যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
শুক্রবার (২৬ জুন) জাপানে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রোসি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইএইএকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার দিয়ে পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আইএইএকে অবশ্যই প্রবেশাধিকার ও পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই সেখানে যেতে পারব।’
তবে গ্রোসির এই বক্তব্যের আগে ইরান জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না।
রাফায়েল গ্রোসি বলেন, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। ইরান সরকার বারবার দাবি করেছে যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে শুধু ঘোষণাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রোসি বলেন, ‘উদ্দেশ্যের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। আমাদের একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য যাচাই ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যত দ্রুত সম্ভব এমন একটি যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত।
আইএইএ প্রধান জানান, ইতোমধ্যে সংস্থাটির পরিদর্শকরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ইরান সফরের প্রথম লক্ষ্য হবে আগে পরিদর্শন করা পারমাণবিক উপকরণে আইএইএর লাগানো সিল অক্ষত রয়েছে কিনা, তা যাচাই করা। পাশাপাশি কোনো পারমাণবিক উপাদান নিখোঁজ হয়েছে কিনা, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।
এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর কত পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অক্ষত রয়েছে বা সেগুলো কোথায় রাখা হয়েছে—এ বিষয়ে আইএইএকে কোনো তথ্য দেয়নি ইরান।
পরিদর্শনে আপত্তি জানিয়েছিল তেহরান
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে আগামী ৬০ দিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালানোর পথ তৈরি হয়েছে।
তবে বুধবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের অবস্থান হলো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
৪৪০ কেজির বেশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম
আইএইএর হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। সংস্থাটির মানদণ্ড
অনুযায়ী, ওই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তা প্রায় ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো পারমাণবিক উপাদান অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়নি, তা নিশ্চিত করতেই এই যাচাই কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের এঙ্গেলস বিমানঘাঁটিতে একটি টু-৯৫ বোমারু বিমান ধ্বংস করেছে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার দূরপাল্লার বিমান অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খবর কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্টের। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য রাশিয়াকে আরও বড় মূল্য দিতে বাধ্য করছি। এই অভিযানে যারা সহায়তা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এসবিইউর দাবি, হামলায় টু-৯৫ বোমারু বিমানটি গুরুতর ও অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আঘাতে বিমানটির লেজের অংশ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, ফলে সেটি আর কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, ধ্বংস হওয়া বিমানটি নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অংশ নিত। তাদের মতে, প্রতিটি কৌশলগত বোমারু বিমান ধ্বংসের অর্থ হলো ভবিষ্যতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করা, অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং রাশিয়ার কোটি কোটি ডলারের সামরিক ক্ষতি নিশ্চিত করা। এসবিইউ আরও দাবি করেছে, এই অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে রাশিয়ার কৌশলগত বিমানবাহিনী এখন আর নিজেদের সবচেয়ে দূরবর্তী সামরিক ঘাঁটিতেও নিরাপদ মনে করতে পারবে না। তবে হামলাটি ঠিক কবে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে জেলেনস্কি বা এসবিইউ নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। যদিও ১৬ জুলাই রাতেই রুশ টেলিগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এঙ্গেলস বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর প্রকাশ করেছিল। উল্লেখ্য, গত বছর অপারেশন স্পাইডারওয়েব-এর মাধ্যমে ইউক্রেনের এসবিইউ রাশিয়ার চারটি পৃথক বিমানঘাঁটিতে সমন্বিত ড্রোন হামলা চালিয়ে অন্তত আটটি টু-৯৫এমএস কৌশলগত বোমারু বিমান ধ্বংসের দাবি করেছিল। প্রায় দেড় বছর ধরে পরিকল্পিত ওই অভিযানে ট্রাকের ভেতরে গোপনে বহন করা ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার ৪১টি ভারী বোমারু বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এসবিইউর হিসাব অনুযায়ী, সেই অভিযানে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত প্রায় ৩৪ শতাংশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী বিমানের সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের সীমানা পেরিয়ে আইন ফাঁকি দেওয়ার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে ব্রিটিশ পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছেন দণ্ডিত ধর্ষক ফয়সাল আহমেদ। যুক্তরাজ্যে নিজের ৮ বছরের কারাদণ্ড এড়াতে ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়া এই অপরাধীকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ বাংলাদেশি নাগরিককে ধর্ষণ, নিপীড়নমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণ এবং শিশু অবহেলার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, সাজা এড়াতে ফয়সাল আহমেদ ফ্রান্সে পালিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং সেখানে নতুন জীবন শুরু করার চেষ্টা করছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি এড়াতে পারেননি তিনি। