জাতীয়

মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন খাতের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাসমূহের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ সময়কালের সামগ্রিক কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিকায়নমূলক সিদ্ধান্তের ফলে দেশের নৌখাত আজ একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ২,৩৭৮.৭৭ কোটি টাকা, ব্যয় ৮৩৭.৯৯ কোটি টাকা এবং উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১,৫৪০.০৮ কোটি টাকা। কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বকালের সর্বোচ্চ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডে ওঝচঝ অডিটে ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন বন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা জানান, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট নিরসনের পথ সুগম হয়েছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা (পিআরএফ) প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনার একটি মাইলফলক।

পায়রা বন্দরে দেশি ও বিদেশি জাহাজ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পিপিএফটি প্রকল্পের আওতায় সড়ক, ব্রিজ ও মোবাইল হারবার ক্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে কুতুবদিয়া, হাতিয়া, মহেশখালী, ভাসানচর ও অন্যান্য দ্বীপাঞ্চলে সি-ট্রাক ও ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় দুর্গম এলাকার জনগণের যাতায়াত নিরাপদ, সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হয়েছে। নতুন লঞ্চঘাট, পন্টুন ও জেটি স্থাপনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং যাত্রী সাধারণের সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ৩০ এর অধিক লঞ্চঘাট এবং ৫০ এর অধিক পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে বলে উপদেষ্টা জানান।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে এবং নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে দেশের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আদায়ও সরকারের সাফল্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে জিএমডিএসএস, কোস্টাল রেডিও স্টেশন ও লাইটহাউজ স্থাপনের ফলে উপকূলীয় এলাকায় নৌনিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ রোধে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি মেরিন একাডেমি ও ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট সমূহে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নাবিক ও মেরিটাইম জনবল তৈরিতে অগ্রগতি হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ের সমাপনী বক্তব্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, নৌখাত কেবল পরিবহন ব্যবস্থাই নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। আমাদের লক্ষ্য হলো-বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মেরিটাইম হাবে পরিণত করা। এই অর্জনগুলো সেই লক্ষ্যে আমাদের দৃঢ় অগ্রযাত্রার প্রতিফলন।

সংবাদ সম্মেলন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ভারত আর বাংলাদেশের আকাশ-মাটি এক না: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘ভারত আর বাংলাদেশের আকাশ-মাটি এক না; এটা ১৯৪৭ সালে ফয়সালা হয়ে গেছে।’   গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে শনিবার (১১ জুন) বিভাগীয় সমাবেশ করেছে এগারো দলীয় ঐক্য। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।   নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গতকাল ভারতের হাইকমিশনার এসেছেন। তিনি বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। কিন্তু গতকালই মৌলভীবাজারে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এসে যে সুসম্পর্কের কথা বলেছেন, আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে, নদীতে বাঁধ দিয়ে কোনো বন্ধুত্ব হয় না। ভারতের আকাশ আর বাংলাদেশের আকাশও এক নয়। ভারতের মাটি আর বাংলাদেশের মাটিও এক নয়। এ ফয়সালা ১৯৪৭ সালে হয়ে গেছে। ১৯৪৭ সালেই ফয়সালা হয়েছিল বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হবে। ১৯৭১ সালে হয়েছে। ২০২৪ সালে পুনরায় ফয়সালা হয়েছে, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি থাকবে না। বাংলাদেশ কারো সাথে আপোষ করবে না। মর্যাদার সাথে সম্পর্ক তৈরি করবে।’   বাজেটে লুটপাটের পথ বন্ধ করা হয়নি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আজ মন খারাপ, মন খারাপ করে কক্সবাজারে তিনি বলেছেন বিরোধীদল কেন বাজেটের সমালোচনা করে। তাঁর মন খারাপ দেখে আমাদেরও মন খারাপ, কারণ আমরা চেয়েছিলাম বাজেটের প্রশংসা করতে। কিন্তু আপনি দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করেননি, লুটপাটের পথ বন্ধ করেননি। ব্যাংক দখল বন্ধ করেনি। আমরা জানি না, এ বাজেটের কত টাকা জনগণের জন্য ব্যয় হবে, আর কত টাকা আপনার দলের নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে। আপনার এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এজন্য এ বাজেটের সমালোচনা আমাদের করতে হবে।’   সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে হলে, আগে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে, পুলিশ সংস্কার করতে হবে, দুদক সংস্কার করতে হবে, বিচার বিভাগ সংস্কার করতে হবে। গতকাল ক্রিকেট টিমের একজনকে চট্টগ্রামে পুলিশ হেনস্থা করেছে। পুলিশ সংস্কার না হওয়ায় এটি ঘটছে। আগের মতোই বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে, সরকার যদি আবারও পুরনো স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে। সরকার যদি স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, জনগণও অভ্যুত্থানের পথে হাঁটবে। সংসদকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হচ্ছে। বিরোধী দলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৩, ২০২৬

