বিশ্ব

ইসরায়েলে সরাসরি তেল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

২০২৫ সালে ইসরায়েলে কোনও ধরনের সরাসরি তেল রফতানি করেনি ব্রাজিল। ইসরায়েলবিরোধী বয়কট আন্দোলনের কর্মীরা একে তাদের প্রচারণার বড় জয় হিসেবে দেখছেন। গত জুনের শেষে প্রকাশিত ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম এজেন্সির (এএনপি) ২০২৬ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ব্রাজিল থেকে ইসরায়েলে সরাসরি কোনও তেল রফতানি করা হয়নি।

 

ফিলিস্তিনপন্থি আন্তর্জাতিক জোট বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস (বিডিএস) আন্দোলন জানিয়েছে, ব্রাজিল সরকার ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের ক্রমাগত চাপের ফলেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিডিএস আন্দোলন লিখেছে, সহযোগিতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে সরাসরি তেল রফতানি বন্ধের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপ ব্রাজিলকে তার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে নিতে বাধ্য করতে পারে।

 

তবে সরাসরি রফতানি বন্ধ হলেও তারা সতর্ক করে বলেছে, যদিও সরাসরি পথটি বন্ধ হয়েছে, কিন্তু বিকল্প পথ এখনও বন্ধ হয়নি। এক এক পা করে এগোতে হবে, আমাদের চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।

 

জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা সংস্থা অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ইসরায়েলে অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী শীর্ষ পঞ্চম দেশ ছিল ব্রাজিল। দেশটির মোট আমদানির ৯ শতাংশ তেল আসত ব্রাজিল থেকে। ২০২৪ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও ব্রাজিল ইসরায়েলের চতুর্থ বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক দেশ হয়ে ওঠে এবং দেশটির মোট আমদানির ৯ শতাংশ তেল সরবরাহ করে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলেন এবং দেশটির কর্মকাণ্ডকে নাৎসিদের ইহুদি নিধনের সঙ্গে তুলনা করেন। এর জের ধরে ইসরায়েল লুলাকে তাদের দেশে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রাজিল আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার করা ইসরায়েলবিরোধী গণহত্যা মামলায় সমর্থন দেয় এবং ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়।

 

২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলের দুটি বৃহত্তম তেল শ্রমিক ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট লুলার ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। চিঠিতে তারা ইসরায়েলের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোর দাবি জানায়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তখন সেই চিঠির কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।

 

এদিকে ব্রাজিলের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেত্রোব্রাস বারবার দাবি করে আসছে যে, তারা ইসরায়েলে সরাসরি কোনও অপরিশোধিত তেলের চালান পাঠায়নি। তারা কেবল বিদেশি শোধনাগারগুলোর কাছে তেল বিক্রি করেছে এবং সেই পরিশোধিত পণ্যগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায়, তার ওপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।

 

তবে পেত্রোব্রাসের এমন অবস্থান এবং অন্যান্য তৃতীয় দেশের মাধ্যমে তেল ঘুরে যাওয়ার বিষয়টিকে সহজভাবে দেখছে না বিডিএস আন্দোলন। তারা লিখেছে, যদি তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে পুনরায় বিক্রি হয়ে ব্রাজিলের তেল ইসরায়েলে পৌঁছায়, তবে আন্তর্জাতিকভাবে ব্রাজিলের দায়বদ্ধতা থেকেই যায়। কারণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একটি দেশের দায়বদ্ধতা নির্ধারিত হয় সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান এবং বস্তুগত অবদানের ওপর ভিত্তি করে, চালানটি কোন পথে যাচ্ছে তা দিয়ে নয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ-কুয়েতের অঙ্গীকার

বাংলাদেশ ও কুয়েত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসি কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্সের বিশেষ অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কুয়েতের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামাদ আল-মাশআনের বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। বৈঠকে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কুয়েতের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান তিনি। বাংলাদেশের সংহতি ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কুয়েতের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও অন্যান্য খাতে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ-কুয়েত যৌথ কমিশনের পরবর্তী বৈঠক দ্রুত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কুয়েতের এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশও শিগগিরই যৌথ কমিশনের বৈঠক আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত। বৈঠকে বাংলাদেশ-কুয়েত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি, বিদ্যমান সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

কাদা ও ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ, নেপালে মৃত্যু ৩৮৯

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন হামলার পর খার্গের তেল স্থাপনা পরিদর্শনে ইরানি কর্মকর্তারা

মাসের পর মাস ধরে চলা মার্কিন হামলার পর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামোর বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, পরিদর্শনের সময় দ্বীপটির তেল স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এবং সেখানকার চলমান কার্যক্রমের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।   পারস্য উপসাগরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ দেশটির তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশটির তেল রপ্তানির সর্বোচ্চ সময়ে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।   দ্বীপটির তেল অবকাঠামোর মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল এবং বছরে প্রায় ৯৫ কোটি ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা হতো। ফলে খার্গ দ্বীপের অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে ইরানের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।   আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও গুরুত্বপূর্ণ খার্গ   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খার্গ দ্বীপকে ঘিরে সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবে দ্বীপটির কার্যক্রম শুধু দেশটির অর্থনীতির জন্য নয়, আন্তর্জাতিক তেলবাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।   খার্গের তেল স্থাপনার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল রপ্তানি সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে রুপার দাম বাড়লেও কমেছে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দর

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ায় রুশ সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে পুতিন-শারার আলোচনা

ছবি : সংগৃহীত

কুয়েতের সেনাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী

প্রতীকী ছবি।
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে দৈনিক দুই ঘণ্টার সীমা

কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে আগামী ১০ বছরে সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে মেটা প্লাটফর্মসকে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় এ অর্থ পরিশোধ করবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠানটি।   বুধবার (২৬ আগস্ট) ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা সময়সীমা থাকবে। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যাবে না। এ ছাড়া স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বেশিরভাগ পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখবে মেটা।   চুক্তির আওতায় বয়সসীমা নির্ধারিত কনটেন্টে শিশুদের প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েকটি অঙ্গরাজ্য জানিয়েছে, চুক্তির অর্থের একটি অংশ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।   এই সমঝোতার মাধ্যমে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর ও আসক্তিকরভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরির অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে করা একটি বড় ফেডারেল মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে চুক্তিতে মেটা কোনো অন্যায় স্বীকার করেনি।   মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, মেটা জেনেশুনে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে তুলছে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, স্কুল ও ব্যক্তির করা এ ধরনের আরও বহু মামলা বর্তমানে আদালতে রয়েছে।   তবে সমঝোতা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। চুক্তিতে মেটাকে ব্যক্তিগত কনটেন্ট বা টার্গেটেড বিজ্ঞাপন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।   মেটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মে কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবক ও কিশোর—উভয়ের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে তারা কাজ করতে চায়।   এদিকে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ নিষ্পত্তিতেও মেটাকে ৪৫৯ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   সূত্র: সামা টিভি

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৭, ২০২৬
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

প্রতিরক্ষা-এআইসহ বড় চুক্তিতে সৌদি আরব ও ফ্রান্স

বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর অন্যতম প্রধান সামরিক নেতা ছিলেন ম্লাদিচ। সংগৃহীত ছবি

মারা গেলেন ‘বসনিয়ার কসাই’ রাতকো ম্লাদিচ

ছবি: রয়টার্স

নেপালে বিপর্যয়ের পরও কাটেনি শঙ্কা, আসতে পারে নতুন ঢেউ

0 Comments