সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতায় সাত কলেজের দেড় লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। ভয়াবহ সেশনজটে পড়তে যাচ্ছেন তারা। প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির খসড়া অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে পালটা কর্মসূচি হিসেবে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারি ও ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে ঢাকা কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। ইডেন কলেজকে শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত করার দাবিতে দুই দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় বাতিলের দাবিতে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা তিন দিন ধরে আন্দোলন করছেন।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথমবর্ষের সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থী এক বছরেও ক্লাস না পেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। দ্রুত ক্লাস শুরু না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্রুপের অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, ২০১৭ সালে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও অধিভুক্তির সিদ্ধান্ত ছিল অপরিণামদর্শী এবারও তাড়াহুড়া করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়ে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। শিক্ষকরা মনে করেন, একটি অধিভুক্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করলেই সহজ সমাধান মিলত। এদিকে যখন দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ছয় মাসের ক্লাস শেষ করে নতুন ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সাত কলেজ এখনো ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শিক্ষকরা তা মানছেন না। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো, কর্তৃত্ব ও কর্মপদ্ধতি কোনোটাই স্পষ্ট নয়।
ঢাকা কলেজের এক শিক্ষক জানান, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি আইনসঙ্গত নয়, তাই তাদের পক্ষে প্রথম বর্ষের ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। প্রশ্ন উঠছে, প্রস্তুতি ছাড়াই কেন ভর্তি শুরু হলো এ দায় কার? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কলেজগুলো চলছে অন্তর্বর্তী প্রশাসকের মাধ্যমে একটি দুর্বল কাঠামোয়, আর এর প্রধান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। আগস্টে ভর্তি পরীক্ষা হলেও নভেম্বরের শেষ নাগাদও ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়নি যা পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করেছে।
সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় মডেলকে ঘিরে। ৪০ শতাংশ অনলাইন ও ৬০ শতাংশ সশরীর ক্লাস, বিভাগভিত্তিক একাধিক কলেজে পাঠদান এবং অনেক বিষয়ে কাটছাঁট এসব নিয়ে শিক্ষক, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় সাত কলেজের শিক্ষকরা আবারও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। দ্রুত সমাধান না হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্তরে স্থায়ীভাবে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল মাউশি প্রাঙ্গণে গণজমায়েত হয়েছে। আজ দেশব্যাপী সরকারি কলেজে মানববন্ধন ও ব্রিফিং, ৪ ডিসেম্বর পাবলিক পরীক্ষা বন্ধসহ সাত কলেজে সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং ৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী কলেজ শিক্ষকদের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের টোটাল শাটডাউনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে ইডেন কলেজকে শুধুমাত্র নারীদের জন্য সংরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দুই দিনের মধ্যে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানোর আলটিমেটামও দিয়েছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, ইডেন মহিলা কলেজ নারীদের শিক্ষা, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক তাই এর স্বাতন্ত্র্য ও নিরাপদ পরিবেশ রক্ষায় কোনো আপস করা যাবে না।
সব পদে শিক্ষা ক্যাডার রাখার দাবি শিক্ষকদের
সরকারি সাত কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ‘স্কুলিং’ পদ্ধতি বাতিল এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল পদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারকে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। শিক্ষা ভবন চত্বরে সমাবেশ করে তাঁরা জানান, কলেজগুলোর স্বতন্ত্র কাঠামো বজায় রেখে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে শিক্ষা ক্যাডারদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা বলেন, খসড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত ‘স্কুলিং’ পদ্ধতি বাতিল করা জরুরি। সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের এক শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব পদেই শিক্ষা ক্যাডারকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং বর্তমান নিয়োগ পদ্ধতি বজায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঢাকা: হাম এবং তার উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,৮২৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই শিশু ও বৃদ্ধ। হাসপাতালগুলোতে রোগী সংক্রমণের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হিসেবে বিবেচিত। এর সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট এবং শারীরিক দুর্বলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসা এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগী ভর্তি কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি আরও শক্ত করা হচ্ছে। জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার জানাচ্ছে, জনসাধারণকে গণজমায়েত এড়িয়ে চলা, মাস্ক ব্যবহার করা, এবং নিয়মিত হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেতে যাচ্ছে ৩৬টি আসন। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্ররা পাবে একটি আসন। আগামী ১২ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দল ও জোটের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমানসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন পেলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না; সেক্ষেত্রে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে বৈধ প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল শিগগির ঘোষণা করা হবে, যেখানে মনোনয়নপত্র জমার দিন, বাছাই ও প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন গেজেট প্রকাশ করা হয়। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়েছে। তাদের মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলে রয়েছে। তাদের জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল আদালতের আদেশে গেজেট আকারে প্রকাশ বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব আসনের ফল সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বলে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে একজন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার এবং একজন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচন ভবনে তাদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। ইতোমধ্যে ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর দল ও জোটগুলো তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। বিএনপি জোটে কারা আলোচনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বাছাই নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর শুরু হবে। দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড বা স্থায়ী কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলটির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন—আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আক্তার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রেহেনা আক্তার রানু, সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও চৌধুরী নাদিরা আক্তার। এছাড়া আলোচনায় আছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, সালিমা বেগম অরুনি, শাকিলা ফারজানা, খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়া, নিপুণ রায় চৌধুরী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, খায়রুন নাহার, মাহমুদা হাবিবা, আসমা আজিজ, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, নাসিমা আক্তার কল্পনা, সাবরিনা শুভ্র, মাহারীন খান ও বীথিকা বিনতে হোসাইন। আরও সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক নাজমা সুলতানা ঝংকার, সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, নাহারিন খান, সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি, সাংবাদিক কাজী জেসিন, ফাতেমা বিনতে দোহা, ডালিয়া রহমান, মানসুরা আক্তার, ফারহানা চৌধুরী বেবী ও সাবরিনা খান। দলীয় সূত্র বলছে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচিত নারীদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করা হতে পারে। একই সঙ্গে মিত্র দলগুলোর নারীনেত্রীদের মধ্য থেকেও মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াত জোটে কারা আলোচনায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন পাবে। এর মধ্যে জামায়াত পেতে পারে ১১টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি এবং এনসিপি একটি আসন। জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত আসনে দলের মহিলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ নেত্রীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এছাড়া আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদেরও বিবেচনায় আনা হতে পারে। এনসিপির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের উদ্যোগে সপ্তম ‘বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিট’ শুরু হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হয়। সাউথ ইস্ট ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টার থেকে প্রকাশিত দুটি জার্নালের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামিট আয়োজনের জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান ঢাবি উপাচার্য। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণা জার্নাল প্রকাশ ও একাডেমিক উপস্থাপনা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের গবেষণাধর্মী ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীলতা সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফনান ওসমান ও জান্নাতুল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের সিনিয়র নির্বাহী সহ-সভাপতি আবদুস সবুর খান এবং ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের সভাপতি অনির্বাণ ঘোষ। উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই সামিটে এলডিসি উত্তরণ, শ্রম, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা এবং জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান নিয়ে তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র ফেলো, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এসব প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।