রাজধানীর কালশী বস্তিতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
শনিবার (৩০ মে) মানবিক বিবেচনায় বাহিনীর মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে বাউনিয়াবাদ কালশী বস্তি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১২৫০ জনের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান জানান, গত ২৫ মে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কালশী বস্তির অসংখ্য ঘরবাড়ি পুড়ে যায় এবং শত শত পরিবার তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। অনেক পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
চারিদিকে ঈদুল আজহার আনন্দমুখর পরিবেশের মাঝেও বস্তিবাসীদের এমন মৌলিক সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
খাবার বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই স্বেচ্ছাসেবা দায়িত্ব পালনে ৪১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য এবং ৩৫ জন টিডিপি সদস্য নিয়োজিত ছিলেন।
বাউনিয়াবাদ আইডিয়াল হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (উইং) শুভ্র চৌধুরী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আনসার (পশ্চিম) জোনের অধিনায়ক উপপরিচালক আরিফুর রহমান, ঢাকা মহানগর আনসার (দক্ষিণ) জোনের অধিনায়ক উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন থানার আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তাবৃন্দ।
তিনি বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে মানবিক সহায়তা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে জনগণের পাশে থেকে মানবকল্যাণে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ এই বাহিনী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভোরের ম্লান আলোয় ঢাকার শিশু হাসপাতালের করিডোরে বসে ছিলেন এক মা। কোলে তার তিন বছরের শিশু ছেলে। ছেলেটির গা জ্বরে পুড়ছে, সারা শরীরে লালচে দাগ। মাঝে মাঝে খিঁচুনির মতো কেঁপে উঠছে ছোট্ট শরীরটা। মা বারবার ভেজা কাপড় কপালে চেপে ধরছেন, আর ফিসফিস করে বলছেন, ‘বাবা, একটু চোখ খোল, মা এখানে আছে’। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শিশুটির বাবা। দিনমজুর মানুষ। গত তিন দিন কাজে যেতে পারেননি। চিকিৎসার খরচ জোগাতে একমাত্র গাভিটাও বিক্রি করে দিয়েছেন। তবুও ডাক্তারদের মুখে আশার আলো কম। রাতভর হাসপাতালের বারান্দায় বসে তিনি শুধু একটি কথাই বারবার বলছিলেন—‘একটা টিকা যদি সময়মতো পাইতাম!’ হঠাৎ করিডোরজুড়ে কান্নার শব্দ। আরেকজন মা বুক চাপড়ে চিৎকার করছেন। তার শিশুটি আর নেই। কয়েক মিনিট আগেও যে ছোট্ট মুখটি নিঃশ্বাস নিচ্ছিল, এখন সেটি নিথর। হাসপাতালের দেয়াল যেন সেই আর্তনাদ শুনেও নীরব। চারপাশের মানুষ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে, তারপর আবার নিজ নিজ ব্যস্ততায় ফিরে যায়। যেন এই মৃত্যু এখন খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এভাবেই প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন কোনো না কোনো দরিদ্র মা তার প্রাণাধিক প্রিয় সন্তানকে বুকে নিয়ে হাসপাতালের করিডোরে বসে থাকেন শেষ আশায়। কেউ সন্তান হারিয়ে নির্বাক হয়ে যান, কেউ বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন, আবার কেউ নিঃশব্দে হাসপাতালের বারান্দা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান একটি ছোট্ট কাফনের বোঝা নিয়ে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই চোখের জলের কি কোনো মূল্য নেই? গরিব অসহায় মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ কি আমাদের বিবেককে আর স্পর্শ করে না? কেন আমরা এত নির্লিপ্ত? কেন প্রতিদিনের এই মৃত্যু আমাদের কাঁপিয়ে দেয় না? মনে হয় যেন আমরা ধীরে ধীরে আবেগহীন এক সমাজে পরিণত হচ্ছি। শিশু মৃত্যুর সংবাদ এখন আর আমাদের চমকে দেয় না। টেলিভিশনের স্ক্রল, পত্রিকার ছোট্ট কলাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে শত শত পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। অথচ প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে আছে একটি পরিবার, একটি মায়ের বুকভাঙা কান্না, একটি বাবার অসহায়ত্ব, একটি স্বপ্নের নির্মম সমাপ্তি। আজ বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়; এটি আমাদের মানবিকতা, রাষ্ট্রচিন্তা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতারও কঠিন পরীক্ষা। কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিশুদের হাম আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট, টিকাদান ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক এবং প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আর সাধারণ সংক্রামক রোগের পর্যায়ে নেই। এটি কার্যত একটি জাতীয় স্বাস্থ্য দুর্যোগে রূপ নিচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এখনো রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মহামারি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেনি। প্রশ্ন হচ্ছে—কেন? হাম কোনো সাধারণ জ্বর নয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগগুলোর একটি। