জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থীরা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে জবি অডিটোরিয়ামে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার সময় বিজয় উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিও জোরালোভাবে ওঠে আসে।
ফল ঘোষণার এক পর্যায়ে অডিটোরিয়ামজুড়ে শিক্ষার্থীরা ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘গোলামি না আজাদী, আজাদি আজাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন। একই সঙ্গে শহীদ সাজিদের স্মরণেও স্লোগান শোনা যায়।
এ সময় স্লোগানে নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব এবং নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য শান্তা আক্তার। পুরো মিলনায়তন তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে হাদি হত্যার বিচার দাবি তোলে। স্লোগানের ভিড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের ভোট স্থগিত হয়েছে এমন সংবাদ সঠিক নয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিশন গণমাধ্যমকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছে। শুক্রবার সকালে কিছু গণমাধ্যমে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচন স্থগিত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শুধু এ দুটি আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে। পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন সংক্রান্ত এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হাইকোর্টের রায়ের পর। হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গত ২৪ ডিসেম্বর এই দুই আসনের আগের সীমানা পুনর্বহাল করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সেই অংশ স্থগিত করে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এক প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানির পর এ আদেশ দেন। এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাস চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। এতে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো এলাকা পাবনা-১ আসনে এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলিয়ে পাবনা-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিশন ভোটার ও প্রার্থীদের বিভ্রান্তি এড়াতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নির্বাচন স্থগিত হয়নি, শুধুমাত্র আপিল বিভাগের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন আগের মতো সাধারণ বা বাধাগ্রস্ত নির্বাচন নয়। তার ভাষায়, এটি শুধুমাত্র আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং দেশের আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় গোরে শহীদ ঈদগাহ ময়দানে ভোটের গাড়ি প্রচারণা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ফাওজুল কবির খান বলেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি ভোটারদের বলেন, যদি আপনি সংস্কার চান, সংসদীয় গণতন্ত্র বজায় রাখতে চান, ক্ষমতা যেন এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত না হয় এবং মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। অন্যদিকে, যদি মনে করেন সংস্কারের প্রয়োজন নেই, তাহলে ‘না’ ভোট দেবেন। তবে ভোটের ক্ষেত্রে কেউ কাউকে বাধ্য করতে পারবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সংস্কারের জন্যই ১ হাজার ৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। ফাওজুল কবির খান জানান, তিনি নিজেও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। উপদেষ্টা জানান, জুলাই মাসে অভ্যুত্থান ঘটেছিল মূলত ভোট প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে। তখন মানুষ ভোট দিতে পারেনি বা নির্বাচনের সঠিক হিসাব হয়নি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আশ্বাস দেন, যে কোনো প্রার্থী—যে দলের হোক, যে ধর্মের হোক, যে বর্ণ বা গোত্রের হোক—ভোটাররা যাকে চান, তাকেই বিজয়ী হিসেবে দেখতে চায়। ফাওজুল কবির খান বলেন, এই জেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটার রয়েছেন। তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা ভোটারদের দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রাম সফরে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ এই নেতার চট্টগ্রাম আগমনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই সফরকে ঘিরে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং চট্টগ্রাম মহানগরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের এই সফর শুধুমাত্র সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা থাকবে তার বক্তব্যে। দীর্ঘদিন পর সরাসরি মাঠে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে বলে মনে করছেন তারা। চট্টগ্রাম বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, ২০ বছর পর তারেক রহমানের আগমন দলীয় রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে। অতীতে চট্টগ্রাম ছিল বিএনপির শক্ত ঘাঁটি, আর এই সফরের মাধ্যমে সেই সাংগঠনিক শক্তি পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হবে। তারা আরও বলেন, এই সফরকে ঘিরে সমাবেশ, সভা এবং দলীয় বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ও রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত এলাকা। সেখানে তারেক রহমানের দীর্ঘদিন পর উপস্থিতি শুধু বিএনপির জন্য নয়, বরং সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সম্ভাব্য নির্বাচনী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তারা। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিতে পারে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, প্রায় ২০ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমানের আগমন বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সফরের মাধ্যমে তিনি কী বার্তা দেন এবং তা দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে—সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।