রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে ইউক্রেনের অন্তত ৬ টি অঞ্চলের জ্বালানী স্থাপনা। রাতভর পরিচালিত এই হামলায় বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির এক মিলিয়নেরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। । রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ইউক্রেনের জ্বালানী স্থাপনা ও শিল্প কারখানা টার্গেট করে সাড়ে ৪শ'র বেশি ড্রোন ও অন্তত ৩০ টি মিসাইল ছোড়ে রাশিয়া। টেলিগ্রামে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি।
হামলার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ইউক্রেনের ওডেসা, চারনিহিভ, খেরসন, নিপ্রো-পেট্রো-ভস্ক, কিরোভোহরাদ ও মাইকোলাইভ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের এলাকাগুলোও।
দীর্ঘসময় চেষ্টার পর মাইকোলাইভ ও এর আশপাশের এলাকাগুলোয় আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলছে তৎপরতা।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো রুশ হামলার প্রধান লক্ষ্য হয়ে আছে। তবে আবহাওয়া শীতল হতে শুরু করায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব হামলার মাত্রা আরও বেড়েছেএদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র পানি ও তাপ সংকট।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুজব নাকচ করে দিয়েছে। রোববার (৩১ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাসনিমের বরাতে একটি সূত্র জানায়, ‘পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তিনি আজও স্বাভাবিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।’ সূত্রটি আরও দাবি করে, ‘এসব গুজব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভেদ সৃষ্টি এবং ইরানের সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।’ একই সূত্রের মতে, ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ নেটওয়ার্ক যেসব তথাকথিত সূত্রের কথা উল্লেখ করেছে সেগুলো সাধারণত ওই নেটওয়ার্কের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কল্পনা ও ভ্রান্ত ধারণার ফল।’ এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারত সফর শেষে মন্তব্য করেছিলেন, ‘নয়াদিল্লি আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষির ওপর জোর দিয়ে ৫০ হাজার কোটি ডলার’ মূল্যের আমেরিকান পণ্য কিনতে ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে। রুবিওর এই মন্তব্য কেবল নয়াদিল্লির রাজনৈতিক মহলেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, ভারত কেন এমন একটি একতরফা চুক্তিতে রাজি হলো এবং এর বিনিময়ে ভারতের আসলে কতটা লাভ হবে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে ভারত কেন এমন একটি প্রতিশ্রুতি দেবে, তা বেশ রহস্যজনক।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ যখন এই চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তার পর থেকে পরিস্থিতির মূল ভিত্তিগুলো অনেকটাই বদলে গেছে। এমন একটি চুক্তিতে সই করা ভারতের জন্য ‘বোকামি’ হবে, যা দেওয়ার চেয়ে কেড়ে নেয় অনেক বেশি। কী পরিবর্তন এসেছে এই ৫০ হাজার কোটি ডলারের অঙ্কটি প্রথম সামনে আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি ঘোষণা করেছিল। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেন, যা ভারতে বেশ স্বস্তি এনে দিয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউস সে সময় জানিয়েছিল, শুল্ক কমানোর বিনিময়ে নয়াদিল্লি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, কয়লা এবং অন্যান্য পণ্যের বার্ষিক আমদানি দ্বিগুণের বেশি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের চুক্তির বিজ্ঞপ্তিতে এই পয়েন্টকে শেষের আগের পয়েন্ট হিসেবে প্রায় লুকিয়ে রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্র কেনার তালিকায় উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ যুক্ত করেছিল। যখন এই ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, তখন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছিলেন, ভারতীয় অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করলে এই সংখ্যা খুবই সাধারণ বা রক্ষণশীল। গোয়েল বলেন, আগামী পাঁচ বছরে কেবল বিমান খাতের চাহিদাই ১০ কোটি হাজার ডলারের বাণিজ্যের কারণ হবে। এর থেকে বোঝা যায়, কম শুল্কের বিনিময়ে এটি যৌক্তিক এক চুক্তি ছিল। তবে সেই মাসের শেষের দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, ট্রাম্পের ঢালাও পারস্পরিক এবং ফেন্টানিল-সম্পর্কিত শুল্ক আরোপ অবৈধ। