আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য কিনবে ভারত, একতরফা চুক্তি কেন বলছেন বিশেষজ্ঞরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারত সফর শেষে মন্তব্য করেছিলেন, ‘নয়াদিল্লি আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষির ওপর জোর দিয়ে ৫০ হাজার কোটি ডলার’ মূল্যের আমেরিকান পণ্য কিনতে ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে।

 

রুবিওর এই মন্তব্য কেবল নয়াদিল্লির রাজনৈতিক মহলেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, ভারত কেন এমন একটি একতরফা চুক্তিতে রাজি হলো এবং এর বিনিময়ে ভারতের আসলে কতটা লাভ হবে।

‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে ভারত কেন এমন একটি প্রতিশ্রুতি দেবে, তা বেশ রহস্যজনক।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ যখন এই চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তার পর থেকে পরিস্থিতির মূল ভিত্তিগুলো অনেকটাই বদলে গেছে। এমন একটি চুক্তিতে সই করা ভারতের জন্য ‘বোকামি’ হবে, যা দেওয়ার চেয়ে কেড়ে নেয় অনেক বেশি।

কী পরিবর্তন এসেছে

এই ৫০ হাজার কোটি ডলারের অঙ্কটি প্রথম সামনে আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি ঘোষণা করেছিল। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেন, যা ভারতে বেশ স্বস্তি এনে দিয়েছিল।

তবে হোয়াইট হাউস সে সময় জানিয়েছিল, শুল্ক কমানোর বিনিময়ে নয়াদিল্লি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, কয়লা এবং অন্যান্য পণ্যের বার্ষিক আমদানি দ্বিগুণের বেশি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের চুক্তির বিজ্ঞপ্তিতে এই পয়েন্টকে শেষের আগের পয়েন্ট হিসেবে প্রায় লুকিয়ে রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্র কেনার তালিকায় উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ যুক্ত করেছিল। যখন এই ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, তখন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছিলেন, ভারতীয় অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করলে এই সংখ্যা খুবই সাধারণ বা রক্ষণশীল।

গোয়েল বলেন, আগামী পাঁচ বছরে কেবল বিমান খাতের চাহিদাই ১০ কোটি হাজার ডলারের বাণিজ্যের কারণ হবে। এর থেকে বোঝা যায়, কম শুল্কের বিনিময়ে এটি যৌক্তিক এক চুক্তি ছিল।

তবে সেই মাসের শেষের দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, ট্রাম্পের ঢালাও পারস্পরিক এবং ফেন্টানিল-সম্পর্কিত শুল্ক আরোপ অবৈধ। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা ব্যবহার করে তাদের সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ঢালাওভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এটি বেশ অদ্ভুত, ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের আমেরিকান পণ্য কেনার পরিকল্পনা কেবল চালিয়েই যাচ্ছে না, বরং রুবিওর এই দাবিকে চ্যালেঞ্জও করছে না। তাদের চুপ থাকার ফলে এটি এখন একটি ‘প্রতিশ্রুতিতে’ পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে পীযূষ গোয়েলের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলা হয়, ভারতীয় অর্থনীতি উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের মতো বড় বড় জিনিস কেনার ক্ষমতা রাখুক বা না রাখুক, কেন দেশটি সেরা চুক্তি পেতে অন্যান্য সরবরাহকারীর পথ খোলা রাখবে না?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং ভারতীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ার ফলে ভারত তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এসব উদ্বেগ আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদেরা প্রশ্ন তুলেছেন, কোম্পানিগুলোকে মার্কিন সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতি ছাড়া বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা আদৌ সম্ভব কি না।

এমকে গ্লোবালের অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই হিসাব মিলছে না।’ তিনি এই লক্ষ্যমাত্রাকে ‘বাস্তবধর্মী হওয়ার চেয়ে অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র হলো ভারতের শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নয়াদিল্লির মোট রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সে দেশে পাঠানো হয়েছিল।

