আন্তর্জাতিক

কুয়ালালামপুরে ইফতার ও মাতৃভাষা দিবসের সভা অনুষ্ঠিত

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি প্রফেশনালদের সংগঠন মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশনের (এমবিএফএ) উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস সেক্রেটারি তারিকুল ইসলামসহ প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

পবিত্র রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশে আয়োজিত এ মাহফিলে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় অনুপ্রাণিত করে। এই দুই তাৎপর্যকে একসূত্রে গেঁথে আয়োজনটি প্রবাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মাৎ শাহানারা মনিকা। 

 

তিনি বলেন, প্রবাসে থেকেও জাতীয় চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমানভাবে ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কেবল বাংলাদেশের গর্ব নয়, এটি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। তিনি এমবিএফএ’র এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিনিস্টার (লেবার) মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রমজানের শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগের আহ্বান জানান।

 

এমবিএফএ’র মেম্বার প্রকৌশলী প্রণয় কুমার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে একুশের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দোয়া ও মোনাজাত পর্ব। মোনাজাত পরিচালনা করেন এমবিএফএ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল বাশার। তিনি দেশ, জাতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

 

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এমবিএফএ’র হেড অব মেম্বারশিপ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ কায়সার অপু। 

 

সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, এমবিএফএ সবসময় প্রবাসীদের কল্যাণ, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এমন গঠনমূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

 

দোয়া শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রবাসীরা একসঙ্গে ইফতার করেন। সব মিলিয়ে রমজানের পবিত্রতা ও ভাষা দিবসের চেতনাকে একত্রিত করে এমবিএফএ’র এই আয়োজন প্রবাসে এক স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
শেষ মুহূর্তে থমকে গেল আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা হঠাৎ বাদ দেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না।’ তবে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ামাত্রই জেডি ভ্যান্স ও মার্কিন প্রতিনিধিদল রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক নামের একটি পার্বত্য অবকাশকেন্দ্রে এ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এখন আলোচনা যে হচ্ছে না, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নিশ্চিত করলেও এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।   এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অবশ্য গত বুধবার ১৪ দফার একটি প্রাথমিক চুক্তির (সমঝোতা স্মারক) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর পর ইরান জানিয়েছিল, তারা কারিগরি আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।   তবে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের বৃহস্পতিবারের ঘোষণার (সফর স্থগিত) আগেই ইরান শর্ত দিয়েছিল যে আলোচনার আগে অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডের ওই অবকাশ কেন্দ্রে যাবে কি না, সে বিষয়েও আগে থেকে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তির একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে চুক্তিতে সই করায় এমন কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজার–ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।   ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত এই শান্তি আলোচনা থেকে বাদ পড়া ইসরায়েল নিজেদের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। লেবাননে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের এ অবস্থানের কারণেও চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের ভেতরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্যও এ চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই এ যুদ্ধ পছন্দ করছিলেন না। তাই কংগ্রেস সদস্যদের আশঙ্কা, যুদ্ধ থামানোর জন্য ট্রাম্প ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেছেন।   নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তিনি শুধু ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ মাধ্যমে এ যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন। কিন্তু ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্টো দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সমমূল্যের আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি বলেছেন, ট্রাম্প ‘হতাশা’ থেকে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আগামী দিনের আলোচনা খুব একটা সহজ হবে না। অথচ এ পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করাই ছিল যুদ্ধ শুরু করার পেছনে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অজুহাত।   এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘আমেরিকান পক্ষ যদি অতিরিক্ত কোনো দাবি করে, তবে আমরা তা মেনে নেব না।’   চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দুই দেশের প্রতিনিধিদল ৬০ দিন সময় পাবে। তবে দুই পক্ষ সম্মত হলে এ সময়সীমা বাড়ানো যাবে। এ ছাড়া ইরানের জন্য তিন হাজার কোটি ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি নিয়েও চেষ্টা চালাবে।   এদিকে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ও এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ দেশটির আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, যুদ্ধের খরচ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিল মেটাতে তাদের আরও আট হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন।   প্রায় চার মাস আগে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তখন ট্রাম্প বলেছিলেন যে তাঁর লক্ষ্য ইরানের পরমাণু সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা, যেন তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এ ছাড়া তিনি প্রতিবেশীদের ওপর তেহরানের হামলা চালানোর ক্ষমতা বন্ধ করতে, এ অঞ্চলে ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের সমর্থন দেওয়া ঠেকাতে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন।   তবে ট্রাম্প যখন এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তখন এর কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। চুক্তিতে ইরান শুধু কয়েক দশক ধরে চলে আসা তাদের পুরোনো দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক প্রেসিডেন্ট ইরানের এই দাবিকে সব সময়ই সন্দেহ করে এসেছেন।   চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজস্ব গবেষণাগারেই ধ্বংস করতে এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের নিয়মিত পরিদর্শনের সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে। তবে ইউরেনিয়ামের এ মজুত দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার যে দাবি ট্রাম্প করেছিলেন, ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।   অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এ আলোচনা থেকে এখনো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি শক্তিশালী চুক্তি বেরিয়ে আসতে পারে। ২০১৫ সালে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের মধ্যে যে পরমাণু চুক্তি হয়েছিল এবং ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে যা বাতিল করেছিলেন, নতুন চুক্তিটিকে তার চেয়েও উন্নত করাই মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য।   কিন্তু সমালোচকদের মতে, ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কারণ, তারা একটি পরাশক্তির আক্রমণ প্রতিহত করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বড় ধরনের ছাড় আদায় করতে পেরেছে।   ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের অপর পাড়ে থাকা প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখবে। যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এখন তারা চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে নতুন একধরনের সেবা মাশুল (সার্ভিস ফি) আদায়ের পরিকল্পনা করছে। তবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনার সময়ে এ মাশুল নেওয়া হবে না।   ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার চালু হওয়ার পর তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আজ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।   লেবাননে হামলা চালিয়ে যেতে অনড় ইসরায়েল লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ আজ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।   এ হামলার পর ট্রাম্প তাঁর মিত্র ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে কত দূর বাধ্য করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অথচ ট্রাম্প নিজে এ যুদ্ধ (ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ সংঘাত) বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধের ‘স্থায়ী অবসান’–এর কথা বলা হলেও ইসরায়েল জানিয়েছে যে সেখান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। উল্টো তারা একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে তাদের দখলকৃত অঞ্চলের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প এখন প্রকাশ্যেই সমালোচনা শুরু করেছেন। ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কে সবচেয়ে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল