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহু আগেই সতর্ক করেছিল, টিকাদানে সামান্য ঘাটতিও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশে আজ সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন তথ্য, হাসপাতাল সূত্র এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ বলছে, চলতি বছরে দেশে কয়েক হাজার শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ গ্রামের বহু পরিবার এখনো হাসপাতালে আসে না, অনেক মৃত্যু নথিভুক্তও হয় না। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে—এই সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, টিকা সংগ্রহে অবহেলা, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার ফলেই আজকের এই বিপর্যয়। বাংলাদেশ একসময় টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল ছিল। হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাংলাদেশের অগ্রগতিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিল। অথচ কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই সফলতা কোথায় হারিয়ে গেল? এখানেই আসে বিগত ইউনুস সরকারের প্রসঙ্গ। স্বাস্থ্যখাতের বহু কর্মকর্তার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ছিল, সময়মতো পর্যাপ্ত এমআর টিকা সংগ্রহ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকার সংকট শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ক্রয়াদেশ দেওয়া যেত। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তা করা হয়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে। টিকা মজুদের পরিমাণ কমতে কমতে যখন বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছায়, তখনও দৃশ্যমান কোনো জরুরি উদ্যোগ দেখা যায়নি। এই অবহেলা কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা? নাকি এর পেছনে ছিল আরও গভীর কোনো রাজনৈতিক হিসাব? অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি নিছক অদক্ষতা নয়। বরং একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশলের অংশও হতে পারে। কারণ, একটি নির্বাচিত সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা। আর স্বাস্থ্যখাতে বিপর্যয় তৈরি করা গেলে খুব সহজেই সেই আস্থাকে নষ্ট করা যায়। যখন শিশুমৃত্যু বাড়ে, স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ে, মানুষ আতঙ্কিত হয়—তখন জনগণের ক্ষোভ সরাসরি সরকারের দিকে যায়। ফলে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার একটি নীলনকশা হিসেবেও টিকা সংকটকে দেখা অমূলক নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়। অতীতেও দেখা গেছে, নির্বাচিত সরকারকে জনরোষের মুখে ঠেলে দিতে বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। কখনো জ্বালানি, কখনো খাদ্য, কখনো আইনশৃঙ্খলা, আবার কখনো স্বাস্থ্যখাতকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে। হাম পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ বাস্তবতা হলো—একটি রাষ্ট্রে হঠাৎ করে লাখ লাখ শিশুর টিকা কাভারেজ কমে যাওয়া কেবল ‘দুর্ঘটনা’ হতে পারে না। এর পেছনে পরিকল্পনাগত ব্যর্থতা ছিল, আর সেই ব্যর্থতার দায় রাজনৈতিকভাবেও এড়ানোর সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হওয়ায় অনেক শিশু চিকিৎসা পাওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত প্রতি হাজার শিশুর মধ্যে এক থেকে তিনজন মারা যেতে পারে। অপুষ্টি থাকলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বাংলাদেশের বাস্তবতায় যেখানে এখনো বহু শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, সেখানে হাম মহামারি জাতীয় বিপর্যয়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত বাস্তব। এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল অবিলম্বে জাতীয় জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করা। কিন্তু এখনো সেই দৃঢ়তা দৃশ্যমান নয়। অথচ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হতো। প্রথমত, জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে টিকা আমদানি সহজ হতো। দ্বিতীয়ত, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান অভিযান চালানো যেত। তৃতীয়ত, গণসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হতো। চতুর্থত, সীমান্ত ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ বাড়ানো যেত। পঞ্চমত, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যেত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—জরুরি অবস্থা ঘোষণা জনগণকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিত যে সরকার পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করছে। এখনো সময় আছে। সরকার চাইলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। বাংলাদেশের টিকাদান অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। মাঠপর্যায়ে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সক্ষমতাও আছে। প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কঠোর সমন্বয়। এই মুহূর্তে কিছু জরুরি পদক্ষেপ অপরিহার্য— প্রথমত, সারাদেশে বিশেষ ‘হাম জরুরি টিকাদান সপ্তাহ’ ঘোষণা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্কুল, মাদ্রাসা ও গ্রামভিত্তিক স্বাস্থ্য ক্যাম্প চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, টিকা ঘাটতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তদন্ত করতে