শাহেদ-১৩৬ ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ড্রোন, যা নীরবে ড্রোন যুদ্ধের প্রচলিত নিয়মকানুন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। এই ড্রোনের আবির্ভাব বিশ্বজুড়ে সামরিক শক্তিগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রে আধিপত্য, কৌশল ও ব্যয়ের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিরা সামরিক উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। তবে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ লয়টারিং মিউনিশন সেই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। আকারে ছোট, তুলনামূলকভাবে কম খরচের এবং প্রযুক্তির প্রদর্শনের চেয়ে বাস্তব কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্মিত এই ড্রোন আধুনিক যুদ্ধের অর্থনীতি ও কৌশলগত বাস্তবতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।
স্থানীয়ভাবে নির্মিত একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিণত হওয়ার এই দ্রুত উত্থান বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শিল্পগুলোকে সরাসরি অনুকরণ ও বিপরীত-প্রকৌশলের পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে। এটি বৈশ্বিক কৌশলগত হিসাবের এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শাহেদ-১৩৬ এর নকশাগত দর্শন। মাত্র ৫০ হর্সপাওয়ারের একটি সাধারণ পিস্টন ইঞ্জিন, প্রায় ৪০ কেজি ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা এবং আনুমানিক দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লা সবকিছু মিলিয়ে এটি এমন এক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে জটিলতার বদলে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য কার্যকারিতাই মুখ্য।
প্রতি ইউনিট ড্রোনের আনুমানিক মূল্য মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার হওয়ায় এটি একটি বড় অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ, তুলনামূলকভাবে বহু গুণ বেশি দামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে এমন ড্রোন প্রতিহত করতে হয়। উৎপাদনের কম খরচ ও প্রতিরোধের বেশি খরচ এই অসম সমীকরণ ইরানকে বৈশ্বিক ড্রোন যুদ্ধে একটি অনন্য অবস্থানে তুলে এনেছে।
শাহেদ ড্রোনের প্রভাবের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো যেসব পরাশক্তি একসময় ইরানকে গৌণ বা প্রান্তিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করত, তারাই এখন এই ড্রোন গ্রহণ, অধ্যয়ন ও অনুকরণে বাধ্য হচ্ছে। ইরানি মডেলের কাছাকাছি দামে তৈরি, ঝাঁকবদ্ধ হামলার উপযোগী নতুন ড্রোন ব্যবস্থার উদ্ভব খরচ-সাশ্রয়ী যুদ্ধ ধারণার প্রতি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্বের অন্যতম উন্নত ড্রোন উন্নয়নকারী শক্তিগুলোর একটি রাশিয়া তার নিজস্ব সংস্করণে শাহেদের ধারণা অন্তর্ভুক্ত করেছে। উন্নত ইঞ্জিন, রাডার এড়িয়ে যাওয়ার উপকরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সক্ষমতা ও অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তির সংযোজন এই ড্রোনকে বহু স্তরবিশিষ্ট বিমান-প্রতিরক্ষা পরিবেশে কার্যকর করে তুলেছে। নিজস্ব বিস্তৃত ইউএভি কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও, শাহেদ-ভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্ম রাশিয়ার অস্ত্রাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণ করেছে।
চীনও এই প্রবণতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেনি। ডেল্টা-উইং কাঠামো এবং মিশন প্রোফাইলে শাহেদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ড্রোনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার এই ধারণার প্রতি আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ।
শাহেদ-১৩৬ এর উদ্ভাবন এবং একে ঘিরে চীন ও রাশিয়ার ড্রোন উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গভীর দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে। একদিকে রয়েছে বিপুল সামরিক বাজেট, দীর্ঘ ক্রয়চক্র ও প্রাতিষ্ঠানিক জড়তা; অন্যদিকে রয়েছে কম খরচে দ্রুত উৎপাদনযোগ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান।
নানা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও স্বনির্ভরতাকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য ইরান এমন একটি ড্রোন মডেল তৈরি করেছে, যা কার্যকারিতা, স্কেলেবিলিটি ও বাস্তব যুদ্ধ-ব্যবহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এই অর্থে শাহেদ-১৩৬ কেবল একটি ড্রোন নয়; এটি দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পারে।
এই ড্রোনের ব্যাপক প্রতিলিপি আধুনিক যুদ্ধে একটি বৃহত্তর বিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করে। বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণভাবে ব্যস্ত করে রাখা, প্রতিপক্ষকে ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে বাধ্য করা এসব ক্ষমতা প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রতিরোধ সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
