মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের কুয়ান্তান এলাকায় অবৈধ বিদেশি ওষুধ ও অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যপণ্য মজুদের অভিযোগে একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করেছে দেশটির মেরিন পুলিশ ফোর্স (অঞ্চল–৩)। অভিযানে গুদামটির দায়িত্বে থাকা ৩০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে কুয়ান্তান–সুঙ্গাই লেম্বিং সড়কের পাশে অবস্থিত গুদামটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মেরিন পুলিশ অঞ্চল–৩-এর কমান্ডার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জুলাফেন্দি হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয় এবং তল্লাশিতে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১ ধরনের পণ্য—৩৭১ বক্স বিভিন্ন প্রকার ওষুধ এবং ৭৫০ কার্টন এনার্জি ড্রিংক। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪০৫ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এসব পণ্য বিদেশ থেকে আনা হলেও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা ফার্মাসি বিভাগের প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। ফলে এগুলোকে অনুমোদনহীন ও সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
কমান্ডার জুলাফেন্দি হাসান জানান, আটক বাংলাদেশি নাগরিক ও জব্দকৃত পণ্য পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের বিষ আইন, ওষুধ ও প্রসাধনী নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা এবং ১৯৮৩ সালের খাদ্য আইনের আওতায় ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো; পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় অনুমোদনহীন ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্যের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মালয়েশিয়ার কিলানতান রাজ্যে পুলিশের তল্লাশি এড়াতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার পর ৯ বাংলাদেশিসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক বাংলাদেশিরা দেশটিতে অবস্থানের বৈধ নথি দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িচালক সীমান্ত এলাকা থেকে অভিবাসী পরিবহনের কথা স্বীকার করেছেন। শনিবার (৩০ মে) সকাল ৭টার দিকে কিলানতানের তুমপাত জেলায় এ ঘটনা ঘটে। মালয় মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, টহলরত জেনারেল অপারেশন ফোর্সের (জিওএফ) সদস্যরা একটি সন্দেহজনক হলুদ রঙের গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করলে চালক গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যান। জিওএফের দক্ষিণ-পূর্ব ব্রিগেডের কমান্ডার আহমদ রাদজি হুসাইনের ভাষ্য, পালানোর একপর্যায়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে প্রথমে আরেকটি গাড়ি এবং পরে একটি বাড়িতে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে স্থানীয় এক চালক ও ৯ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাদের সবাইকে জিওএফ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশি নাগরিকরা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আহমদ রাদজি হুসাইন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চালকের মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে অভিবাসীদের কোটা ভারুতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি ১০০ রিঙ্গিত করে পারিশ্রমিক পেতেন। ঘটনার পর আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মানবপাচারের অভিযোগে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের অভারভিলার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার প্যারিস ফ্রান্স। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি সোহেল আহমদ এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নজমুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও নজরুল গবেষক খোরশেদ আলম পাটোয়ারী। তিনি বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারও কবি। তার সাহিত্য ও দর্শন আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম ও সংগীত বাঙালি সংস্কৃতি ও চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান সমাজে সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তার আদর্শ এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। তারা নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে জাতীয় কবির বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা নজরুলের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান স্মরণ করে তার আদর্শকে সমাজে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। দেশে ফেরার আশায় সেখানে জড়ো হয়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি। বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি পেতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) চেকপোস্টের সামনে ট্রলি, ব্যাগপত্র, নারী ও শিশুসহ অপেক্ষা করছেন তারা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাকিমপুর সীমান্তে এই ভিড় চোখে পড়ে। সীমান্ত এলাকায় কেউ প্লাস্টিক পেতে বসে আছেন, কেউ আবার লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল সোমবারও। সীমান্তসংলগ্ন একটি ছাউনিতে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি জড়ো হয়েছিলেন, বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন আরও ৩০ থেকে ৪০ জন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারী ও সন্দেহভাজনদের আটকে রাখার জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর অবৈধভাবে ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই কারণেই অনেকে দ্রুত দেশে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার (২৫ মে) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালদা ও মুর্শিদাবাদ—এই দুই জেলায় মোট ১২ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মালদার ইংরেজবাজারের চন্দনপার্কে তৈরি শিবিরে রাখা হয়েছে ৯ জনকে, যাদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৬ জন নাবালক-নাবালিকা। রোববার গাজোল থানার পান্ডুয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের লালগোলার পদ্মাভবনে তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে প্রথমে ৩ জনকে রাখা হয়েছিল। পরে মঙ্গলবার আরও ১১ জন বাংলাদেশিকে আটক করে সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সীমান্তে অপেক্ষমাণ বাংলাদেশিদের দাবি, অভাবের তাড়নায় তারা কাজের খোঁজে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে নিউটাউন, দমদম, ডানকুনিসহ কলকাতা ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু হোল্ডিং সেন্টারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ইতোমধ্যেই তারা বিএসএফকে নিজেদের অবস্থার কথা জানিয়েছেন। সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।