আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ আর্থিক সংকটে: মহাসচিব গুতেরেস সতর্ক

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, সদস্য দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করায় সংস্থাটি এখন আসন্ন আর্থিক ধসের মুখে। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের তহবিল পুরোপুরি শূন্য হয়ে যেতে পারে।

 

বিবিসির এক প্রতিবেদনের মতে, ১৯৩টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গুতেরেস বলেছেন, নির্ধারিত বাধ্যতামূলক চাঁদা পরিশোধ না করলে জাতিসংঘের আর্থিক নিয়মকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া বিকল্প থাকবে না। অন্যথায় এই সংকট ঠেকানো সম্ভব নয়। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আদায় না হওয়া অর্থ দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করা যায় না, আর যে অর্থ কখনো পাওয়া যায়নি, তা ফেরত দেওয়াও সম্ভব নয়।

 

মহাসচিব জানান, অতীতেও জাতিসংঘ আর্থিক সংকটে পড়েছে, তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, এবার অনুমোদিত নিয়মিত বাজেটের একটি বড় অংশের অর্থ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবেই জানানো হয়েছে। যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত বাজেট ও শান্তিরক্ষা তহবিলে অর্থ দেওয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি একাধিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেছে, যেগুলোকে তারা করদাতাদের অর্থের অপচয় বলে দাবি করছে।

 

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত চাঁদা দেওয়া সদস্য দেশগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা। এই অর্থের ওপরই পুরো ব্যবস্থার অখণ্ডতা নির্ভর করে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে বকেয়া অর্থের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা মোট প্রাপ্যের ৭৭ শতাংশের সমান। তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে অব্যবহৃত অর্থ সদস্য দেশগুলোকে ফেরত দিতে হয়। ফলে এটি এখন একটি দুধারি তলোয়ারে পরিণত হয়েছে, কারণ যে অর্থ বাস্তবে পাওয়া যায়নি, সেটিই ফেরত দিতে বলা হচ্ছে।

 

চিঠিতে মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেন, হয় সব সদস্য রাষ্ট্র সময়মতো ও পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করবে, নয়তো আসন্ন আর্থিক ধস ঠেকাতে আর্থিক নিয়মকাঠামোয় মৌলিক সংস্কার আনতে হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, সংস্থাটি তার সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টায় যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছে না। চলতি জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়, যার মধ্যে জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার উপেক্ষা করে বৈশ্বিক অ্যাজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে মার্কিন করদাতাদের অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছে।

 

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মানবিক কর্মসূচির জন্য ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও একই সঙ্গে সতর্ক করে জানায়, সংস্থাটিকে খাপ খাওয়াতে হবে, নইলে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। অথচ ২০২২ সালে এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ছিল প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগেও গুতেরেস একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন, বকেয়া চাঁদার কারণে জাতিসংঘ বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক আর্থিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত অক্টোবরে তিনি এই পরিস্থিতিকে আখ্যা দিয়েছিলেন দেউলিয়া হওয়ার দৌড় হিসেবে।

 

এদিকে গাজা পুনর্গঠন তদারকির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত বোর্ড অব পিস উদ্যোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এর মাধ্যমে জাতিসংঘের কিছু ভূমিকা প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের সঙ্গেই সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প–পুতিন ফোনালাপ: আলোচনায় ইরান চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে তাকে ফোন করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ সময় তারা ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধসহ ওয়াশিংটনের দূতদের আসন্ন রাশিয়া সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে ক্রেমলিন জানিয়েছে।   রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে টেলিফোন করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।   ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, টেলিফোনে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খসড়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই রাষ্ট্র নেতা। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে।   উশাকভ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার—যারা বর্তমানে ইরানি বিষয়ক নানা প্রক্রিয়ায় ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত; তারা শিগগিরই রাশিয়ায় ফিরবেন।   ক্রেমলিনের এই উপদেষ্টা বলেছেন, মার্কিন দূত উইটকফ ও কুশনার শিগগিরই রাশিয়া সফর করবেন বলে একমত হয়েছেন পুতিন এবং ট্রাম্প।   এর আগে, একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি আজই স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চুক্তি সইয়ের পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।   গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে আলোচনায় বারবার বিলম্ব হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, একটি বড় ধরনের সাফল্য খুব দ্রুতই আসছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই দ্রুত সাফল্য আসার সময়সীমা নিয়ে বিশ্লেষকরা এখন সন্দেহ প্রকাশ করছেন।   এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির বিষয়ে তেহরান এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কিংবা ঘোষণা করেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার বলেছেন, চুক্তি সইয়ের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি এবং এটি রোববার হচ্ছে না।   তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলছেন, আলোচনা এখনও চলছে এবং কোনও চূড়ান্ত চুক্তি নিশ্চিত করা হয়নি।   সূত্র: এএফপি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগকে ‘আত্মসমর্পণ দলিল’ বলছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান

ছবি: সংগৃহীত

সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ইসরাইল সফর নিয়ে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তির দাবি শাহবাজের, সময়সূচি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির রূপরেখায় সম্মতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর (ই-সাইনিং) আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।   শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। ইসলামাবাদ এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, আগামী রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ইসলামাবাদ স্মারক’ স্বাক্ষরিত হচ্ছে না।   তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা থাকলেও নির্দিষ্ট সময় নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্যে চুক্তির সময় ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

“ইরানের অশুভ সাম্রাজ্য মোকাবিলায় ট্রাম্পের প্রশংসা” ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা খাতে ব্যয় কমছে, দারিদ্র্যে নতুন রেকর্ড পাকিস্তানের

ছবি : সংগৃহীত

৩৫০ বছরের পুরোনো দুর্গ থেকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর হোটেল

ছবি : সংগৃহীত
লক্ষ কোটি টাকার মালিক, তবু ৪০০ বর্গফুটের ঘরেই থাকেন ইলন মাস্ক

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্পেসএক্স’-এর অভাবনীয় শেয়ার বিক্রির (আইপিও) পর ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হয়েছেন। তবে তার এই বিপুল সম্পদের বিপরীতে জীবনযাপনের এক অদ্ভুত সাদামাটা চিত্র পুরো বিশ্বকে অবাক করেছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার সব বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে তিনি বর্তমানে টেক্সাসে স্পেসএক্সের রকেট সেন্টারের কাছে মাত্র ৪০০ বর্গফুটের একটি ছোট ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছেন।   গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের বোকা চিকায় স্পেসএক্সের ‘স্টারবেস’ রকেট সেন্টারের কাছে ইলন মাস্কের এই বাড়িটি অবস্থিত। ‘বক্সাবল’ কম্পানির তৈরি ২০x২০ ফুটের এই ঘরটি মূলত একটি তৈরি করা (প্রিফ্যাব্রিকেটেড) বক্সের মতো। বাড়িটির দাম মাত্র ৫০ হাজার ডলার, যা তিনি স্পেসএক্সের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন। এই ছোট ইউনিটটির ভেতরেই রয়েছে একটি বসার ঘর, শোবার জায়গা, রান্নাঘর ও একটি সাধারণ বাথরুম। মাস্ক নিজেই এই বাড়িটিকে দারুণ বলে উল্লেখ করেছেন।   ইলন মাস্কের মা মে মাস্ক বাড়িটি ঘুরে এসে বলেছিলেন, ওখানকার ফ্রিজে কোনো খাবার পর্যন্ত থাকে না এবং ঘুমানোর ব্যবস্থাও খুব সাধারণ। বাড়িটিতে জায়গা বাঁচাতে দেয়ালের সাথে ভাঁজ করে রাখা যায় এমন ‘মারফি বেড’ এবং কিছু প্রয়োজনীয় রান্নার সরঞ্জাম রয়েছে। এর আগে টেসলা গাড়ির কারখানায় উৎপাদনের চাপ থাকার সময়ও মাস্ক বিলাসবহুল জীবনের চেয়ে কাজকে গুরুত্ব দিয়ে কারখানার মেঝেতেই ঘুমাতেন।   যদিও মাস্ক দাবি করেন যে বোকা চিকার এই ছোট বাড়িটিই তার প্রধান বাসস্থান, তবুও অস্টিনের কাছে তার কোম্পানির নামে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বেশ কয়েকটি বড় বাড়ি রয়েছে। সেগুলোর একেকটি প্রায় ৬ থেকে ৯ হাজার বর্গফুটের এবং সেগুলোতে সুইমিং পুলও আছে। তবে মাস্ক সেই বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে না থেকে কাজের সুবিধার্থেই এই ছোট বাড়িতে থাকেন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ৪০০ বর্গফুটের বাড়িতে থাকার এই সিদ্ধান্ত মূলত মাস্কের কাজের প্রতি একাগ্রতারই প্রমাণ। তিনি মনে করেন, জাগতিক আরাম-আয়েশের চেয়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও মানবজাতির ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। রকেট সেন্টারের ঠিক পাশেই থাকার কারণে তিনি স্পেসএক্সের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট ‘স্টারশিপ’-এর কাজ সরাসরি তদারকি করতে পারছেন।   সূত্র : এনডিটিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজের সংকটের সমাধান পাকিস্তানের হাতে!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-মোদি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অর্থ ছাড়ের খবরে বিতর্ক, দাবি অস্বীকার করল আমিরাত

0 Comments