সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মীদের জন্য কাজের সময় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির শ্রম আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কাজের এই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হলো। রোজা পালন ও দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রমজান শুরু হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনবে।
২০২২ সালের মন্ত্রিপরিষদ প্রস্তাবনা অনুযায়ী, রমজান মাসে বেসরকারি খাতের কর্মীদের কাজের সময় প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে দুই ঘণ্টা কমানো হয়েছে। দেশটির মানবসপবিত্র রমজান মাসেপ্ম্পরদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল বেসরকারি কর্মীর জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কর্মীর পদমর্যাদা বা জ্যেষ্ঠতা নির্বিশেষে এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। তবে কাজের সময় কমানোর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিয়োগকর্তারা শিফট বা ‘রিমোট ওয়ার্ক’ বা দূরবর্তী কাজের ব্যবস্থা করতে পারবেন।
অতীতের রেওয়াজ অনুযায়ী, এই নির্দেশনা মুসলিম ও অমুসলিম সকল কর্মীর জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া প্রয়োজনে নির্ধারিত কম সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করালে কর্মীদের জন্য ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার বিধানও চালু থাকবে।
সরকারি খাতের জন্য ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারি সংস্থাগুলো রমজান শুরুর আগেই পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করবে। সাধারণত সরকারি অফিসে কাজের সময় কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য নমনীয় বা ফ্লেক্সিবল সময়সূচি এবং ক্ষেত্রবিশেষে রিমোট ওয়ার্কের সুযোগ রাখা হয়। তবে আমিরাতের বিভিন্ন বিভাগ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম এবং গ্রাহকসেবার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সময়সূচিতে নিজস্ব সমন্বয় করতে পারবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি অনলাইন অডিও আলোচনায় অংশ নিয়ে ভ্রাতৃপ্রতিম একটি আরব রাষ্ট্র সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত নজরদারির সময় সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট শনাক্ত হওয়ার পর তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশটির সাইবার অপরাধবিষয়ক আইনের পরিপন্থী। বিশেষ করে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব অথবা জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য বা কনটেন্ট প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া সামাজিক স্থিতিশীলতা, জনশৃঙ্খলা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে—এমন যেকোনো অনলাইন কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সৌদি তথ্যমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি বলেছেন, মিত্র রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন দেশটির নীতি ও মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন বক্তব্য বা আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক বা আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বিদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে দেশটিতে কর্মরত এবং নতুন করে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ৮ জুন দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয় ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ঘোষণা দেয়। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো কাগজপত্রের ব্যবহার কমিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল সেবার আওতায় আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা। নতুন ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্রের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আবেদন সংক্রান্ত তথ্যের প্রয়োজনীয়তা ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। ফলে আবেদনকারীরা অনলাইনে দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। বর্তমানে আমিরাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, চাকরি পরিবর্তন, খণ্ডকালীন চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতি, গোল্ডেন ভিসাধারীদের কর্মসংস্থান এবং গৃহকর্মীসহ মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। নতুন নিয়ম এসব ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হবে। জনশক্তি রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। নির্মাণ, পরিবহন, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গৃহস্থালি খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থা কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার ফলে বৈধ উপায়ে বিদেশগমন বৃদ্ধি পাবে এবং দালালনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমিরাত সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শ্রমবাজার গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এর সুফল সরাসরি পাবেন দেশটিতে কর্মরত ও কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিরা।
রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মাফল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার (১৪ জুন) তার মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছায়। নিহত মাফল মাদারগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, এক মাস ১২ দিন আগে তিনি রাশিয়ায় পাড়ি জমান। তবে গত ২৯ মে’র পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর পরে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। তাদের দাবি, ড্রোন হামলায় তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের চাচা আনিস জানিয়েছেন, জীবিকার সন্ধানে তার ভাতিজা প্রায় দেড় মাস আগে রাশিয়াতে যান। একটি এজেন্সির মাধ্যমে তাকে সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরে তাকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেই যুদ্ধের ময়দানেই ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নিহতের ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এক মাস ১২ দিন আগে রাশিয়ায় গিয়েছিল। সে ড্রোন হামলায় মারা গেছে। আমরা সরকারের মাধ্যমে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’ নিহতের বোন আছিয়া বলেন, ‘আমার ভাইসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি একসঙ্গে রাশিয়ায় গিয়েছিল। তাদের আর্মি ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আমার ভাই অনেক অনুরোধ করেছিল, কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি। এখন আমাদের একটাই দাবি, সরকার যেন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনেন।’ মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘রাশিয়ায় মৃত্যুর খবর শুনেছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’