প্রথমদিন থেকেই বিরোধী দল প্রতিমুহূর্তে সরকার দলকে অসহযোগিতা করার কারণেই কেউ কেউ (আওয়ামী লীগ) ডিসেম্বরে আসতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন বিরোধী দল উপস্থিত হয়নি। প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল প্রতিমুহূর্তে সরকারি দলকে সব রকমের অসহযোগিতা করে যাচ্ছে। এই অসহযোগিতার কারণে কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়। যদি বিরোধী দল এই সুযোগটা না দিত, লংমার্চ যদি না করত, তাহলে এই সুযোগটা পেতো না।’
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লাইন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ এই আয়োজন করেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল সংসদে বসে ভালো কথা বলে। কিন্তু বাইরে গিয়ে ভালো কথা বলছে না। গত ১৭ বছর যারা অত্যাচার-নির্যাতন করছে তারা দুই এক জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে, আবার পালিয়ে যায়। এই সুযোগটা তো তারা পাচ্ছে।’
বিরোধী দলের লংমার্চ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন যারা বিরোধী দল আছে, আজকে তারা রংপুর যাচ্ছে ঢাকা থেকে। তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছে। তারা গ্যাসের জন্য আন্দোলন করছে, তেলের জন্য আন্দোলন করছে। যে বাংলাদেশে গ্যাস নাই, তেল নাই, তারেক জিয়াকে এখনই গ্যাস দিতে হবে, এখনই সব বিদ্যুৎ দিতে হবে। আমরা তো একটা ধ্বংসস্তুপের ওপর দায়িত্বে এসেছি। আমরা এসেই কি ৬ মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সব দিয়ে দিতে পারব?’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল যে লংমার্চ অথবা রোডমার্চ করছে, সেখানে কি তেল খরচ হচ্ছে না? রাস্তাঘাটে কি মানুষের ক্ষতি হচ্ছে না? মানুষের চলাফেরার মধ্যে জ্যাম সৃষ্টি হচ্ছে না? অসুস্থ রোগীদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে না? তাহলে বিরোধী দল কি এটা কোনো ভালো কাজ করল? কিন্তু উনারা বারবার সংসদে বলছে তারা সরকারকে সহযোগিতা করবে, সরকারকে সহযোগিতার নমুনা যদি এই ধরণের হয়, এটা কি সহযোগিতা হইলো?’
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বিএনপিকে একটা চাপে রেখে তারা (বিরোধী দল) ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে চায়। এভাবে কি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা যায় নাকি? এবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, বেহেশতের কথা বলে। ভোটের এক সপ্তাহ আগে হাতের ভেতর আইডি কার্ড নিয়ে টাকা দিয়ে কিছু ভোট নিয়েছে। আমাদের কিছু মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করে কিছু ভোট নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এজন্য ভবিষ্যতে আমাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কোনো ধরণের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও জনগণের ক্ষতি করবে, বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকার এটা মেনে নেবে না। কারণ আমরা জনগণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে লড়াই সংগ্রাম করতে করতে এখানে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ই আগস্টের জন্য ১৭ বছর আমাদের লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে। হঠাৎ করে ৫ই আগস্ট আসেনি। এই ৫ই আগস্ট আসার ক্ষেত্রে আপনারা-আমরা, আমাদের ছাত্র-যুবক, তরুণ-তরুণী মাঠে থেকে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করে এই প্রেক্ষাপটটা তৈরি করেছে বিদায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে আমরা এই দেশের দায়িত্ব পেয়েছি, দায়িত্ব পরিচালনা করছি।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রথমদিন থেকেই বিরোধী দল প্রতিমুহূর্তে সরকার দলকে অসহযোগিতা করার কারণেই কেউ কেউ (আওয়ামী লীগ) ডিসেম্বরে আসতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ‘আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন বিরোধী দল উপস্থিত হয়নি। প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল প্রতিমুহূর্তে সরকারি দলকে সব রকমের অসহযোগিতা করে যাচ্ছে। এই অসহযোগিতার কারণে কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়। যদি বিরোধী দল এই সুযোগটা না দিত, লংমার্চ যদি না করত, তাহলে এই সুযোগটা পেতো না।’ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লাইন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ এই আয়োজন করেন। পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল সংসদে বসে ভালো কথা বলে। কিন্তু বাইরে গিয়ে ভালো কথা বলছে না। গত ১৭ বছর যারা অত্যাচার-নির্যাতন করছে তারা দুই এক জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে, আবার পালিয়ে যায়। এই সুযোগটা তো তারা পাচ্ছে।’ বিরোধী দলের লংমার্চ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন যারা বিরোধী দল আছে, আজকে তারা রংপুর যাচ্ছে ঢাকা থেকে। তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছে। তারা গ্যাসের জন্য আন্দোলন করছে, তেলের জন্য আন্দোলন করছে। যে বাংলাদেশে গ্যাস নাই, তেল নাই, তারেক জিয়াকে এখনই গ্যাস দিতে হবে, এখনই সব বিদ্যুৎ দিতে হবে। আমরা তো একটা ধ্বংসস্তুপের ওপর দায়িত্বে এসেছি। আমরা এসেই কি ৬ মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সব দিয়ে দিতে পারব?’ মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল যে লংমার্চ অথবা রোডমার্চ করছে, সেখানে কি তেল খরচ হচ্ছে না? রাস্তাঘাটে কি মানুষের ক্ষতি হচ্ছে না? মানুষের চলাফেরার মধ্যে জ্যাম সৃষ্টি হচ্ছে না? অসুস্থ রোগীদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে না? তাহলে বিরোধী দল কি এটা কোনো ভালো কাজ করল? কিন্তু উনারা বারবার সংসদে বলছে তারা সরকারকে সহযোগিতা করবে, সরকারকে সহযোগিতার নমুনা যদি এই ধরণের হয়, এটা কি সহযোগিতা হইলো?’ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বিএনপিকে একটা চাপে রেখে তারা (বিরোধী দল) ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে চায়। এভাবে কি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা যায় নাকি? এবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, বেহেশতের কথা বলে। ভোটের এক সপ্তাহ আগে হাতের ভেতর আইডি কার্ড নিয়ে টাকা দিয়ে কিছু ভোট নিয়েছে। আমাদের কিছু মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করে কিছু ভোট নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য ভবিষ্যতে আমাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কোনো ধরণের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও জনগণের ক্ষতি করবে, বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকার এটা মেনে নেবে না। কারণ আমরা জনগণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে লড়াই সংগ্রাম করতে করতে এখানে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫ই আগস্টের জন্য ১৭ বছর আমাদের লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে। হঠাৎ করে ৫ই আগস্ট আসেনি। এই ৫ই আগস্ট আসার ক্ষেত্রে আপনারা-আমরা, আমাদের ছাত্র-যুবক, তরুণ-তরুণী মাঠে থেকে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করে এই প্রেক্ষাপটটা তৈরি করেছে বিদায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে আমরা এই দেশের দায়িত্ব পেয়েছি, দায়িত্ব পরিচালনা করছি।’
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠেয় সংলাপভিত্তিক সম্মেলন ‘নোবেল প্রাইজ ডায়ালগে’ আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশি কবি ও চিকিৎসক তানিয়া রহমান তনি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নোবেল প্রাইজ আউটরিচ এবং দ্য কোরিয়ান একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (কেএএসটি) যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনন্য মঞ্চে ডেভিড ম্যাকমিলান, ব্রায়ান শ্মিট এবং ক্রেগ মেলোর মতো বিশ্বখ্যাত নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সাথে সরাসরি প্যানেল আলোচনা ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনে অংশ নেবেন। সম্মেলনটিতে এআই কীভাবে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের গতি বাড়াচ্ছে, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থায় নৈতিক পরিবর্তন আনছে—তা সহজ বিশদভাবে আলোচনা করা হবে। এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে ডা. তানিয়া রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আমি সুযোগ পেয়েছি লেখালেখির জন্য। আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। বর্তমানে বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই কবিতা লিখছি।’ তিনি ২০২২ সালে কলকাতা থেকে বহাবঙ্গ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ডা. তানিয়া পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও স্কুলে পড়ার সময় থেকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করেন তিনি। ১৫ বছর বয়সে তাঁর প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘নবযাত্রা’ প্রকাশিত হয়। ১৮ বছর বয়সে একুশে বই মেলায় তাঁর দ্বিতীয় একক কাব্যগ্রন্থ ‘অপরাজিতা’ প্রকাশিত হয়। জন্ম ও বেড়ে ওঠা নওগাঁ জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ডা. তানিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। মানব সেবার পাশাপাশি লেখালেখির চর্চাও চালিয়ে যেতে চান তিনি। ২০২২ সালে বাংলাদেশের ‘মাসিক সময়ের সুর সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ এবং বাংলাদেশের ‘ইউএস বাংলা সাহিত্য সম্মানের’ জন্য মনোনীত হন তিনি। ত্রিপুরা থেকে ‘ত্রিপুরেশ্বরী সাহিত্য সম্মান’ লাভ করেন এই চিকিৎসক। এর আগে নওগাঁ জেলা আবৃত্তি পরিষদ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া রংপুর সাহিত্য পরিষদ এবং বিভাগীয় লেখক পরিষদ থেকে সনদপ্রাপ্ত হন তিনি। শিক্ষা জীবন তিনি অষ্টম শ্রেণিতে রাজশাহী বোর্ড থেকে স্কলারশিপপ্রাপ্ত হন। নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি জিপিএ-৫ এবং নওগাঁ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হন। রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেন তিনি।
শেখ হাসিনা সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার বলে যে খবর প্রকাশ হয়েছে, তা ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ ভারতকে জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তবে ভারত তার স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। আজ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রণধীর জয়সওয়াল। এ সময় বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন এবং মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে করা প্রশ্নেরও জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে এএনআইয়ের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানিয়েছে কি না। জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি, তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, ভারত তার নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এক ব্রিফিংয়ে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, ‘এসব চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।’ পাকিস্তান ও কুয়েতের সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল জানায়, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন সব বিষয় তারা নজরে রাখছে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়। এ ছাড়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘গঙ্গার পানি বণ্টনসহ দুই দেশের পানি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। পানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিত হচ্ছে।