মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ততম পর্যটন ও বিনোদন এলাকা বুকিত বিনতাংয়ে অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে পরিচালিত অভিযানে ১২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় এক মাস পর্যবেক্ষণের পর সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় বুকিত বিনতাংয়ের জালান অলর, জালান চাংকাট এবং জালান বেদারা এলাকায় একযোগে অভিযান শুরু করা হয়। এতে পুত্রাজায়া সদর দফতরের বিশেষ ট্যাকটিক্যাল টিমের ২৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
অভিযান চলাকালীন মোট ৩১ জন বিদেশি এবং ২ জন স্থানীয় নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি ১২ জন, মিয়ানমারের ৪ জন এবং ইন্দোনেশিয়ার ৩ জন নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি (পাসপোর্ট) না থাকা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জন স্থানীয় নাগরিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সিন্ডিকেটটি মূলত অভিবাসী শ্রমিকদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। তাদেরকে ৫০ থেকে ৫০০ রিঙ্গিত বিনিয়োগে স্বল্প সময়ে বড় অংকের লাভের আশ্বাস দেওয়া হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ভাড়া করা বাসা ও ছোট দোকানের আড়ালে কার্যক্রম চালাত। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ক্যাপ্টেন’ নামে পাহারাদার নিয়োগ এবং অপরিচিত ব্যক্তিকে ঠেকাতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।
অভিযান থেকে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫৯টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ট্যাবলেট, ৩টি কম্পিউটার মনিটর, ৩টি সিসিটিভি ডিকোডার এবং একটি ওয়াইফাই ক্যামেরা। মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, অভিবাসন আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর থাকবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে জনসাধারণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ই-পাসপোর্টের ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত দেড় মাসে ৬৫ হাজারের বেশি আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। আগে যেখানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১১ হাজার পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট করা হতো, সেখানে দূতাবাসের উদ্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে সেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। দূতাবাসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যে ১৫ হাজার ৪৩৪টি ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২৫ হাজার ৪৬৭টি পাসপোর্ট প্রিন্টিং পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বায়োমেট্রিক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের পর ২১ হাজার ৬৭৮টি পাসপোর্টের পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে সৌদি আরবের দাম্মাম অঞ্চলে ৯ দিনব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে ১৫ হাজার ২০০টি পাসপোর্ট আবেদনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের পরবর্তী কার্যক্রমে কিছু আবেদনকারীর পাসপোর্ট পেতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। আবেদনে তথ্যগত ভুল, জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে অসংগতি এবং একাধিক পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য যাচাই ও প্রসেসিংয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এসব কারণে পাসপোর্ট প্রদানে বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীদের ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করেছে দূতাবাস। একই সঙ্গে পাসপোর্ট সেবা আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকর করতে দূতাবাস সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ঢাকা ফ্রুতাসের ২০ বছরের পথচলা উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদ্রিদের কাছালেগাস লেকের মনোরম পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা ফ্রুতাসের কর্মীদের পাশাপাশি স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী আয়োজনকে ঘিরে লেকের পাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল পারস্পরিক মতবিনিময়, স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। এতে কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। মিলনমেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বর্ষসেরা কর্মীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সাফল্যে বিশেষ অবদান রাখা নির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সম্মাননা কর্মীদের ভবিষ্যতে আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে ঢাকা ফ্রুতাসের চেয়ারম্যান আল আমিন মিয়া এবং আবু বকর প্রতিষ্ঠানের দুই দশকের পথচলা নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছানোর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, অর্জন ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, ঢাকা ফ্রুতাসের দীর্ঘ পথচলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শ্রম, নিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে যারা দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে আসছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তারা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকা ফ্রুতাসের চেয়ারম্যান আল আমিন মিয়া প্রবাসে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রবাসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সাফল্য এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের প্রশংসা করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা। তারা বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনোৎসবে। হাসি-আনন্দ, গল্প, স্মৃতিচারণ, পুরস্কার বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটি উপভোগ করেন উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঢাকা ফ্রুতাসের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ মিলনমেলা প্রতিষ্ঠানের অতীত সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টে থাকা তথ্যের পার্থক্যের কারণে দেশে ফিরে নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে। বিদেশ যাওয়ার সময় ভুল নাম, বয়স বা জন্মতারিখ দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি হওয়া এবং পরবর্তীতে ওই তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি নথি তৈরি হওয়ায় দেশে ফিরে জটিলতা আরও বাড়ছে। হবিগঞ্জের মশিউর রহমান মুমিনের অভিজ্ঞতাও একই। তার এনআইডিতে জন্মসাল ১৯৯৫ উল্লেখ থাকলেও বিদেশ যাওয়ার সময় তৈরি করা পাসপোর্টে নাম দেওয়া হয় ‘মশিউর মিয়া’ এবং জন্মসাল লেখা হয় ১৯৯৯। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করেই গ্রিসে যান মশিউর। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে তার রেসিডেন্স পারমিটসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি একই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়। ফলে বিদেশে অবস্থানকালে এনআইডির তথ্যের সঙ্গে এসব নথির পার্থক্য নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি তাকে। তবে সম্প্রতি দেশে ফিরে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়ে সমস্যাটি সামনে আসে। লাইসেন্সের আবেদনে এনআইডির তথ্য প্রয়োজন হওয়ায় দেখা যায়, তার জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে বিদেশে ব্যবহৃত পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথির নাম ও জন্মসালের মিল নেই। এ কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনও করতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে বিদেশে ব্যবহৃত নথির তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেন মশিউর। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তার সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। মশিউর বলেন, বিদেশে যাওয়ার সময় দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টে তার নাম ও জন্মসালের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছিল। সেই নথি ব্যবহার করেই গ্রিসে রেসিডেন্স পারমিটসহ অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি হয়েছে। দেশে ফিরে এখন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। তার মতো প্রবাসীদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি। শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রেও একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেকে। বিদেশে ব্যবহৃত পাসপোর্টে থাকা নাম, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে এনআইডির তথ্যের অমিল থাকলে দেশে ফিরে ই-পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়ছে। এমন ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন আরেক প্রবাসী রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বিদেশে থাকার সময় ব্যবহৃত পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে তার বিভিন্ন নথি তৈরি হয়েছে। দেশে ফিরে পাসপোর্ট নবায়নের সময় এনআইডির সঙ্গে তথ্যের অমিল ধরা পড়ায় আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। রফিকুলের দাবি, বিদেশে বৈধভাবে ব্যবহৃত নথিপত্র যাচাই করে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের অন্তত একবার সুযোগ দেওয়া উচিত। প্রবাসী কমিউনিটির নেতাদের মতে, বিদেশে যাওয়ার সময় দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে অনেকের পাসপোর্টে ভুল নাম, বয়স কিংবা জন্মতারিখ যুক্ত হয়। পরবর্তীতে ওই তথ্যের ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিট, ব্যাংক হিসাব, চাকরির নথিসহ বিভিন্ন বৈধ কাগজপত্র তৈরি হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে এনআইডির সঙ্গে এসব তথ্যের পার্থক্য ধরা পড়লে তারা বিভিন্ন সেবা গ্রহণে সমস্যায় পড়েন। কমিউনিটি নেতা জাহিদ ইসলাম বলেন, প্রকৃত পরিচয় ও বিদেশে ব্যবহৃত বৈধ নথিপত্র যাচাই করে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ধরনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা প্রক্রিয়া চালুরও দাবি জানান তিনি। প্রবাসীদের ভাষ্য, বিদেশে বসবাসের সময় এনআইডির প্রয়োজন তুলনামূলক কম হলেও দেশে ফেরার পর এর ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব, জমি কেনাবেচা, কর সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা নিতে এনআইডি প্রয়োজন হয়। তখনই পুরোনো তথ্যের সঙ্গে বিদেশি নথির অমিল বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাদের দাবি, প্রবাসীদের বৈধ পাসপোর্ট, রেসিডেন্স পারমিট ও অন্যান্য সরকারি নথি যাচাই করে বিশেষ ব্যবস্থায় এনআইডি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলে সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করে সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও চান তারা। প্রবাসীদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই জনগোষ্ঠীর জন্য এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা প্রয়োজন। বিদেশে ব্যবহৃত বৈধ নথির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকৃত পরিচয়ের ভিত্তিতে এনআইডি সংশোধনের সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।