বসন্ত আসতে এখনো কিছুটা সময় বাকি থাকলেও আগুনরাঙা সৌন্দর্যে রঙিন হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শিমুল বাগান। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই বাগানের প্রতিটি ডালে ফুটেছে লাল টকটকে শিমুল ফুল। চারদিকে যেন আগুন জ্বলছে—এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মানিগাঁও এলাকায় অবস্থিত এই বাগানটি প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা। ছোট-বড় মিলিয়ে তিন হাজারেরও বেশি শিমুল গাছ এখানে আছে। ২০০৩ সালে প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ জয়নাল আবেদিন বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবে বাগানটি গড়ে তোলেন।
বাগানের ফুল ফোটা শুরু হওয়ার পর এটি দ্রুতই স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একপর্যায়ে এটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিমুল বাগান হিসেবে পরিচিতি পায়। বসন্ত মৌসুমে, বিশেষ করে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে বাগানটিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বাগানের মালিক আফতাব উদ্দিন জানান, এবার শিমুল ফুল তুলনামূলকভাবে একটু আগে ফুটেছে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। তিনি আশা করছেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে কিছুটা ভিড় কমলেও ভোটের আগে ও পরে পর্যটকরা বাগান উপভোগ করতে আসবেন।
স্থানীয়রা বলছেন, শিমুল বাগান এই এলাকার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। ফুলের মৌসুমে মানুষের ঢল পড়ে এবং এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হন। পর্যটকরা বাগানের সৌন্দর্য ও ছবি তোলার জন্য এখানে আসেন।
তাহিরপুর থানার ওসি জানান, নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। ভোট শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটকরা নিশ্চিন্তে বাগান ঘুরে দেখতেও পারবেন।
সব মিলিয়ে, বসন্তের আগুনরাঙা শিমুল বাগান এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। যদিও ভোটের দিন কিছুটা শঙ্কা রয়েছে, নির্বাচন শেষে আবারও পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠবে—এটাই প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন। মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রবিবার আদালতে আমির হামজার হাজির হওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আজ আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন।’ মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। ওই দিন আদালত তাকে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে রবিবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত না হওয়ায় আদালত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের কার্যক্রম নিয়ে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও এনজিও নেতারা। তাদের প্রশ্ন, ‘কক্সবাজারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কারা? বাংলাদেশ সরকার নাকি জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা?’ সোমবার (১১ মে) কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ)। বক্তারা অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনার নামে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থানীয় স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন সিসিএনএফের কো-চেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নতুন অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াতে হবে। সীমান্ত নিরাপদ না হলে কক্সবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আসিয়ান ফোরামে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে আরাকান আর্মির সঙ্গেও আলোচনায় বসতে হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের সংসদ সদস্যদের জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা সংকট ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জোরালোভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে। বক্তাদের দাবি, সম্প্রতি ইউএনএইচসিআর ব্র্যাক ও ইনফিনিক্সের মাধ্যমে ক্যাম্প এলাকায় স্থায়ী ধরনের শেল্টার নির্মাণ করছে। অথচ এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও শরণার্থীদের জন্য এমন স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের নজির নেই। এতে প্রত্যাবাসনের পরিবর্তে স্থায়ী বসবাসের বার্তা যায়। ফলে ভবিষ্যতে আরও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়বে। নির্মাণে ব্যবহৃত প্লাস্টিকনির্ভর উপকরণ পরিবেশবান্ধব নয় এবং ভবিষ্যতে ভয়াবহ বর্জ্য সংকট তৈরি করতে পারে।’ আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে সিসিএনএফ সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি ইউএনওসিএইচএ রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল দিয়েছে। এর ৯২ শতাংশ গেছে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর কাছে এবং ৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে। স্থানীয়করণের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্থানীয় এনজিওগুলো ২৫ শতাংশ অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা সরাসরি কিছুই পাচ্ছে না কেন? তিনি দাবি জানান, জাতীয় সংসদে এমন আইন করা হোক যাতে স্থানীয় এনজিওকে বাদ দিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারে। পাশাপাশি জেআরপি কাঠামো স্থানীয় এনজিওগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, স্থানীয় এনজিওদের জন্য গঠিত ফান্ডের বড় অংশ জাতীয় এনজিওগুলো পাচ্ছে। এতে স্থানীয় সংগঠনগুলো বঞ্চিত হচ্ছে। কক্সবাজারে কর্মরত বহু আইএনজিও ও জাতিসংঘ সংস্থার শীর্ষ পদে একটি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের আধিপত্য রয়েছে। তার ভাষায়, “এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। এসব পদে