লিবিয়ায় পূর্বাঞ্চলে আরও একটি গণকবরের সন্ধান মিলেছে। উদ্ধার করা হয়েছে কমপক্ষে ২১টি মরদেহ। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
নিহত সবাই অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। অনেকের শরীরেই মিলেছে আঘাতের চিহ্ন।
ধারণা করা হচ্ছে, পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল তারা। অভিবাসন প্রত্যাশীদের দলটিতে থাকা ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বন্দিদশা থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছে তারা। সাব সাহারা অঞ্চল থেকে উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করছিল দলটি।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আজদাবিয়া শহরে তল্লাশি অভিযান চালায় লিবিয়া প্রশাসন। জমির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি স্বীকার করেন গণকবরের কথা। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে। শুরু হয়েছে তদন্ত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও পাল্টা হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোববার রয়টার্সকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরানের নীতি স্পষ্ট, ‘হামলার জবাবে হামলা’। যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা বন্ধ রাখে, তাহলে ইরানও সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। এ বার্তা ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। টানা ১৩ রাতের বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে ইরানে অভিযান স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর শনিবার ও রোববার কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও গত দুই দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে জানিয়েছেন, হামলার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর বেশিরভাগই শেষ হয়ে এসেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন অভিযান চালালে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন। এরপরই সামরিক অভিযানে বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সময় দিতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন। ফক্স নিউজ ও এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিচালিত হামলায় পূর্বনির্ধারিত অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ফলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে হলে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও জানান, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন যে, বড় আকারের অভিযান পুনরায় শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না। সূত্র: রয়টার্স
প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন থেমেছে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর। রাজপথ কাঁপানো এ আন্দোলন শনিবার বিকালে থামে তার পদত্যাগের ঘোষণায়। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগেও দুবার তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। সরকারের অবস্থানের কারণেই তিনি তা করেননি। গত শুক্রবার পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করা নিয়ে কট্টর অবস্থানে ছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেভাবে তাকে বার্তাও দেওয়া হয়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কীভাবে এবং কোন চাপের ফলে সরকার সিজেপির দাবি মানতে বাধ্য হল, তা নিয়ে এখন চলছে নানা বিশ্লেষণ। রোববার ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অন্তত দুইবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তাকে ঠেকিয়ে রেখেছিল। তখন তাকে শিক্ষাক্ষেত্রের পদ্ধতিগত সমস্যা ও সংস্কারের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শনিবার সরে দাঁড়ান তিনি। মূলত সিজিপির নতুন করে আন্দোলনের হুমকি এবং অনলাইন মাধ্যমে আন্দোলন আরো ছড়িয়ে দেওয়ার খবরের পরই সরকার ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদনে বলা হয়, “জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিজেপির তীব্র আন্দোলনের মধ্যে ২০ জুলাই মন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ধর্মেন্দ্র প্রধান সর্বশেষ পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তার সেই পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে পদত্যাগের চিন্তা বাদ দিয়ে শিক্ষা খাতের সংস্কারে মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দেয়। কারণ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মত ছিল, একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ হল সবচেয়ে সহজ পথ। এটা অনেকটা দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মত। মোদী সরকার সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে তা সমাধানে বিশ্বাসী।” তবে দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে। এতে সরকারের তরফে সিজেপি প্রতিনিধিদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন তারা। এক পর্যায়ে দুই মন্ত্রী ঘোষণা দেন, সিজেপির সব দাবি মানা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদ্যোগের দাবি মানা সম্ভব না। এর পর সিজেপিও আন্দোলন কঠোর করার দিকে পা বাড়ায়। গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ প্রতিবাদের মত আরও একটি বড় আকারের পদযাত্রার হুমকি দেয়। ইন্ডিয়া টুডের খবরে দাবি করা হয়, দিল্লিতে ২০ জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভের সময় পুলিশের লাঠিপেটায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর থেকে আন্দোলন তীব্রতা পায়। এ নিয়ে সরকারের চিন্তা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও সতর্ক করা হয়েছিল, দেশবিরোধী শক্তিগুলো এই অসন্তোষকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, “এরইমধ্যে ডিজিটাল নজরদারিতে গোয়েন্দারা ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অনলাইনে উসকে দেওয়ায় সক্রিয় ৪০০টিরও বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত প্রায় ১০০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট রয়েছে। “প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চিহ্নিত অ্যাকাউন্টগুলো আগে ‘অপারেশন সিঁদুর (২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের সেনাবাহিনীর পাকিস্তানে অভিযান) এর সময় সক্রিয় ছিল। অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে এবং ভারতবিরোধী মন্তব্য, ভুল তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ান হচ্ছিল। এছাড়াও ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে দিল্লি পুলিশের ডিজিটাল মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা যন্তর মন্তর এলাকায় সিজেপির প্রতিবাদস্থলের চারপাশে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা প্রায় ৪০০ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। চিহ্নিত এই ব্যক্তিরা ২০ জুলাই ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে সিজেপির সঙ্গে চূড়ান্ত দফার আলোচনার আগে সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, জাতীয় স্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।” গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে সিজেপি প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে তিন দাবি তুলে ধরেছিল। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াও ছিল নিট পরীক্ষার (চিকিৎসাবিদ্যা ও দন্তচিকিৎসা কোর্সে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা) প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা। বৈঠকে দুই মন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া বাকি দুই দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও আন্দোলনকারীরা ছিলেন অনড়। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, দ্বিতীয় বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে কথা বলেন জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। রুদ্ধদ্বার এ বৈঠক চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও কিছু পদক্ষেপ করে। এক ধাক্কায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। এনটিএর কাঠামোগত সংস্কারের জন্য নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু হয়। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রুখতে ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এভাবে আন্দোলনকারীদের পরোক্ষ বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর পর দুটি ভিডিও বার্তা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আশ্বস্ত করেন। প্রশ্নফাঁস রুখতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা বলেন তিনি। শনিবার জেপি নাড্ডাদের সঙ্গে সিজেপির তৃতীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক পদক্ষেপের মধ্যেও যে মূল দাবিতে সিজেপি অনড়, তা বোঝা যায় ওই দিন সকালে। সংগঠনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তৃতীয় দফার আলোচনার কোনো অর্থ নেই। এর পরেই ধর্মেন্দ্র পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। ওইদিনই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রলহাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখভালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একুশ শতকের অন্যতম সেরা ও ইতিহাসের অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান তার অনন্য জীবনধারা দিয়ে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রতিনিয়ত বিস্মিত করেন। অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব ও ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডজয়ী এই প্রতিভাবান পরিচালক প্রকাশ করেছেন তার প্রযুক্তিমুক্ত জীবনযাপনের গোপন কথা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার নিজস্ব কোনো স্মার্টফোন নেই এবং তিনি কোনো ইমেইল অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করেন না। প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক যুগে কোনো স্মার্টফোন না রেখে কেবল একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন বা ‘ডাম্ব ফোন’ ব্যবহার করার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, স্মার্টফোনের ক্ষতিকর আসক্তি ও মনঃসংযোগের ব্যাঘাত থেকে দূরে থাকতেই তার এই সিদ্ধান্ত। বিখ্যাত টক শো ‘দ্য টুনাইট শো উইথ জিমি ফ্যালন’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নোলান ডিজিটাল মাধ্যম থেকে নিজেকে দূরে রাখার বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটির একটি বিশেষ অংশ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা হয়। সেখানে উপস্থাপক জিমি ফ্যালন নোলানের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমার সেটে কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই। শুধু তাই নয়, স্বয়ং নোলানের নিজেরই কোনো স্মার্টফোন নেই এবং তিনি কোনো ইমেইল অ্যাড্রেসও ব্যবহার করেন না—কথাটি কতটা সত্য? উপস্থাপকের এই সরাসরি প্রশ্নের জবাবে প্রখ্যাত এই পরিচালক হাসিমুখেই স্বীকার করে নেন যে তথ্যটি পুরোপুরি সত্য। তখন অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করে ফ্যালন জানতে চান, কোনো ধরনের ইমেইল বা টেক্সট বার্তা আদান-প্রদান ছাড়া এত বিশাল বাজেটের সব মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র কীভাবে পরিচালনা করেন তিনি? জবাবে নোলান তার দৈনন্দিন কাজের চমৎকার এক চিত্র তুলে ধরে বলেন, তার চারপাশে সব সময়ই একদল সহায়তাকারী মানুষ থাকেন যারা তাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করেন। ফলে মানুষ বা সহকর্মীরা যে প্রয়োজনীয় তথ্য বা সংবাদ তার কাছে পৌঁছাতে চান, তা থেকে নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন বা দূরে রাখা তার জন্য আসলে বেশ কঠিন। অর্থাৎ, ইমেইল না থাকলেও কাজের কোনো তথ্যই তার কাছে পৌঁছাতে আটকায় না। কথোপকথনের একপর্যায়ে নোলানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কখনো কোনো স্মার্টফোন ব্যবহারের আকর্ষণ বোধ করেন কি না বা স্মার্টফোন কেনার প্রলোভন জাগে কি না। উত্তরে নোলান বলেন, যখন তিনি কোনো কাজে ভ্রমণ করেন বা বাইরে যান, তখন নিজের সঙ্গে কেবল একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন বা ‘ডাম্ব ফোন’ রাখেন এবং তার কাছে এই ব্যবস্থাটিই দুর্দান্ত মনে হয়। তিনি স্পষ্ট স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, যদি তার কাছে একটি স্মার্টফোন থাকত, তবে তিনি এতে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়তেন। এই আসক্তির কারণে জীবনের সেই মূল্যবান সময়গুলো হারিয়ে যেত, যা তিনি সাধারণত চুপচাপ জানালাপথে বাইরে তাকিয়ে নতুন কোনো সিনেমার ভাবনায় কাটাতে ভালোবাসেন। ক্রিস্টোফার নোলানের ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও কালজয়ী সিনেমা। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার নতুন অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’। প্রাচীন গ্রিক কবি হোমারের অমর মহাকাব্য ‘ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন, টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, রবার্ট প্যাটিনসন, লুপিটা নিয়ংও, সামান্থা মর্টন, জেনডায়া এবং চার্লিজ থেরন। নিজের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকার এই আলাদা স্বভাবের কারণে সিনেমার সেটে অনন্য এক সৃজনশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন এই মহান পরিচালক।