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা ব্যবহার করে তাদের সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ঢালাওভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এটি বেশ অদ্ভুত, ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের আমেরিকান পণ্য কেনার পরিকল্পনা কেবল চালিয়েই যাচ্ছে না, বরং রুবিওর এই দাবিকে চ্যালেঞ্জও করছে না। তাদের চুপ থাকার ফলে এটি এখন একটি ‘প্রতিশ্রুতিতে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে পীযূষ গোয়েলের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলা হয়, ভারতীয় অর্থনীতি উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের মতো বড় বড় জিনিস কেনার ক্ষমতা রাখুক বা না রাখুক, কেন দেশটি সেরা চুক্তি পেতে অন্যান্য সরবরাহকারীর পথ খোলা রাখবে না? যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং ভারতীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ার ফলে ভারত তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এসব উদ্বেগ আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদেরা প্রশ্ন তুলেছেন, কোম্পানিগুলোকে মার্কিন সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতি ছাড়া বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা আদৌ সম্ভব কি না। এমকে গ্লোবালের অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই হিসাব মিলছে না।’ তিনি এই লক্ষ্যমাত্রাকে ‘বাস্তবধর্মী হওয়ার চেয়ে অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা’ বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র হলো ভারতের শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নয়াদিল্লির মোট রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সে দেশে পাঠানো হয়েছিল। রপ্তানি শুল্ক আরোপের আগের স্তরের কাছাকাছি থাকলে এবং আমদানি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের যে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত (লাভ) রয়েছে, তা কমে যেতে পারে। এতে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের মোট পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৮ হাজার ৩০৫ কোটি ডলার। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ ধর এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি ডলার আমদানি করতে হলে এটি ভারতের বাণিজ্যের ভারসাম্যকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান শর্তগুলো মূলত ভারতের প্রধান বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখছে মাত্র, রপ্তানি বৃদ্ধিতে কোনো সাহায্য করছে না। ভারতের এই পদক্ষেপের পেছনে কারণ কী ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল এক সময়ে রুবিওর এই ভারত সফর হলো। এখন অনেক ভারতীয় চীন ও পাকিস্তানের প্রতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো নিয়ে চিন্তিত। তা ছাড়া ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে ভারত বেশ রক্ষণশীল অবস্থানে রয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, নয়াদিল্লিই প্রথম এই সুবিধা পাবে। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের পণ্যের ওপরই সবচেয়ে বেশি শুল্ক চাপানো হয়। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট যারাই ক্ষমতায় ছিল, তারা ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদও রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং গত বছর ভারত-পাকিস্তান শান্তিচুক্তিতে নিজের কৃতিত্ব দাবির পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেই ট্রাম্প ভারতের ওপর এই শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেন। তবে নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের গতি একটুও কমেনি... এই সম্পর্ক আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে। ভারতের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রুবিও ভারতকে এটি ব্যক্তিগতভাবে না নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের এক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে এবং এর সমাধান করা দরকার। এটি ভারতকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।’ রুবিওর পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (তৎকালীন দায়িত্ব অনুযায়ী) বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আমেরিকা প্রথম) হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্টভাষী। জয়শঙ্কর আরও যোগ করেন, ‘আমাদেরও একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে, আর তা হলো “ইন্ডিয়া ফার্স্ট” (আগে ভারত)।
হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর (খাতাম আল-আম্বিয়া) এ নির্দেশনা জারি করেছে। শনিবার (৩০ মে) আল জাজিরার লাইভ আপডেটে জানানো হয়, ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সদর দপ্তরটি বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ কর্তৃত্বের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। তাই সব বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য নৌযানকে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে চলাচল করতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাত্রার আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ইরান জানায়, এসব বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে তার ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলোকেও সতর্ক করেছে তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সামুদ্রিক চলাচল বা প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।