রপ্তানি শুল্ক আরোপের আগের স্তরের কাছাকাছি থাকলে এবং আমদানি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের যে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত (লাভ) রয়েছে, তা কমে যেতে পারে। এতে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের মোট পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৮ হাজার ৩০৫ কোটি ডলার।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ ধর এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি ডলার আমদানি করতে হলে এটি ভারতের বাণিজ্যের ভারসাম্যকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান শর্তগুলো মূলত ভারতের প্রধান বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখছে মাত্র, রপ্তানি বৃদ্ধিতে কোনো সাহায্য করছে না।

ভারতের এই পদক্ষেপের পেছনে কারণ কী

ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল এক সময়ে রুবিওর এই ভারত সফর হলো। এখন অনেক ভারতীয় চীন ও পাকিস্তানের প্রতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো নিয়ে চিন্তিত।

তা ছাড়া ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে ভারত বেশ রক্ষণশীল অবস্থানে রয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, নয়াদিল্লিই প্রথম এই সুবিধা পাবে। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের পণ্যের ওপরই সবচেয়ে বেশি শুল্ক চাপানো হয়।

‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট যারাই ক্ষমতায় ছিল, তারা ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদও রয়েছে।

কিন্তু ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং গত বছর ভারত-পাকিস্তান শান্তিচুক্তিতে নিজের কৃতিত্ব দাবির পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।

নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেই ট্রাম্প ভারতের ওপর এই শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেন।

তবে নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের গতি একটুও কমেনি... এই সম্পর্ক আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে।

ভারতের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রুবিও ভারতকে এটি ব্যক্তিগতভাবে না নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের এক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে এবং এর সমাধান করা দরকার। এটি ভারতকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।’

রুবিওর পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (তৎকালীন দায়িত্ব অনুযায়ী) বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আমেরিকা প্রথম) হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্টভাষী।

জয়শঙ্কর আরও যোগ করেন, ‘আমাদেরও একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে, আর তা হলো “ইন্ডিয়া ফার্স্ট” (আগে ভারত)।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
র‍্যাপার প্রধানমন্ত্রী ও জেন–জি সরকার নিয়ে অস্বস্তিতে নেপাল