বাংলাদেশি, বিশেষ করে কক্সবাজারের যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সরকারের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সিইএইচআরডিএফের প্রধান নির্বাহী ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপনের জন্য প্রায় ৮ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। এতে কক্সবাজারের পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। ক্যাম্পে প্রতিদিন কোটি কোটি লিটার পানি উত্তোলনের ফলে উখিয়া-টেকনাফের বহু টিউবওয়েল শুকিয়ে যাচ্ছে, কোথাও লবণাক্ত পানি উঠছে। সমাধান হিসেবে নাফ নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ এবং বড় পরিসরে পুকুর খননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাজাপালং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে স্থানীয় অন্তত ৩০০ একর কৃষিজমি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এসব জমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। কক্সবাজার এমনিতেই খাদ্যঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। কৃষিজমি নষ্ট হলে এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বহন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ার অভিযোগও ওঠে। বক্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তাদের দাবি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, নাফ নদীতে জোরালো নৌ টহল এবং পর্যাপ্ত বিজিবি ও সেনা মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। কম্বাইন হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ডের কেন্দ্রীয় বিশেষ প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হাসান অভিযোগ করে বলেন, ভেন্ডরশিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা হচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। বর্তমানে কক্সবাজারে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলে দাবি করেন বক্তারা। তাদের মতে, গত দুই বছরেই নতুন করে আরও দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এই বাস্তবতায় বক্তারা একটি স্বাধীন ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন’ গঠনের দাবি জানান। তারা বলেছেন, এই কমিশন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবে এবং আন্তর্জাতিক মহলের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করবে। সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে বক্তারা বলেন, ‘কক্সবাজার বাংলাদেশের ভূখণ্ড। এখানে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। স্থানীয়দের বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
ময়মনসিংহের ভালুকায় মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর পুনরায় উচ্ছেদ করতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে পালালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেন। এ সময় ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য (গানম্যান) আহত হয়েছেন। আহত গানম্যানের নাম রুবেল মিয়া (২৮), তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সিডস্টোর বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ধাওয়া খেয়ে পালানোর পর উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা লাকড়ি দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার উপজেলা স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও ফিরোজ হোসেন। ফেরার পথে সিডস্টোর বাজারে উচ্ছেদকৃত জায়গায় পুনরায় অবৈধ দোকানীদের দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় ইউএনওর সঙ্গে থাকা কয়েক জন আনসার সদস্য ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মালামাল মিনি ট্রাকে উঠানোর চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আশপাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনওসহ উচ্ছেদ অভিযানে থাকা টিমকে ধাওয়া করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইউএনও নিরাপদে ফিরে গেলেও তার গানম্যান আনসার সদস্য রুবেল মিয়া (২৮)। গানম্যানের পিতার নাম জালাল উদ্দিন। তাকে উপজেলা কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সিডস্টোর বাজারের ব্যবসায়ীরা সড়কে নেমে এসে লাকড়ি ফেলে আগুন দেয়। ফলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা ও হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অপর এক সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল সংকটের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেন উপজেলার ধীতপুর এলাকার মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের সামনে বাইক চালকদের রোষানলে পড়লে সেখান থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করেন। এ ছাড়াও ইউএনও এর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ভালুকা পৌর সদরের এআর ফিলিং স্টেশনের সামনে বাইকারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। ইউএনও এর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে বাইক চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। তিনি ভালুকায় যোগদান করার পর থেকে স্থানীয় সংবাদকর্মীসহ শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শেখ জান্নাতুল তাসলিমা বলেন, আনসার সদস্য রুবেল মিয়া হাটুতে আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি নম্বরে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি, পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে দেন। ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল হাসান জানান, ইউএনও সুস্থ আছেন। তার গাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি। যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে ধাওয়ার বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের কাছে জানাতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।