প্রবাসী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার ‘লাভজনক স্কিম’ আটকে গেল

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত একটি নতুন ও বিতর্কিত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার জন্যও তোলা হয়েছিল। তবে, শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম সেটি এজেন্ডা থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

দ্য এজ মালয়েশিয়ার ৭ মে এর প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। বৈঠকের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন স্কিমটি আলোচনায় তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করেই সেটি তালিকা থেকে বাদ দিতে বলেন।

 

একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে এ বিষয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। বিষয়টি আলোচনার জন্য উঠতেই আনোয়ার কর্মকর্তাদের এটিকে এজেন্ডা থেকে সরিয়ে পরবর্তী বিষয়ে যেতে বলেন। কেন সরানো হলো, সে ব্যাখ্যাও দেননি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কয়েকজন মন্ত্রিসভার সদস্য মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

 

দুই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শ্রমিক ইস্যু

বিদেশি শ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়গুলো মূলত মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল এবং মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান। তবে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেননি কোনে মন্ত্রীই।

 

গত সপ্তাহে সংবাদ প্রকাশের পর রামানান নিশ্চিত করেন যে, টোরাপ নামে একটি নতুন ব্যবস্থা বিবেচনায় রয়েছে। ‘দ্য ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্স প্ল্যাটফর্ম’ নামে পরিচিত এই সিস্টেমটি প্রস্তাব করেছে বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি, যার মালিক বর্তমানে বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলার আসামি হিসেবে ওয়ান্টেড।

 

রামানানের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দেওয়াই হবে এই ব্যবস্থার লক্ষ্য। তবে তিনি এটাও বলেন, এ নিয়ে প্রকাশিত আগের সংবাদ পুরোপুরি সঠিক নয় এবং বিষয়টি নাকি মন্ত্রিসভা পর্যায়ে আলোচিতও হয়নি। কিন্তু একাধিক সূত্র বলছে, প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল।

 

একটি সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের আগেই বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকের এজেন্ডায় ছিল। অর্থাৎ, বিষয়টি অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীই সেটি সরিয়ে দেন। অনুমোদন পেলে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যেত।

 

গ্রাম পর্যায়ে শোষণ থামবে কীভাবে?

ডিএপির সাবেক তিন মেয়াদের সংসদ সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, বাংলাদেশে গ্রাম পর্যায়ে শ্রমিকদের শোষণই ঋণের ফাঁদে পড়ার প্রধান কারণ। তার প্রশ্ন, এআই ব্যবহার করলেও কীভাবে গ্রামের শ্রমিকদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করার প্রবণতা বন্ধ হবে? শুধু এজেন্ট নয়, বাংলাদেশে এটি রাজনীতিবিদদের জন্যও বড় ব্যবসা। এই ব্যবস্থায় যে হাজার হাজার কোটি টাকা ঘুরছে, তা থেকে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন।

 

অন্যদিকে, বেস্টিনেট দাবি করেছে, টোরাপ ব্যবস্থা গ্রাম পর্যায় থেকেই নিয়োগ দুর্নীতি ও শোষণ কমাতে সহায়তা করবে। কোম্পানিটির মতে, এটি বিদ্যমান সিস্টেমের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং অনিয়ম কমাবে।

 

এফডব্লিউসিএমএস ও বেস্টিনেটের ভূমিকা

বর্তমানে বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এফডব্লিউসিএমএস) ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বেস্টিনেট তৈরি ও পরিচালনা করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

বেস্টিনেটের নিয়ন্ত্রক দাতুক সেরি আমিনুল ইসলাম মোহদ নূর এবং তার সহযোগী রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অর্থপাচার ও শ্রমিক শোষণের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তাদের বিচারের আওতায় আনতে চাইলেও এখন পর্যন্ত আমিনুলকে প্রত্যর্পণ করা সম্ভব হয়নি।

 

বিপুল অর্থের শ্রমবাজার

২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো পুরোপুরি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থার অধীনে ছিল। তখন একজন শ্রমিককে প্রায় ৩৫ হাজার বাংলাদেশি টাকা খরচ করতে হতো।

 

কিন্তু ২০১৩ সালে চুক্তি সংশোধন করে বেসরকারি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার পর খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ টাকা বা তারও বেশি। বর্তমানে একজন শ্রমিকের খরচ ৫ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

 

বাংলাদেশি নথি অনুযায়ী, শুধু ২০২৩ সালেই ৩ লাখ ৫১ হাজারের বেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় এসেছেন। প্রত্যেকে যদি গড়ে ৫ হাজার ডলার করে দিয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের এজেন্টদের হাতে প্রায় ৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত পৌঁছেছে।

 

বেস্টিনেটকে ঘিরে বিতর্ক

২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেস্টিনেটকে বিদেশি শ্রমিকদের নথিপত্র ও নিবন্ধন ব্যবস্থাপনার জন্য এফডব্লিউসিএমএস ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। সে সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আহমদ জাহিদ হামিদি। এ নিয়ে গত দুই বছর ধরে পার্লামেন্টারি সিলেক্ট কমিটিতে আলোচনা চলছে।

 

এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত আলোচনার দ্রুত সমাধানের জন্য জাহিদের নির্দেশেই কোম্পানিটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সরকার কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই এফডব্লিউসিএমএস ব্যবহার করে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস (পিএলকেএস) ইস্যু করে। পরে বেস্টিনেট সরকারকে ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত বকেয়া সেবামূল্যের দাবি জানায়।

 