নেপালের এখনকার প্রধানমন্ত্রী একজন র‍্যাপার, এটা বাংলাদেশীদের জানা। তাঁর সবচেয়ে হিট গান ‘ম নেপালও হাসেকো হের্ন চাহাচ্ছু’। বাংলায়, ‘আমি দেখতে চাই নেপাল হেসে উঠুক’। মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ এ গানের, যা একসময় কাঠমান্ডুতে মেয়র হওয়ার দৌড়ে বালেনকে বেশ সাহায্য করে। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী।   নেপালে জেন-জিরা গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাঁকে সামনে রেখে নির্বাচনে জিতে সরকার গড়েছে। সেই সরকার দুই মাস পার করল। কিন্তু নেপালে র‍্যাপার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সর্বমহলে প্রত্যাশায় টান পড়েছে। চায়ের আড্ডায় কটু কথার বাইরেও পত্র-পত্রিকাগুলো তাঁকে সমালোচনা করে সম্পাদকীয় লিখতে শুরু করেছে। তাঁর সরকারের ডিক্রিগুলো বিধিবিধান সম্মত নয় বলে উচ্চ আদালত একের পর স্থগিত করে দিচ্ছেন। খোদ দলের মধ্যেও বালেন শাহর আচার-আচরণ ও নানা পদক্ষেপে বাড়ছে অস্বস্তি। অসন্তোষের বিষয়গুলোও বিচিত্র। পার্লামেন্টে আগ্রহ কম প্রধানমন্ত্রীর নেপালের গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের প্রায় এক বছর পর হলেও উভয় দেশে নির্বাচিত সরকারের যাত্রা কাছাকাছি সময়ে। কোনো নতুন প্রধানমন্ত্রীকে মূল্যায়নের জন্য এত অল্প সময় যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের মিডিয়ায় চিত্রটা তাই ‘হানিমুন পিরিয়ড’–এর মতো। কিন্তু নেপালের প্রধান প্রধান প্রচারমাধ্যমে বালেন শাহ ৫০-৬০ দিনের মধ্যেই জবাবদিহির মুখে পড়েছেন। দেশের প্রধান দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট–এ গত সাত-আট সপ্তাহে তাঁকে নিয়ে বেশ কড়া ভাষায় অন্তত পাঁচটি সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় বের হলো এবং সেসব অকারণে নয়। শুরু থেকে দেখা যাচ্ছে, ৩৬ বছর বয়সী র‍্যাপার প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে আসেন কম, কথা বলেন আরও কম। অথচ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও পার্লামেন্ট পাশাপাশি। নেপালের ইতিহাসে এই প্রথম এ রকম ঘটল, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয়-সাত সপ্তাহেও প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে কোনো বক্তব্য দেননি। দেশের নির্বাহী প্রধানের এই চুপচাপ থাকা নিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট–এর ১৪ মে সম্পাদকীয়তে লেখে, ‘বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথা শোনার অধিকার রয়েছে জনগণের’। আগের দিন একই কাগজে প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি গণতন্ত্রের প্রথা এবং জবাবদিহির সঙ্গে মানানসই নয়’। পার্লামেন্টে উপস্থিত হলেও নানা কাণ্ড ঘটান বালেন। ২ এপ্রিল দেশটির পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্রের ভাষণের সময় মাঝপথে প্রধানমন্ত্রী উঠে চলে যান, যা জাতীয়ভাবে বিস্ময় তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কোনো বক্তৃতা দেননি। প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নিতে রাজি নন। তাঁর কাছে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরের ভার দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে। জেন-জি সরকার দেশকে অনেকটা রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতিতে ঠেলে দিচ্ছে। গত প্রায় দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বিতর্ক হয়েছে। এর মধ্যে নিজের কর্তৃত্ব বাড়াতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বদলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সংযুক্ত করেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন করেছিল কিছুদিন আগে। এ মুহূর্তে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে কাঠমান্ডুসহ প্রধান শহরগুলোতে ভাসমান মানুষদের বস্তিসদৃশ আবাসগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে। চরম বৈষম্যে ভরা সামাজিক বাস্তবতায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বেশ অমানবিক বলা হচ্ছে। এই বছরই এক গবেষণা শেষে অক্সফাম নামের সংস্থা জানিয়েছিল, নেপালের ওপর দিকের ১ শতাংশ মানুষের হাতে যেখানে জাতীয় সম্পদের প্রায় ২৫ শতাংশ রয়েছে, সেখানে নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে আছে জাতীয় সম্পদের ৫ শতাংশের কম। সরকারের পদক্ষেপে নিচুতলার ভূমিহীনরা এখন বসতিহীনও হচ্ছে। উচ্ছেদের মুখে দরিদ্রদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো শহরে শহরে বিক্ষোভ করছে প্রতিদিন। সরকার বলছে, তারা এ রকম শহুরেদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেবে। তবে পুনর্বাসনের আগেই উচ্ছেদ স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে রাগিয়েছে। উচ্চ আদালতের সঙ্গে ঠোকাঠুকি নেপালের জেন-জি সরকার এখন সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মুখে আছে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে। জ্যেষ্ঠ তিনজনকে ডিঙিয়ে বালেন শাহ প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন মনোজ কুমার শর্মাকে। এতে ঐতিহ্যের লঙ্ঘন ঘটেছে বলে বলা হচ্ছে। সরকার বলছে, সংবিধান পরিষদ এই নিয়োগের সুপারিশ করেছে এবং তাতে পার্লামেন্টের অনুমোদন আছে। তবে সংবিধান পরিষদের প্রধান খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং পার্লামেন্টে রয়েছে তাঁর সরকারের প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ। ইতিমধ্যে এই নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে। আবার মনোজ কুমার শর্মা দায়িত্ব নিয়েও ফেলেছেন। তবে বিতর্ক থেমে নেই তাতে। বিচার বিভাগের স্বাভাবিক কাজকর্মেও বিতর্কের ছাপ পড়ছে। আইনজীবীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন প্রধান বিচারপতির নিয়োগ উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের মধ্যেও নীতিগত বিভেদরেখা তৈরি করেছে। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে, নেপালের উচ্চ আদালতে এখন প্রধান বিচারপতির চেয়েও সিনিয়র তিনজন বিচারপতি রয়েছেন। সিনিয়র এই তিন বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলে এ বিষয়ে চলমান বিতর্ক উত্তেজক রূপ নিতে পারে। প্রধান বিচারপতি, প্রধান সেনাপতি ইত্যাদি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা ও রাজনৈতিক সরকারের বিবেচনার মধ্যে কোনটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত, এ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বহুকাল যে বিতর্ক চলছে, তাতে নেপালের ঘটনা সর্বশেষ সংযোজন। এর মধ্যেই অফিস-আদালতে কর্মচারীদের ইউনিয়ন গঠন এবং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সংগঠন করার অধিকার বন্ধ করে বালেনের সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেসব উচ্চ আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল বালেন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন। বাংলাদেশেও এই ঘোষণা ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। বিচারবিভাগীয় বেঞ্চ জানিয়েছে, কর্মচারীদের ইউনিয়ন গঠনের অধিকার দেশটির ১৯৯২ সালের সিভিল সার্ভিস অ্যাক্টের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা আইএলওর সনদের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। শ্রমিক অধিকার নিয়ে