মহাকাশ গবেষণায় মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন-এর পর পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় মাইলফলক স্পর্শ করলো বেইজিং।
চীন অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণ চীনের হাইনান থেকে লং মার্চ ১০বি রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটের ওপরের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় ছয় মিনিট পর এর বুস্টারটি খাড়াভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং সমুদ্রের একটি ভাসমান প্ল্যাটফর্মে অবতরণ করে।
সাধারণত মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পর রকেটের বিভিন্ন অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে রকেটের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ বুস্টার বারবার ব্যবহার করা গেলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ অভিযানের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে স্পেসএক্স তাদের ফ্যালকন ৯ এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্লু অরিজিন তাদের নিউ গ্লেন রকেটের সফল বুস্টার অবতরণ করিয়েছিল। বর্তমানে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ বছরে প্রায় ১৫০ বার মহাকাশে পাড়ি জমায়।
গত ফেব্রুয়ারিতে চীন লং মার্চ ১০এ রকেটের মাধ্যমে প্রথমবার এমন চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে সেটি প্ল্যাটফর্মের পাশে সাগরে গিয়ে পড়েছিল। এবার সফল হওয়া লং মার্চ ১০বি রকেটটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অন্তত ১৬ মেট্রিক টন ওজন বহন করতে সক্ষম, যা স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর সমতুল্য। তবে ফ্যালকন ৯ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাটিতে বা ড্রোন শিপে নামলেও, চীনা রকেটের অবতরণ কৌশল একটু ভিন্ন। এর ল্যান্ডিং হুক ভাসমান প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত একটি জালকে আঁকড়ে ধরে অবতরণ সম্পন্ন করে।
এই অভাবনীয় সাফল্যের পর চীনের আর্থিক বাজারে দেশটির মহাকাশ বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়েছে। চীন স্পেসস্যাট এবং চীন স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস উভয়েরই শেয়ারের দাম দেশের আর্থিক নিয়মের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এখনো বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসার খবর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। এই পুনরুদ্ধার শুধু একটি দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প নয়; এটি ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা। সম্প্রতি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয়ারল্যান্ড উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই উন্নতির ফলে ইউরোজোনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে। এর সুবাধে অর্থনীতিবিদ, বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবৃদ্ধি? অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একটি দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তির অন্যতম প্রধান সূচক। কারণ এর মাধ্যমে বুজা যায় ,যে দেশটির উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সেবামূলক কার্যক্রম কতটা সম্প্রসারিত হচ্ছে অতীতের তুলনায়। অর্থনীতি যখন প্রবৃদ্ধির পথে থাকে, তখন দেশে সাধারণত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, মানুষের আয় বাড়ে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৃদ্ধি পায় এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ে। আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই প্রবৃদ্ধি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের অনেক দেশ অর্থনৈতিক ধীরগতির মুখোমুখি হয়েছে। তাই আয়ারল্যান্ডের ইতিবাচক ফলাফল এই পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে আশার সঞ্চার করেছে। আয়ারল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে পরিচিত। কম করহার, দক্ষ জনশক্তি, উন্নত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং ইউরোপীয় বাজারে সহজ প্রবেশাধিকারের কারণে বহু আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এখানে তাদের ইউরোপীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন, গবেষণা, সফটওয়্যার উন্নয়ন, রপ্তানি এবং আর্থিক কার্যক্রম আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে। প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পে প্রবৃদ্ধি বাড়ায় দেশের জিডিপিও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইরিশ অর্থনীতিবিদদের সতর্কতাও রয়েছে । তাদের মতে আয়ারল্যান্ডের জিডিপি অনেক সময় বহুজাতিক কোম্পানির কার্যক্রমের কারণে অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। তাই শুধুমাত্র জিডিপির ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার মূল্যায়ন করা সব সময় সঠিক নয়। দেশের অর্থনীতি ভালো হলে তার সুফল ধীরে ধীরে মানুষের জীবনেও প্রতিফলিত হয়। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বাড়ে এবং ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হন। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আরও বেশি ব্যয় করা সম্ভব হয়। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য জরুরি। অন্যথায় দেশের ভেতর অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আয়ারল্যান্ড ইউরোজোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণে সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন বিবেচনা করা হয়। আয়ারল্যান্ডের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনের সামগ্রিক ফলাফলকে উন্নত করেছে।