ভোরের ম্লান আলোয় ঢাকার শিশু হাসপাতালের করিডোরে বসে ছিলেন এক মা। কোলে তার তিন বছরের শিশু ছেলে। ছেলেটির গা জ্বরে পুড়ছে, সারা শরীরে লালচে দাগ। মাঝে মাঝে খিঁচুনির মতো কেঁপে উঠছে ছোট্ট শরীরটা। মা বারবার ভেজা কাপড় কপালে চেপে ধরছেন, আর ফিসফিস করে বলছেন, ‘বাবা, একটু চোখ খোল, মা এখানে আছে’।
পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শিশুটির বাবা। দিনমজুর মানুষ। গত তিন দিন কাজে যেতে পারেননি। চিকিৎসার খরচ জোগাতে একমাত্র গাভিটাও বিক্রি করে দিয়েছেন। তবুও ডাক্তারদের মুখে আশার আলো কম। রাতভর হাসপাতালের বারান্দায় বসে তিনি শুধু একটি কথাই বারবার বলছিলেন—‘একটা টিকা যদি সময়মতো পাইতাম!’
হঠাৎ করিডোরজুড়ে কান্নার শব্দ। আরেকজন মা বুক চাপড়ে চিৎকার করছেন। তার শিশুটি আর নেই। কয়েক মিনিট আগেও যে ছোট্ট মুখটি নিঃশ্বাস নিচ্ছিল, এখন সেটি নিথর।
হাসপাতালের দেয়াল যেন সেই আর্তনাদ শুনেও নীরব। চারপাশের মানুষ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে, তারপর আবার নিজ নিজ ব্যস্ততায় ফিরে যায়। যেন এই মৃত্যু এখন খুব স্বাভাবিক ঘটনা।
এভাবেই প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন কোনো না কোনো দরিদ্র মা তার প্রাণাধিক প্রিয় সন্তানকে বুকে নিয়ে হাসপাতালের করিডোরে বসে থাকেন শেষ আশায়। কেউ সন্তান হারিয়ে নির্বাক হয়ে যান, কেউ বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন, আবার কেউ নিঃশব্দে হাসপাতালের বারান্দা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান একটি ছোট্ট কাফনের বোঝা নিয়ে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই চোখের জলের কি কোনো মূল্য নেই? গরিব অসহায় মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ কি আমাদের বিবেককে আর স্পর্শ করে না? কেন আমরা এত নির্লিপ্ত? কেন প্রতিদিনের এই মৃত্যু আমাদের কাঁপিয়ে দেয় না? মনে হয় যেন আমরা ধীরে ধীরে আবেগহীন এক সমাজে পরিণত হচ্ছি।
শিশু মৃত্যুর সংবাদ এখন আর আমাদের চমকে দেয় না। টেলিভিশনের স্ক্রল, পত্রিকার ছোট্ট কলাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে শত শত পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। অথচ প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে আছে একটি পরিবার, একটি মায়ের বুকভাঙা কান্না, একটি বাবার অসহায়ত্ব, একটি স্বপ্নের নির্মম সমাপ্তি।
আজ বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়; এটি আমাদের মানবিকতা, রাষ্ট্রচিন্তা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতারও কঠিন পরীক্ষা। কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিশুদের হাম আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট, টিকাদান ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক এবং প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আর সাধারণ সংক্রামক রোগের পর্যায়ে নেই। এটি কার্যত একটি জাতীয় স্বাস্থ্য দুর্যোগে রূপ নিচ্ছে।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এখনো রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মহামারি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেনি। প্রশ্ন হচ্ছে—কেন? হাম কোনো সাধারণ জ্বর নয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগগুলোর একটি।
একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহু আগেই সতর্ক করেছিল, টিকাদানে সামান্য ঘাটতিও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশে আজ সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন তথ্য, হাসপাতাল সূত্র এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ বলছে, চলতি বছরে দেশে কয়েক হাজার শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ গ্রামের বহু পরিবার এখনো হাসপাতালে আসে না, অনেক মৃত্যু নথিভুক্তও হয় না।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে—এই সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, টিকা সংগ্রহে অবহেলা, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার ফলেই আজকের এই বিপর্যয়।
বাংলাদেশ একসময় টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল ছিল। হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাংলাদেশের অগ্রগতিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিল। অথচ কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই সফলতা কোথায় হারিয়ে গেল?
এখানেই আসে বিগত ইউনুস সরকারের প্রসঙ্গ। স্বাস্থ্যখাতের বহু কর্মকর্তার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ছিল, সময়মতো পর্যাপ্ত এমআর টিকা সংগ্রহ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকার সংকট শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ক্রয়াদেশ দেওয়া যেত। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তা করা হয়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে। টিকা মজুদের পরিমাণ কমতে কমতে যখন বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছায়, তখনও দৃশ্যমান কোনো জরুরি উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এই অবহেলা কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা? নাকি এর পেছনে ছিল আরও গভীর কোনো রাজনৈতিক হিসাব?
অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি নিছক অদক্ষতা নয়। বরং একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশলের অংশও হতে পারে। কারণ, একটি নির্বাচিত সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা। আর স্বাস্থ্যখাতে বিপর্যয় তৈরি করা গেলে খুব সহজেই সেই আস্থাকে নষ্ট করা যায়। যখন শিশুমৃত্যু বাড়ে, স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ে, মানুষ আতঙ্কিত হয়—তখন জনগণের ক্ষোভ সরাসরি সরকারের দিকে যায়। ফলে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার একটি নীলনকশা হিসেবেও টিকা সংকটকে দেখা অমূলক নয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়। অতীতেও দেখা গেছে, নির্বাচিত সরকারকে জনরোষের মুখে ঠেলে দিতে বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। কখনো জ্বালানি, কখনো খাদ্য, কখনো আইনশৃঙ্খলা, আবার কখনো স্বাস্থ্যখাতকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে। হাম পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কারণ বাস্তবতা হলো—একটি রাষ্ট্রে হঠাৎ করে লাখ লাখ শিশুর টিকা কাভারেজ কমে যাওয়া কেবল ‘দুর্ঘটনা’ হতে পারে না। এর পেছনে পরিকল্পনাগত ব্যর্থতা ছিল, আর সেই ব্যর্থতার দায় রাজনৈতিকভাবেও এড়ানোর সুযোগ নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হওয়ায় অনেক শিশু চিকিৎসা পাওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত প্রতি হাজার শিশুর মধ্যে এক থেকে তিনজন মারা যেতে পারে। অপুষ্টি থাকলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বাংলাদেশের বাস্তবতায় যেখানে এখনো বহু শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, সেখানে হাম মহামারি জাতীয় বিপর্যয়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত বাস্তব।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল অবিলম্বে জাতীয় জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করা। কিন্তু এখনো সেই দৃঢ়তা দৃশ্যমান নয়। অথচ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হতো।
প্রথমত, জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে টিকা আমদানি সহজ হতো। দ্বিতীয়ত, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান অভিযান চালানো যেত। তৃতীয়ত, গণসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হতো। চতুর্থত, সীমান্ত ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ বাড়ানো যেত। পঞ্চমত, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যেত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—জরুরি অবস্থা ঘোষণা জনগণকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিত যে সরকার পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করছে।
এখনো সময় আছে। সরকার চাইলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।
বাংলাদেশের টিকাদান অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। মাঠপর্যায়ে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সক্ষমতাও আছে। প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কঠোর সমন্বয়।
এই মুহূর্তে কিছু জরুরি পদক্ষেপ অপরিহার্য—
প্রথমত, সারাদেশে বিশেষ ‘হাম জরুরি টিকাদান সপ্তাহ’ ঘোষণা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, স্কুল, মাদ্রাসা ও গ্রামভিত্তিক স্বাস্থ্য ক্যাম্প চালু করতে হবে।
তৃতীয়ত, টিকা ঘাটতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তদন্ত করতে হবে।
চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও টিকাবিরোধী প্রচারণা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
পঞ্চমত, আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
ষষ্ঠত, সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বাস্থ্য নজরদারি বাড়াতে হবে।
সপ্তমত, জাতীয়ভাবে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজে নামাতে হবে।
একটি রাষ্ট্রের শক্তি বোঝা যায় সংকট মোকাবিলার সক্ষমতায়। আজ বাংলাদেশ সেই পরীক্ষার মুখোমুখি। যদি এখনো অবহেলা করা হয়, তাহলে এই হাম সংকট ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
ইতিহাস সাক্ষী, মহামারি কখনো শুধু স্বাস্থ্য সংকট থাকে না; এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, সামাজিক স্থিতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও ধ্বংস করে দেয়।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, করোনা—সবকিছু পেরিয়ে এই জাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকেও যদি শিক্ষা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
হাম পরিস্থিতি এখন আর শুধু চিকিৎসকদের উদ্বেগ নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। শিশুর জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, প্রশাসনিক অবহেলা কিংবা ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের কাছে শিশুদের জীবন জিম্মি হতে পারে না।
সুতরাং সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার। অবিলম্বে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে হাম মোকাবিলায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করতে হবে। কারণ আজকের বিলম্ব আগামীকালের হাজারো শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র কখনো সেই অপরাধের বোঝা বহন করতে পারে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলকের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে ‘বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক’ শিরোনামে এক স্ট্যাটাস দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র। তিনি বলেন, এর মধ্যে যে কোনো একটি অর্জন থাকলেই নির্দ্বিধায় একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সফল বলা যায়। আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক, যার জীবনে গৌরবের এসব মহিমান্বিত পালক একত্রে বিদ্যমান। আমার জানা মতে, বিশ্ব ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই, একজন নেতা নিজ দেশের জন্য বহুমাত্রিক ভূমিকা রেখে এভাবে পরিণত হয়েছেন সমগ্র জাতির সত্তা ও অস্তিত্বের অংশে; তথা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীকে। বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক নিয়ে মাহদী আমিনের ফেসবুকের