ছবি : সংগৃহীত

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানে আফগানিস্তানের বিমান হামলা

ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।   ওই কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা।   ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ইরানের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন।   আজ দিনের শুরুতে গোলাগুলির ঘটনার পর আমরা যতটুকু জানি, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ এখন যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে।   ইরান যুদ্ধ নিয়ে সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতির খবর সামনে এল।   গত কয়েক মাসের দফায় দফায় আলোচনার মধ্যে দিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটন যে ১৪ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে লুসার্ন শহরে তাদের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল।   চুক্তি সইয়ের পর একই দিন দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরুর কথা ছিল। এজন্য লুসার্নে যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের। কিন্তু আগের দিন রাতে সেই আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার তথ্য দেয় হোয়াইট হাউজ।   একই রাতে ইরানের পক্ষ থেকে যেসব বার্তা আসে, তাতেও আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে।   স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণ কোনো পক্ষের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে অনেকের ধারণা, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা শান্তি আলোচনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে থাকতে পারে।   কারণ তেহরান-ওয়াশিংটনের সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬

ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুনয়? মেলোনি বললেন ‘গল্প ফেঁদেছেন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তিতে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সমীকরণ: লাভবান ইরান, উদ্বিগ্ন প্রতিদ্বন্দ্বীরা

ছবি: সংগৃহীত

‘ট্রাম্পের আগ্রহেই চুক্তি’, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা নিয়ে খামেনির মন্তব্য

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল, জানালেন ইসহাক দার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়ে যাওয়ায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুক্রবার (১৯ জুন) নির্ধারিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি উর্দু।   সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামীকাল শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই গত বুধবার (১৭ জুন) এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক মাধ্যমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।   চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অন্যতম পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, দুই প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে ডিজিটালভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত হতে যাওয়া আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। শেহবাজ শরিফ তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে অনুষ্ঠান সম্পর্কিত অংশটি মুছে ফেলার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নিশ্চিত করা হলো।   বুর্গেনস্টকে বৈঠকের প্রস্তুতি সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুষ্ঠান বাতিল হলেও শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। মূলত চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেই বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করতেই দুই পক্ষ এই বৈঠকে বসবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

নতুন সমীকরণে সুবিধাজনক অবস্থানে ইরান, বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সব বন্দর থেকে নৌযান চলাচলে অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল না থাকলে আমেরিকাও টিকত না : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

0 Comments