বিশ্ব

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার উদ্যোগ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0

 মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, চলতি বছরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন। এটি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি।

কুয়ালালামপুর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আনোয়ার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সবারই একটি মেয়াদসীমা আছে, সেখানে কোনো ব্যতিক্রম নেই।

নতুন বছর উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ ঘোষণায় আনোয়ার বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করতে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করব, যার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর বা টানা দুই মেয়াদ।’

মেয়াদ শেষে দায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়াই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী থাকার কোনো মেয়াদসীমা নেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রথম দফায় ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন।

পরবর্তীতে মাহাথির অবসর ভেঙে একটি ভিন্নধর্মী বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সেই জোট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।

ওই বছর ৯২ বছর বয়সে পুনরায় শপথ নিয়ে মাহাথির বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হন।

তবে, মেয়াদসীমা সংক্রান্ত বিলটি ঠিক কবে সংসদে তোলা হবে, সে ব্যাপারে আনোয়ার নির্দিষ্ট কওে কিছু বলেননি। চলতি মাসেই সংসদের এ বছরের প্রথম অধিবেশন বসবে।

আনোয়ারের জোট পাকাতান হারাপান (অ্যালায়েন্স অব হোপ) ২০২২ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই দফায় সীমিত রাখার অঙ্গীকার করেছিল।

আনোয়ার জানান, সরকার সংসদে তথ্য অধিকার আইনও উত্থাপন করবে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাইকে জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে এবং প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম থাকবে না।

গত মাসে মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে আরো ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। 

এই অতিরিক্ত সাজা কার্যকর হবে নাজিবের বর্তমান ছয় বছরের কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর। ৭২ বছর বয়সী নাজিব ১এমডিবি সংক্রান্ত একটি মামলায় ওই সাজা ভোগ করছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-লুলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সাথে বৈঠক করবেন।  দুই নেতার আদর্শগত ভিন্নতার কারণে সম্পর্ক সবসময়ই টানাপোড়েনপূর্ণ ছিল, তবে এবার নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ আলোচনার মূল এজেন্ডা। আমেরিকার দুই বৃহত্তম অর্থনীতির নেতৃত্বে থাকা এই দুই নেতা অতীতে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধে জড়ালেও সাম্প্রতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন। লুলা আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনের আগে দেশে নিজের ভাবমূর্তি শক্ত করতে চান। অন্যদিকে ট্রাম্প ব্রাজিলের কৌশলগত খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন লুলা। ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প ব্রাজিলের কৌশলগত খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। গত জুলাই মাসে ট্রাম্প ব্রাজিলের সব পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেন। যা তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলা ‘ষড়যন্ত্রের’ শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। বলসোনারো বর্তমানে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। লুলা প্রকাশ্যে এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণ ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন।  তবে একাধিক বৈঠক ও ফোনালাপের পর দুই নেতার সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয়। এক পর্যায়ে ট্রাম্প দুইজনের মধ্যে ‘চমৎকার বোঝাপড়া’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের ওপর আরোপিত শুল্ক আংশিকভাবে কমিয়েছে।  লুলা বর্তমানে কংগ্রেসে ধারাবাহিক পরাজয়ের কারণে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় আছেন। জনমত জরিপে তিনি বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে সমান অবস্থানে রয়েছেন। অভিজ্ঞ এই বামপন্থী নেতা চতুর্থবারের মতো (অবিরত নয়) মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে চান। গ্যাংবিরোধী লড়াই ব্রাজিলের ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা। তাই সংগঠিত অপরাধ দমনে সহযোগিতা আলোচনার অন্যতম বিষয়। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল অস্ত্র ও মাদক পাচার রোধে তথ্য বিনিময়ের চুক্তি করেছে। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ‘নারকোটেররিজম’-এর বিরুদ্ধে লড়াইকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ব্রাজিল চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের শক্তিশালী গ্যাংগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা না করে। দুর্লভ খনিজের প্রতিযোগিতা ব্রাজিলের বিশাল বিরল খনিজ সম্পদও আলোচনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ প্রযুক্তি পণ্যের জন্য এসব খনিজে বিনিয়োগ করতে চায়। ব্রাজিল চায় বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের ফ্রি ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম ‘পিক্স’ নিয়ে তদন্ত করছে, যা মার্কিন কোম্পানির প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে ভোট শুরু, চাপের মুখে স্টারমারের লেবার পার্টি

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় বিশ্ব

ছবি : সংগৃহীত

আইএস সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশুরা সিরিয়া থেকে মেলবোর্নে পৌঁছেছে

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পোপের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে উদ্যোগী রুবিও

 যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার প্রথম মার্কিন পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওয়াশিংটন-ভ্যাটিকান উত্তেজনা কমানো ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়াই এ বৈঠকের লক্ষ্য। পোপ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে এর সমালোচনা করার পর, ট্রাম্পের কড়া মন্তব্যের জেরে রুবিও রোমে পৌঁছান।  বিশ্বের ১৪০ কোটির বেশি ক্যাথলিকের প্রধান লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের এ মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্র সচিব পিয়েত্রো পারোলিনের সঙ্গে রুবিওর আলোচনা হওয়ার কথা। হলি সিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রায়ান বার্চ বলেন, এটি সম্ভবত একটি ‘খোলামেলা আলোচনা’ হবে। পারোলিন বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকের উদ্যোগ ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেই এসেছে এবং ভ্যাটিকান তাদের কথা শুনবে। -আলোচনার অনেক বিষয়- এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৮ মে, প্রথম মার্কিন পোপ হিসেবে লিও’র নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসন সন্তোষ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু এরপর থেকেই হলি সিটির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে। গত মাসে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ ও ‘পররাষ্ট্রনীতিতে খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন। এর আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন পোপ।  ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকিকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন। রুবিও বলেন, এই সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তবে এর মধ্যে কিছু ঘটনা ঘটেছে। তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ভ্যাটিকানের সঙ্গে আলোচনার অনেক বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থানে মিল রয়েছে। বুধবার এক অনুষ্ঠানে পারোলিন বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনার সব বিষয়ই আলোচনায় আসবে। পাশাপাশি ল্যাটিন আমেরিকা, কিউবা ও লেবাননের মতো আন্তর্জাতিক বিষয়ও আলোচনায় থাকবে। কিউবা কূটনীতিতে ভ্যাটিকানের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। আর কিউবান-আমেরিকান রুবিও কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লিও পেরুতে দুই দশক মিশনারি হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশটির নাগরিকত্বও পেয়েছেন, ফলে ল্যাটিন আমেরিকা সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে। -পোপের অবস্থান- উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চললেও, ট্রাম্প সোমবার আবারও পোপের সমালোচনা করেন।  তিনি দাবি করেন, পোপ মনে করেন যে ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ‘গ্রহণযোগ্য’। ট্রাম্প বলেন, এতে অনেক ক্যাথলিক ও মানুষের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোপ বলেন, ক্যাথলিক চার্চের দায়িত্ব হলো শান্তি ও গসপেল প্রচার করা। তিনি আরও বলেন, ‘গসপেল প্রচারের জন্য কেউ যদি আমার সমালোচনা করতে চান, তবে তা যেন তিনি সত্যের ভিত্তিতে করেন।’ পোপ আরও বলেন, চার্চ বহু বছর ধরেই সব ধরণের পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং তিনি ঈশ্বরের বাণীর মূল্য তুলে ধরতেই কথা বলতে চান। পারোলিন বলেন, পোপকে আক্রমণ করা কিছুটা অদ্ভুত মনে হয়। ‘পোপ কেবল তার দায়িত্বই পালন করছেন।’ লিওর মার্কিন নাগরিকত্বের কারণে তার বক্তব্য ওয়াশিংটনে আগের পোপদের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পায়।  তিনি অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন। তবে মূলত পোপের যুদ্ধবিরোধী অবস্থানই ট্রাম্পের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর লিও নির্বাচিত হওয়ার কয়েকদিন পরই ভ্যাটিকানে রুবিও ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত সবাইকে দিতে হবে : গালিবাফ

ছবি : সংগৃহীত

ইরানি তেলবাহী জাহাজ অচল করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

চীন সফরের আগেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে : ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত
ইরান রাজি হলে হরমুজ অবরোধ তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে দেশটির ওপর আরও বড় ও তীব্র হামলা চালানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় সম্মত হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে।   বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনার শর্ত মেনে নিলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘সব দেশের জন্য, এমনকি ইরানের জন্যও’ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ও শেষ হবে।   গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার জবাবে তেহরান এই পদক্ষেপ নেয়। এর পাল্টা হিসেবে ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দর থেকে চলাচলকারী জাহাজের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।   পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ট্রাম্প গত ৩ মে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নৌ অভিযান ঘোষণা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করা। তবে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কারণে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সেই অভিযান স্থগিত করা হয়।   পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা দাবি করে, ‘আগ্রাসী শক্তির হুমকি’ দূর হওয়ার পরই প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল সম্ভব হয়েছে।   এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সম্ভাব্য ওই চুক্তির আওতায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ অর্থ ছাড় ও হরমুজ প্রণালিতে উভয়পক্ষের আরোপিত নৌ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো তেহরানের বিবেচনায় রয়েছে। পর্যালোচনা শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সমঝোতার খুব কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশি ট্রাভেল কোম্পানির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

ছবি : সংগৃহীত

এবার ‘সব হিসাব চুকিয়ে দেওয়া হবে’ : দিলীপ ঘোষ

0 Comments