বিশ্ব

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘটনায় বিজেপিকে দায়ী করে বলেছেন, ‘শাসকই খুনি হয়ে গেছে।’

 

শনিবার (৩০ মে) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে দলীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনে ভরাডুবির পর তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর সহিংসতা চালানো হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ নিতে সেখানে যান তিনি।

 

স্থানীয় একটি জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা হয় বলে জানা গেছে। এ সময় একদল ব্যক্তি তাকে ধাক্কাধাক্কি করে, ডিম ও পাথর ছুড়ে মারে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে তাকে এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে চড় ও ঘুষিও মারা হয়।

 

ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘শাসকই খুনি হয়ে গেছে। লজ্জা হওয়া উচিত, বিজেপি।’ সম্প্রতি ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে বিজেপি।

 

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ হামলাকে ‘বিজেপি-প্ররোচিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন তারা আমার সঙ্গে কী করেছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। এলাকায় কোনো পুলিশ নেই। তারা আমাকে হত্যা করতে চায়। স্থানীয় পুলিশ এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমি এই এলাকা ছাড়ব না।’

 

তবে বিজেপি এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সামিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ডিম নিক্ষেপ বা হেনস্তার ঘটনায় বিজেপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গত ১৫ বছরে তৃণমূল কীভাবে রাজ্য পরিচালনা করেছে, তা মানুষ জানে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত। তাদের কাছে যাওয়ার নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার তৃণমূলের নেই।’

 

তিনি হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘কোনো সুস্থ সমাজে এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। মানুষের ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু এ ধরনের আচরণ গণতন্ত্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের দল এসব ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়।’

 

এদিকে কংগ্রেসও হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে বিরোধী নেতার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

 

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা একটি বড় ইস্যু। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও ভোটের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছিল, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল হঠাৎ যুক্তরাজ্যে ফিরছেন, আসল কারণ কী?

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের যুক্তরাজ্যে আকস্মিকভাবে ফিরে আসা নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করার খবরের পর এবার আলোচনায় এসেছে হ্যারির যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতা। শনিবার লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার এ খবর প্রকাশ করেছে।  টকটিভিতে পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ নাইল গার্ডিনার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে হ্যারির অভিবাসন নথি নিয়ে চলমান তদন্ত তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে এটি এখনো হ্যারি বা মেগানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। হ্যারির ভিসাসংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবিতে একটি তথ্য অধিকার আইনের মামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার অভিবাসন রেকর্ড পর্যালোচনা করছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে বিভাগটি ১৮টি নথি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। মামলার নথি অনুযায়ী, হ্যারিকে নিয়ে মোট ৩০৭টি নথি রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৮৭ পৃষ্ঠা। আপাতত এসব নথির কোনোটি প্রকাশ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। টকটিভিতে গার্ডিনার বলেন, যুক্তরাজ্যে হ্যারি-মেগানের ফিরে আসার সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক। এমনকি রাজা তৃতীয় চার্লসও নাকি সিদ্ধান্তটি নেওয়ার আগে বিষয়টি জানতেন না। প্রিন্স উইলিয়ামও এতে বিস্মিত হয়েছেন। তবে হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার পেছনে রাজা চার্লসের স্বাস্থ্য, সন্তানদের ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ানো কিংবা মেগানের অভিনয়ে ফেরার পরিকল্পনাসহ আরও কয়েকটি কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত হ্যারির যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতাই তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার কারণ—এটির আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। ফলে বিষয়টি আপাতত বিশেষজ্ঞের দাবি ও গণমাধ্যমের জল্পনা হিসেবেই রয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে জাহাজডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২

মার্কিন অর্থনৈতিক অভিযানে যোগ দিলে প্রতিবেশী দেশকে শত্রু হিসেবে দেখা হবে: ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হতে দেব না: নেতানিয়াহু

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ। ছবি: শাফাক নিউজ
কাতারে ৩ ইরানি পাইলটের পরিণতি নিয়ে ধোঁয়াশা, বাড়ল কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ

কাতারে আটক নিজেদের তিন পাইলটের শারীরিক অবস্থা খারাপ বলে দাবি করেছে ইরান। তাদের দ্রুত স্থলভাগের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।       শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাঘেরজাদেহ বলেন, তিন পাইলটকে উপকূলের বাইরে অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখা হয়েছে। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান।       তবে ইরানি পাইলটদের আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি বিমান কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর এবং যোগাযোগের একাধিক চেষ্টায় সাড়া না দেওয়ায় কাতারি বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। পরে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে।     এর আগে ১৬ আগস্ট বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছিলেন, পাইলটদের কী হয়েছে তা তদন্ত করতে ইরানের একটি তথ্য অনুসন্ধানী দল পাঠানোর অনুরোধে কাতারি কর্তৃপক্ষ দেরি করছে।     কাতার সেই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে ইরানি একটি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।       দুই দেশের বক্তব্যে পাইলটদের বর্তমান অবস্থান ও আটকের বিষয়টি নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় হামাস কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরায়েলি বাহিনীর

ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে মিসর-ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র খরা ও উৎপাদন ঘাটতিতে খাদ্যসংকটের শঙ্কা ব্রিটেনে

ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের সামরিক পরিকল্পনা ঠেকাতেই সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা

তুরস্ক সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে এমন এক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। গোয়েন্দাদের এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সিরিয়ার আবু আল দুহুর বিমানঘাঁটিতে গত সপ্তাহে হামলার সুপারিশ করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ দাবি করেছেন। খবর আল জাজিরার। কাটজ বলেন, হামলার অনুমোদন দেওয়ার আগে সিরিয়া সরকারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্ক করেছিল ইসরায়েল। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হয়। তবে সিরিয়ার পক্ষ থেকে ইসরায়েলের দাবির বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ার পর হামলা চালানো হয়। যদিও ইসরায়েলের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার আগে বা হামলার সময় আবু আল দুহুর ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধি দল ছিল না। সিরিয়াও জানিয়েছে, আবু আল দুহুরে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য তুরস্কের কর্মকর্তারা ওই স্থাপনা পরিদর্শন করেছিলেন। গত ১৮ আগস্ট উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ওই বিমানঘাঁটিতে আট দফা বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলায় বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও অস্ত্র-সরঞ্জাম সংরক্ষণের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক ইসরায়েলের এই হামলাকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তুরস্ক, ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে একটি সমন্বয়ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে কাজ করছে তারা। তবে ব্যারাকের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন কাটজ। তার দাবি, ব্যারাকের প্রতিক্রিয়ায় অনেক ভুল তথ্য রয়েছে এবং গোলান মালভূমি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গেও তার কিছু বক্তব্য সাংঘর্ষিক। সূত্র : আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাসেলসে পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে বন্দুকধারীদের হামলা

ইসরায়েলের জন্য মিত্রদের ঝুঁকিতে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ

রাজপ্রাসাদ কিনলেন জাকারবার্গ

0 Comments