বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নেবে না— এই শর্তে রাজি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি পৃথক চুক্তির কাজ চলছে এবং তা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতি এবং সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প, পৌর স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত খাতে ব্যয় করা হবে ক্ষতিপূরণের এই অর্থ। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।


প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণ চুক্তির খসড়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ নামের একটি তহবিলের উল্লেখ রয়েছে। সেই তহবিলে জমা থাকবে ক্ষতিপূরণের এই ৩০ হাজার কোটি ডলার। এ অর্থের যোগান আসবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।


ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’দশক ধরে টানাপোড়েন চলছে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে। ইরান অবশ্য বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।


পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত দু’দশকে একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানের অর্থনীতিকে কার্যত বিধ্বস্ত করার পর ২০২৫ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি প্রথমবারের মতো দেশটিতে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেবার ১২ দিন ধরে চলেছিল সংঘাত।


একই ইস্যুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের ইরানে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী এবং টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এখনও সেই বিরতি চলছে।


সম্প্রতি ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং একটি চুড়ান্ত শান্তি ও সমঝোতা চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা নিয়ে আলোচনা চলছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। যদি এ ইস্যুটি চূড়ান্ত হয়, তাহলে বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদকালে দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।


উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরানের অবরোধের কারণে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটছে।


তাছাড়া ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের যে মজুত রয়েছে, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়। কারণ বিশুদ্ধতার মান যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে অনায়াসে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারবে ইরান।


যুক্তরাষ্ট্রে কর্মকর্তারা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, যদি ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়, হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে রাজি হয়— কেবল তখনই ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরু হবে।


সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : রয়টার্স
চীনকে মোকাবিলায় প্রথম চালানের দুটি যুদ্ধবিমান পেল তাইওয়ান

চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে নিজেদের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রথম চালানের দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান পেয়েছে তাইওয়ান। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে মোট ৬৬টি নতুন যুদ্ধবিমানের মধ্যে এই প্রথম দুটি বিমান তাইওয়ানে এসে পৌঁছাল।       রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার যুদ্ধবিমান দুটি দেশটির পাহাড়ি পূর্ব উপকূলের তাইতুং-এর চিহ্যাং বিমান ঘাঁটিতে এসে পৌঁছায়। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতেই এই যুদ্ধবিমানগুলো আনা হয়েছে।     সফটওয়্যার সমস্যার কারণে কয়েক মাস দেরি হওয়ার পর অবশেষে এগুলো পৌঁছাল। চীনের সামরিক বিমানগুলোর ওপর নজর রাখতে তাইওয়ানের বিমান বাহিনীকে প্রায় প্রতিদিন আকাশে উড়তে হয়।       তাই এই নতুন দুটি বিমান তাদের বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে চীন প্রায়ই নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। এর ফলে তাইওয়ানকে প্রতিনিয়ত চীনের সামরিক হুমকির মুখে থাকতে হয়।       যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।     কিন্তু সেই অস্ত্রগুলো পেতে দেরি হওয়ায়, তাইওয়ান এর আগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।       এই সরবরাহটি এমন এক সময়ে সম্পন্ন হলো, যার ঠিক এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র এই বিষয়ে পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তারা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এর মধ্যে তাইওয়ানও অন্তর্ভুক্ত।       ফেসবুকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে লিখেছেন, ‘তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে এ এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’ এই সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদও জানান তিনি।     তাইপের সংসদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানিয়েছেন, আরো নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান শিগগিরই আসছে, যদিও তিনি এর কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেননি।     ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে লকহিড মার্টিনের ৮শ কোটি ডলারের এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দেয়। এর ফলে তাইওয়ানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।      গত মে মাসে চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তিনি তাইওয়ানের জন্য একটি নতুন ১৪০০ কোটি ডলারের প্যাকেজ স্থগিত রাখছেন, যদিও তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছিলেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ ভারতের ত্রিমাত্রিক সক্ষমতার তথ্য প্রকাশ

সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের অভিযানে বাধা দিল চীনের জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি যুদ্ধে ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান

ইসরায়েলিদের প্রাণ বাঁচানো সেই ‘হিরো’ ভারতীয় পাইলটকে দেখতে হাসপাতালে দুবাইর যুবরাজ

  মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট ও ‘হিরো’ স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। ওই পাইলট ১৭২ যাত্রী ও ক্রুর জীবন বাঁচাতে গুরুতর আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।   হাসপাতালে মাচ্ছারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার প্রতি ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা’ জানিয়েছেন দুবাইয়ের যুবরাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তার প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা রয়েছে। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের গল্পের অংশ, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে; সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের- তারও অংশ।   হাসপাতালে মাচ্ছারের সঙ্গে কথা বলা এবং তাকে আলিঙ্গন করার ছবি প্রকাশিত হয়েছে।   ১৭২ জন ইসরায়েলি যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ছিলেন মাচ্ছার। তার সহ-পাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আলহাম্মামি। বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টায় তিনি হঠাৎ ককপিটের ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা করেন।   দুই পাইলটের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি হাজার হাজার ফুট নিচে নেমে যায় এবং বিধ্বস্ত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। চরম পরিস্থিতিতেও অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহস দেখিয়ে মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রীদের সতর্ক করেন। যাত্রীরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীল করেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা পাইলটরা বিমানটি অবতরণ করেন।   ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।   সহ-পাইলটের বিমান বিধ্বস্তের কথিত চেষ্টার উদ্দেশ্য এখনও তদন্তাধীন। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, উগ্র মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এর আগে ওমানে আলহাম্মামিকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।   বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ঘটনাটি কোনও ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের’ সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের পথে পাকিস্তানের চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’

সংগৃহীত ছবি

সুস্থ আছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি: শাশুড়ির দাবি

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপ জরুরি ভিত্তিতে বাজারে মজুত ডিজেল ছাড়বে: ট্রাম্প

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।      তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপের দেশগুলো তাদের জমা থাকা বিশাল পরিমাণ ডিজেল জরুরি ভিত্তিতে বাজারে ছাড়তে রাজি হয়েছে। খুব দ্রুতই এই কাজ শুরু হবে।       নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইউরোপ তাদের প্রচুর পরিমাণে মজুত করা ডিজেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া এখনই শুরু হয়ে যাবে।      এই বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে ইউরোপের এই সিদ্ধান্তে বাজারে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সূত্র: আল-জাজিরা।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০২, ২০২৬

ইসরাইলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন আরব-ইসরাইলি প্রার্থী

রয়টার্স ছবি

ইরান ঘিরে সামরিক উপস্থিতি ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছে ৪ সদস্যের নভোচারী দল

0 Comments