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

২০২৪ সালের আগে পর্যন্ত এফডব্লিউসিএমএস পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সফটওয়্যারের সোর্স কোড এবং সুপার আইডি সরকারের একক নিয়ন্ত্রণে ছিল না, যা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

 

২০২৩ সালের মে মাসে অনুমোদনহীনভাবে ২৪টি বিদেশি শ্রমিক আবেদন অনুমোদনের ঘটনা ঘটেছিল। যদিও তদন্ত শেষে পুলিশ এটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে উল্লেখ করে।

 

অবশেষে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার ও বেস্টিনেটের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়। এরপরই কোম্পানিটি সোর্স কোড সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি পিএলকেএস ইস্যুর জন্য বেস্টিনেট ২১৫ রিঙ্গিত পাবে।

 

টোরাপের উৎপত্তি

শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, টারাপ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় গত বছর। বর্তমান মানবসম্পদমন্ত্রী রামানান দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই নতুন শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।

 

সূত্র জানায়, টোরাপ প্রস্তাব অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় ১০টি এবং বাংলাদেশে ২০টি কোম্পানিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা হতে পারে।

 

বাংলাদেশে নতুন বাস্তবতা

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে শ্রমিক রপ্তানি খাতে স্বচ্ছতার দাবি জোরালো হয়েছে। বর্তমানে ১০২টি রিক্রুটিং কোম্পানি মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর অনুমোদন পেলেও নতুন সরকার আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

 

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শ্রমিক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। কারণ, বহু শ্রমিক কাজ ছাড়াই এসে বিপাকে পড়েছিলেন।

 

২০২১ সালের সমঝোতা স্মারকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার কথা থাকলেও শুধু ২০২৩ সালেই ৩ লাখ ৫১ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন।

 

চলতি বছরের শেষে ওই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ চায় নতুন করে শ্রমবাজার খুলুক এবং আরও বেশি রিক্রুটিং কোম্পানি সুযোগ পাক। তবে, মালয়েশিয়া এমন একটি নতুন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে, যেখানে কম সংখ্যক কোম্পানি থাকবে এবং বেস্টিনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট শিল্প সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে লন্ডনে ‘বিপ্লব সমাবেশ’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ‘৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকে’-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এক বৃহৎ বিপ্লব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বুধবার (৫ আগস্ট) লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।   সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকের কনভেনর আব্দুল লতিফ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গ্লোবাল ভয়েস অব জাস্টিসের সভাপতি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা।   এছাড়া বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, ব্যারিস্টার নুরুল গাফফার, ড. শামসুল আলম গোলাপ, মুফতি সালেহ আহমদ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নুর বক্স। স্বাগত বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম শাহীন।   অ্যালায়েন্সের যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার এবং সদস্য সচিব শাহরিয়ার আলম শিপারের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।   প্রধান অতিথি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই বলেন,   ‘জাতির কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা বাস্তবায়ন না হলে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।’   প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন,   ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।’   সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তারা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনের শাসন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ রুদ্ধ করার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শুরুতে মাওলানা মিজানুর রহমান পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে মেসেজ কালচারাল গ্রুপ ও ওয়াননেস কালচারাল গ্রুপ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।   লন্ডন প্রবাসী বিভিন্ন বয়স ও পেশার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতি আলতাব আলী পার্কে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী কর্মীর প্রেমে সৌদি যুবক, বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে পৌঁছালেন প্রেমিকার বাড়িতে

ছবি: সংগৃহীত

এক সপ্তাহে মালদ্বীপে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, উদ্বেগে প্রবাসী কমিউনিটি

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক ৯৬ বাংলাদেশির সঙ্গে দূতাবাসের সাক্ষাৎ

মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপো পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শনের সময় ক্যাম্পে আটক থাকা ৯৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।   সোমবার (৩ আগস্ট) হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ডিপোটি পরিদর্শন করেন।   পরিদর্শনের সময় আটক বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়। একই দিনে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই শেষে ২৬টি ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। অবশিষ্ট ট্রাভেল পারমিটও শিগগিরই হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়।   দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে শাস্তি ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগ চালু থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে আটক হয়ে কারাভোগ শেষে অনেক বাংলাদেশি বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন।   হাইকমিশন জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে নিয়মিত ক্যাম্প পরিদর্শন এবং ট্রাভেল পাস ইস্যুর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া থেকে কারাভোগ শেষে দেশে ফেরা অনেক বাংলাদেশি অতীতে অভিযোগ করেছিলেন যে, অন্যান্য দেশের হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জেল ও ক্যাম্প পরিদর্শন করলেও বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি খুব কম দেখা যায়। তবে বর্তমান লেবার মিনিস্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক ও ক্যাম্প পরিদর্শনের কারণে সেই অভিযোগ অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সচেতন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত, আটক ১

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ান ইয়ুথ এসডিজি সামিটে অংশ নিল ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের যুব সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ প্রতিনিধি শেখ তামরিন

ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে আয়োজিত সভায় তিনি প্রবাসে থাকা নেতাকর্মীদের দলীয় আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।   সভায় আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সাংগঠনিক সমন্বয় জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   অনুষ্ঠানে প্রবাসী নেতাকর্মীদের অনলাইনের মাধ্যমে সদস্যপদ ফরম পূরণ করে দলের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।   অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা প্রবাসে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রবাসে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬

সৌদি আরবে ব্যাপক ধরপাকড়, ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন বিনিয়োগে প্রতারণার অভিযোগ, কুয়েতে বিপাকে বহু প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে ভিয়েতনামে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার আহ্বান দূতাবাসের

0 Comments