একই সময়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো বড় অর্থনীতিতেও ধীরে ধীরে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। স্পেনও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ফলে ইউরোপের অর্থনীতি নিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কমেছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। বিদেশি বিনিয়োগ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে, আধুনিক প্রযুক্তি আসে, দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সফল। স্বচ্ছ নীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নত আইনব্যবস্থা এবং দক্ষ জনশক্তি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সহায়তা করেছে। এর ফলেই দেশটি ইউরোপের অন্যতম প্রযুক্তিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। যদিও সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক, তবুও সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি, সুদের হার এবং ভূরাজনৈতিক সংকট ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্থানীয় শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, গবেষণা এবং উদ্ভাবন খাতকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন, গবেষণায় বিনিয়োগ, স্বচ্ছ প্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি একটি দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যেন সমাজের সব মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। বিশ্ব এখন দ্রুত ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন আগামী দিনের অর্থনীতিকে পরিচালিত করবে। আশার খবর হলো আয়ারল্যান্ড ইতোমধ্যেই এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। যদি দেশটি গবেষণা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং দক্ষ জনশক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে, তবে ভবিষ্যতেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে। একই সঙ্গে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আরও বিনিয়োগ করলে উন্নয়নের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতির সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধার বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এটি দেখায় যে দূরদর্শী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং বিদেশি বিনিয়োগ একটি দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। তবে অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ডের এই অগ্রগতি ইউরোপের অর্থনীতিকে নতুন আশা দেখিয়েছে। পাশাপাশি এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সুশাসন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটও সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্রুত প্রশমিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এর আগে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাই প্রিন্স খালিদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে সৌদি আরবের অবস্থান তুলে ধরেন এবং উত্তেজনা কমানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, ওই বৈঠকে তিনি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি বার্তা ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেন। বার্তায় চলমান সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সৌদি আরবের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু মানুষের প্রাণহানিই বাড়বে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সৌদি প্রচেষ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের বৈরিতার পর ইরানের সঙ্গে সহাবস্থানের একটি সীমিত প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল সৌদি আরব। সেই প্রেক্ষাপটেই ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে সংঘাত নিরসন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রিন্স খালিদ। বৈঠকে তিনি সংঘাতের অবসানে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথও মার্কিন প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার পর তার প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুলগুলোর ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে। অন্যান্য কোম্পানির ব্যক্তিগত প্রযুক্তি অবৈধভাবে ভেঙে ফেলার জন্য ওপেনএআই-এর টুলগুলো দায়ী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা এআই নিয়ে কাজ করছি, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও ভাবছি, একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করছি যে আমরা নেতৃত্ব ধরে রাখি। ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম হস্তক্ষেপমূলক নীতি অনুসরণ করেছিল। তবে ট্রাম্পের সবশেষ মন্তব্য এই ইস্যুতে তার প্রশাসনের অবস্থানের একটি পরিবর্তন নির্দেশ করে। জনপ্রিয় এআই টুলগুলোর দৃশ্যমান হ্যাকিং সক্ষমতা বেড়েছে এবং একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী চীনা প্রযুক্তি খাতকে লক্ষ্য করে হোয়াইট হাউসের হুমকিও জোরদার হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এআই টুলগুলোর ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও, এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এমনভাবে তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাই না, যাতে হঠাৎ করেই আমরা চীনের পরে চলে যাই। ট্রাম্প আরও বলেন, চীনে কার্যত কোনো এআই নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা কিছুটা লাগামহীনভাবে এগোচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে ওপেনএআই অন্তত দুটি হ্যাকিং ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। যেখানে তাদের এআই টুলগুলো নির্ধারিত ও নির্দেশিত কাজের সীমার বাইরে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।