ফ্রান্সে প্রবেশে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ–নোয়েল বারো।
গত সপ্তাহের শুরুর দিকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার (ত্রাণবাহী নৌবহর) অধিকারকর্মীদের উপহাস ও হেনস্তা করার একটি ভিডিও ফুটেজ আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়। ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন বেন–গভির। এরপর এই পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্রান্স।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, ‘আজ থেকে ইতামার বেন-গভিরের ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো।’ তিনি আরও বলেন, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার যাত্রী ফরাসি ও ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রতি তাঁর নিন্দনীয় আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেন-গভির একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়। বেন-গভিরকে তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে উপহাস করতেও দেখা যায় ভিডিওতে।
গত সপ্তাহে সাইপ্রাস উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে আটকে দেয় এবং প্রায় ৪৩০ জন আরোহীকে অবৈধভাবে তুলে নিয়ে যায়। পরে গত বৃহস্পতিবার কয়েক শ আরোহীকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
অধিকারকর্মীদের মেঝেতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার এই ছবিগুলো দেখার পর ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। তারা এ ‘অগ্রহণযোগ্য’ আচরণ এবং মানবিক মর্যাদা লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানায়।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই ফরাসি নাগরিকের ওপর এভাবে হুমকি, ভয়ভীতি বা সহিংসতা বরদাশত করব না, বিশেষ করে তা যখন একজন সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটে। আমি লক্ষ করেছি, ইসরায়েলের অনেক সরকারি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এই আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন।’
বারো আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তাঁর (বেন-গভিরের) দীর্ঘদিনের উসকানিমূলক, বিদ্বেষী ও সহিংস বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতাতেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমার ইতালীয় সহকর্মীর মতো আমিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন ইতামার বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।’
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজগুলো ১৪ মে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তৃতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করে। এর আগে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য তাদের আগের দুটি প্রচেষ্টা ইসরায়েল ব্যর্থ করে দেয় এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্লোবাল সুমুদে অংশগ্রহণকারীদের আটক করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার মন্তব্য ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। হরমুজ রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দেবে’ বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে শাসিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার রাতে ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ অ্যাকাডেমির এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘‘ইরান খুব খারাপ ভাবে পরাস্ত হতে চলেছে। কাজ শেষ হলে, খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়ই ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি তাকে সতর্ক করে বললেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘রসিকতা’ করার উপযুক্ত জবাব পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। হাতামি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা বড় ভুল। কারণ এটি ইরান, এর রক্ষকরা আছে যারা আপনার পা ভেঙে দেবে।” ইরানের সেনাপ্রধান দাবি করেন যে, মার্কিন বাহিনীকে ‘কার্যত বিতাড়িত করা হয়েছে’। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের সুযোগ এখন আর নেই। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না এবং ইরান কখনও তা হতে দেবে না বলেও সতর্ক করেন হাতামি। ইরান যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে। শুক্রবারই ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজকে সেখানে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তবে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি শনিবারই উড়িয়ে দেয় ইরান সরকার। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম কারিবাবাদি বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানেরই থাকবে।’’ এবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সেনাপ্রধান হাতামির কঠোর অবস্থানের বার্তা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকের জন্য পুরস্কার কেবল হরমুজ নিয়ে হুঁশিয়ারিই নয়, মার্কিন সেনাদের হত্যা বা আটক করার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদেরকে কোনও ব্যক্তি হত্যা বা আটক করতে পারলে তাকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান হাতামি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে একথা জানান তিনি। হাতামি আরও জানান, কোনও ‘সাহসী ইরানি নারী’ এ কাজ করতে পারলে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।
