মাত্র ১৪ মাসের মধ্যেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে যাত্রা শেষ হলো রুবেন আমোরিমের। লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পর্তুগিজ কোচের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। অন্তর্বর্তীকালীনভাবে বার্নলির বিপক্ষে আসন্ন প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে দল পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছেন ড্যারেন ফ্লেচার।
ক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে থাকা দলকে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য অবস্থানে শেষ করার সুযোগ দিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।” একই সঙ্গে আমোরিম ও তার কোচিং স্টাফের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড।
পেছনের গল্প: বোর্ডের সঙ্গে দূরত্ব
বরখাস্ত হওয়ার আগের কয়েক দিনেই ইঙ্গিত মিলেছিল টানাপোড়েনের। জানুয়ারির দলবদল বাজার ঘিরে ক্লাব কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সমর্থন পাবেন না—এমন মন্তব্য করেছিলেন আমোরিম। লিডস ম্যাচের পর আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, কোচ নয়, ‘ম্যানেজার’ হিসেবে কাজ করতে চান এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ক্লাব ছাড়তে প্রস্তুত।
এই মন্তব্যগুলোই পরিস্থিতিকে চরমে নিয়ে যায়। ক্লাব সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসিকে জানায়, চলতি মৌসুমে কৌশলগত অগ্রগতি ও পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতির স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় বোর্ডের আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
পরিসংখ্যান ও ব্যর্থতা
২০২৪ সালের নভেম্বরে স্পোর্টিং লিসবন থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ইউরো রিলিজ ক্লজ দিয়ে আমোরিমকে নিয়োগ দিয়েছিল ইউনাইটেড। কিন্তু ৬৩ ম্যাচে মাত্র ২৫টি জয়—এই পরিসংখ্যান তার বিপক্ষে যায়। প্রিমিয়ার লিগে তার অধীনে ইউনাইটেডের জয়হার ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ, গোল হজমের হার ও ক্লিনশিট—দুটোই ছিল ক্লাব ইতিহাসে অন্যতম বাজে।
গত মৌসুমে ইউনাইটেড লিগ শেষ করে ১৫ নম্বরে—১৯৭৪ সালের পর যা ছিল তাদের সর্বনিম্ন অবস্থান। ইউরোপা লিগের ফাইনালে উঠলেও টটেনহ্যামের কাছে হার মানতে হয়। এ ছাড়া লিগ টু ক্লাব গ্রিমসবির বিপক্ষে লিগ কাপ থেকে বিদায়ও ছিল বড় ধাক্কা।
কৌশল নিয়ে অসন্তোষ
আমোরিমের ৩-৪-৩ ফরমেশন আঁকড়ে ধরাও বোর্ডের অসন্তোষ বাড়ায়। একাধিকবার বলা হলেও তিনি সেটি থেকে সরে আসেননি। খেলোয়াড় বাছাই ও একাডেমি ফুটবলারদের প্রতি আগ্রহের অভাবও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তাঁর অবস্থানে।
ড্যারেন ফ্লেচারের দায়িত্ব
৪১ বছর বয়সী ড্যারেন ফ্লেচার আপাতত দায়িত্ব নিচ্ছেন। সাবেক এই স্কটল্যান্ড আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইউনাইটেডের হয়ে পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। যদিও সিনিয়র পর্যায়ে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই, তবু অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবেই তাঁকে বেছে নিয়েছে ক্লাব।
উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হলেও রুবেন আমোরিমের অধ্যায় শেষ হলো হতাশা আর দ্বন্দ্বে ভরা এক বাস্তবতায়। প্রশ্ন এখন একটাই—বারবার কোচ বদলের চক্র থেকে কবে বেরোবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড?