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যখন চেশায়ার পুলিশকে ক্রু এলাকার একটি বাড়িতে ডাকা হয়। সেখানে ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করেন যে, বাকিংহামের ওয়েস্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ তাকে কয়েক মাস ধরে উপর্যুপরি শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেছেন। নির্মম বিষয় হলো, এই নির্যাতনের সময় আহমেদ ভুক্তভোগীর শিশু সন্তানকেও মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চেস্টার ক্রাউন কোর্টে দীর্ঘ ৯ দিনের বিচার প্রক্রিয়া শেষে জুরি বোর্ড আহমেদকে সবকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু বিচারের চূড়ান্ত দিনে সাজার মুখোমুখি না হয়ে সে অত্যন্ত কাপুরুষোচিতভাবে আদালত থেকে পালিয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তার অনুপস্থিতিতেই আদালত তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। আড়ালে থেকে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা এই পলাতক অপরাধীকে ধরতে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস, ইন্টারপোল, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং ফ্রান্সের প্যারিস জুডিশিয়াল পুলিশ ডিরেক্টরেটের সাথে যৌথভাবে কাজ শুরু করেন। অত্যন্ত নিবিড় ও সমন্বিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে ফরাসি পুলিশ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দারা ফ্রান্সে আহমেদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গত ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল তাকে ফ্রান্স থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়। আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ফয়সাল আহমেদকে সরাসরি ব্রিটিশ কারাগারের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে, যেখানে সে তার ৮ বছরের সাজা ভোগ করা শুরু করেছে। চেশায়ার কনস্ট্যাবুলারির ফোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিটেকটিভ কনস্টেবল অ্যামি পেগন্যাম এই আন্তর্জাতিক যৌথ অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই আমরা একজন বিপজ্জনক অপরাধীকে খুঁজে বের করতে এবং তার অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আহমেদ ভেবেছিল সে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেঁচে যাবে, কিন্তু তার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এই মামলার প্রাথমিক তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া সাইমন নোওলস এর আগে ভুক্তভোগী নারীর অসীম সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেছিলেন, নিজের সাথে ঘটে যাওয়া এই নৃশংসতার বিষয়ে পুলিশের কাছে মুখ খোলার যে সাহস ভুক্তভোগী দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
সাধারণত বিলাসবহুল রিসোর্ট বা হোটেলগুলো তৈরিই করা হয় সবার নজর কাড়ার জন্য। তবে আফ্রিকার দেশ নামিবিয়ায় সম্পূর্ণ উল্টো এক উদ্দেশ্যে কিছু বিলাসবহুল হোটেল গড়ে তোলা হচ্ছে; যার মূল লক্ষ্যই হলো, এগুলোকে খুঁজে পাওয়া যেন যতটা সম্ভব কঠিন হয়। দূরবর্তী ও প্রত্যন্ত প্রকৃতির সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিশিয়ে তৈরি করা এই ‘অদৃশ্য স্থাপত্যকলা’র জনপ্রিয়তা এখন নামিবিয়ায় তুঙ্গে। সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোর একটি হলো নামিবিয়ার স্কেলেটন কোস্ট। ৩১০ মাইল দীর্ঘ এই বালুময় উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে আছে শত শত ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের কঙ্কাল। এই নরকের দরজা খ্যাত উপকূলেই গড়ে উঠেছে শিপরেক লজ। আটলান্টিকের ঘন কুয়াশার মধ্য থেকে তাকালে দেখা মেলে বিলাসবহুল ১০টি কেবিনের, যা দেখতে ঠিক সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা ভাঙা জাহাজের মতো। বিখ্যাত নামিবিয়ান স্থপতি নিনা মারিৎজের হাত ধরে ২০১৮ সালে এটি চালু হয়। শত শত বছর আগে এই উপকূলে আটকে পড়া নাবিকদের আশ্রয় খোঁজার সেই মরিয়া অনুভূতিকে ফুটিয়ে তুলতেই তিনি এই নকশা করেছিলেন। নিনা মারিৎজ বলেন, সেখানে গেলে মনে হবে আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রত্যন্ত কোনও জায়গায় আছেন। সারাদিন রোদ, বালু আর বাতাসের মধ্যে থাকার পর ক্লান্ত কোনও পর্যটক যখন এই কেবিনে ঢুকবেন, তখন তিনি এক পরম আশ্রয় ও প্রশান্তি খুঁজে পাবেন। প্রকৃতির বিশালতার সামনে আমরা যে কতটা ক্ষুদ্র, এই ভবনটি সেই বৈপরীত্যই মনে করিয়ে দেয়। রাজকীয় বিছানা, নিজস্ব বাথরুম আর ওয়াইফাই সুবিধা থাকা এই কেবিনগুলো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ কাঠ, যেন নামিবিয়া সরকারের সঙ্গে চুক্তি শেষ হলে এগুলো সহজেই সরিয়ে নেওয়া যায়। নিনা মারিৎজ আরও বলেন, স্থাপত্য এখন কেবলই নান্দনিকতার ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমার কাছে ভবনকে প্রকৃতির চেয়ে বড় করে দেখানোর চেয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে রাখাই আসল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, নামিবিয়ার রুক্ষ পাথুরে মরুভূমি দামারাল্যান্ডে অবস্থিত অনদুলি এনক্লেভ নামের আরেকটি বিলাসবহুল রিসোর্ট নিজেকে প্রকৃতির সঙ্গে এমনভাবে লুকিয়ে রেখেছে যে দেখলে মনে হবে এটি পাহাড়েরই অংশ। নামিবিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত ব্র্যান্ডবার্গের কাছে একটি গ্রানাইট পাথরের পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এই প্রাইভেট ভিলাটি। এর লালচে রঙের ছাদ পাহাড়ের পাথরের সঙ্গে মিশে থাকে। ভেতরে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা, সুইমিং পুল এবং কাচের দরজা থাকলেও বাইরে থেকে এটি সহজে দেখাই যায় না। এই রিসোর্টের গাইড বারওয়াল্ড আউইসেব জানান, অনেক পর্যটক কাছাকাছি এসেও রিসোর্টটি খুঁজে না পেয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘আমরা আর কত দূরে? রিসোর্টটি কি আদৌ এখানে আছে?’ যখন তারা একদম কাছে গিয়ে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ভবনের কাঠামোটি দেখতে পান, তখন বিস্মিত হয়ে যান। ডিজাইনার ট্রেভর নট মূলত এই রিসোর্টের নকশা করেছেন স্থানীয় কাঠ ও পাথর দিয়ে অত্যন্ত প্রাকৃতিকভাবে। তিনি বলেন, আপনি যখন ওপরের দিকে হেঁটে যাবেন, তখন হঠাৎ করেই আপনার সামনে এক নতুন পৃথিবী খুলে যাবে। সেই দৃশ্য দেখে চোখ দিয়ে জল চলে আসতে বাধ্য। সূত্র: সিএনএন