গুম ও খুনের বিভীষিকাময় সময়ের অবসান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো বিএনপির নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘কৌশলের নামে বিএনপির নেতাকর্মীরা কখনো গুপ্ত বা সুপ্ত পরিচয় ধারণ করেনি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্যাতিত ও স্বজনহারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এই লড়াইয়ে বিএনপি সবসময় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।’
বিগত সরকারের শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা ছিল রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে বিএনপির প্রতিটি মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশে করা। যারা নানাভাবে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। গুম, খুন ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়েও বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথ ছাড়েননি।’
তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমন করে রাখা যাবে না। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তবে তিনি জানান, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ধৈর্যের পরিচয় দেবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেটে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গুম ও খুনের শিকার শহীদদের নামে সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হবে।’
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ নানা অজুহাতে গণতন্ত্রের পথ ব্যাহত করতে চায়। যারা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করতে চায়, তারা যেন সফল হতে না পারে—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের পথ বন্ধ হয়ে গেলে তা শহীদদের প্রতি চরম অবিচার হবে।’
উল্লেখ্য, এই মতবিনিময় সভায় সারা দেশ থেকে আগত গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অংশ নেন। সভায় তারা তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। সভাটির আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ নামের দুটি সংগঠন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি। দেশের নামকরা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা এই প্রচারপত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান বারবার প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় গুলশানের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সভা হয়। সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালে মশারি সরবরাহের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। এ ছাড়া গার্ল গাইডস, স্কাউটসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু সচেতনতার কাজে সম্পৃক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান নিয়েও আলোচনা হয়। দলের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করা হবে। সভায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাটবাজারে আবর্জনা রাখার নির্দিষ্ট জায়গা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এক দিনের মধ্যে এসব আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে সচেতনতামূলক কাজ করবে বিএনপি। প্রয়োজনে দলীয়ভাবে এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। আবর্জনা থেকে এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান রিজভী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। স্থায়ী কমিটির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সাংগঠনিক বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। দলের বিভিন্ন কমিটিতে কেউ মারা গেলে, বহিষ্কৃত হলে বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে তাঁর ঠিক নিচের পদে থাকা ব্যক্তিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদোন্নতি দিয়ে শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে সভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ২৯ অক্টোবর ওই আসনে নির্বাচন হবে। দলের সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তাঁর আসনটি শূন্য হয়। স্থায়ী কমিটির সভায় এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর পল্টনে দলীয় কার্যালয় থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির (মনোনয়ন বোর্ড) সভায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। সভায় স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্য রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ফরহাদ হালিম ডোনার প্রথমবারের মতো অংশ নেন। জানা গেছে, সভার শুরুতে নতুন সদস্যদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় একজন সদস্য বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে আসা দুজন নেতা প্রথমবারের মতো বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন। সভায় বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, কাউন্সিল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিএনপিতে যোগ দিয়েও রক্ষা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. আলম হাজারীর। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মো. আলম হাজারী (৪৫) বড়শালঘর গ্রামের আবুল হাসেম হাজারীর ছেলে। তিনি বড়শালঘর ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, আলম হাজারী বিএনপিতে যোগদানের পর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সব রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে তিনি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পুলিশ শুক্রবার বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলেন আলম হাজারীর বিরুদ্ধে। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আলম হাজারী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের অর্থ যোগানদাতা ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাত্র ১৬ দিনে সারা দেশ থেকে ৬২৭টি চাঁদাবাজির অভিযোগ জমা পড়েছে বেনামে অভিযোগ গ্রহণকারী প্ল্যাটফর্ম চান্দাবিডিডটকমে। এসব অভিযোগে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ১৮ কোটি ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ টাকা। হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি চাঁদা দাবির অভিযোগ জমা পড়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত অভিযোগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযোগের সংখ্যায় ঢাকা বিভাগ এগিয়ে থাকলেও দাবীকৃত অর্থের পরিমাণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা। মাত্র ৪২টি অভিযোগে খুলনা বিভাগে দাবীকৃত অর্থের পরিমাণ দুই কোটি আট লাখ ৩১ হাজার ৭০ টাকা। অর্থাৎ অভিযোগপ্রতি দাবির গড় অঙ্কের দিক থেকে বিভাগটির অবস্থান সর্বোচ্চ। চান্দাবিডিডটকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে ২৬৯টি অভিযোগে দাবীকৃত অর্থ ১২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৬০ টাকা, যা মোট দাবীকৃত অর্থের প্রায় ৬৬ শতাংশ। সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৭টি অভিযোগে দাবীকৃত অর্থ এক কোটি ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩ টাকা। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৫৬টি অভিযোগে এক কোটি সাত লাখ ৭৩ হাজার ২৮০ টাকা, রংপুরে ৪৩টি অভিযোগে ৯৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮০ টাকা, সিলেটে ২২টি অভিযোগে ৩৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৪ টাকা, বরিশালে ৩৩টি অভিযোগে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং ময়মনসিংহে ২৫টি অভিযোগে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৪০ টাকা চাঁদা দাবির তথ্য পাওয়া গেছে।