কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াস-কানেল, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও রাউল কাস্ত্রোর পরিবারের সদস্যদের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঘোষণায় কিউবার সামরিক ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট দিয়াস-কানেলের স্ত্রী ও সন্তান, পাশাপাশি রাউল কাস্ত্রোর ছেলে আলেহান্দ্রো কাস্ত্রো এসপিন ও নাতি। এছাড়া কিউবার সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়, কমিটিজ ফর দ্য ডিফেন্স অব দ্য রেভল্যুশন এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এই পদক্ষেপের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো কিউবার সরকারকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব বিদেশি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর আগে কিউবার সামরিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, কিউবা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপগুলো দেশটির জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা আরও গভীর করে তুলেছে।
কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘হস্তক্ষেপমূলক ও নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পাশাপাশি কিউবার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে দেশটি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হোটেল মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় তিনি ভবনের কাছেই ছিলেন, কিন্তু ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। ইন্ডিয়া টুডের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বাজাজ ঘটনার দিন কী কী ঘটেছে তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আগুন লাগার পর তিনি ভবনটির পাশ দিয়ে গেলেও পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যান। পরে তিনি বাড়িতে না ফিরে দীর্ঘ সময় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। এরপর পুলিশ তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। বুধবার সকালে দিল্লির ওই হোটেলটিতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবন থেকে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও বিদেশি নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, হোটেলটির জন্য কখনও ফায়ার সেফটি নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদে বাজাজ নিজেই এই তথ্য স্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিদ্যমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ভবনটি হয়তো এমন ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্যই ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, বাজাজ ২০২২ সালে ভবনটি কিনে নেন। এর আগে সেখানে একটি খাদি দোকান ছিল এবং ভবনটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। পরে তিনি ভবনটি ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি এটিকে হোটেল ও গেস্ট হাউসে রূপান্তর করেন। বাজাজ দাবি করেছেন, তিনি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট, পর্যটক আবাসন এবং একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে এসব অনুমোদনের বৈধতা ও পরিধি এখন যাচাই করছে পুলিশ। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হোটেলটির দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যিনি ছিলেন, তিনি একই সঙ্গে হিসাবরক্ষকের দায়িত্বও পালন করতেন। হোটেল-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও লাইসেন্স তার নামেই নিবন্ধিত বলে জানা গেছে। বর্তমানে সেই ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, ভবন নির্মাণ বিধিমালা ও লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে মামলা করেছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে পার্ক করে রাখা একটি বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের নোজ-গিয়ার আকস্মিকভাবে ভেঙে গেছে। এতে কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উড়োজাহাজটির পরিচালনাকারী সংস্থা লুফথানসা। এক বিবৃতিতে লুফথানসার একজন মুখপাত্র বলেছেন, দুর্ঘটনার কবলে পড়ার সময় যাত্রীরা উড়োজাহাজটিতে ছিলেন না।ঘটনার সময় উড়োজাহাজের ভেতরে ক্রু সদস্য এবং গ্রাউন্ড স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট এই দূরপাল্লার উড়োজাহাজটির চারপাশে একাধিক জরুরি উদ্ধারকারী যানবাহন পার্ক করে রাখা অবস্থায় দেখেছেন বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের একজন আলোকচিত্রী। উড়োজাহাজটি আংশিকভাবে পেটের ওপর ভর দিয়ে ল্যান্ডিং স্ট্রিপে পড়ে ছিল। লুফথানসা কর্তৃপক্ষ জানায়,‘জার্মানির স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজটির এলএইচ৪৫০ ফ্লাইট হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে রওনা করার কথা ছিল। কোম্পানিটি বলেছে, ‘আমরা বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে মিলে এর সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখছি।’’ জার্মানির লুফথানসা গ্রুপ ৭৮৭-৯ সংস্করণটি পরিচালনা করে থাকে এবং এই ৭৮৭ উড়োজাহাজটি তাদের বহরে তুলনামূলক নতুন সংযোজন। কোম্পানিটি ধীরে ধীরে কম সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ বাদ দেওয়ার এবং বিমানবহরকে আরও সহজ ও আধুনিক করার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি বলেছেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কাছে অপমানজনক পরাজয়ের পর শত্রুরা এখন গুপ্ত যুদ্ধের কৌশল নিয়েছে। তিনি জাতীয় ঐক্য ও জনসচেতনতার মাধ্যমে শত্রুর সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত ইমাম খোমেনির সমাধিসৌধে লাখো মানুষ জড়ো হন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও তার অনুসারীরা স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বিপ্লবের আদর্শের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করেন। খামেনি বলেন, অশুভ শত্রু ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি হয়ে সামরিক ও জনমতের লড়াই; উভয় ক্ষেত্রেই অপমানজনক পরাজয়ের শিকার হয়েছে। এখন তারা সেই ব্যর্থতা পুষিয়ে নিতে গুপ্ত যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, দুষ্ট শত্রু তোমাদের সাহসী সন্তানদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর এখন গুপ্ত যুদ্ধের কাঠামোর মধ্যে দুটি লক্ষ্য সামনে রেখেছ।সেগুলো হচ্ছে, জনগণের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করা। আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি আরও বলেন, প্রায় ৮০ বছর আগে যে আধিপত্যবাদী শক্তি ইসরায়েল নামের একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল, তারা ইউফ্রেটিস নদীর পূর্বে বৃহত্তর ইসরায়েলের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় একট স্বাধীন ও সক্ষম ইরানের অস্তিত্ব মেনে নিতে পারে না। এ কারণেই তারা ইরানের অগ্রগতি ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষ মানুষের মধ্যে সন্দেহ, হতাশা, ভয়, অবিশ্বাস ও বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। তাই সব ইরানিকে ঐক্য ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রেখে এসব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে হবে। তার মতে, যে কোনো কাজ যা জনগণের মধ্যে হতাশা বা নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে, তা এই দেশ ও জনগণের শত্রুদের সহায়তা করার শামিল। বার্তায় খামেনি বলেন, ইমাম খোমেনির মৃত্যুবার্ষিকী তার ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাধারা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার একটি মূল্যবান সুযোগ। তিনি ইমাম খোমেনিকে এমন এক ক্যারিশম্যাটিক নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যার আদর্শ ও লক্ষ্য সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি ইসলামি ইরানের ভবিষ্যৎকে আলোকিত করতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ ইমাম খোমেনিকে সরাসরি দেখার সুযোগ পায়নি। এমনকি যারা তার জীবদ্দশায় ছিলেন, তাদের অনেকেই তার ব্যক্তিত্ব ও আদর্শের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি। খামেনি বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সংগ্রামই ছিল ইমাম খোমেনির চিন্তাধারার মূল ভিত্তি। সমাজকে জাগ্রত করা, শিক্ষা দেওয়া এবং গভীর প্রভাব বিস্তার করা ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় অবদান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন শক্তি ১৯৬৩ সালের ৫ জুনের খোরদাদ আন্দোলনে ঔপনিবেশিকতা ও স্বৈরাচারের শৃঙ্খলে আবদ্ধ একটি ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল? কোন অনুপ্রেরণা ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে লাখো মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে এনে জাতির ইমামকে স্বাগত জানিয়েছিল? আবার ১৯৮৯ সালের ৪ জুন একই মানুষকে তার বিদায়ে শোক প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করেছিল? তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ বিস্ময়কর উদাহরণ হলো, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে কোন অদম্য শক্তি ইরানি জাতিকে এত দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে রেখেছে, যাতে তারা তাদের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং অন্যান্য শহীদদের রক্তের ন্যায়বিচার দাবি করতে পারে এবং ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে পারে। তার মতে, ইমাম খোমেনি এবং শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানি জাতির মধ্যে থাকা এই সুপ্ত শক্তি ও সক্ষমতাকে আবিষ্কার ও পুনর্জাগরিত করেছিলেন। আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, ইমাম খোমেনি ইরান ও বৈশ্বিক পরিসরে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের স্থপতি ছিলেন। আর শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সেই পথকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করেছেন। খামেনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার সমস্যা শুধু ইরানের সঙ্গে নয়, বরং ইরানি জাতির স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মসমর্পণ না করার মানসিকতার সঙ্গেও। তিনি বলেন, এই জাতির বিশেষ পরিচয় এবং আত্মসমর্পণ না করার মনোভাবই তাদের বিরক্তির মূল কারণ। সূত্র : প্রেস টিভি