হবে। চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও টিকাবিরোধী প্রচারণা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। পঞ্চমত, আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। ষষ্ঠত, সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বাস্থ্য নজরদারি বাড়াতে হবে। সপ্তমত, জাতীয়ভাবে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজে নামাতে হবে। একটি রাষ্ট্রের শক্তি বোঝা যায় সংকট মোকাবিলার সক্ষমতায়। আজ বাংলাদেশ সেই পরীক্ষার মুখোমুখি। যদি এখনো অবহেলা করা হয়, তাহলে এই হাম সংকট ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। ইতিহাস সাক্ষী, মহামারি কখনো শুধু স্বাস্থ্য সংকট থাকে না; এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, সামাজিক স্থিতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও ধ্বংস করে দেয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, করোনা—সবকিছু পেরিয়ে এই জাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকেও যদি শিক্ষা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। হাম পরিস্থিতি এখন আর শুধু চিকিৎসকদের উদ্বেগ নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। শিশুর জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, প্রশাসনিক অবহেলা কিংবা ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের কাছে শিশুদের জীবন জিম্মি হতে পারে না। সুতরাং সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার। অবিলম্বে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে হাম মোকাবিলায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করতে হবে। কারণ আজকের বিলম্ব আগামীকালের হাজারো শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র কখনো সেই অপরাধের বোঝা বহন করতে পারে না।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থেকে তাদের সুখ দুঃখের অংশীদার হওয়ার মধ্য দিয়েই শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সংলগ্ন কাজীর দেউরী মোড়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুস্থ, অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আজ এমন একটি স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এই সার্কিট হাউসেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে হত্যা করেও তার আদর্শ ও দর্শনকে মুছে ফেলা যায়নি। তিনি বাংলাদেশে একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে তার আদর্শ ধারণ করতে হবে এবং জনগণের পাশে থাকতে হবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে, জনগণই দলের মূল শক্তি। তাদের স্বার্থ, চাহিদা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, যাদের জন্য আমরা রাজনীতি করি, সেই সাধারণ মানুষকে কখনো ভুলে গেলে চলবে না। তাদের সুখ দুঃখ আমাদের ধারণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোকে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। তাদের পাশে থাকতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমির খসরু বলেন, বিএনপি একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই আমরা একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখ সমরে তার বীরোচিত অংশগ্রহণ জাতিকে স্বাধীনতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছিল। পঁচাত্তর পরবর্তী এক ক্রান্তিকালে যখন জাতি দিশেহারা, ঠিক তখনই তিনি দেশের হাল ধরেছিলেন। তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে গেছেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান অতিথি ও সভাপতি উপস্থিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।
রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় দুই যাত্রীকে অচেতন করে তাদের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম মো. ফারুক (৪৪)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবে সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে ভোলা-ইলিশাগামী একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের দ্বিতীয় তলায় ফারুককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি অন্য এক যাত্রীর ব্যাগে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি লঞ্চের কর্মীরা ও আনসার সদস্যরা লক্ষ্য করেন এবং দ্রুত নৌ পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে সদরঘাট নৌ থানা ও টহল পুলিশের সদস্যরা লঞ্চে অভিযান চালিয়ে ফারুককে আটক করেন। এ সময় তার পাশে থাকা দুই যাত্রীকে তন্দ্রাচ্ছন্ন ও অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে অসুস্থ যাত্রীদের মুন্সিগঞ্জে নামিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসা শেষে তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে নৌ পুলিশ ধারণা করছে, আটক ব্যক্তি তার সহযোগীদের সহায়তায় দুই যাত্রীকে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কোনো পদার্থ খাইয়ে অচেতন করেছিলেন। এরপর তাদের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান মালামাল আত্মসাতের পরিকল্পনা ছিল। পুলিশের রেকর্ড যাচাই করে জানা গেছে, ফারুকের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় মামলা ও সাধারণ ডায়েরির তথ্য রয়েছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।