অন্যান্য

জরিপে উঠে এল কে হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬

নির্বাচন যতই সামনে আসছে, ততই জনগণের মধ্যে বিএনপির প্রতি সমর্থন আরও দৃঢ় হচ্ছে—এমনই চিত্র উঠে এসেছে ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের সর্বশেষ জরিপে। বেসরকারি এ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’ অনুযায়ী, বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি বর্তমানে ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন। ‘পেপস’-এর তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফল দেখাচ্ছে, এ জরিপের আগের রাউন্ডগুলোয় যারা জামায়াত বা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে ছিলেন, তাদের একটি অংশের সমর্থন বিএনপির দিকে ঘুরে গেছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বড় অংশও বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন।

 

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই জনমত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

 

পেপসের প্রথম রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল গত বছরের মার্চে, আর দ্বিতীয় রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া নাগরিকদের নিয়ে টেলিফোনে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ চালানো হয়।

 

চলতি জানুয়ারি মাসের ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ৫,১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ জরিপের প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের বাছাই করা হয় দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর এলাকা থেকে। ভোটার উপস্থিতি, গণভোট সম্পর্কে জনমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও দলীয় পছন্দ—এই ছয় বিষয়ে নেওয়া হয় মতামত।

 

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী কে, তা তারা বলতে পারছেন না।

 

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তহীন ভোটাররা বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন।

 

এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী প্রসঙ্গে জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন, এই প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেছেন। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

 

পেপসের রাউন্ড ২-এর তুলনায় রাউন্ড ৩-এ বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অবসরের পরও থামেননি, গ্রামের স্কুলে পড়াচ্ছেন সাবেক উপাচার্য ড. এম এ সাত্তার

শিক্ষকতা থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নিয়েছেন এক দশকেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু জ্ঞান বিতরণের প্রতি ভালোবাসা এবং শিকড়ের প্রতি গভীর টান এখনো তাকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাই সুযোগ পেলেই গ্রামের স্কুলে হাজির হন তিনি, হাতে তুলে নেন চক-ডাস্টার, আর শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে শুরু করেন পাঠদান।   তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখা এই কৃষি অর্থনীতিবিদ এখন নিয়মিত সময় দেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কৃষ্ণারডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।   এই বিদ্যালয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তার শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে দেশের অন্যতম সফল শিক্ষাবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও নিজের বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো কমেনি।   বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন। শুধু পাঠ্যবইয়ের পাঠ নয়, জীবনের লক্ষ্য, অধ্যবসায়, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং সফলতার গল্পও শোনান শিক্ষার্থীদের। তার ক্লাসে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করে, মতামত দেয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখে।   অধ্যাপক সাত্তারের মতে, গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে অকারণ ভয় কাজ করে। সেই ভয় দূর করতেই তিনি সহজ পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখানোর চেষ্টা করেন। ছোট ছোট প্রশ্ন, সহজ বাক্য এবং উৎসাহমূলক আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলেন।   ২০২২ সালে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। একই বছর কৃষ্ণারডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় তাকে অবৈতনিক ইমেরিটাস শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।   বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, তার উপস্থিতি পুরো শিক্ষাঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। শুধু উচ্চ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই নয়, ছোট ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরাও তার ক্লাসে অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়। অনেকেই তার জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়।   শিক্ষাদানের পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেও নানা উদ্যোগ নিয়েছেন ড. সাত্তার মণ্ডল। নিজের প্রয়াত মা-বাবার নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু করেছেন। একইভাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পরিবারের সদস্যের নামে বৃত্তি প্রদান কর্মসূচি চালু করেছেন।   কৃষি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষিনীতি নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা জীবনে তিনি শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ, বই ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও গ্রামকে কখনো ভুলে যাননি।   তার বিশ্বাস, আজকের গ্রামের শিক্ষার্থীদের সামনে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসম্মত শিক্ষা। সেই লক্ষ্যেই তিনি অবসরের পরও নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।   ড. এম এ সাত্তার মণ্ডলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, প্রকৃত শিক্ষক কখনো অবসর নেন না। জ্ঞান বিতরণ ও মানুষ গড়ার দায়িত্ববোধই তাদের আজীবনের পরিচয় হয়ে থাকে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৪৬ শতাব্দী পেরিয়েও অটল গিজার পিরামিড, ভূমিকম্পেও ভাঙে না কেন?

ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবী তালিকাভুক্তির এমসিকিউতে পাস করলেন জাইমা রহমান, মোট উত্তীর্ণ ৯২০১

ছবি: সংগৃহীত

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জামায়াত আমিরের

প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট: জামায়াত সেক্রেটারি

বিএনপি সরকারঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট এবং ঋণনির্ভর বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একথা বলেন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে তিনটি বড় বাধা দেখা যাচ্ছে। এগুলো হলো— গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়; লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। এই তিনটি বড় বাধার কারণে বাজেট বাস্তবায়নসহ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সরকারের জন্য খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত সেক্রেটারি। গোলাম পরওয়ার বলেন, এবারের বাজেট ব্যাংক ও বিদেশি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। করের আওতা বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কোনও কার্যকর রূপরেখাও এ বাজেটে নেই। প্রস্তাবিত বাজেট লুটপাট ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে রফতানি আয়ও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীত সরকারের অনুসৃত পথেই বর্তমান সরকার এগোচ্ছে। খাতটিতে চলমান অনিয়মের মধ্যে এ বাজেট পাস হলে দেশের অর্থনীতি আরও সংকটে পড়বে বলে তিনি দাবি করেন। জনগণের ওপর ‘গণবিরোধী’ বাজেট চাপিয়ে না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জামায়াতের ছায়া বাজেট জনকল্যাণ ও সুশাসনভিত্তিক একটি রূপরেখা তুলে ধরেছে। একইসঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজেট সংশোধন ছাড়া আগামী ৩০ জুন এটি সংসদে পাস করা উচিত হবে না। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন।

মারিয়া রহমান জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির নারী এমপিকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনবসতি কোথায়, কীভাবে চলে সেখানকার জীবন?

ছবি: সংগৃহীত

লাইসেন্স বাতিলের পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন

সংসদ সদস্য আমির হামজা। ছবি: সংগৃহীত
সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে লালন মাজার নিয়ে প্রশ্ন আমির হামজার

সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেছেন, কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজারে সংস্কৃতির নামে অনৈতিক কাজ চলে। সেখানে সংস্কৃতির নামে যেসব অনৈতিক কাজ ও মাদকের কারবার চলে, সেগুলো বন্ধে সংস্কৃতিমন্ত্রীর কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা, জাতীয় সংসদে তা জানতে চেয়েছেন তিনি।  বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে এ প্রশ্ন রাখেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য।    আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজার এলাকাকে মাদকদ্রব্যমুক্ত করার জন্য কোনো উদ্যোগ আছে কিনা, তা জানা প্রয়োজন। কারণ, প্রশাসনের পাহারায় লালন সাঁইয়ের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিন করে মোট ছয়দিনের অনুষ্ঠান হয়। আমির হামজার এই প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শুধু কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের স্মৃতিবিজড়িত মাজার এলাকাতেই নয়, বরং পুরো দেশকেই মাদকমুক্ত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং এর জন্য বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মাদক নির্মূলের বিষয়টিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে যখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়, তখনই কেবল সমাজকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা সম্ভব হয়। তিনি আরও দাবি করেন, বিগত ১৮ বছর দেশে যে ঘন অন্ধকার যুগ চলেছে, সেই সময়েই মাদক দেশজুড়ে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল। এমনকি তৎকালীন অনেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক নেতাও এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বিগত সরকার দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে সমাজকে একটি অন্ধকার যুগে ঠেলে দিয়েছিল। তবে, সেই অন্ধকার পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে বর্তমান সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিগত আমলের অবসান ঘটিয়ে বর্তমান সরকার দেশে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার নবজাগরণ আনতে চায়। সারা দেশের তরুণ সমাজকে সেই অন্ধকার যুগ থেকে বের করে আনা হবে। অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যমে সামগ্রিক সমাজকে পরিবর্তন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। 

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ। ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

ছবি : সংগৃহীত

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপ্রত্যাশিত বক্তব্যে হতভম্ব জামায়াত এমপিরা’

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১৫ বাংলাদেশি

0 Comments