জাতীয়

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি কে, বাংলাদেশ নাকি সাইপ্রাস?

মারিয়া রহমান জুন ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হতে ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। মর্যাদাপূর্ণ এই পদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের পক্ষে দেশটির বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গোপন ব্যালটে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ভোটে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটতে পারে সভাপতির চেয়ার, সেজন্য ভোটের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


সংস্থাটির এক বছর মেয়াদের জন্য পরবর্তী সভাপতি নির্বাচনে আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদকক্ষে সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি বিশেষ সমীকরণে এই ভোটের ফলাফল নির্ধারণ হতে পারে। সেটি হলো— ‘রেসিপোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (একে অপরকে ভোট প্রদানের জন্য পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতামূলক চুক্তি)। এই পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি আদায়ে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের প্রার্থীর মধ্যে যিনি এগিয়ে থাকবেন, তারই ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মর্যাদাপূর্ণ সভাপতি পদে আগামীকাল সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের পক্ষে বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস লড়ছেন। মাত্র তিন মাসের প্রচারণায় বাংলাদেশ ‘গ্লোবাল সাউথ’ ও মুসলিম দেশগুলোর ভোট টানতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও, ১০ বছর ধরে প্রচারণা চালানো সাইপ্রাসের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ভোটের লড়াই বেশ তীব্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে


লড়াইটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে জানিয়ে ঢাকা, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে কর্মরত বাংলাদেশের একাধিক কূটনীতিক ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, বাংলাদেশ নাকি সাইপ্রাসের প্রার্থী জিতবেন, তা নিশ্চিত করে বলা দুরূহ। দুই প্রার্থীরই জেতার সামর্থ্য আছে এবং যে কেউ হতে পারেন ৮১তম অধিবেশনের নতুন সভাপতি। 


ভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৬০টিরও বেশি ‘রেসিপোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্য থেকে হয়তো দু-চারটি ভোট হাতছাড়াও হতে পারে।


আঞ্চলিক পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস একই গ্রুপ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে; তবে সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও এর বিভিন্ন কমিটিতে নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বের সুবিধার্থে বৈশ্বিক সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো— আফ্রিকান গ্রুপ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ, পূর্ব ইউরোপীয় গ্রুপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় গ্রুপ এবং পশ্চিম ইউরোপীয় ও অন্যান্য গ্রুপ। 

পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে আফ্রিকান ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপে ভোটের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মাত্র তিন মাসের প্রচারণায় বাংলাদেশ নানা কূটনৈতিক কৌশলে আফ্রিকান ভোট টানার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান নিজেই সমর্থন চাইতে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদরদপ্তর আদ্দিস আবাবা সফর করেছেন। শুধু তাই নয়, আফ্রিকার ভোট পেতে সেনেগাল এবং মরোক্কো সফর করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রতিমন্ত্রী দুটি বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আফ্রিকান দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে খলিলুর রহমানের জন্য ভোট চেয়েছেন। 

"আমাদের সমস্যা একটাই— আমরা প্রচারণার জন্য মাত্র তিন মাস সময় পেয়েছি। অন্যদিকে, সাইপ্রাস বিগত ১০ বছর ধরে এই পদের জন্য চেষ্টা করছে। তবে, ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হতে পারে আরএসএ-এর ওপর। আরএসএ এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতা। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একটি ‘ক্লিন ইমেজ’ বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে, যার প্রভাব ভোটে পড়বে বলে আমরা আশাবাদী" - বাংলাদেশ সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)


সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সেনেগাল এবং মরোক্কো সফরে প্রতিমন্ত্রী কয়েকটি ‘রেসিপোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ আদায়ে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া, আফ্রিকায় প্রভাব থাকা চীনকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে ঢাকা। গত এপ্রিলে বেইজিং সফর করে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদের জন্য আফ্রিকার দেশগুলোর ভোট পেতে চীনের সমর্থন চায় বাংলাদেশ। 

সরকারের এক কূটনীতিক জানান, আফ্রিকান ভোট বাংলাদেশ পুরোপুরি পাবে না, কারণ সেখানে ভোট ভাগ হয়ে গেছে। তবে, শতাংশের হিসাবে বাংলাদেশের দিকেই পাল্লা ভারী। অন্য চারটি অঞ্চলের ভোটের পরিসংখ্যান সম্পর্কে এই কূটনীতিক আরও জানান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দু-একটি দেশের ভোট বাংলাদেশ নাও পেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এ বিষয়ে বিভক্ত, কারণ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সাইপ্রাসের সঙ্গে ‘রেসিপোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ করে ফেলেছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম দেশগুলোর জোটের সমর্থন বাংলাদেশ বেশি পাবে। 

