দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতে আরও এক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর ফলে গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লেবানন যুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিহত কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করে জানায়, তার নাম ক্যাপ্টেন মাওজ ইসরায়েল রেকানাতি (২৪)। তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইতামার বসতির বাসিন্দা ছিলেন এবং গোলানি ব্রিগেডের ১২তম ব্যাটালিয়নের প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুর পর তাকে লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হিজবুল্লাহ একাধিক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনা, ট্যাংক, বুলডোজার ও সামরিক যানবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সুর, বিনতে জবেইল ও নাবাতিয়েহ জেলার বিভিন্ন গ্রামে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৬৯ জন নিহত এবং ৯ হাজার ১১২ জন আহত হয়েছেন।
শনিবারই হিজবুল্লাহ সম্ভাব্য কোনো শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছে। হিজবুল্লাহর মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা দেশটির দখলদারিত্ব ও লেবাননের ভূখণ্ড ও সম্পদের ওপর তাদের ‘আকাঙ্ক্ষাকে’ বৈধতা দেবে।
তারা শান্তি চুক্তির পরিবর্তে পুরোপুরি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের হামলা বন্ধ, বন্দি মুক্তি এবং শর্তহীন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফা আলোচনায় লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষ শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে চতুর্থ দফা আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভারতে বেকারত্ব, চাকরি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে নতুন এক প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোটি কোটি তরুণের সমর্থন পাওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ঘটনার সূত্রপাত ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। চাকরি না পাওয়া ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সেই মন্তব্যকে ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি অনলাইন আন্দোলন শুরু করেন। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। আন্দোলনের মূল দাবি হচ্ছে শিক্ষা ও চাকরি ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ করা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। সম্প্রতি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শত শত তরুণ অংশ নেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় কারিগরি ত্রুটি এবং ফলাফল নিয়ে বিতর্কের কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের হতাশা ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো তরুণদের কেবল ভোটার হিসেবে দেখে, তাদের বাস্তব সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেয় না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে সিজেপি সরাসরি মোদি সরকারের জন্য বড় কোনো নির্বাচনী হুমকি নয়। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। তবুও আন্দোলনটির দ্রুত বিস্তার দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেকারত্ব, শিক্ষা সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই ধরনের আন্দোলন ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘তেলাপোকা পার্টি’ হয়তো এখনো একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, কিন্তু এটি যে তরুণদের ক্ষোভ ও হতাশার নতুন ভাষা হয়ে উঠছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের ভাবমূর্তি এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের তিন ডজন দেশে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ দেশের সিংহভাগ মানুষ ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর বিশ্বজুড়ে এই নেতিবাচক মনোভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত ‘স্প্রিং ২০২৬ গ্লোবাল অ্যাটিটিউড সার্ভে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বিশ্বের ৩৬টি দেশে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রাপ্ত তথ্যের গড় অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ বা নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ দেশটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব সবচেয়ে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের বিরুদ্ধে রেকর্ড পরিমাণ নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৭৯ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এই জরিপ চালানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পিউ রিসার্চ সেন্টার। ইউরোপের দেশগুলোতেও ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনের মতো দেশগুলোতে প্রায় অর্ধেক বা তার চেয়েও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রতি তাদের মনোভাব অত্যন্ত প্রতিকূল। বিপরীতে একমাত্র সাব-সাহারা অঞ্চলের কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এবং ভারতের মতো কিছু রাষ্ট্রে ইসরাইলের পক্ষে তুলনামূলক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। জরিপে দেখা গেছে, ভারতের নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম। এই জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বয়স ও রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে মতামতের ভিন্নতা। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে বয়স্কদের তুলনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব অনেক বেশি প্রবল। উদাহরণস্বরূপ, হাঙ্গেরিতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সিদের মধ্যে ৭২ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে পছন্দ করেন না, যেখানে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ। রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কট্টরপন্থী বামপন্থী বা লিবারেল ভাবধারার মানুষেরা ডানপন্থীদের চেয়ে ইসরাইলের প্রতি বেশি ক্ষুব্ধ। এই আদর্শিক ব্যবধান সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ৮৩ শতাংশ লিবারেল বা উদারপন্থী নাগরিক ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, অথচ অনুদারপন্থী বা কনজারভেটিভদের মধ্যে এই হার মাত্র ৩৭ শতাংশ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং সুইডেনে বামপন্থী মতাদর্শের প্রায় ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মানুষ ইসরাইলকে নেতিবাচক চোখে দেখেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, গত ২০১৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি দ্রুত ভেঙে পড়েছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনামূলক ডেটা থাকা ২৪টি দেশের মধ্যে ১৩টি দেশেই ইসরাইল বিরোধী মনোভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। যেমন আর্জেন্টিনায় গত বছর যেখানে ৪৬ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন, এবার তা বেড়ে ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া, পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যেও ইসরাইলের ওপর মানুষের ক্ষোভ আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। কেবল গ্রিসে ইসরাইলের পক্ষে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে, যদিও সেখানেও মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে সমর্থন করেন। এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর থেকে বিশ্ববাসীর আস্থা প্রায় সম্পূর্ণ উঠে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, স্পেন, সুইডেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্ব রাজনীতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। জরিপভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র কেনিয়া এবং ফিলিপাইনে অর্ধেকের বেশি মানুষ নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রতি কিছুটা আস্থা দেখিয়েছেন। নেতানিয়াহুর প্রতি বিশ্ববাসীর এই অনাস্থা গত বছরের তুলনায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই পরিবর্তনের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে গত বছর ৬৪ শতাংশ মানুষ নেতানিয়াহুর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন, তা এবার বেড়ে ৭৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ইতালিতেও নেতানিয়াহুর ওপর সম্পূর্ণ অনাস্থা প্রকাশকারীর সংখ্যা গত বছরের ৪৫ শতাংশ থেকে লাফিয়ে এক লাফে ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কারণেই বিশ্বজুড়ে ইসরাইল এবং নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় এই ঐতিহাসিক ধস নেমেছে।
ইরানের আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের ঘটনায় চীনা প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছে মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র হিসেবে চীনা প্রযুক্তিনির্ভর একটি বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার (ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এনবিসি নিউজের দাবি, শুধু ওই হামলাই নয়, ইরানের কাছে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও চীনের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বেইজিং। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের দাবি ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও বিষয়টির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই এখনো বাকি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।