সক্রিয় অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও বালেন সরকারের ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। সরকার বলছে, দলীয় পরিচয়ের সংগঠন বিদ্যাপীঠ এবং সরকারি দপ্তরে দক্ষতার ক্ষতি করছে। এসব বিষয়ে বিতর্ক চলার মধ্যেই নতুন প্রসঙ্গ আসে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। সীমান্তপথে আসা নিত্যদিনের কোনো সামগ্রীর দাম ১০০ রুপির বেশি হলে তাতে ৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার, সেটাও আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। সরকারের নতুন সীমান্তনীতি মধেস এলাকায় জীবনযাত্রায় বেশ ছন্দপতন ঘটিয়েছিল। ভারত-নেপাল সীমান্তের ঐতিহাসিক যে ধরন, তাতে উভয় দিকে মানুষ ও সাধারণ জিনিসপত্রের চলাচল অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা। নেপালের বহু মানুষ নিত্যদিনের কেনাকাটা করতে পাশের ভারতীয় বাজার–হাটে যান। হলুদ-মরিচ থেকে চা-বিস্কুট, ওষুধ-পথ্যসহ অনেক সামগ্রী কেনাকাটা, আনা-নেওয়া হয় এভাবে। দীর্ঘ সীমান্তের উভয় দিকে মানুষের জীবনধারা এভাবেই চলছে বহুকাল। শাসক দলের এই অঞ্চলের নেতা-কর্মীরাও মনে করছেন, বালেন সরকারের সিদ্ধান্ত সীমান্তবর্তী মানুষকে ক্ষুব্ধ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলের দূরত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ধাঁচের শাসনপদ্ধতি এবং চালচলন নিয়ে তাঁর দলেও গুঞ্জন চলছে। ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সাত দফা চুক্তির ভিত্তিতে তাঁকে দলভুক্ত করে ৫ মার্চের নির্বাচনের কিছুদিন আগে। গণ–অভ্যুত্থানকারী জেন-জি সংগঠনগুলো একসঙ্গে বসে তাঁকে আরএসপিতে আনে। এটা খুব বেশি আগের দল নয়। ২০২২ সালে বিভিন্ন পেশাজীবী তরুণ-তরুণীরাই গড়ে তোলেন। এবারের ভোটে তাদের জয় মূলত জেন-জি অভ্যুত্থানের জোয়ারে এবং বালেন শাহর জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ওপর সমাজের বিরক্তিতে দলটিতে উদ্বেগ আছে। যেহেতু জোয়ারধর্মী ভোটে নির্বাচনী বিজয়, এ কারণে ভাটার লক্ষণে আরএসপির অনেকে শঙ্কা বোধ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আরএসপির কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। পার্টির বৈঠকেও সচরাচর আসেন না তিনি। দলের খুব কম নেতাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। অস্বস্তিতে দুই প্রতিবেশী-শক্তিও নির্বাচনের আগে বালেনের দল চীন-ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিল, তারা আর ‘বাফার রাষ্ট্র’ হয়ে থাকতে চায় না, ‘সংযোগকারী রাষ্ট্র’ হতে আগ্রহী। নেপালকে এই তিন দেশের সম্পর্কের ভরকেন্দ্র বানাতে চায় আরএসপি। তবে গত ২৭ মার্চ সরকার গঠন থেকে চীন-ভারত নয়, গুরুত্ব যতটুকু পেয়েছে—সেটা যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকা থেকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ঢাকার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেপালও ঘুরে গেছেন। কৌতূহল উদ্দীপক বিষয় দেখা গেল, নেপালে ওয়াশিংটনের এখনকার আগ্রহ তিব্বতি শরণার্থীদের নিয়ে। বোধগম্য কারণেই চীন এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। নেপালে তিব্বতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা পাক, সেটা চীন দেখতে চায় না। জেন-জি আন্দোলনকালে অনেক বিক্ষোভকারীকে ‘টিওবি’ লেখা টি-শার্ট পরে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। টিওবি বলতে তারা বোঝাচ্ছে ‘দ্য অরজিন্যাল ব্লাড’। এই গোষ্ঠী তিব্বত মুক্ত করতে সক্রিয় ভিক্ষুদের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। বেইজিং মনে করছে, বর্তমান সরকারে এমন একটা উপদল আছে, যারা নেপালে চীনবিরোধী জনমত উসকে দিতে তৎপর। চীনের মতো ভারতও নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে গভীর নজরদারিতে রেখেছে। এর মধ্যেই সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির কাঠমান্ডু সফর বাতিল হলো। মিডিয়াগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ এখনই এ রকম বৈঠকে আগ্রহী নন বলেই এই সফর হলো না। এমনও খবর ছড়িয়েছে, বালেন ঠিক করেছেন, পদমর্যাদায় তাঁর চেয়ে নিচের কোনো বিদেশির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন না! বিক্রম মিশ্রির সফর বাতিলের ঘটনা নয়া দিল্লিকে বিব্রত করেছে। একই সঙ্গে এটা নেপালের নাগরিক সমাজেও বিস্ময় বাড়িয়েছে। স্থলবেষ্টিত নেপালের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীকেই নানা প্রয়োজনে দরকার। উভয়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই দেশটির স্বার্থের জন্য অনুকূল। আধুনিক নেপালের প্রতিষ্ঠাতা পৃথ্বী নারায়ণ শাহ বলতেন, নেপালের অবস্থা হলো দুই বিশাল পাথরখণ্ডের মাঝখানে একটা আলুর মতো। ফলে চীন-ভারতের নানা স্তরে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ থাকাটা জরুরি। এটা সত্য যে চীন-ভারত উভয়ের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বালেন শাহ ও তাঁর অনুসারী সমাজে কঠোর জাতীয়তাবাদী মনোভাব আছে। লিপুলেখ নামের যে এলাকা নিয়ে চীন-ভারতের সঙ্গে নেপালের বিরোধ চলছে, সেই পথে শেষোক্ত দুই দেশই ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে চাইছে এই জুন থেকে—যা কাঠমান্ডুর মধ্যে উপেক্ষার একটা বোধ তৈরি করেছে। তিন দেশের সীমান্ত-সংযোগের এই জায়গা নিয়ে নেপালের দাবি, নয়া দিল্লি-বেইজিং উভয়ে একজোট হয়ে অবজ্ঞা করছে। এ রকম অবস্থায় উভয় প্রতিবেশীকে দূরে রেখে বালেন শাহ কতটা সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, বাস্তববাদী কূটনীতিবিদেরা তাতে সন্দিহান। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বালেন শাহ প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে যাবেন এবং তখন সীমানা নিয়ে একটা সুরাহা হবে। বালেনের শাসননীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের আভাস দেশীয় ও আন্তদেশীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি বালেন শাহ বিতর্কে আছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পোশাক-আশাকের ধরন নিয়েও। প্রথাগত নেপালি পোশাকের বদলে তাঁর জমকালো ড্রেস, স্পোর্টস শু পরে পার্লামেন্টে হাজির হওয়া ছবি নিয়মিতই ভাইরাল হচ্ছে। কালো জামা-কাপড় ও কালো সানগ্লাসের প্রতি বালেনের আসক্তি আগেও ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেসব কতটা মানানসই, এই বিতর্কের মধ্যে ১৬ মে তিনি সাদা পোশাক পরে ফেসবুকে ছবি ছাড়ার পর সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। তাঁর এই রং–বদলের কারণ খুঁজে গবেষকভক্তরা বলছেন, বালেন প্রাথমিক কঠোরতার পর নমনীয় শাসননীতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন! মুখ বন্ধ রেখে ড্রেস পাল্টে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এই ব্যাখ্যা সত্য হলে এ–ও মানতে হবে, এ রকম স্টাইল দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক-সংস্কৃতির একটা মোড়বদলের ইঙ্গিত। বালেন শাহ কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রজন্মের প্রতিনিধি। যে প্রজন্মের ‘নেতা’রা এভাবেই নতুন নাগরিক সমাজকে মাতিয়ে রাখতে চাইছেন এবং এ রকম কৌশলের বিশ্বাসযোগ্য সফলতাও অস্বীকার করা যায় না। দেশ চালাতে ‘রাজনীতিবিদ’ হওয়া হয়তো জরুরি নয় আর, ‘জনপ্রিয়’ হলেই চলছে। নেপালের অভিজ্ঞতা আপাতত এটাই বলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি কেমন হবে?

