জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রকাশিত রায়ে বলা হয়, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়।
২০১৮ সালে জীবনরক্ষাকারী ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রেখে অন্যান্য ওষুধের মূল্য নির্ধারণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সার্কুলারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে একটি রিট করা হয়। রিট আবেদনকারীদের মতে, ওষুধ মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করার মৌলিক উপাদান এবং এটি নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সরকারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নাগরিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে।
রিটের শুনানি শেষে চলতি বছরের ২৫ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করে। রায়ে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্য গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর ভিত্তিতে ১৯৯৩ সালে সরকার ৭৩৯টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে এই ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হয় এবং অন্যান্য সব ওষুধের মূল্য নির্ধারণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যস্ত করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইয়ার ইয়াবস প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সাক্ষাৎকালে প্রফেসর ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল, পিসফুল এবং ফেস্টিভ পরিবেশে সম্পন্ন হবে। প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে যাতে নির্বাচন ও গণভোট সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি আরও বলেছেন, সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগের মাঠ থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনও সমস্যা নেই। প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটিং সেন্টারগুলোতে বডি অর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি থাকবে। সিকিউরিটি ফোর্সের ক্যামেরা কেন্দ্রীয়ভাবে একটি অ্যাপের মাধ্যমে মনিটর করা হবে। এতে কোন স্থানে সমস্যা হচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে কিনা তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সেনাবাহিনী র্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। প্রেস সচিব আরও জানান, প্রফেসর ইউনূস বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সচেতনতা তৈরি করবে এবং এটি করার জন্য আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। সাক্ষাতকালে আওয়ামী লীগ বা রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি, শুধুমাত্র গণভোট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রিফর্ম এজেন্ডা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। প্রধান পর্যবেক্ষক জানিয়েছেন, তাদের মিশন দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে, সব নির্বাচনী কার্যক্রম মনিটর করবে এবং বড় রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলবে। প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেছেন, দেশের সর্বত্র এখন নির্বাচনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং ফরমাল নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর বিষয়কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় ধরনের সমর্থন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতার রয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। অপর আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনটি অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন তিনি। রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ আর্জি জানান চিফ প্রসিকিউটর। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে আসামি পলকের পক্ষে দাঁড়ান আইনজীবী লিটন আহমেদ। তিনি বলেন, 'আদালদের আদেশ অনুযায়ী গত ৯ জানুয়ারি আমরা আসামির সঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য কারাগারে যাই। কিন্তু ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ নিয়ে আমাদের ঢুকতে দেননি কারা কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা আগামী শুক্রবার এ কাজটি সারতে চাই। একই সঙ্গে, ১৮ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন নিয়ে প্রশ্নে শুনানি করতে চাই।' এ সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'আসামিপক্ষে শুনানির জন্য ১৪ তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। তারা চাইলে আজই আসামির সঙ্গে এখানে (ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়) প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন করতে পারেন।' তখন চেয়ারম্যান বলেন, 'শুক্রবার কেন, আপনারা চাইলে আজই এসব কাজ সারতে পারেন। কিন্তু নিজেদের আবেদন নিয়ে কিছুটা অটল থাকেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওনারা বিচারকাজকে বিলম্ব করতে চাইছেন। এজন্যই এতকিছু।' এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে লিটন আহমেদ বলেন, 'এ মামলায় জব্দকৃত ১০টি ভিডিও আমাদের দিয়েছে প্রসিকিউশন। কিন্তু কয়েকটি ওপেন করতে পারিনি আমরা।' তখন ট্রাইব্যুনালের প্রথম সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম বলেন, 'আপনারা বুঝে নেননি কেন? প্রসিকিউশনের সামনে সবকিছু দেখে নিতে পারতেন। পরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের এখানে সব ওপেন হচ্ছে। ওনাদের ডিভাইসে সমস্যা থাকতে পারে।' জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, 'ডিভাইসের সমস্যা থাকলে আজও দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে করেন। আর নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শুনানি করেন।' পলকের পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, 'ফর্মাল চার্জ অনেক বড়। পুরোটা পড়তে সময় লাগবে আমাদের। আদালত সবার প্রতি দয়াবান। তখন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ অন্য বিচারকরাও বলেন, আগামী চারদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের কথা।' তখনও রোববার শুনানি করতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'ওনারা আশায় আছে ইলেকশন (নির্বাচন) হলে বিচার-টিচার হবে না। এজন্য বিচারকার্য বিলম্বিত করতে চাইছেন।' চিফ প্রসিকিউটরের এমন কথায় বিচারপতি শফিউল বলেন, 'ইলেকশন হলে কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে? এমন বইলেন না, এমন বইলেন না।' তখন চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'ওনারা কী বলে সব কথা আমাদের কানে আসে।' একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, এসব কথা আর বলবেন না। পরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান গোলাম মুর্তাজা মজুমদার আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি ধার্য করেন।
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, তারা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, হতাশা ও নীরবতা যেমন শুনতে চান, তেমনি নিজেদের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত ভুল, বাস্তব সংকট এবং দুর্বলতাগুলো নিয়েও স্বচ্ছ আলোচনা করতে চান। গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে নতুনভাবে শুরু করার সম্ভাবনা খুঁজে দেখতে চান তারা। রোববার (১১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, নতুন উদ্যোগ নিয়ে কথা বলার পর গত দুই সপ্তাহে কয়েকশ’ ছাত্র ও নাগরিকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এদের অনেকেই একসময় নতুন রাজনৈতিক কাঠামো ও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন। আলোচনার শেষে দেখা গেছে, হতাশা ও আস্থাহীনতা থাকলেও সবাই আবার চেষ্টা করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। মাহফুজ আলম আরও বলেন, যারা বৈষম্যহীন ব্যবস্থা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং নতুন আর্থ-রাজনৈতিক কাঠামোয় বিশ্বাস করেন, যারা দ্বি-দলীয় কাঠামোর প্রতি অনাগ্রহী এবং নীতিভিত্তিক, আদর্শিকভাবে আপোসহীন রাজনীতি চান, তারা যোগাযোগ করতে পারেন। মন্তব্য বা প্রশ্ন ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো যাবে।