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর তাকে নিয়ে আলোচনায় মেতেছে ক্রিকেটবিশ্ব। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস তো এক ধাপ এগিয়ে ব্রুকের প্রতিভার তুলনা করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ব্যাটার কেভিন পিটারসেনের সঙ্গে। স্টোকসের দাবি, প্রতিভার বিচারে পিটারসেনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ব্রুককে। সাউদাম্পটনে মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৪৯ বলে অপরাজিত ১১৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন ব্রুক। তার ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৪ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। ব্রুকের এমন ব্যাটিং দেখেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন স্টোকস। তিনি ব্রুককে ‘অ্যাবসলিউট ফ্রিক’ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি পিটারসেনের সঙ্গে তুলনা টেনে বলেন, ‘আমার মনে হয় না, কেপির (কেভিন পিটারসেন) প্রতিভার কাছাকাছিও আসতে পারে হ্যারি ব্রুকের প্রতিভার বিচারে।’ তবে স্টোকসের মন্তব্যের পর যেন পিটারসেনকে ছোট করা না হয়, সেটিও পরিষ্কার করেন তিনি। পরে নিজের পোস্টের জবাবে স্টোকস লেখেন, ‘কেপির প্রতি একটু কঠিন হয়ে গেল। দুজনই অসাধারণ প্রতিভা, তবে আমার বক্তব্য হলো- ব্রুক এগিয়ে।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রুকের ইনিংসটি ছিল ছক্কা-চারের ঝড়। ৪৯ বলে ১১৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি মেরেছেন ১০টি চার ও ৬টি ছক্কা। তার সঙ্গে জস বাটলারও ৪৪ বলে ৮০ রান করেন। দুই ব্যাটারের ব্যাটে ভর করে ২৫৪ রানের সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। জবাবে মাত্র ১৩৫ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ব্রুকের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাও নজরকাড়া। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে টি-টোয়েন্টিতে দারুণ সফলতা পাচ্ছেন তিনি। এই পজিশনে আট ম্যাচে তার সংগ্রহ ৪৭৬ রান, ব্যাটিং গড় ৯৫.২০ এবং স্ট্রাইক রেট ২০০.৮৪। এ সময়ে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটিও করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৯টি টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ৬০ নিংসে ব্রুকের রান ১ হাজার ৬৪৬। ব্যাটিং গড় ৩৬.৫৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬৪.১০। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর সেঞ্চুরি দুটি ও ফিফটি আটটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই একাধিক সেঞ্চুরি আছে ব্রুকের। ইংল্যান্ডের হয়ে এই কীর্তিতে তার সঙ্গে আছেন জস বাটলার। আর তিন সংস্করণে একাধিক সেঞ্চুরি করা ব্যাটারদের তালিকায় আছেন রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, বাবর আজম, ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, মার্টিন গাপটিল ও কুইন্টন ডি কক।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে গত মাসেই বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। মেসিহীন আর্জেন্টিনা ফুটবল দল পরবর্তীতে কবে কোথায় খেলতে নামবে সে অপেক্ষাতেই ছিল আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা। সেপ্টেম্বরের শেষ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে দুটি কিংবা তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা- এটা ছিল জানা কথা। তবে কবে, কোন দলের বিপক্ষে খেলতে নামবে তারা- সেটা এতদিন ঠিক করা হয়নি। অবশেষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ও সূচি জানা গেছে। অক্টোবরে ঘরের মাঠে মোট ৩টি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে একটি সেপ্টেম্বরের শেষদিন, অন্য দুটি অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবরে। জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় প্রথম খেলবে লাতিন আমেরিকান প্রতিপক্ষ বলিভিয়ার বিপক্ষে। এরপর ৩ অক্টোবর খেলবে এল মনুমেন্টালে আফ্রিকান দেশ বুর্কিনা ফাসোর বিপক্ষে। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর, একই মাঠে খেলবে আরেক আফ্রিকান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনিনের বিপক্ষে। আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে এতদিন প্রতিপক্ষ বা সূচি ঠিক না হলেও এর মধ্যেই দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। নতুনদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন পুরোনো মুখকেও আবার দলে ফেরানোর কথা ভাবছেন তিনি। ফলে আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতির আর্জেন্টিনা দলটি হতে পারে বিশ্বকাপের স্কোয়াডের তুলনায় বেশ ভিন্ন। আর্জেন্টিনার হয়ে আবারও ডাক পেতে পারেন অ্যাস্টন ভিলার এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর তাকে নিয়ে নতুন করে ভাবছেন স্কালোনি। একই সঙ্গে রোমায় যোগ দেওয়া ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দির নামও রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়। চোটের কারণে বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি এই ডিফেন্ডার। দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে সান্তিয়াগো ‘সান্তি’ কাস্ত্রোরও। লোবায় খেলা এই স্ট্রাইকারকে আক্রমণভাগে নতুন একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তরুণদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, রিভার প্লেটের কয়েকজন ফুটবলারকেও এবার জাতীয় দলে ডাকা হতে পারে। তবে রিভারের নিয়মিত একাদশের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় থিয়াগো আলমাদা ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে একটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না। বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘটনার জেরে তাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আসন্ন স্কোয়াডটি বেশ বড় হতে পারে। একাধিক খেলোয়াড়কে পরখ করে দেখার সুযোগ নিতে পারেন স্কালোনি। এমনকি প্রীতি ম্যাচগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন একাদশ খেলিয়ে বিশ্বকাপ-পরবর্তী দলের জন্য নতুন সমন্বয়ও খুঁজে নিতে পারেন তিনি। বিশ্বকাপজয়ী দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অবশ্য থাকছেন। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ এবং রদ্রিগো ডি পলকে দলে পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও নিষেধাজ্ঞার কারণে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনা থাকছেন না। পারেদেসের নিষেধাজ্ঞা ১০ ম্যাচের, আর মোলিনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ৭ ম্যাচের। এর বাইরে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে রক্ষণভাগে। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ফলে তাকেও আর পাওয়া যাবে না। তার অনুপস্থিতিতে রক্ষণভাগের নেতৃত্বের দায়িত্ব ক্রিস্টিয়ান ‘কুটি’ রোমেরোর ওপর আরও বেশি করে পড়তে যাচ্ছে। রোমেরোকেই এখন আর্জেন্টিনা দলের নতুন নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অধিনায়ক লিওনেল মেসি জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করে ফেলার কারণে রোমেরোই দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘিরে মেসিকে নিয়ে। ২১ বছর ধরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে ইতিহাস গড়া মেসি বিশ্বকাপের ফাইনাল দিয়ে জাতীয় দলের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় শেষ করেছেন। স্পেনের কাছে হারের ম্যাচটিই জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। আসন্ন ফিফা উইন্ডোতে মেসিকে দলে ডাকার সম্ভাবনা অবশ্য কম বলেই মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নাও দেখা যেতে পারে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ককে। তবে মেসির জাতীয় দলের বিদায় যে বিশ্বকাপ ফাইনালেই হয়ে গেছে, সেটিও নিশ্চিত নয়। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) চায়, দেশের মাটিতে মেসিকে আরও একবার খেলিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতে। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর নিজেদের সমর্থকদের সামনে তাকে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে দেখার সুযোগ করে দিতে চায় এএফএ। অর্থাৎ মেসির বিদায় আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। তিনি কবে, কোথায় এবং আদৌ আর জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। এর মধ্যে স্কালোনির নিজের ভবিষ্যৎও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। আর্জেন্টিনা কোচের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে আগামী মাসগুলোতে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হবে। এএফএ অবশ্য তাঁকে ধরে রাখতে আগ্রহী এবং বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে স্কালোনির সঙ্গে নতুন করে চুক্তির আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন দ’রের এবারের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে যে কয়েকজনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তাদের একজন লামিন ইয়ামাল। তরুণ এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের পক্ষে বাজি ধরেছেন তার নতুন ক্লাব সতীর্থ গাব্রিয়েল জেসুসও। এবারের গ্রীষ্মের দলবদলের শেষ দিনে আর্সেনাল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন জেসুস। ইতোমধ্যে দলটির হয়ে গোলের খাতাও খুলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। স্প্যানিশ ক্রীড়া পত্রিকা স্পোর্তে সোমবার জেসুসের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়েছে। সেখানে নানা বিষয়ে কথার ফাঁকে এবারের ব্যালন দ’র ইয়ামালের জয়ের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। তার ফুটবল সামর্থ্য ও (গত) মৌসুমে তার পারফরম্যান্স বিবেচনায় আমার মনে হয়, তার এটা জেতার ভালো সম্ভাবনা আছে।” গত মৌসুমে বার্সেলোনার লা লিগা জয়ের অভিযানে লিগের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পান ইয়ামাল। বিশ্বকাপে যদিও প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেননি তিনি, তারপরও স্পেনের শিরোপা জয়ে তার ছিল উল্লেখযোগ্য অবদান। গত মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে মোট ৪৫টি ম্যাচ খেলে ২৪ গোল ও ১৮টি অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। ২০২৬ ব্যালন দ’রের লড়াইয়ে অনেকে আবার এগিয়ে রাখছেন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গত মৌসুমে মোট ৭৩টি গোল করা হ্যারি কেইন, রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে মৌসুমজুড়ে ও ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড গড়া কিলিয়ান এমবাপে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পথে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়া রদ্রি এবং পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা উসমান দেম্বেলেকে। তবে জেসুসের চোখে ইয়ামালই সেরা। বার্সেলোনায় এই অল্প কদিনেই ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গারকে কাছ থেকে দেখে মুগ্ধ তিনি। “মাঠে সে যা কিছু করে, সাবলীলভাবে করে- সে এমনভাবে খেলে যেন সবকিছু খুব সহজ মনে হয়। “দুর্দান্ত সব খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন করার সুযোগ হয়েছে আমার, ইয়ামাল সেই পর্যায়ের একজন।” এবারের ব্যালন দ’র পুরস্কারজয়ীর নাম জানা যাবে আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। গত বছর পুরস্কারটি জিতেছিলেন উসমান দেম্বেলে। ইয়ামাল হয়েছিলেন দ্বিতীয়, এমবাপে তৃতীয়।