স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো- (১) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, যার আহবানে শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ। (২) মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং অসামান্য বীরত্বের জন্য 'বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত। (৩) সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মহানায়ক এবং ইতিহাসের সফলতম সেনাপ্রধান। (৪) দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। (৫) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সুমহান আদর্শের প্রবক্তা, যা নিশ্চিত করে প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ, মত, পথ ও বিশ্বাসের মানুষ এবং সমতল ও পাহাড়ের প্রতিটি বাংলাদেশির সমান অধিকার ও স্বাধীনতা। (৬) বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্ন মতের অধিকার স্থাপক। (৭) গণআকাঙ্ক্ষার আলোকে সংবিধানের সংশোধন ও ইসলামী মূল্যবোধের ধারক। (৮) মুক্তিবাজার অর্থনীতি চালু, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রবর্তক। (৯) রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের পথিকৃৎ এবং দেশজুড়ে ইপিজেড ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনাকারী। (১০) মধ্যপ্রাচ্যে ও অন্যান্য দেশে জনশক্তি রপ্তানির পথিকৃৎ, যার ফলে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত প্রবাসীদের রেমিটেন্স আজও দেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি। (১১) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার ভিত্তি নির্মাণ এবং তৃণমূলের উন্নয়নের রূপকার। (১২) গ্রাম সরকার ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা উদ্যোগের প্রবর্তক। (১৩) ঐতিহাসিক খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জনক। (১৪) গণশিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির প্রবর্তক এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে সবার জন্য সহজলভ্য করার কারিগর। (১৫) নারী ও যুবকদের জন্য দুইটি পৃথক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। (১৬) শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও নতুন কুঁড়ির প্রবক্তা। (১৭) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য সার্কের প্রতিষ্ঠাতা। (১৮) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের কারিগর। (১৯) পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বহির্বিশ্বের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের রূপকার, ইরান-ইরাক যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী, ফিলিস্তিনি জাতি নির্মাণে আল-কুদস কমিটির সদস্য। (২০) নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ভেঙে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে শক্তিশালী অবস্থান ও পানির হিস্যা বুঝে নেওয়াসহ বহু সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণকারী। ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন লেখেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের সাফল্যের গৌরব নয়। বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করার কালজয়ী ইতিহাস। তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্ম, পরিকল্পনা, চিন্তা ও নেতৃত্ব আজও কোটি-কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে এবং তাঁর হাত ধরেই বদলে গেছে পুরো দেশ ও জাতির কাঠামো। আর ঠিক সেই আদর্শ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতাই আজ বহন করছেন জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যেমনটি করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের প্রতিটি ক্রান্তিকালে জাতির জন্য মুক্তির দিশারি, আলোকবর্তিকা ও বাতিঘর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি সুস্পষ্ট পথরেখা তৈরি করে গেছেন। আজ শনিবার হাইকোর্টের সামনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালে যখন দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত ছিল কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা ছিল না, তখন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণায় ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছে এবং জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করতে অপপ্রচার চালিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি রাখা হয়েছিল। রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছিল, সব রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমান কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। ফারাক্কা বাঁধ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি দেশের নদ-নদী ও পানি সম্পদ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ছিল ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে গোলামি নয়’। এই নীতির কারণেই তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তার অবদান জাতিকে আজও অনুপ্রাণিত করে। বিএনপির দুঃসময়ে আইনজীবীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সময় আইনজীবীরাই বিএনপি নেতাকর্মীদের অন্যতম ভরসাস্থল ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম বদরুদ্দোজা বাদল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং আইনজীবী অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ৩ জুন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ রাজধানীর মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে প্রতিবেদন দিতে পারছি না। আরও তিন দিন সময় দিয়েছি কমিটিকে, ৩ জুন দেওয়া হবে প্রতিবেদন। কারণ সেখানে অবস্থানরত সন্তানহারা মায়েদের বক্তব্য এখনো নেওয়া যায়নি। তাই আজ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের বক্তব্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জানা গেছে, ঘটনার সময় এসি দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। রাত দুইটা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে গত বুধবার (২৭ মে) রাতে ময়নাতদন্ত না করার শর্তে পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় নবজাতকের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রমনা থানায় এক নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। এ সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।