এছাড়া পূর্ব ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় এবং পশ্চিম ইউরোপীয় গ্রুপ থেকে দুই দেশের মধ্যেই ভোট ভাগাভাগি হবে। ইউরোপের অল্প কিছু ভোট বাংলাদেশও পাবে— জানান ওই কূটনীতিক। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতিসংঘের সভাপতি পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থী করা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে। তিনি ভোটে জিততে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। এই সময়ে তিনি সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য (লন্ডন), তুরস্ক, ভারত, চীন, মরিশাস, বেলজিয়াম, ইথিওপিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। এছাড়া তিনি ভোটের প্রচারণায় কয়েক দফা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন সফর করেছেন।

"আমাদের প্রার্থী অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি চমৎকার। গ্লোবাল সাউথ-এর সমর্থন, মুসলিম ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভোট, শান্তিরক্ষা ও জলবায়ু কূটনীতিতে ইতিবাচক ভাবমূর্তির কারণে বৃহৎ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। সবকিছুর ইতিবাচক প্রভাব ভোটে পড়তে পারে" - বাংলাদেশ সরকারের আরেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
খলিলুর রহমানের জেতার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, আমাদের সমস্যা একটাই— আমরা প্রচারণার জন্য মাত্র তিন মাস সময় পেয়েছি। অন্যদিকে, সাইপ্রাস বিগত ১০ বছর ধরে এই পদের জন্য চেষ্টা করছে। তবে, ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হতে পারে আরএসএ-এর ওপর। আরএসএ এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতা। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একটি ‘ক্লিন ইমেজ’ বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে, যার প্রভাব ভোটে পড়বে বলে আমরা আশাবাদী। 


সরকারের আরেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, আমাদের প্রার্থী অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি চমৎকার। গ্লোবাল সাউথ-এর সমর্থন, মুসলিম ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভোট, শান্তিরক্ষা ও জলবায়ু কূটনীতিতে ইতিবাচক ভাবমূর্তির কারণে বৃহৎ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। সবকিছুর ইতিবাচক প্রভাব ভোটে পড়তে পারে। 

বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান বর্তমানে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচিত হলে তাকে সমানতালে দুটি দায়িত্ব সামলাতে হবে। ভোটের প্রচারণায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিপক্ষ সাইপ্রাসের প্রার্থী এটি নিয়ে নেতিবাচক প্রচার করছেন। তবে, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলে ‘পূর্ণকালীন সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন খলিলুর রহমান। এই লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক বছরের জন্য ছুটির আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বর্তমান (৮০তম) অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোটের মধ্য দিয়ে ৮১তম অধিবেশনের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হবেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর এই অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। 

এর আগে, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে তিনি হবেন এই গৌরব অর্জনকারী দ্বিতীয় বাংলাদেশি। 

গোপন ব্যালটের এই নির্বাচনে জয়-পরাজয় মূলত নির্ধারিত হবে দেশ দুটির ‘পারস্পরিক ভোট প্রদান চুক্তি’ বা আরএসএ-এর সংখ্যার ওপর। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৬০টির বেশি দেশের সমর্থন আদায় করতে পেরেছে। নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে ১৯৮৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় কোনো বাংলাদেশি হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের এই ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করবেন খলিলুর রহমান


যেভাবে প্রার্থী হলেন খলিলুর রহমান

২০২০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এই পদে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ২০২৬ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস ছাড়াও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি থাকায় ঢাকা তখন কিছুটা ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয় খলিলুর রহমানকে, যিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রার্থী পরিবর্তন করে খলিলুর রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয় এবং তৌহিদ হোসেন বাদ পড়েন। এর মধ্যে ফিলিস্তিনও নির্বাচন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মঙ্গলবারের (২ জুন) নির্বাচনে এখন মুখোমুখি সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান সিপিজের

সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বাংলাদেশে একটি সংবাদপত্রের ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।   সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিপিজে জানায়, ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬, মানহানি, চাঁদাবাজি এবং অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।   মামলাটি করেন বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম রিমন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মিথ্যা ও মানহানিকর। পাশাপাশি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অভিযোগও আনা হয়েছে।   মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ জুন রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এদিকে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ।   সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাহারের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সাইবার ও ফৌজদারি মানহানি আইনের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানান।   এদিকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের বিষয়ে তাঁর কোনো নির্দেশনা ছিল না।   বিবৃতিতে সিপিজে আরও উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগঠনটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চুক্তি বাতিলের পরও ডাক বিভাগের ই-কমার্স সেবা পরিচালনা করছে ক্লিকএক্স

প্রশাসনে আবার ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রথা ফিরল

ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে সরছে অটোরিকশা

ছবি: সংগৃহীত
মুন্সিগঞ্জে চালু হলো দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস কারাগার’

