বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের উন্নয়ন ও ভাগ্যের পরিবর্তন করাই তাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দেশের উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়, বিএনপি তা ভালোভাবেই জানে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টায় কুমিল্লার সোয়াগাজীর ডিগবাজী মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা রক্ষায় মানুষ আবারও জীবন দিয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪১৯ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। পাশাপাশি আরও সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারাই আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল এবং বহু কৃষকের ঋণ মওকুফ করা হয়। বিএনপি দেশের ও মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাসী। কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টানতে হয়, কীভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়—সে বিষয়ে দলের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা অনুযায়ীই ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি অন্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনায় যেতে চায় না। তারা মানুষের উন্নয়নের কথা বলতে চায় এবং উন্নয়নের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, দলের কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম, কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু এবং সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন শুধু একটি ভোটের আয়োজন নয়; এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে দেশে জবাবদিহিতামূলক সরকার গড়ে উঠবে কি না। তাই নির্বাচন নিয়ে সবাইকে অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমাদের বলে দেবে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে। দেশকে সঠিক পথে নিতে হলে এ নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১২টায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি আমাদের দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই কারণেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে শুধু বগুড়া নয়, প্রকৃত অর্থে পুরো বাংলাদেশই বঞ্চিত ছিল। আগামী দিনে আল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে আমরা শুধু বগুড়ার কথা নয়, সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করব। বগুড়াকে যেমন এগিয়ে নেওয়া হবে, ঠিক তেমনি সমানভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে পুরো বাংলাদেশকে। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, প্রিয় বগুড়াবাসী—আজ এই মুহূর্তে আপনাদের দেওয়ার মতো আমার কিছু নেই। আজ আপনাদের কাছে শুধু চাইবার আছে। আপনারা যদি বগুড়ার মানুষ আমাদের পাশে থাকেন, যদি মানসিকভাবে সমর্থন দেন, তাহলে ইনশাল্লাহ আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর ও ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব। এ জন্য তিনি বগুড়াবাসীর কাছে সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী মোরশেদ মিলটন। এছাড়াও বক্তব্য দেন একেএম মাহবুবুর রহমান, ভিপি সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম টুকু এবং পিপি আবদুস বাছেদ। পরে তারেক রহমান বগুড়ার ছয়টি আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। উত্তরাঞ্চল সফরের প্রথম দিনে বিএনপির চেয়ারম্যান রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা সফর শেষে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উঠেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আতাউল্লাহ নিজামি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবেই তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে ঢাকার একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন এবং রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নওগাঁয় জনসভায় ভাষণ দেন। রাত ৮টার দিকে নওগাঁ থেকে সড়ক পথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। পথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে অগণিত নারী-পুরুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান। জনস্রোতের কারণে তারেক রহমানের বহনকারী গাড়িবহরকে ধীরগতিতে এগোতে হয়, ফলে বগুড়া পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। রাত গভীর হলেও হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক বিকেল থেকেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য। জনসভাকে ঘিরে আলোঝলমল হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। কানায় কানায় পূর্ণ মাঠ ও আশপাশের এলাকা স্লোগান ও মিছিলে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকেই মাইক ও ডিজিটাল পর্দার সামনে এবং আশপাশের বাড়ির ছাদে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য শোনেন। শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা আবদুল বারিক বলেন, অনেক কষ্ট করে এসেছি, মাঠে জায়গা পাইনি। তাই সাতমাথায় দাঁড়িয়ে মাইকের সামনে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনছি। নিশ্চিন্তপুর এলাকার হযরত আলী বলেন, সকাল থেকেই বসে আছি। সামনাসামনি তারেক রহমানকে দেখব বলেই জায়গা ছাড়িনি। আগামী কর্মসূচি অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় এবং ৩১ জানুয়ারি বেলা ২টায় বিসিক শিল্প পার্কে ও বিকেল ৪টায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের জনসভার মঞ্চে উঠেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা করতালি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানান; তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান দুপুরে আকাশপথে রাজশাহী বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর তিনি সুফি সাধক শাহ মখদুম (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা সাড়ের ১২টার মধ্যে মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। আশপাশের মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই সমাবেশে আসেন মিছিল নিয়ে। এর বাইরে নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাসে করে দলীয় নেতা-কর্মীরা এসেছেন। মঞ্চের দুই দিকে বড় পর্দা এবং মাঠের কোণায় আরও দুটি বড় পর্দা টানানো হয়েছে, যাতে মঞ্চের চিত্র দেখা যায়। এ জনসভায় অংশ নিচ্ছেন রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা। তারা হলেন— শরীফ উদ্দীন (রাজশাহী-১), মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী-২), মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন (রাজশাহী-৩), ডি এম ডি জিয়াউর রহমান (রাজশাহী-৪), নজরুল ইসলাম, আবু সাইদ চাঁদ (রাজশাহী-৫); শাহ্জাহান মিঞা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), হারুনুর রশীদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩); ফারজানা শারমীন (নাটোর-১), এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), আনোয়ারুল ইসলাম (নাটোর-৩) ও আব্দুল আজিজ (নাটোর-৪)। মাদ্রাসা মাঠের সমাবেশ শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে যাবেন নওগাঁতে। বিকাল সাড়ে ৫টায় শহরের এটিম মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাত সাড়ে ৭টায় বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরাঞ্চলের তিন দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শুক্রবার যাবেন রংপুর। পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর সেদিন বিকালে রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এরপর শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে এবং বিকালে টাঙ্গাইলের চরজানা বাইপাস এলাকায় তার নির্বাচনি জনসভা রয়েছে। এ সফর কালে বিএনপি চেয়ারম্যান দুইদিন বগুড়ায় হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিসি চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিএনপি দেশব্যাপী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা নারীদের ওপর হামলা ও হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বিএনপিকে সন্ত্রাস, হত্যা ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শেরপুরের ঘটনা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানান, শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। পোস্টে আরও বলা হয়, ওই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ৫০ জনের বেশি সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টা ২০ মিনিটে রেজাউল করিম মারা যান।