আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় এবছরও বাংলাদেশের প্রকাশকরা যোগ দিতে পারবেন না। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের প্যাভেলিয়ন থাকবে না।
এর আগে প্রতিবছরই বাংলাদেশের অনেক প্রকাশক কলকাতা বইমেলায় আসতেন এবং সেখানে প্রচুর ভিড়ও যেমন হতো, তেমনই বাংলাদেশি লেখকদের বই বিক্রিও হতো অনেক।
তবে ২০২৪-এর জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর গত বছর বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল না, এবছরও তারা থাকছেন না।
কলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে বলেন, “বাংলাদেশের তরফে এবার মেলায় যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরাই তাদের যোগ দিতে দিচ্ছি না।”
কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাসের সূত্রগুলোও নিশ্চিত করেছে যে এবারের বইমেলায় যোগ দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল।
“ভারত-বাংলাদেশের এখন যা সম্পর্ক, তাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত ছাড়া বাংলাদেশকে মেলায় যোগদান করার ছাড়পত্র দিতে পারছে না গিল্ড। সেই সবুজ সংকেত আসেনি, তাই বাংলাদেশ মেলায় থাকছে না। তবে যদি এখানকার কোনও স্টলে বাংলাদেশের বই কেউ রাখেন, তাতে আমাদের আপত্তি নেই,” বিবিসিকে বলছিলেন ত্রিদিব চ্যাটার্জি।
নিয়মিত মেলায় যোগ দিত আরেকটি যে দেশ, সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এবারের বইমেলায় থাকবে না, কারণ তাদের “বাজেট অ্যালোকেশন হয়নি” বলেও জানিয়েছেন ত্রিদিব।
তবে এবারের বইমেলায় এই প্রথমবারের মতো ইউক্রেন যোগ দেবে এবং ১৫ বছর পরে চীনের প্যাভেলিয়ন থাকবে মেলায়।
আর্জেন্টিনা এবারের বইমেলার থিম দেশ। মোট ২১টি দেশ এবং এক হাজারের ওপরে স্থানীয় ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের প্রকাশকরা স্টল দেবেন।
আগামী ২২শে জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। এটি বিশ্বের বৃহত্তম অ-বাণিজ্যিক বইমেলা, অর্থাৎ যেখানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি নয়, সাধারণ মানুষ বই কিনতে পারেন। আবার জনসমাগমের দিক থেকেও এই বইমেলা বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে। সল্ট লেকের স্থায়ী ‘বইমেলা প্রাঙ্গণ’-এ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মেলার উদ্বোধন করবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের অনুরোধ থাকলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর শাফাক নিউজের। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, দুই নেতার মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং লেবাননের অনেক সমস্যার সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে। তার দাবি, কিছু সমস্যার সমাধান ইতোমধ্যে হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, জোসেফ আউন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটিকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘লেবাননের প্রেসিডেন্ট যদি চান, তাহলে আমি হিজবুল্লাহর সঙ্গে কথা বলব।’ তিনি আরও জানান, হিজবুল্লাহ খালি করে যাওয়া গ্রামগুলোতে লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ লেবাননে প্রস্তাবিত একটি পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা অঞ্চলের (পাইলট জোন) বিষয়েও আলোচনা হবে। ট্রাম্পের দাবি, সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা হিজবুল্লাহ-সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী এবং তিনি মনে করেন, এ উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার বৈরিতার স্থায়ী অবসানই তার সরকারের লক্ষ্য। তিনি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করেন এবং লেবাননের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমর্থন কামনা করেন। এর আগে চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আউন ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৈঠক করেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলার মুখে ইরান পাল্টা আঘাত হানছে ঠিকই, কিন্তু তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিচ্ছে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে। মার্কিন নৌ-বহর বা ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা না চালিয়ে কেন ইরান এই কৌশলী পথ বেছে নিয়েছে, তা নিয়ে সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে গভীর চুলচেরা বিশ্লেষণ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলটি ইরান সুচিন্তিতভাবে গ্রহণ করেছে যাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যায়। কিন্তু একই সঙ্গে যুদ্ধকে এমন একপর্যায়ে না নিয়ে যাওয়া যায় যা ইরানকে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে। কেন মার্কিন রণতরিতে হামলা এড়িয়ে চলছে তেহরান সামরিক বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত লেবানিজ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলিয়াস হান্না আল-জাজিরাকে জানান, মার্কিন নৌ-সম্পদ বা রণতরিতে সরাসরি হামলা চালানো ইরানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। তিনি বলেন, ‘মার্কিন রণতরিতে হামলা মানেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া।’ এ ছাড়া, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়ে ঘেরা থাকে, ফলে সামরিকভাবে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত কঠিন। উপসাগরীয় দেশগুলো কেন লক্ষ্যবস্তু তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আতিফেহ তাঘিয়ানির মতে, ইরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমান হামলা পরিচালনার জন্য কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করছে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো বারবার দাবি করে আসছে, তারা ইরানবিরোধী আক্রমণে নিজেদের ভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। তবুও ইরান আইনগত ও কৌশলগত কারণে এই দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তাঘিয়ানি বলেন, ওয়াশিংটন চাচ্ছে অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে শত্রুতা বাড়িয়ে দিয়ে ইরানের জন্য পাল্টা আঘাতের পথ কঠিন করে তুলতে। তবে কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-শায়জি ইরানের এই যুক্তিকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব বিমান হামলা পরিচালিত হচ্ছে ‘জর্জ ডব্লিউ বুশ’ ও ‘আব্রাহাম লিংকন’ নামক দুটি বিমানবাহী রণতরি থেকে, যা ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ইরান জানে ক্রুজ ও টমাহক মিসাইলগুলো রণতরি থেকেই ছোড়া হচ্ছে, কিন্তু সেই জাহাজগুলোতে হামলা করে একজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হলেও ইরান যে পরিণতির সম্মুখীন হবে, তা তারা ভয় পায়। তিনি মনে করেন, ইরান এখন একটি ব্যর্থ কৌশলে আটকে আছে। তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটনকে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করতে চায়, কিন্তু এটি কাজ করছে না। বরং এতে করে ইরান আঞ্চলিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। সংকীর্ণতার রাজনীতি ও আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বন্দর আল-ওতাইবি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেউই পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ চায় না। তাই উভয় পক্ষই লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে অত্যন্ত সতর্ক। ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানগুলো পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও ইরান সেখানে হামলা এড়িয়ে চলছে, যাতে সংঘাতের পরিধি না বাড়ে। তবে আল-ওতাইবির সতর্কতা, ইরান যদি উপসাগরীয় কোনো দেশে হামলা চালিয়ে বড় ধরনের বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটায়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ইরান একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, কিন্তু বর্তমানে এটি তাদের জন্য এক ‘রাজনৈতিক দায়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার্বিকভাবে, ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ জনমতের চাপ সামলাতে ও একতরফা ‘প্রতিরোধের সমীকরণ’ প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই কৌশল ইরানকে কোনো সামরিক সুবিধা তো দিচ্ছেই না, বরং বন্ধুহীন ও আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইরানের রহস্যময়ী পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে শিগগিরই হামলা চালানো হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সেখানে হামলা হবে অত্যন্ত তীব্র। ইরান তাদের পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজগুলো পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের নিচে থাকা স্থাপনায় নিয়ে গেছে এমন একটি খবর বের হয়েছে। এ নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা ওই এলাকাটিতে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে হামলা চালাব এবং হামলা হবে অত্যন্ত তীব্র।” ট্রাম্প জানান, তারা সেন্ট্রিফিউজের বদলে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, তারা পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে হামলা চালালেও ইরান কিছুই করতে পারবে না। তিনি বলেন, “আমরা ওই এলাকাটিতে খুব সম্ভবত শিগগিরই হামলা চালাব। সাধারণত আমি এ ধরনের তথ্য জানাই না। যদি আমি মনে করতাম হামলা নিয়ে তারা কিছু করতে পারবে তাহলে আমি এ নিয়ে কিছুই বলতাম না। আমরা ওই এলাকায় খুব শিগগিরই ও তীব্র হামলা চালাব।” পিকঅ্যাক্স পাহাড়টি তেহরানের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এটি নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। সেখানে দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে। যেগুলো মাটির অনেক নিচে অবস্থিত। আর মাটির গভীরে অবস্থান হওয়ায় এই পারমাণবিক স্থাপনাটি পুরোপুরি ধ্বংস করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক স্থাপনাটি সলিড গ্রানাইট পাথরের কয়েকশ মিটার গভীরে তৈরি করা হয়েছে। যেন শক্তিশালী বোমা ফেললেও সেই বোমার প্রভাব এটিতে না পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট আল-মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করে ইরান সেখানে একটি গোপন ও অঘোষিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা তৈরি করতে চায়। যেটি তাদের ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা’ হিসেবে কাজ করবে। ইরান ২০২০ সালে পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে পারমাণবিক স্থাপনা তৈরি শুরু করে। ওই সময় থেকে দেশটি বলছে এখানে শুধুমাত্র উন্নত প্রযুক্তির সেন্ট্রিফিউজ তৈরি করা হবে। সূত্র: আলজাজিরা