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য কিনবে ভারত, একতরফা চুক্তি কেন বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ছবি : সংগৃহীত
মোদির আমন্ত্রণে নয়াদিল্লির সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইং। শনিবার (৩০ মে) তিনি বিহারের বুদ্ধগয়ায় পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সভ্যতাগত ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রণধীর জয়সওয়াল বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বুদ্ধগয়ায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আগমনের কথা উল্লেখ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন। এক্সের ওই পোস্টে বলা হয়, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইংকে বুদ্ধগয়ায় উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে মাননীয় রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সফর আমাদের দুটি দেশের মধ্যকার দৃঢ় আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক এবং চলমান সহযোগিতার গভীরতাকে প্রতিফলিত করে। ভারতে পৌঁছানোর পরপরই প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বৌদ্ধদের পবিত্র তীর্থস্থান এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ‘মহাবোধি মন্দির’ পরিদর্শন করেন। ৩০ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত স্থায়ী এই সফরটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম ভারত সফর। এই সফরে তার সঙ্গে ক্যাবিনেট মন্ত্রী, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। সেখানে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি তিনি একটি বিশেষ বিজনেস ফোরামে অংশ নেবেন। আগামী ২ জুন ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ভারী শিল্প সংক্রান্ত আলোচনা, ব্যবসায়িক বৈঠক এবং বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি শেষ হবে।   সূত্র: উইয়ন নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যে শহরে প্রায় প্রতি বাড়িতেই থাকে উড়োজাহাজ

ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের রকেট-ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল উত্তর ইসরায়েল

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজে জাহাজ চলাচলে ইরানের কড়া বার্তা

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত
চুক্তি ব্যর্থ হলে ইরানে পুনরায় হামলার সম্ভাবনা : হেগসেথ

ইরানের সঙ্গে পরমাণু ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই কঠোর বার্তা দিল ট্রাম্প প্রশাসন।   রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শনিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেছেন হেগসেথ।   হেগসেথ বলেন, ‘প্রয়োজন হলে পুনরায় (হামলা) শুরু করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকবিলার জন্য আমাদের যথেষ্ট অস্ত্রের মজুত আছে, সেটা মধ্যপ্রাচ্যে হোক কিংবা বিশ্বজুড়ে। সব মিলিয়ে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছি।’   প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ওপর থেকে তাদের নজর সরিয়ে নেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারি। আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতকে শক্তিশালী করছি, যার ফলে খুব শিগগিরই আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই, তিন বা চার গুণ বেশি গোলাবারুদ তৈরি করব, যাতে বিশ্বজুড়ে আমাদের সমস্ত সামরিক পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।’   পেন্টাগন প্রধান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত নমনীয়। তিনি একটি ভালো চুক্তি করতে চান, যা নিশ্চিত করবে ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।’   এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপদ কক্ষে বৈঠকে বসবেন। ওই প্রস্তাবে গত এপ্রিলের শুরুতে নেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

অমরত্বের খোঁজে পুতিন! অঙ্গ মেরামত প্রকল্পে ২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আটকে গেল

সংগৃহীত ছবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল আরও ৬০ দিন

0 Comments