শাহেদ-১৩৬ এর উত্থান একটি মৌলিক সত্য স্পষ্ট করে দেয় উদ্ভাবন কেবল ধনী রাষ্ট্রগুলোর একচেটিয়া ক্ষেত্র নয়। বরং এই ক্ষেত্রে ইরান সীমাবদ্ধ সম্পদকেই কৌশলগত সুবিধায় রূপান্তর করেছে এবং এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা আজ বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীগুলোকে গভীরভাবে অধ্যয়ন ও অনুকরণে বাধ্য করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরা চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক উভয় ধরনের অস্ত্রের মজুদ কমে গেছে বলে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অস্ত্রের মজুদ কমে আসায় তেহরানে হামলা চালাতে পারছে না ওয়াশিংটন। তাই উপায় না দেখে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গণমাধ্যমের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর বিশেষ করে ‘প্যাট্রিয়ট’ এবং ‘থ্যাড’ সিস্টেমে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মজুদ কমে আসায় মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে উপসাগরীর অঞ্চল এবং তার বাইরের মিত্র দেশগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে মঙ্গলবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান মজুদ ঘাটতির দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে এবং প্রয়োজনের চেয়েও তা অনেক বেশি। অথচ ‘ক্রুকড জো বাইডেন’ (প্রতারক জো বাইডেন) ও তার প্রশাসন ইউক্রেন ও ইউরোপকে বিনামূল্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দিয়ে দিয়েছে। যা ছিল তাদের অসংখ্য চরম বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্তের একটি। তিনি মূলত রাশিয়ার আগ্রাসনের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর হস্তান্তরের বিষয়টিই উল্লেখ করছিলেন। ট্রাম্প অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন আদৌ সময়মতো বাড়ানো সম্ভব কি না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমরা ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের মিত্রদের কাছেও আরও বেশি অস্ত্র সরবরাহ শুরু করব। অন্যদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেলও জোর দিয়ে বলেছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংকটের মুখে নেই। আল-জাজিরাকে দেওয়া বিবৃতিতে পার্নেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। প্রেসিডেন্টের পছন্দ করা সময় ও স্থানে যেকোনো অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই তাদের রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের জনগণ ও স্বার্থ রক্ষার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে যাতে সক্ষমতার বিশাল ভাণ্ডার থাকে তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন কমব্যাট্যান্ট কমান্ড বা যুদ্ধ-পরিচালনা অঞ্চলের অধীনে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছি। সরবরাহ ঘাটতির খবর সোমবার প্রকাশিত বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি হয়তো মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে বলা কথার চেয়েও বেশি গুরুতর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে যে পরিমাণ ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ছিল, তার ৮০ শতাংশ এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেকই ব্যবহৃত হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই মজুত-স্তরের অবস্থাকে ‘বিপজ্জনকভাবে কম’ বলে অভিহিত করেছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দ্রুতই এই ৮০ শতাংশের পরিসংখ্যান এবং এর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকির ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি সোমবার এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘সত্য নয়’ এবং ‘লজ্জাজনক’। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর ২৭ জুলাই প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই সময় পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর কাছে তাদের ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের এক-তৃতীয়াংশের সামান্য বেশি এবং ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক অবশিষ্ট ছিল। সিএসআইএস-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থা যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে। রয়টার্স এবং সিবিএস নিউজ পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী তাদের ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম’ এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’-এর সিংহভাগই ব্যবহার করে ফেলেছে। প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টরের বিপরীতে, অত্যন্ত নির্ভুল ও দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত আক্রমণাত্মক অভিযানে ব্যবহৃত হয়। দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় সবগুলোই ব্যবহার করা হয়ে গেছে। গোলাবারুদের ঘাটতিজনিত কোনো ঝুঁকির কথা ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। অথচ প্রশাসন তাদের ২০২৭ অর্থবছরের প্রতিরক্ষা বাজেটে ৯৫ বিলিয়ন ডলার এবং মজুত পুনরায় পূর্ণ করার জন্য অতিরিক্ত তহবিলের আবেদনে ২১ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে। একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বারবার এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস জুলাইয়ের শেষের দিকে জানিয়েছিল, ওই মাসে সংঘাত আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত থেকে ট্রাম্পের সরে আসার পেছনে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ অন্যতম একটি কারণ ছিল। জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) লড়াই থামিয়ে দিয়েছিল, তা ভেস্তে যাওয়ার পরই এই ঘটনা ঘটে। এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকে। অস্ত্রের ঘাটতির প্রভাব বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক উভয় ধরনের অস্ত্রের ঘাটতি মার্কিন বাহিনীকে অরক্ষিত করে তুলতে পারে। মার্কিন মেরিন কোরের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এবং সিএসআইএস-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, আক্রমণাত্মক এটিএসিএমএস এবং পিআরএসএম-এর ঘাটতি সেনাবাহিনীর দূরপাল্লা থেকে আঘাত হানার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাহিনীকে অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের বা নিকট-পাল্লার আক্রমণের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা তাদের ঝুঁকির মুখে ফেলার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। ক্যানসিয়ান বলেন, এটিএসিএমএস এবং পিআরএসএম-এর মজুদ কমে গেলে বা ফুরিয়ে গেলে বিকল্প কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যেমন আকাশপথ বা সমুদ্রপথ থেকে হামলা। সেক্ষেত্রে দূরবর্তী কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য সম্ভবত ‘জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইল’ বা ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে অথবা শত্রুর আকাশসীমার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান ওড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রথমেই অকার্যকর বা ধ্বংস করে দিতে হয়। তবে ক্যানসিয়ানের মতে, বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি পরিস্থিতি ‘অনেক বেশি গুরুতর’। ক্যানসিয়ান বলেন, আমরা যখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা বলি, তখন দেখা যায় আমাদের হাতে খুব বেশি ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট নেই এবং এগুলোর কোনো ভালো বিকল্পও নেই। যদি আমাদের ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে যায়, তবে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আমাদের প্রতিরক্ষা ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়বে। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ১৭ জুলাইয়ের একটি হামলার ঘটনায় এই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। ওই হামলায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন ও জর্ডানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল এবং এতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন। অবশ্য পাঁচ মাস যুদ্ধের পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে চিত্রটি অস্পষ্ট। তবে ক্যানসিয়ানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে তেহরানের পক্ষে মার্কিন ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুদ পুরোপুরি নিঃশেষ করে ফেলা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম। এরপরও মার্কিন মজুদের বর্তমান অবস্থায় ইরানি হামলা প্রতিহত করতে প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের ফলে চীন-এর মতো সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ক্যানসিয়ান বলেন, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অর্থ হলো চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র কমে যাওয়া। আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে ‘জয়েন্ট স্টাফ’ বা যৌথ সামরিক নেতৃত্ব এ বিষয়ে সত্যিই খুব উদ্বিগ্ন। এদিকে এনবিসি নিউজসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, যেসব ইরানি হামলায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম, সেগুলো প্রতিহত করার ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে আরও সতর্ক ও বিচার-বিবেচনামূলক কৌশল গ্রহণ করেছে। এই কৌশল ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রক্ষায় সহায়তা করতে পারে, তবে এর ফলে ভুল হিসাব-নিকাশ বা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। সমস্যাটা হলো সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত খবরে মিত্রদেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশগুলোর কাছে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং কিছুটা কম পরিমাণে ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর বিক্রি করে থাকে।