বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপরই নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বিদেশে নেওয়ার সব প্রস্তুতি থাকলেও উড়োজাহাজে দীর্ঘসময় ভ্রমণ একজন গুরুতর অসুস্থ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে; তাই মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।
শুক্রবার প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় আসেনি, তবে একই সময়ে মেডিক্যাল বোর্ডও সিদ্ধান্ত নেয় যে, তখন খালেদা জিয়ার ফ্লাই করা উপযুক্ত হবে না। এ কারণেই বিদেশযাত্রায় বিলম্ব ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই ভ্রমণের সময় ঠিক করা হবে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সমন্বিতভাবে তাঁর চিকিৎসা পরিচালনা করছেন। ডা. জাহিদ জানান, চিকিৎসায় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানান এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
বর্তমানে ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আনা হলে তাঁর ফুসফুসে নতুন করে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং তাঁকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
সরকার তাঁকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) ঘোষণা করেছে এবং এসএসএফ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। এর পাশাপাশি চীন ও যুক্তরাজ্য থেকে চিকিৎসকরা বিদ্যমান মেডিক্যাল বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বোর্ড ইতোমধ্যে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার সুপারিশ দিয়েছে।
জুবাইদা রহমানের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি
খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ও মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ডা. জুবাইদা রহমান শনিবার বিকেলে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে সিসিইউতে তাঁর শয্যার পাশে অবস্থান করছেন। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
ভিভিআইপি ফ্লাইট অনুমোদন
খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ফ্লাইটটিকে ভিভিআইপি মুভমেন্ট হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছাবে এবং ১০ ডিসেম্বর তাঁকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের মানুষ, চিকিৎসক এবং আমরা সবাই তাঁর সুস্থতা চাই। আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় তিনি আগেও কঠিন অবস্থা থেকে ফিরে আসতে পেরেছেন, এবারও আমরা আশাবাদী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ পরিবারকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে চাল দেওয়া হচ্ছে। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। খাদ্যমন্ত্রী জানান, বছরে ছয় মাস—আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল—এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবার মাসে ৩০ কেজি করে চাল পেয়ে থাকে। তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১০ লাখ টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের ১৯ মার্চ পর্যন্ত ৭ দশমিক ৯৩ লাখ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৭৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। মন্ত্রী বলেন, দরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভিটামিনসমৃদ্ধ ‘পুষ্টিচাল’ বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ২৪৮টি উপজেলায় পাঁচ মাসব্যাপী ৩ দশমিক ৭ লাখ টন পুষ্টিচাল সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে ভিটামিন এ, বি-১, বি-১২, বি-৯ (ফলিক অ্যাসিড), আয়রন ও জিংক রয়েছে। বাজারদর সহনীয় রাখতে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা এবং ৫২টি জেলা সদরের ১ হাজার ৯১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে চাল ও আটা বিক্রি হচ্ছে। ওএমএসের আওতায় প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং ২ কেজির প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন ১ হাজার ১৮৫ টন চাল ও ১ হাজার ৪৩২ টন আটা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চালের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৪১৮টি উপজেলার ৮৩৬টি কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এসব কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি এখনো অসম্পূর্ণ। এ কারণে কৌশলগতভাবে আরও তিন বছরের অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। আজ রোববার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস এবং জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় বহু-অংশীজন পরামর্শ সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবসম্মত উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারকে এখন প্রতিদিনের সংকট সামলাতে ‘ফায়ার ফাইটিং মোডে’ কাজ করতে হচ্ছে। প্রায় সব প্রধান অর্থনৈতিক সূচক নিম্নমুখী হওয়ায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারকে রীতিমত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় কোষাগারের সামনে এখন বেশ কিছু তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের বদলে দৈনন্দিন সংকট ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দেওয়া; অর্থনৈতিক সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং বিপুল জ্বালানি ভর্তুকি ও আমদানি নির্ভরতার কারণে অবিরাম আর্থিক ক্ষতি। পাশাপাশি ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে কাঠামোগত দুর্বলতা। মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ এবং শ্রীলঙ্কায় তা তীব্রভাবে বাড়লেও বাংলাদেশ সরকার দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এই আর্থিক চাপ রাষ্ট্রের পক্ষে অনির্দিষ্টকাল বহন করা সম্ভব নয়। অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কৌশল তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো হল—দেশীয় প্রবৃদ্ধির জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি; আর্থিক ভিত্তি গড়তে বিএনপির ইশতেহারের নীতির সঙ্গে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই স্থিতিশীলতা অর্জনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিরতা নিশ্চিত করা। এই নীতিগুলো একটি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভিত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করে বলেও জানান তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এলডিসি উত্তরণ কোনো স্থির নিশ্চয়তা নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। সরকার আনুমানিক তিন বছরের বর্ধিত বা স্থগিতকালীন সময় ব্যবহার করতে চায়, যাতে দেশ প্রকৃত অর্থে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা হলো প্রায় তিন বছরের এই সময়সীমার মধ্যে মৌলিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোকে শক্তিশালী করা। কেবল প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং এই সময়ে প্রকৃত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এলডিসি উত্তরণ বাস্তবসম্মত ও টেকসই লক্ষ্যে পরিণত হবে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণকে আকস্মিক আর্থিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার একদিকে নাগরিকদের মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করছে, অন্যদিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কঠোর ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এসময় তাদের মধ্যে জ্বালানি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে, তবে গোপনীয়তার কারণে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস পাওয়া গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই এবং বিদ্যমান সব চুক্তিই প্রকাশ করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাওয়ার যে প্রচারণা রয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে যেখান থেকেই সম্ভব—ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া—সব উৎস থেকেই জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে। সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর হাতে দুটি ছবি এবং হোয়াইট হাউসের একটি প্রতিরূপ উপহার হিসেবে তুলে দেন। একটি ছবিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং অন্যটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রকে দেখা যায়।