আদ দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রোগীর দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

প্রশাসনে আকস্মিক বড় রদবদল

ছবি: সংগৃহীত
আগস্টে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

আগামী আগস্ট মাসের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (নিউক্লিয়ার ফুয়েল) লোডিং সম্পন্ন হবে বলেও সরকার আশাবাদী।   শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীর স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘পারমাণবিক শক্তির কৌশল, বাস্তবতা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ মূলত জাতীয় উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং মানুষের কল্যাণে বিনিয়োগ। তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে বড় ধরনের দায়িত্বও জড়িত। একটি সফল পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য শুধু আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো নয়, দক্ষ মানবসম্পদ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিশ্চিত করাও জরুরি।   তিনি আরও বলেন, গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। এর ফলে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর দেশগুলোর কাতারে স্থান করে নিয়েছে।   ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানির চাহিদাও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি যুগান্তকারী প্রকল্প। কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।   তিনি বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্যসেবায় ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা, কৃষিতে উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন, শিল্পখাতের আধুনিকায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।   জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক শক্তির নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এ জন্য উন্মুক্ত যোগাযোগ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য দেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং অ্যাম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল।   এ ছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক (এনএসপিসি) ব্রিগেডিয়ার রোবায়েত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।   অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রতিনিধি মেহমেত জেইহানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যে কারণে বন্ধ শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন

শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন আর্থিক সহায়তা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে হাওরে এমপির আনন্দভ্রমণ

সর্ববৃহৎ বাজেটেও নেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পথনকশা

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করেছে বিএনপি সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। তবে এই বিশাল বাজেটেও স্থান পায়নি বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা। ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।   প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার সময় নতুন করে জেগে ওঠে তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বপ্ন। নদীভাঙন, পানির সংকট ও কৃষি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে তারা দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। কথা ছিল এবারের বাজেটে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে কোনো বরাদ্দ কিংবা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় হতাশ স্থানীয়রা।   তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে। কিন্তু বাজেটে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না থাকায় মানুষ হতাশ হয়েছে।   তিনি বলেন, আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম, প্রয়োজনে তিস্তা বন্ড চালু করে, কাজ শুরু হওয়ার পর বালু ও পাথর বিক্রি করে নিজস্ব অর্থায়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক। বিদেশি বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীলতা নয়, আমরা চাই নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হোক।   বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু নদী খনন বা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নয়। এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ ব্যবস্থা, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।   বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উমর ফারুক বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।   রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নদী, প্রকৃতি ও নদীপাড়ের মানুষ।   তিনি বলেন, বাজেটে সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রংপুর। রংপুর বিভাগকে বাংলা মায়ের সতিন হিসেবে পরিচিত না করে দ্রুত বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।   সংশ্লিষ্টদের দাবি, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদীকেন্দ্রিক সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় তিস্তা ঘিরে মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় রাম বিগ্রহ নির্মাণ স্থগিত, অপসারণে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর সড়ক থেকে ইট অপসারণ: যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

0 Comments