রমজান মাসকে সামনে রেখে কাতারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় কর্মসূচি চালু করেছে। এ তালিকায় এক হাজারের বেশি পণ্য রাখা হয়েছে, যা বড় বড় খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশটির মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজানে সাধারণত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে এসব পণ্য নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকায় আটা, চিনি, পাস্তা, মুরগি, তেল, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রয়েছে। পাশাপাশি টিস্যু, ডিটারজেন্ট, ওয়াশিং পাউডার ও অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ছাড়ের তালিকা দেশের সব বড় সুপারমার্কেটে পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কোনো দোকান নির্ধারিত দামের বেশি নিলে তা জানাতে ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সূত্র : কাতার নিউজ এজেন্সি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। রবিবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ বা ‘অবৈধ নৌপথ’ ব্যবহার করে চলাচলের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কয়েকটি জাহাজ নির্ধারিত নৌপথে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ অমান্য করেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ নিজের অবস্থান শনাক্তকারী (ট্র্যাকিং) ব্যবস্থা বন্ধ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছিল। পরে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর জাহাজটিকে থামানো হয়। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি নতুন কোনো হামলা বা নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে শক্ত হাতে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
ভাড়া দেওয়া বাড়িতে আগুন বা ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র স্মোক ডিটেক্টর না বসিয়ে উল্টো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি জমা দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এক প্রতারক বাড়িওয়ালা। জালিয়াতিকে ‘কৌতুক’ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি; অবহেলা ও জালিয়াতির দায়ে আদালত ওই প্রবাসীকে মোটা অংকের জরিমানা করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি। যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই অননুমোদিতভাবে একটি বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু ঘাটতি থাকায় মিনডগাস পালাইমা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে স্থানীয় কাউন্সিল। তদন্তের অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা বাড়িটি পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো স্মোক অ্যালার্মেরই অস্তিত্ব পাননি। ওই সময় কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন, কাউন্সিলকে বোকা বানাতে পালাইমা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ও নকল ছবি জমা দিয়েছিলেন। ব্র্যাডফোর্ড ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানির সময় বলা হয়, ৪৪ বছর বয়সী পালাইমা দুটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ভবনের মূল মালিকদের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই সেগুলোকে বহু লোকের থাকার উপযোগী মেস বা শেয়ার্ড হাউজে রূপান্তর করেছিলেন। লাইসেন্স ছাড়া মেস পরিচালনা করা ও যথাযথ স্থানে স্মোক অ্যালার্ম বসাতে ব্যর্থ হওয়াসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে পালাইমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১১ হাজার ২১৮ পাউন্ড জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার বেশি। তবে শুক্রবারের এ শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না লিডসের ওর্টলি এলাকার সিলভার রয়ড টেরেসের বাসিন্দা পালাইমা। আদালতের বরাত দিয়ে ‘লোকাল ডেমোক্রেসি রিপোর্টিং সার্ভিস’ বলেছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা সব কটি অপরাধই ২০২৫ সালের কয়েক সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ১৮ ফেয়ারফ্যাক্স অ্যাভিনিউ ও ৯ নরউড স্ট্রিটের দুটি বাড়ির বিষয়ে পালাইমার বিরুদ্ধে মোট ১০টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিনি নিজে ওই দুটি ভবনের কোনোটিরই মালিক ছিলেন না, বরং একজন ভাড়াটিয়া হয়েও বেআইনিভাবে সেগুলোকে শেয়ার্ড হাউজে রূপান্তর করে ব্যবসা করেছিলেন। এ ছাড়া ‘ইনস্টাইল এভিয়েশন’ নামে এই কোম্পানির আবাসন ব্যবসা পরিচালনার আগে তিনি ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিলের কাছ থেকে কোনো প্রকার লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেননি। এআই নিয়ে ‘কৌতুক’ অননুমোদিত মেস বা শেয়ার্ড হাউজে আগুন বা ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র ‘স্মোক ডিটেক্টর’ না বসিয়ে, উল্টো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি জমা দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টাকে ‘মজা’ বা ‘কৌতুক’ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিলের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী ইমরান হুসাইন আদালতে বলেছেন, গত বছরের মে মাসে কাউন্সিলের কাছে আসা এক অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৮ ফেয়ারফ্যাক্স অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি অননুমোদিতভাবে পাঁচ শয্যার একটি মেস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। “ভবনের মূল মালিক বাড়িটি আসামিকে (মিনডগাস পালাইমা) এই শর্তে লিজ দিয়েছিলেন যে, তিনি সেখানে তার পরিবার নিয়ে বসবাস করবেন। তবে আসামি মূল মালিককে না জানিয়েই এসব ঘর অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছে সাবলেট দিয়েছেন।” ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বলা হয়েছে, ওই বাড়ির বাসিন্দারা কেউ কারও আত্মীয় নন। আইনজীবী ইমরান হুসাইন বলেছেন, “বাড়িটি লাইসেন্সওয়ালা মেসের আওতায় পড়লেও এ বাড়ির নামে কোনো লাইসেন্স নেওয়ার রেকর্ড কাউন্সিলের কাছে নেই।” বাড়ির বাসিন্দারা তাদের ভাড়া পরিশোধ করতেন ‘ইনস্টাইল এভিয়েশন’ নামের এক কোম্পানির কাছে, যার একমাত্র পরিচালক ছিলেন পালাইমা। সরকারি নিবন্ধন খাতা ‘কোম্পানিজ হাউস’ এর তথ্য অনুসারে, কোম্পানিটি টেক-অ্যাওয়ে খাবারের দোকান ও আবাসিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ব্যবসার সঙ্গে যোগ ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কাউন্সিল কর্মকর্তারা বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। সেখানে গিয়ে তারা দেখেছেন, বেশ কিছু রুমে জরুরি মুহূর্তে আগুন থেকে বাঁচার জন্য কোনো জানালা বা ফায়ার এস্কেপ উইন্ডো, ফায়ার ডোর বা আগুন ও ধোঁয়া শনাক্তকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই। আইনজীবী হুসাইন বলেছেন, “এমনটা যে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ চরম ঝুঁকির কারণে তাকে অবিলম্বে স্মোক অ্যালার্ম বসানোর জন্য জরুরি নোটিশ পাঠানো হয়।” আসামি সেদিনই কাজটি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পালাইমা কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে উপহাস করে বলেছিলেন, “তিনি চাইলে অফিসারকে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি পাঠিয়ে দিতে পারেন।” তখন কর্মকর্তা পালাইমাকে সতর্ক করে বলেছেন, বিষয়টিকে রসিকতা হিসেবে না নিয়ে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। তবে পালাইমা সেই সতর্কবার্তা গায়ে মাখেননি। পরবর্তীতে তিনি একটি ছবি পাঠান, যেখানে আগে কোনো স্মোক ডিটেক্টর না থাকলেও ছবিতে একটি সিলিংয়ে সেটি দেখা যাচ্ছিল। কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয় যে ছবিটি এআই দিয়ে বানানো। গেল বছরের ২৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টায় তিনি ওই ছবি পাঠান। এর ঠিক পরদিন সকাল সাড়ে ১১টায় কর্মকর্তারা যখন আবার বাড়িটি পরিদর্শনে যান তখন সিলিংয়ে কোনো স্মোক ডিটেক্টরের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। এতে কর্মকর্তাদের সন্দেহই সত্যি হয়, ছবিটি এআই দিয়ে কারসাজি করা হয়েছিল। আগুনের চরম ঝুঁকির কারণে পরবর্তীতে বাড়িটির ওপর জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। কোম্পানি বিলুপ্ত সম্পত্তির মালিকানার বিষয়ে হুসাইন আদালতে বলেছেন, “আগের মালিক এ বিশ্বাসে বাড়িটি আসামিকে দিয়েছিলেন যে, তিনি পরিবার নিয়ে থাকবেন। বর্তমান মালিক এক বছর আগে সম্পত্তিটি কিনেছেন ও তখন থেকেই আসামির সঙ্গে তার নানা ঝামেলা চলছিল। স্মোক অ্যালার্মের এআই ছবি জমা দিয়ে আসামি মানুষের জীবন সুরক্ষার আইনকে চরম অবজ্ঞা করেছেন।” মামলার অন্যান্য অভিযোগ ছিল ৯ নরউড স্ট্রিটের আরেকটি বাড়ির বিষয়ে। সেটিও লাইসেন্স ছাড়াই মেসে রূপান্তর করা হয়েছিল। গেল সেপ্টেম্বরে ওই বাড়িটি পরিদর্শনের সময়ও কোনো স্মোক অ্যালার্ম না থাকাসহ বেশ কিছু নিরাপত্তা ঘাটতি দেখা যায়। এ বাড়িটিও পালাইমা লিজ নিয়ে মালিকের অজান্তেই অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। কয়েক দিন পর সেখানে পুনরায় পরিদর্শনে গিয়ে আরও ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়। আইনজীবী হুসাইন বলেছেন, “ত্রুটি সংশোধনের জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও আসামি তা মেনে চলেছেন এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।” সব কিছু পর্যালোচনার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামির অনুপস্থিতিতেই পালাইমাকে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রতিটি বাড়ির জন্য ২ হাজার ৬৪০ পাউন্ড করে জরিমানা, ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিলকে ৩ হাজার ৯৩৮ পাউন্ড মামলার খরচ ও আরও ২ হাজার পাউন্ড কোর্ট সারচার্জ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সব মিলিয়ে তাকে মোট ১১ হাজার ২১৮ পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে। আদালতকে আরও বলা হয়েছে, তার কোম্পানি ‘ইনস্টাইল এভিয়েশন’ গত ২০২৫ সালের জুনেই বিলুপ্ত হয়েছে।
ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ফু কুওকের উপকূলে একটি নৌকা উল্টে অন্তত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ভিএনএক্সপ্রেস। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌকাটিতে ৩৬ জন আরোহী ছিলেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক, তিনজন ক্রু সদস্য ও একজন সহকারী। এদের মধ্যে ২১ জন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ভিয়েতনামের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে হো চি মিন সিটি ও হ্যানয়ে জরুরি রেসপন্স কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। দূতাবাস ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করে বলেছে, “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ঘটনার সঠিক বিবরণ যাচাই করা হচ্ছে।” কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, নৌকাটি হন মে রুত দ্বীপ থেকে ফু কুওকের আন থয় বন্দরে যাচ্ছিল। সাগর পথে ৪০০ মিটার এগোনোর পর নৌকাটি উল্টে যায়। তখন সাগর উত্তাল ছিল, তখন ওই এলাকায় বিশাল সব ঢেউ বইছিল। ফু কুওক ভিয়েতনামের বৃহত্তম দ্বীপ। এটি দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। কয়েক বছর ধরে বহু ভারতীয় পর্যটক দ্বীপটিতে যাচ্ছেন।