লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামানের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, বর্তমান ওসিকে তিনি ‘লাল কার্ড’ দেখিয়েছেন এবং তার আর লালমাইয়ে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন।
শনিবার রাতে লালমাই উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য।
মোবাশ্বের আলম অভিযোগ করেন, ওসি নুরুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এমপি বলেন, বিভিন্ন সময় এলাকায় গেলে ওসিকে খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় বিষয়ে যোগাযোগ করলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা মেলে না। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ওসি তাকে আইন শেখানোর চেষ্টা করেন, যা তার কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত বলেও মন্তব্য করেন।
মোবাশ্বের আলম জানান, বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এনেছেন। এ বিষয়ে ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। প্রয়োজন হলে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলেও সতর্ক করেন।
মতবিনিময় সভায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু অংশের সহযোগিতায় কয়েকজন ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে এমপির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে লালমাই থানার ওসি নুরুজ্জামান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো রোগীদের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঢাকার সব সরকারি হাসপাতালের পরিচালককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় সেখান থেকে রেফারকৃত রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, কোনো রোগী যাতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই সরকারি হাসপাতালগুলোকে এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জিরো কুপন বন্ড থেকে অর্জিত আয়ের ওপর দীর্ঘদিনের কর অব্যাহতি তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ সংক্রান্ত বিধান বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর হলে এই খাতের বিনিয়োগকারীদের আয় করের আওতায় আসবে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত অর্থবিলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ষষ্ঠ তফসিলে সংশোধন আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা জিরো কুপন বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি ভোগ করেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সেই সুবিধা আর বহাল থাকবে না। জিরো কুপন বন্ড হলো এমন একটি ঋণপত্র, যেখানে নিয়মিত সুদ বা কুপন প্রদান করা হয় না। বরং বন্ডটি অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হয় এবং মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী পূর্ণ মূল্য ফেরত পান। ক্রয়মূল্য ও পরিশোধিত মূল্যের মধ্যকার ব্যবধানই বিনিয়োগকারীর মুনাফা হিসেবে গণ্য হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জিরো কুপন বন্ড থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর অব্যাহতি চালু করা হয়েছিল। প্রায় দুই দশক ধরে এ সুবিধা বহাল থাকলেও নতুন বাজেটে তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব এসেছে। সরকার একদিকে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে বিকল্প অর্থায়নের উৎস হিসেবে শক্তিশালী করার কথা বলছে, অন্যদিকে এই কর সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর আরোপের ফলে জিরো কুপন বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জিরো কুপন বন্ডের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত বন্ড কর্মসূচিও এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন কর নীতি কার্যকর হলে বিকল্প অর্থায়নের এই বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চালু হওয়া অরেঞ্জ জিরো কুপন বন্ডসহ নতুন বন্ড উদ্যোগগুলোর ওপরও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের শীর্ষ দুই পদে বেতন নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া দুই কর্মকর্তার জন্য মাসিক মোট ১৮ লাখ টাকার বেশি বেতন-ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস থেকে প্রস্তাবটি পাঠানো হয় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে মতামতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল কাইজার সোহেল আহমেদ বিমানের এমডি ও সিইও এবং সৈয়দ মঈনউদ্দিন আহমেদ ডিএমডি হিসেবে নিয়োগ পান। তথ্যমতে, এমডির জন্য আয়কর কর্তন-পরবর্তী ১০ লাখ টাকা এবং ডিএমডির জন্য ৮ লাখ টাকা মাসিক প্যাকেজের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া শর্ত অনুযায়ী প্রচলিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পাবেন তারা। নিকট অতীতে এমডি পদে সাধারণত সরকারের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হতো। ওই সময় তুলনামূলকভাবে প্রচলিত সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোট প্যাকেজ নির্ধারিত থাকত। তবে বিমান যেহেতু একটি কোম্পানি তাই পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণের সুযোগ আছে। বিমানকে লাভজনক করতে দক্ষ ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা দীর্ঘদিনের। এ জন্য ২০১৩ সালের ১৮ মার্চ ব্রিটিশ নাগরিক কেভিন জন স্টিলকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি মাসে প্রায় ১৯ লাখ টাকা বেতন, পাঁচতারকা হোটেলে থাকা ও অন্যান্য সুবিধা পেতেন। দুই বছরের মধ্যে বিমানকে লাভজনক করার ঘোষণা দিয়ে কেভিন স্টিল দায়িত্ব নেন। কিন্তু আরও লোকসানে ফেলে এক বছর পর চাকরি ছেড়ে চলে যান। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক আদেশে ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল কাইজার সোহেল আহমেদ বিমানের এমডি ও সিইও হিসেবে এবং সৈয়দ মঈনউদ্দিন আহমেদ ডিএমডি হিসেবে নিয়োগ পান। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এমডি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। পরে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আবার খোদ বিমানেই একসময় চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে নতুন ডিএমডির। অভিজ্ঞতা রয়েছে বহু প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের। তাদের বেতন-ভাতা দ্রুত নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।