গত মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কাছে অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ও সংশ্লিষ্ট সেবা বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল। এছাড়া সৌদি আরব, জর্ডান ও ইসরায়েলের কাছেও দীর্ঘদিন ধরে এসব অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে দেশটি। ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্রদেশগুলোর কাছে আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহে ইতোমধ্যে বিলম্বের খবর পাওয়া গেছে; তবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ক্ষেত্রে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে এখনো কোনো বিলম্বের কথা জানা যায়নি। এমন প্রেক্ষাপটে ক্যানসিয়ান বলেন, এই পরিস্থিতি প্রায় নিশ্চিতভাবেই বদলে যাবে এবং নিজেদের মজুত ভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করবে। এদিকে রুশ হামলা প্রতিরোধের জন্য প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের সরবরাহ কমে যাওয়া নিয়ে সতর্ক করে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বারবারই ইউক্রেনে এসব অস্ত্র উৎপাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়েছেন। এমন অনুমতি বর্তমানে কেবল জাপান ও জার্মানিরই রয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার(৫ আগস্ট) জেলেনস্কি জানান, মিত্রদেশগুলো কিয়েভকে বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর অনেক কম সরবরাহ করেছে; গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সরবরাহের পরিমাণ মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। ক্যানসিয়ানের মতে, প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টরের স্বল্পমেয়াদী ঘাটতি দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, অর্থ কোনো সমস্যা হবে না, আসল সমস্যা হলো সময়। সূত্র: আলজাজিরা।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বুধবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২০২৩ সালের এইদিনে খানকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, পিটিআইর কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আকরাম সংবাদমাধ্যম ডনকে জানান, পেশাওয়ারে বড় জনসভা হবে। আর অন্য তিনটি প্রদেশে দলীয় আঞ্চলিক ও স্থানীয় নেতারা নিজেদের সুবিধামতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন। তবে বিক্ষোভ হলেও কোনো ধরনের সহিংসতা হবে না বলেও জানান তিনি। পাঞ্জাব প্রদেশে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ২০ জনের বেশি কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এএফপি প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে লাহোরে দলীয় কর্মীদের বড় জমায়েত দেখা যায়। পরে সেখান থেকে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। এদিকে ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ মিছিলের দিনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরে সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদেরকে অনুমতি নিতে হবে। পাকিস্তানি নাগরিকরা বিদেশি গণমাধ্যমের হয়ে কাজ করলে, তাদের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য।
পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করেছেন বলে ছড়িয়ে পড়া একটি গুজব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, তিনি তার দপ্তরে আছেন এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবের নেতাদের নেতাদের মতবিরোধ হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তার প্রশাসনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তার প্রশাসন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পুরো সমন্বয় বজায় রেখেছে। সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের আগেই এর অংশবিশেষ ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এ প্রকাশ করা হয়। তাতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় বজায় রাখছি।” তার পদত্যাগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনকে তিনি ‘পুরোপুরি গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি যদি কখনো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই, আমি নিজেই তা ঘোষণা করবো। কিন্তু আমি পদত্যাগ করবো না, আমি নিজের অবস্থানে অটল থাকবো। পেজেশকিয়ান জানান, কিছু মানুষ এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে যে তার প্রশাসন ও ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি এসব মন্তব্য করলেন। এর আগে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ উপকর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহদি তাবাতাবায়ী এসব প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে বাতিল করেছিলেন। এসব গুজব ছড়ানোর জন্য রাজনৈতিক কট্টরপন্থিদের দায়ী করেছেন তিনি; বলেছেন, ইরানের শত্রুদের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য দুর্বল করতে এসব গুজব ছড়ানো হয়েছে।