লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামানের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, বর্তমান ওসিকে তিনি ‘লাল কার্ড’ দেখিয়েছেন এবং তার আর লালমাইয়ে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন।
শনিবার রাতে লালমাই উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য।
মোবাশ্বের আলম অভিযোগ করেন, ওসি নুরুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এমপি বলেন, বিভিন্ন সময় এলাকায় গেলে ওসিকে খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় বিষয়ে যোগাযোগ করলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা মেলে না। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ওসি তাকে আইন শেখানোর চেষ্টা করেন, যা তার কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত বলেও মন্তব্য করেন।
মোবাশ্বের আলম জানান, বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এনেছেন। এ বিষয়ে ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। প্রয়োজন হলে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলেও সতর্ক করেন।
মতবিনিময় সভায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু অংশের সহযোগিতায় কয়েকজন ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে এমপির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে লালমাই থানার ওসি নুরুজ্জামান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেছেন। এ সময় তিনি বিমসটেকের কর্মসূচি এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। সাক্ষাতে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে যৌথ সমৃদ্ধি, সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইন্দ্র মণি পান্ডে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিমসটেক প্রক্রিয়ার প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্বকালে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়াতে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সংযোগ, জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ—এসব অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কাজ করবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের চেয়ারম্যানশিপের আওতায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও অগ্রাধিকারগুলোর সময়োপযোগী বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বিমসটেকের বিভিন্ন খাতভিত্তিক বৈঠক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। সাক্ষাতে বাংলাদেশের চেয়ারম্যানশিপ চলাকালে গ্রহণযোগ্য সম্ভাব্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই ‘সমৃদ্ধ, সহনশীল ও উন্মুক্ত বিমসটেক’-এর অভিন্ন লক্ষ্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংসদকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সংসদ হিসেবে দেখতে চান তিনি। এজন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (বামু) আয়োজিত ‘বাজেট হেল্পডেস্ক ২০২৬’-এর ব্রিফিং সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর এবং গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকারি হিসাব, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটিগুলোর কার্যকর ভূমিকা আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অনুষ্ঠানের অন্য একটি অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে আলোচনা করেন। ব্রিফিংয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা অংশ নেন।
ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ‘উগ্রম’ বোর্ড ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ট্রায়ালে ইতিবাচক মূল্যায়নের পর এটি ব্যবহারের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রাইফেলটির নকশা তৈরি করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। সেই নকশা অনুসারে তেলেঙ্গানাভিত্তিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা দিভিপা ডিফেন্স মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে অস্ত্রটি তৈরি করে। জানা গেছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল সম্প্রতি রাইফেলটির বোর্ড ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। সফল পরীক্ষার পর এটি সিআরপিএফ, বিএসএফ, এসএসবি, এনএসজি এবং বিভিন্ন রাজ্য পুলিশের কাউন্টার-ইনসারজেন্সি ইউনিটে ব্যবহারের পথ আরও সহজ হয়েছে। ৭.৬২ মিলিমিটার ক্যালিবারের এই স্বয়ংক্রিয় রাইফেলটি অটো ও সিঙ্গেল-শট—উভয় মোডে পরিচালনা করা যায়। প্রতিটি ম্যাগাজিনে ২০ রাউন্ড গুলি বহন করা সম্ভব এবং এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ৫০০ মিটার। বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত ৫.৫৬ মিলিমিটার ইনসাস রাইফেলের তুলনায় ‘উগ্রম’-এর মারণক্ষমতা ও কার্যকারিতা বেশি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি। দীর্ঘ আড়াই বছরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নতুন এই রাইফেলটি সফলভাবে মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। সূত্র: এনডিটিভি