চোখে বেলিংহ্যাম অবিশ্বাস্য একজন খেলোয়াড় সে। তার খেলার ধরন, যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে খেলে এবং যেভাবে খেলায় প্রভাব ফেলে, অসাধারণ। এই পজিশনে খেলা ফুটবলারদের জন্য গোল ও অ্যাসিস্ট করাটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ঠিক সেটাই করে সে। - হ্যারি কেইন, ইংল্যান্ড অধিনায়ক এত অল্প বয়সে সে যতটা পরিণত, তা অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয়, দেশের বাইরে খেলাটা এক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করেছে। জুডের ক্ষেত্রে বিষয়টা শুধু তার প্রতিভা নয়, বরং তার ব্যক্তিত্বও (ভূমিকা রেখেছে) এবং তার নিজেকে সামলানোর ধরনটাও গুরুত্বপূর্ণ। সে একজন আদর্শ পেশাদার, জানে তাকে কী করতে হবে। - ডেভিড বেকহ্যাম, ইংল্যান্ডের গ্রেট ফুটবলার বেলিংহ্যাম ফুটবলের জন্য এক উপহার। এমন সম্ভাবনাময় ও ইতিবাচক ভাবমূর্তির একজন খেলোয়াড়কে দেখে গোটা ফুটবল দুনিয়া উচ্ছ্বসিত। - কার্লো আনচেলত্তি, রেয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ ও বর্তমানে ব্রাজিলের কোচ পরিসংখ্যানের আলোয় বেলিংহ্যাম • ইংল্যান্ডের ইতিহাসে তৃতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলে অভিষেক হয় বেলিংহ্যামের, ১৭ বছর ১৩৬ দিন বয়সে। তার চেয়ে কম বয়সে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয়েছে শুধু থিও ওয়ালকট ও ওয়েইন রুনির। • রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে অভিষেক মৌসুমে (২০২৩-২৪) লা লিগার মৌসুম সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন বেলিংহ্যাম। ওই মৌসুমে তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন এবং ২০২৪ সালের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারের ভোটিংয়ে তৃতীয় হন। বিশ্ব মঞ্চে বেলিংহ্যাম ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে অভিষেক বেলিংহ্যামের। তখন টিনএজার হলেও ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। বৈশ্বিক আসরে নিজের ছাপ ফেলতে বেশি সময় লাগেনি তার। প্রথম ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ৬-২ গোলের জয়ে তিনিই করেন ইংল্যান্ডের প্রথম গোল। ওই আসরে ইংল্যান্ডের পাঁচ ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন বেলিংহ্যাম। শেষ ষোলোয় সেনেগালের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জর্ডান হেন্ডারসনের গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। নাটকীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় ইংল্যান্ডের। ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে বেলিংহ্যাম ও ইংল্যান্ডের প্রত্যাশা কোচ টমাস টুখেলের হাতে যত প্রতিভা আছে, তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে যেমন তার দল, তাতে ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নামবে ইংল্যান্ড। আর সেখানে বেলিংহ্যাম হতে পারেন ইংল্যান্ডের চালিকাশক্তি, সেটা তিনি মাঝমাঠের নিচে নেমে খেলুন কিংবা আক্রমণভাগে থেকে ‘গোলমেশিন’ নাম্বার নাইন হ্যারি কেইনকে গোলের জোগান দিন। যে পজিশনেই তাকে খেলানো হোক না কেন, বেলিংহ্যাম বারবার প্রমাণ করেছেন, তিনি বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর মেলার পালা- ৬০ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতাতে সাহায্য করতে পারবেন বেলিংহ্যাম? আগামী ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৯৬৬ সালের শিরোপা জয়ীরা। ‘এল’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ঘানা ও পানামা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে পাকিস্তান সফর করবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। পাকিস্তান সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের সূচি চূড়ান্ত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। রাওয়ালপিন্ডিতে ৩০ মে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে পাকিস্তান সফর শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ২ জুন সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে দু’দল। ৪ জুন তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে দিয়ে সিরিজ শেষ হবে। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ হবে লাহোরে। ২০২২ সালে সর্বশেষ পাকিস্তানের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলছিল অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচের ঐ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল অসিরা। ঐ সফরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান সফর করেছিল অস্ট্রেলিয়া। লাহোরে ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দু’টি ম্যাচ খেলে অসিরা। পাকিস্তান সিরিজ শেষে ৯ জুন থেকে বাংলাদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে এবং ১৭ জুন থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া। ২১ জুন বাংলাদেশ সফর শেষ হবে অসিদের। পাকিস্তান সফরে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে সিরিজের সূচি : ৩০ মে : প্রথম ওয়ানডে (রাওয়ালপিন্ডি) ২ জুন : দ্বিতীয় ওয়ানডে (লাহোর) ৪ জুন : তৃতীয় ওয়ানডে (লাহোর)