বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে কোন আইনে নিকোলা মাদুরোর বিচার হবে

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো একজন অপরাধী। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আজ শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে স্ত্রীসহ মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগে মামলা করা হয়।

মাদুরোকে গ্রেপ্তারের জন্য দেড় কোটি ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসন। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে বাইডেন প্রশাসনের শেষ দিনগুলোতে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে আড়াই কোটি ডলার করা হয়।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০২৫ সালের আগস্টে কার্টেল দে লস সোলেসকে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কারের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে পাঁচ কোটি ডলার করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মাদুরো ওই সন্ত্রাসী সংগঠনটির নেতা।

গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘মাদুরোর সরকার যে একটি মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, এ অভিযোগ কিংবা এ দাবি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়। এটি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে গ্র্যান্ড জুরির কাছে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে বলা হয়েছে। গ্র্যান্ড জুরি নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছে।’

আজ শনিবার সকালে ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলের সিনেটর মাইক লি আজ শনিবার ভোরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, ‘তিনি (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও) আমাকে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী নিকোলা মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অপরাধের মামলায় তাঁর বিচার করা হবে। আজ রাতে আমরা যে সামরিক অভিযান দেখেছি, তা মূলত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে চালানো হয়েছিল।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

পর্তুগালে প্রবাসী সংগঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশি সংস্কৃতি উপস্থাপন

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বেলেম অঞ্চলে বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক ও উদ্যোক্তা প্রদর্শনী।   'উইমেন্স এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড কালচারাল নেটওয়ার্কিং এক্সিবিশন ২০২৬' শীর্ষক এ আয়োজন প্রবাসে বাংলাদেশি নারীদের সৃজনশীলতা, আত্মনির্ভরতা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।   বাংলাদেশি সংগঠন 'গোল্ডেন ভিশন অ্যাসোসিয়েশন', পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বেলেম জুন্টা দে ফ্রেগেসিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লায়লা মুনতাজেরী দীনা।   অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত মারিয়ানা মিখাইলেঙ্কো, পানামার রাষ্ট্রদূত আর্মোনিয়া চেং, নাইজেরীয় দূতাবাসের প্রতিনিধি হারুনা মুসা এবং কাবো ভার্দের রাষ্ট্রদূত জাইদা সানচেস উল্লেখযোগ্য।   প্রবাসে নারীদের আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প, গয়না, ঘরসজ্জার সামগ্রী, উপহারপণ্য এবং দেশীয় খাবার প্রদর্শন করেন। প্রতিটি স্টলে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নান্দনিকতার ছাপ।   মেলায় অংশগ্রহণকারী অনেক উদ্যোক্তা জানান, পরিবার ও পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তাঁরা ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন। সীমিত সুযোগের মধ্যেও তাঁরা প্রবাসে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।   দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া মেলা ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় দর্শনার্থী ও বিভিন্ন দেশের অতিথিরা বাংলাদেশি নারীদের সৃজনশীলতা ও উপস্থাপনায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। দর্শনার্থীদের অনেকেই উদ্যোক্তাদের পণ্য কিনে উৎসাহ দেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।   অনেক অতিথি মন্তব্য করেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্যকে শক্তিশালী করে না, বরং পর্তুগিজ সমাজের কাছেও বাংলাদেশের ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   নারীর ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কার্যকর নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে তাঁরা নিজেদের পণ্য ও দক্ষতা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।   আয়োজক গোল্ডেন ভিশন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাসুম মজুমদার জানান, একজন নারী উদ্যোক্তার সফলতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পরিবার ও সমাজের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশি নারীরা যে দক্ষতা, মেধা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন, এই আয়োজন তার উজ্জ্বল উদাহরণ।   বাংলাদেশের ঐতিহ্যের বর্ণিল উপস্থাপন মেলার বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপস্থাপন দেখা যায়। দেশীয় পোশাকের রঙিন সমাহার, হাতে তৈরি শিল্পপণ্য, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং নান্দনিক সাজসজ্জা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও এ আয়োজন ছিল শিক্ষণীয়। তাঁরা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছেও বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচিতি তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। সফল আয়োজন নিয়ে আশাবাদ আয়োজকরা অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতা করা সকল অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, উদ্যোক্তা, সংবাদকর্মী এবং কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তাঁরা। সব মিলিয়ে, 'উইমেন্স এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড কালচারাল নেটওয়ার্কিং এক্সিবিশন ২০২৬' প্রবাসে বাংলাদেশি নারীদের উদ্যোক্তা সক্ষমতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং কমিউনিটির ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকলেন মমতা

ছবি: সংগৃহীত

আমি মোদির বড় ভক্ত: ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরাইলের

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও রোববার দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হিজবুল্লাহ প্রধান। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রোববার ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ইসলামিক হেলথ কমিটির এক প্যারামেডিকসহ দু’জন নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়। এর আগের দিন দক্ষিণাঞ্চলীয় সির আল-গারবিয়েহ এলাকায় এক হামলায় ছয় নারী ও এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়। মন্ত্রণালয় এই হত্যাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। রোববার মন্ত্রণালয় জানায়, এর আগের দিন দক্ষিণাঞ্চলের সির আল-গারবিয়াহতে এক হামলায় ছয় নারী ও এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয় এই হত্যাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশকারী ইসরাইলি সেনাদের পাশাপাশি সীমান্তের ওপারের লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপরও হামলা অব্যাহত রেখেছে। রোববার রকেট, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে চালানো ২০টিরও বেশি হামলার কথা তারা স্বীকার করেছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশপাশি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে, যার কয়েকটিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকরা।  ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার এক ডজনেরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রাতের ইসরাইলি হামলায় নাবাতিয়েহ অঞ্চলে তাদের একটি স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে।  এএফপির এক আলোকচিত্রী বলেন, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করছেন। এএফপি’র জেরুজালেম ব্যুরোর প্রশ্নের জবাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই হামলা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইরান

ছবি: সংগৃহীত।

যুদ্ধ সত্ত্বেও হজের জন্য সৌদি পৌঁছেছে রেকর্ড সংখ্যক মুসল্লি

ছবি: সংগৃহীত

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ৯০০ ছাড়াল

ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ পেরিয়ে চীন ও পাকিস্তানের পথে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার

প্রায় তিন মাস পর আবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী বড় বড় জাহাজ চলাচল শুরু করেছে। আজ সোমবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী দুটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পাকিস্তান ও চীনের পথে যাত্রা করেছে। খবর রয়টার্সের। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, একটি এলএনজি ট্যাংকার পাকিস্তানে যাচ্ছে এবং আরেকটি চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর আগে ইরাকের অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি বড় তেলবাহী জাহাজও এই প্রণালি পার হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন সীমিত আকারে আবার জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ইরান নির্দিষ্ট একটি রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। গত কয়েক দিনে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে কয়েকটি বড় তেলবাহী জাহাজও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে এখনো উপসাগর এলাকায় শত শত জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৫, ২০২৬
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চুক্তি আজই হতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকো। ছবি: সংগৃহীত

সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার পর বরখাস্ত সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ শুরু, মিনায় যাচ্ছেন হজযাত্রীরা

0 Comments