আধুনিক ও যুগোপযোগী কারা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শুরু হলো ‘ক্যাশলেস কারা ব্যবস্থাপনা’। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশের প্রথম ক্যাশলেস কারাগার হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার। রোববার (২১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় কারা অধিদপ্তর।   নিরাপদ লেনদেন, স্বচ্ছ হিসাব, আধুনিক সেবা’ -এই স্লোগানকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দিদের নিরাপত্তা, অবস্থান শনাক্তকরণ এবং লেনদেন ব্যবস্থায় আনা হয়েছে নতুন পরিবর্তন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক ও সুরক্ষিত এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কারাগারে বন্দিদের অবস্থান সহজেই শনাক্ত করা যাবে। একইসঙ্গে আরএফআইডি (আরএফআইডি) বন্দি ওয়ার্ডে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্দিদের নির্ভুল গণনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন এই ক্যাশলেস নিয়মে, বন্দিদের আত্মীয়-স্বজনরা কারাগারে এসে তাদের জন্য যে অর্থ প্রদান করবেন, তা সরাসরি ভার্চুয়ালি বন্দির নির্দিষ্ট হিসাবে (অ্যাকাউন্ট) জমা হবে। এরপর বন্দিরা তাদের অনুকূলে থাকা আরএফআইডি (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে কারা ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা করতে পারবেন। ফলে কারাগারের ভেতরে বন্দি বা কর্মীদের মাঝে কোনো ধরনের নগদ টাকার (ক্যাশ) লেনদেন হবে না। একইসঙ্গে বন্দিদের সঠিক অবস্থান ও নিরাপত্তা তদারকি আরও জোরদার হবে।   এই ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাটি মোট ৬টি ধাপে সম্পন্ন হবে: ১. টাকা নিয়ে আগমন: বন্দির আত্মীয় বা স্বজনরা বন্দির জন্য টাকা নিয়ে কারাগারে আসবেন। ২. টাকা গ্রহণ ও হিসাবভুক্তকরণ: দায়িত্বরত কর্মকর্তা টাকা গ্রহণ করে সঙ্গে সঙ্গে তা সংশ্লিষ্ট বন্দির নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাবভুক্ত করবেন। ৩. ব্যাংকে জমা: সংগৃহীত নগদ টাকা সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাংকে জমা করে দেওয়া হবে। ৪. অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট: সংগৃহীত টাকাটি বন্দির ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা (ক্রেডিট) হয়ে যাবে। ৫. খরচ ও সেবা বাবদ পেমেন্ট: কারাগারের ভেতরে বন্দি ক্যান্টিনসহ যেকোনো সেবা বা খরচ বাবদ সব প্রকার লেনদেন এই অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে। ৬. জামিনে মুক্তির পর অবশিষ্ট টাকা উত্তোলন: বন্দি ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তার অ্যাকাউন্টের অবশিষ্ট টাকা মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারবেন। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের খরচ কমাতে ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন’ কার্যকরের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলের হাতে মাদ্রাসা শিক্ষক বাবা খুন

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কথা বলে কোটি টাকার পণ্য পাচার, রাজস্ব কর্মকর্তাসহ আটক ৩

ছবি: সংগৃহীত
স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ সম্ভব, কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়

স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়া-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ।   সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।   ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে জিএম সিরাজ বলেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের যে আমরা প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর কিন্তু সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না, না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।    দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের ওপর জোর দিয়ে বিএনপির এই এমপি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আমি একটু সময় নেবো। সেটা হলো যে আমরা সবাই চাই ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনকভাবে আমাদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে ভারত আমাদের প্রতিবেশী। আমরাও দুই বন্ধুতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী যেন না হয়।   বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং এর প্রেক্ষিতে জনমানসের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা দেখলাম যে দেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার আসলেন। তিনি এসে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব নিয়ে তিনি কাব্যিক ভাষায় কথা বলেছেন। ত্রিবেদী বললেন, আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে আছি। আমাদের বন্ধুত্ব প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কি দেখলাম? আমরা দেখলাম বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়াতে বিতর্কের ঝড়। ভারত-বিরোধী বিভিন্নভাবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে দেখলাম। কিন্তু কেন? এই কেন প্রশ্নটা জানতে হবে।   সীমান্ত সংকট ও মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, আমরা জানতে চাই যে, আজকে পুশ-ইন ভারতের ভাষায় পুশব্যাক হচ্ছে। এটা বন্ধ হতে হবে। আমরা বলতে চাই আসুন, মানুষের হৃদয় জয় করুন। মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে ভারতের, ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই ভারত-বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ-বিরোধিতা এগুলো না হোক। আমরা কি চাই? আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে চাই। সেই ক্ষেত্রে আমার সবিনয় অনুরোধ ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি যে, আপনারা দয়া করে পুশ-ইন বন্ধ করুন। পুশ-ইন বন্ধ করুন। একই সঙ্গে পুশ-ইনের চাইতেও আরেকটি বড় মারাত্মক ব্যাধি আমাদের— মাদকে আমাদের ছেয়ে ফেলেছে। এই সর্বগ্রাসী মাদক আমাদের যুবক সম্প্রদায়, ছাত্র সম্প্রদায়, সমস্ত শ্রেণীকে নষ্ট করে ফেলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সেশনজট রোধে কঠোর অবস্থান শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

২২ জন বিচারককে বদলি

0 Comments