তুরস্কের মজুত থেকে ইউক্রেনকে মার্কিন তৈরি অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে রাশিয়া। মস্কোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের এই উদ্যোগ দুই দেশের সঙ্গে রাশিয়ার পারস্পরিক আস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। রাশিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আরটি (আরটি) এ খবর প্রকাশ করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি শান্তির কথা বলা পরস্পরবিরোধী। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার সম্পর্কেও গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের মজুত থেকে ইউক্রেনে অস্ত্র পুনরায় রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তাবিত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে ৭০টি এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র, ১২টি এম২৭০ রকেট সিস্টেম এবং আড়াই হাজারের বেশি এম২৬ রকেট। এ ছাড়া ক্লাস্টার ওয়ারহেডসহ ৪৭ হাজার ২০৩ মিলিমিটার আর্টিলারি শেলও এই চালানে থাকার কথা রয়েছে। পুরো অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৮ কোটি ডলার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ৬ আগস্ট প্রস্তাবিত অস্ত্র পুনরায় রপ্তানির বিষয়ে কংগ্রেসকে জানিয়েছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের হাতে এ বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য ১৫ দিন সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট যৌথভাবে প্রস্তাব আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত না নিলে প্রশাসনের অনুমোদন কার্যকর হয়ে যাবে। রাশিয়ার অভিযোগ, তুরস্ক এতদিন ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ এড়িয়ে চলার কথা বলে এসেছে। তাই এখন তুরস্কের মজুত থেকে ইউক্রেনকে মার্কিন অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনাকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখছে মস্কো। জাখারোভা প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক যখন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখার কথা বলছে, তখন তারা কেন নতুন করে এমন একটি ‘প্যান্ডোরাস বক্স’ খুলছে। অর্থাৎ একের পর এক নতুন সমস্যা, বিপদ বা জটিলতা তৈরি হতে পারে, এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মস্কোর আশঙ্কা, এসব অস্ত্র ইউক্রেনের হামলার সক্ষমতা বাড়াবে এবং যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। একই সঙ্গে এর প্রভাব পড়তে পারে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও। ইউক্রেনকে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহের বিরোধিতা করে আসছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর অস্ত্র, সামরিক পরামর্শ এবং গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার অর্থ তারা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। রুশ কর্মকর্তারা এর আগে ইউক্রেনের হামলায় পশ্চিমা সরবরাহ করা দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুনে সেভাস্তোপোলে এটিএসিএমএস হামলার কথা উল্লেখ করে মস্কো দাবি করেছিল, ওই হামলায় চারজন নিহত ও দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের অভিযোগ, ন্যাটোর সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং দূরপাল্লার হামলা সমন্বয়ে সহায়তা করছেন। তবে পশ্চিমা দেশগুলো বরাবরই ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া হিসেবে দেখার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। সূত্র: আরটি
শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটানো ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় থাকা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার ওপর থেকে নতুন আরোপিত শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলিয়ার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ও মানসিক ‘ত্রাণ’ দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ট্রাম্পকে প্রস্তাবিত ওই শুল্ক কার্যকরের বিষয়টি স্থগিত রাখার বিনীত আবেদন জানান। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কলম্বিয়ার অর্থনীতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত শুল্কের এই অতিরিক্ত ধাক্কা আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। গত সোমবার ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প কলম্বিয়ায় আঘাত হানে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশজুড়ে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই চরম দুঃসময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ধরে রাখা কলম্বিয়ার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রই দেশটির সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। তবে গত জুলাইয়ের শেষভাগে কফি ও তেলজাতীয় কিছু ব্যতিক্রমী পণ্য ছাড়া অন্যান্য কলম্বিয়ান পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২.৫ শতাংশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১০ মিনিটের একটি ফোনালাপকে ‘অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফোনালাপের প্রসঙ্গ টেনে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি তাকে বলেছি যে আমাদের সামনে এক বিশাল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমার পূর্বসূরিদের কাছ থেকে পাওয়া চরম আশঙ্কাজনক ও ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এখন পুরো কলম্বিয়াকে নতুন করে পুনর্নির্মাণ করতে হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্প-পরবর্তী এই পুনর্গঠন কাজের জন্য আনুমানিক ৬৪০ কোটি (৬.৪ বিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন হবে। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী মিগেল গোমেজ জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সংস্থানের জন্য সরকার এখনই নতুন করে কর বাড়ানোর কথা ভাবছে না। উল্লেখ্য, কথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক-সম্পর্কিত একটি আইনি পরাজয়ের পরপরই হোয়াইট হাউস ঘোষণা করে যে তারা কলম্বিয়াসহ প্রায় সব মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে ডানপন্থী দে লা এসপ্রিয়েলা এক কোটিপতি আইনজীবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছেন। গত জুনে বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদাকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করার সময় ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছিলেন। চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দে লা এসপ্রিয়েলা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজস্ব বলয় তৈরি করতে শুরু করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং একাধিক দক্ষিণ আমেরিকান দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত মাদক কার্টেলবিরোধী জোট ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এ যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা